উত্তরাধিকার সম্পদের ওপর কর বসাতে চায় এনবিআর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৯: ১২
প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় কথা বলছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান। ছবি: সংগৃহীত

দেশে ক্রমবর্ধমান আয় ও সম্পদের বৈষম্য কমাতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন করে ‘সম্পদ কর’ এবং ‘উত্তরাধিকার কর’ চালুর চিন্তা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান এই তথ্য জানান।

চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশে আয় ও সম্পদের বৈষম্য অনেক বেড়ে গেছে। এই বৈষম্য কমানোর সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো ইনকাম ট্যাক্স। যাঁরা ‘সুপার ইনকাম’ করেন, তাঁদের ওপর করের হার বাড়ানোর প্রস্তাব এনবিআর গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।’

১৯৬৩ সাল থেকে দেশে সম্পদ কর চালু থাকলেও ১৯৯৯ সালে তা তুলে দেওয়া হয় এবং বর্তমানে কেবল সারচার্জ (অতিরিক্ত কর) নেওয়া হয়। চেয়ারম্যান জানান, সম্পদ কর পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে সঠিক মূল্যায়ন ও তথ্য সংগ্রহ বড় চ্যালেঞ্জ হলেও তাঁরা এ নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। এছাড়া উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদের ওপর ছোট আকারে হলেও কর আরোপের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

বাড়বে তামাকজাত পণ্যের দাম

আগামী বাজেটে তামাকজাত পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং নকল সিগারেট প্রতিরোধে পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে তামাকপণ্যের দাম কম হওয়ায় তা একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, অন্যদিকে রাজস্ব আদায়েও সমস্যা তৈরি করছে। তাই তামাক ও বিড়ির দাম বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।’ তবে বিড়ি শিল্পের শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনা করে এই দাম বৃদ্ধি ধাপে ধাপে ও যৌক্তিকভাবে হবে।

নকল সিগারেট শনাক্তে এনবিআর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এখন থেকে প্যাকেটে এআর (AR) ও কিউআর (QR) কোড যুক্ত করা হবে, যা স্ক্যান করে সাধারণ মানুষ সহজেই নকল পণ্য চিনতে পারবেন। এছাড়া ‘হুইসেলব্লোয়ার’ হিসেবে সাধারণ মানুষ যদি নকল সিগারেট ধরিয়ে দিতে পারেন, তবে তাঁদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে জাল সিগারেট পুড়িয়ে ফেলার মতো প্রতিরোধমূলক অভিযানও চলবে।

এনবিআর সংস্কার ও ভ্যাট কাঠামো আধুনিকায়ন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সংস্কারকাজ নতুন রাজনৈতিক সরকারের অধীনে পুনরায় শুরু হবে বলে জানান আব্দুর রহমান খান। তিনি বলেন, ইতিপূর্বে এই সংস্কারকাজ অনেক দূর এগোলেও শেষ পর্যায়ে কিছু বাধার মুখে পড়েছিল। ভ্যাট কাঠামোর ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ট্রানকেটেড ভ্যাট কমিয়ে সিঙ্গেল রেটে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। পণ্য ও সেবার ওপর সাধারণত ১৫ শতাংশ ভ্যাট রাখা হবে, তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে।’

বৈঠকে জানানো হয়, ক্যাশলেস ট্রানজ্যাকশন বা নগদবিহীন লেনদেন উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে এনবিআর। এছাড়া এসএমই এবং নারী উদ্যোক্তাদের কর অব্যাহতির সুযোগ দিতে এসএমই ফাউন্ডেশনের সহায়তা নেওয়া হবে। রাজস্ববিষয়ক সাংবাদিকতায় উৎসাহিত করতে একটি নিরপেক্ষ জুরি বোর্ডের মাধ্যমে ‘মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ চালুর বিষয়েও পদক্ষেপ নেবে এনবিআর।

সম্পর্কিত