জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ ডলারে

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৫: ১৪
জ্বালানি তেলকে বলা হয় ‘ব্ল্যাক গোল্ড’। ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান সংঘাত তীব্র হওয়ায় আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে ৩ শতাংশের বেশি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেলে দাম বেড়েছে ২.৬৫ ডলার বা ৩.২৬ শতাংশ। এই তেলের ব্যারেল এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৩.৯৯ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ২.৭৬ ডলার বা ৩.৭০ শতাংশ বেড়ে ৭৭.৪২ ডলারে উঠেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।

সংঘাত এরই মধ্যে ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। তবে কোনো পক্ষকেই নমনীয় হতে দেখা যায়নি। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলের দিকে ইরান নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যায়। এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবমেরিন শ্রীলঙ্কার কাছে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেয়। এতে অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন। একই দিন তুরস্কের আকাশসীমায় একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করে ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এখান দিয়ে জাহাজ চলাচল ৯০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানগুলো। হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বাহিনীর হামলায় বেশ কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কুয়েতের কাছে একটি ট্যাংকারের কাছে বিস্ফোরণের তথ্য দিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস।

আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান এএনজেডের বিশ্লেষকরা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে তেল সরবরাহের ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০-২৫ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়।

সংঘাত তীব্র হওয়ায় তেল উৎপাদন ও রপ্তানিতেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ওপেকের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদক ইরাক জানিয়েছে, সংরক্ষণ সুবিধা ও রপ্তানি পথের সমস্যার কারণে তারা প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমিয়েছে।

অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে বড় এলএনজি উৎপাদক কাতার বুধবার গ্যাস রপ্তানিতে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশটির স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে অন্তত এক মাস লাগতে পারে।

জাহাজ ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিন ট্রাফিকের তথ্যানুযায়ী, সংঘাতের কারণে ইরাক, সৌদি আরব ও কাতারের উপকূলের কাছে অন্তত ২০০ জাহাজ নোঙর করে অপেক্ষা করছে। এর মধ্যে তেল ও এলএনজি ট্যাংকার ছাড়াও পণ্যবাহী জাহাজ রয়েছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির বাইরে আরও শত শত জাহাজ আটকে আছে, যেগুলো বন্দরে আসতে পারছে না।

দুই আন্তর্জাতিক তেল ব্যবসায়ী রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে, কারণ যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

এদিকে চীন সরকার দেশটির কোম্পানিগুলোকে নতুন করে পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানির চুক্তি সই না করার নির্দেশ দিয়েছে। ইতোমধ্যে নির্ধারিত কিছু চালান বাতিলের চেষ্টা করতে বলেছে বলেও শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে চীন থেকে পরিশোধিত জ্বালানি কেনা দেশগুলো বিপদে পড়তে পারে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত