বেতন কমা সেই এনবিআর কর্মকর্তাকে বদলি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ১৩
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। স্ট্রিম গ্রাফিক

অসদাচরণের দায়ে বেতন কমানোর পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা সুলতানা হাবীবকে নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক আদেশের মাধ্যমে তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশও প্রত্যাহার করা হয়।

এনবিআরের অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) সুলতানা হাবীবকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে সরানো হয়েছে। তাঁকে ঢাকার কর অঞ্চল-২২-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-০২-এ পদায়ন করা হয়েছে। ৩০ এপ্রিল বিকেলে তাঁকে পূর্বের কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত রোববার (১৯ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, হোয়াটসঅ্যাপে সরকারি আদেশের বিরোধিতা করে উসকানিমূলক বার্তা পাঠানো এবং বেআইনি কর্মসূচিতে উদ্বুদ্ধ করায় সুলতানা হাবীবের বেতন তিন ধাপ কমানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, গত বছরের ১২ মে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারির পর সুলতানা হাবীব হোয়াটসঅ্যাপে এর বিরোধিতা করেন।

এ নিয়ে ২১ মে তিনি লেখেন, “সরি, ম্যাডাম। আজকে আর তাকে কিছু বলার প্রয়োজন ছিল না। শুধু সাহস করে অসহযোগিতাটুকু করলেই হতো।” এছাড়া তিনি ২৬ জুন লেখেন, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও নিপীড়নমূলক এই বদলি আদেশ বাতিল চাই’ এবং একই দিন তিনি আরও লেখেন, ‘ঢাকাস্থ অফিসের জন্য আজকেই মার্চ টু এনবিআর’।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, তাঁর এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক অনুবিভাগ এবং এনবিআরের কর্মচারীদের বেআইনি কর্মসূচি পালনে উদ্বুদ্ধ করে তিনি রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার ক্ষেত্রে সংগঠকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এটি ‘সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

অসদাচরণের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে কৈফিয়ত তলব করা হয় এবং গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিধিমালা অনুযায়ী তাঁকে লঘুদণ্ড হিসেবে ৩ বছরের জন্য বেতন গ্রেডের তিন ধাপ অবনমিত করার শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তাঁর বর্তমান মূল বেতন ৫৬,০৩০ টাকা থেকে তিন ধাপ নিচে নেমে ৪৯,০৯০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। দণ্ডের মেয়াদে তিনি কোনো বকেয়া পাবেন না এবং এই সময়কাল পরবর্তীতে বেতন বৃদ্ধির জন্য গণনাযোগ্য হবে না বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

শাস্তি প্রদানের পাশাপাশি গত ১৮ আগস্ট তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার আদেশটিও প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তাঁর এই সাময়িক বরখাস্তকাল ‘অসাধারণ ছুটি’ হিসেবে গণ্য হবে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত