leadT1ad

সাড়ে ৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য পূরণে পদক্ষেপের তাগিদ সিপিডির

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ১৩: ০৩
নতুন অর্থবছরের বাজেট নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গুলশানে সিপিডির সংবাদ সম্মেলন। স্ট্রিম ছবি

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য পূরণে সরকারকে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টর ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) গুলশানের লেকশোর হোটেলে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে নতুন অর্থবছরের বাজেট নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় এ তাগিদ দেওয়া হয়।

অনুস্থানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘সেটা অর্জন করতে হলে অনেক ভালো ভালো পদক্ষেপ নিতে হবে। বাস্তবসম্মত মুদ্রানীতি অবলম্বন করতে হবে। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি আরও কিছুদিন চালিয়ে নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘খাদ্য সরবরাহ ঠিক রাখতে হবে। চালে সরবরাহজনিত সমস্যা আছে, উৎপাদনে। সেখানে নজর দিতে হবে। জ্বালানি সংকট রয়েছে; সেটার সমাধান প্রয়োজন।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ তথ্যের বরাতে জানানো হয়, মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার আরও বেড়ে ১৬ মাসের সর্বোচ্চ হয়েছে। এ সময় সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ সার্বিক মূল্যস্ফীতির মানে হলো, গত বছরের মে মাসে যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় মিলেছে, তা চলতি বছরের মে মাসে পেতে খরচ করতে হয়েছে ১০৯ টাকা ৪২ পয়সা।

দেশে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির যে পারদ, তা বাড়তে থাকে মূলত কোভিড মহামারির ধাক্কায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে মহামারির পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকেও সামনে এনেছিল। তবে কোনো কোনো বিশ্লেষক এবং সরকারবিরোধী অনেক রাজনীতিক উচ্চ মূল্যস্ফীতির পেছনে বিগত সরকারের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের হাত থাকার কথাও বলেন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় দেড় বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এ সময়ে তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও গভর্নর আহসান এইচ মনসুর একাধিকবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো ইতিবাচক সুফল মেলেনি।

পর্যালোচনায় সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘গত চার বছর ধরেই মূল্যস্ফীতি চড়া। এখন একটা ক্রিটিক্যাল সময়, কারণ হলো জ্বালানি সংকট। সামষ্টিক অর্থনীতির প্রায় সব সূচক চাপের মুখে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সামষ্টিক অর্থনীতি দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। রিজার্ভ একটু বাড়ছে, রেমিট্যান্স বাড়ছে। অন্যান্য সূচক ভালো অবস্থানে নেই। এমন প্রেক্ষাপটে জিডিপির প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবেই প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের বেশি; এটা কীভাবে হবে তাও বিবেচনায় নিতে হবে।’

ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা দেখলে বোঝা যায় আগামী বাজেট বাস্তবায়নের বড় আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। এত বড় বাজেটের বড় আকাঙ্ক্ষাটাই বড় চ্যালেঞ্জ।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যক্তি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি আগামী বাজেটে ধরা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে গত এপ্রিল পর্যন্ত হয়েছে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ এখনও নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে। এমন বাস্তবতায় দেখা যায়, ব্যক্তি খাতের এক ধরনের অনীহা ও আস্থার অভাব রয়েছে, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে তা ফিরিয়ে আনতে হবে।’

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে ঋণের নির্ভরতা বাড়ছে মন্তব্য করে ড. ফাহমিদা বলেন, অর্থনীতিতে উন্নয়ন ব্যয় বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়ে ও আয়ের পথ তৈরি হয়। কিন্তু রাজস্ব আদায় কীভাবে বাড়ানো হবে তাও বিবেচনায় নিতে হবে।

উল্লেখ্য, আগের দিন বৃহস্পতিবার সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। টাকার এই অঙ্ক গত অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি। বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ও মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের ঘোষণা আসে। ব্যয় মেটাতে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বিনিয়োগ খরা, দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক খাত, ধীরগতির রাজস্ব আদায়, রপ্তানির নেতিবাচক ধারা ও চড়া মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা অর্থনীতিতে কীভাবে এই দুই লক্ষ্য অর্জন করা হবে, সে বিষয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট পথরেখার আলোকপাত দেখা যায়নি বলে মনে করছে সিপিডি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত