কঠোর বাজেটের পরামর্শ, ৪ সতর্কতা দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৯: ৫৫
নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ছবি: সংগৃহীত

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আগামী অর্থবছরের জন্য নতুন সরকারকে কঠোর আর্থিক বাজেট করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অতিরিক্ত ব্যয় করার জন্য নতুন সরকারের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত। বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যও চাপে। বৈশ্বিক অস্থিরতা আগের আর্থিক দুর্বলতাগুলোকে প্রকট করেছে। সেজন্য কঠোর আর্থিক বাজেট করতে হবে। সরকারকে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নির্দয় হতেই হবে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) কার্যালয়ে ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের জন্য ভাবনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী নাজিবা মোহাম্মদ আলতাফ প্রমুখ।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বর্তমান বাস্তবতায় বাজেট প্রণয়নে সরকারকে চারটি সতর্কতা তুলে ধরেন। প্রথমত, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বা ফিসকাল স্পেস অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে ব্যয় করার সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে চাপ তৈরি হয়েছে। কারণ রেমিট্যান্স, রপ্তানি ও বৈদেশিক সহায়তা প্রত্যাশিত মাত্রায় আসছে না।

তৃতীয়ত, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা দেশের অর্থনৈতিক দুর্বলতাগুলোকে আরও প্রকট করে তুলছে। চতুর্থত, এখন কঠোর বাজেট ব্যবস্থাপনার সময় এসেছে। তবে সরকার এখনো সেই বাস্তবতা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেনি।

ব্রিফিংয়ে তিনি দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিশদ মূল্যায়ন এবং রাজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তুলে ধরেন। বলেন, সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা, ঋণ পরিশোধের বাড়তি চাপ, স্থায়ী মূল্যস্ফীতি, বিনিময় হার সংকট এবং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা– এগুলো অর্থনীতির প্রধান চাপের জায়গা হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে ‘ট্রিপল থ্রেট’ উল্লেখ করেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, জ্বালানির উচ্চ ব্যয় চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়াবে, ভর্তুকির চাপ বৃদ্ধি করবে এবং টাকার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারকে রাজস্ব সুরক্ষা এবং ভোক্তাদের বাড়তি জ্বালানি ও খাদ্য ব্যয়ের চাপ থেকে রক্ষা– এই দুইয়ের মধ্যে কঠিন সমন্বয় করতে হচ্ছে।

রাজস্ব বাড়ানোর জন্য তিনি কয়েকটি নির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন। ধাপে ধাপে কর ছাড়ের পরামর্শ দেন। নতুন কর হার না বাড়িয়ে কঠোর তদারকি ও সুশাসনের মাধ্যমে করজাল সম্প্রসারণ এবং সম্পত্তি করসহ নতুন কর ক্ষেত্র চালুর প্রস্তাব তিনি এই অর্থনীতিবিদ।

সরকারি খাতে বেতন ও পেনশন ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি টেকসই ঘাটতি অর্থায়ন কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য উন্নয়ন ব্যয় পর্যালোচনার জন্য একটি স্বল্পমেয়াদি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেন।

পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি প্রসঙ্গে দেপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ২০৩৪ থেকে ৩৫ সালের মধ্যে এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে নামমাত্র জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৯ শতাংশ এবং প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ৫ থেকে ৬ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকারকে অবশ্যই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে এবং এই পুরো প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমকে সক্রিয় পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে।

সম্পর্কিত