জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

আতঙ্কে পাম্পে লাইন, মজুদের হিড়িক

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

রাজধানীর একটি পাম্পে জ্বালানি নিতে বাইকচালকদের ভিড়। স্ট্রিম ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বাংলাদেশে পেট্রলপাম্পে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের বহু পাম্পে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও ট্রাকের চালকরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে তেল নিচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমেও পাম্পে ভিড়, তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি কেনার সীমা নির্ধারণ করেছে। সংস্থাটি বলছে, অতিরিক্ত মজুদ ঠেকানো এবং সবার মধ্যে জ্বালানি সমানভাবে বিতরণ নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিপিসির রেশনিং নির্দেশনা

জ্বালানির অতিরিক্ত মজুদ ঠেকাতে বিপিসি শুক্রবার থেকে দেশের সব ফিলিং স্টেশনকে প্রতি যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট দৈনিক সীমা অনুসরণ করতে নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশনা জারির পাশাপাশি সংস্থার অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরবরাহ পরিস্থিতির চাপ আগেভাগে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে না পারার অভিযোগে বিপিসির দুজন জ্যেষ্ঠ পরিচালককে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওএসডি করা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ি বা সেডান শ্রেণির যানবাহনের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লিটার পেট্রল বা অকটেন নির্ধারণ করা হয়েছে। এসইউভি ও মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাস ও পিকআপের ক্ষেত্রে দৈনিক ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দূরপাল্লার ট্রাক ও বাসের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এ নির্দেশনা কার্যকর করতে প্রতিটি লেনদেনের জন্য ফিলিং স্টেশনকে বিস্তারিত রসিদ দিতে হবে, যেখানে জ্বালানির ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ থাকবে। একই স্টেশনে আবার জ্বালানি নিতে চাইলে গ্রাহককে আগের রসিদের মূল কপি জমা দিতে হবে। উদ্দেশ্য হলো একই গাড়ি দিয়ে বারবার জ্বালানি নেওয়ার মাধ্যমে অবৈধ মজুদ ঠেকানো।

এ ছাড়া বিশেষ পুলিশ অনুমতি ছাড়া কোনো পাম্প থেকে ড্রাম বা আলাদা পাত্রে জ্বালানি বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা

তবে নতুন সীমা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, সে চিত্র একরকম নয়। কোথাও নিয়ম কঠোরভাবে মানা হচ্ছে, আবার কোথাও বাস্তব পরিস্থিতির কারণে তা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার মতো বড় শহরগুলোতে অধিকাংশ পাম্প নির্ধারিত সীমা অনুসরণ করছে। অনেক পাম্পে কর্মীরা গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর যাচাই করছেন, টোকেন দিচ্ছেন এবং অতিরিক্ত জ্বালানি নেওয়ার চেষ্টা করা গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

তবে গ্রামীণ এলাকা, শহরতলি এবং কিছু জেলায় ভিন্ন পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও বগুড়ার কয়েকটি পাম্পে নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত জ্বালানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কিছু ক্ষেত্রে পরিচিত গ্রাহকদের বাড়তি জ্বালানি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আবার কয়েকটি পাম্পে দৈনিক সীমা পূর্ণ হওয়ার আগেই ডিজেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বিকেলের মধ্যে পাম্প বন্ধ করতে হয়েছে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনায় বেশি দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান আজ বিকালে বলেন, দেশের ৬৪টি জেলা কার্যালয় এবং ডিজিটাল রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি পাম্প পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে ৮৫ শতাংশের বেশি পাম্প নির্দেশনা মেনে চলছে। কোনো পাম্প মালিক বা ব্যবস্থাপক নিয়ম ভঙ্গ করলে তাঁদের লাইসেন্স তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যক্তি যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি চলছে।’

রাঙামাটি শহরের একটি পাম্পে জ্বালানি নিতে বাইকচালকদের ভিড়। স্ট্রিম ছবি
রাঙামাটি শহরের একটি পাম্পে জ্বালানি নিতে বাইকচালকদের ভিড়। স্ট্রিম ছবি

এদিকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৪ ঘণ্টার একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে এবং মাঠে মোবাইল পর্যবেক্ষণ দল মোতায়েন করেছে।

তবে পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির সভাপতি সাজ্জাদ করিম কাবুল বর্তমান জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থাকে প্রায় ‘সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় জ্বালানির চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ফলে ডিপো থেকে নতুন সরবরাহ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অনেক পাম্পের ট্যাংক খালি হয়ে যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে আগের রসিদ যাচাই করে জ্বালানি দেওয়ার নিয়ম অনেক ক্ষেত্রে উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ঢাকার কয়েকটি পাম্পে দীর্ঘ লাইনের কারণে গ্রাহক ও পাম্পকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

নিয়ম ভাঙার অভিযোগ

মাঠপর্যায়ে কয়েক ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও পছন্দমতো গ্রাহকদের জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও জ্বালানি থাকা সত্ত্বেও পাম্পের গেট বন্ধ রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু মালিক সম্ভাব্য দাম বৃদ্ধির অপেক্ষায় পাম্প বন্ধ রেখে মুনাফা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

রাজধানীর কয়েকটি পাম্পে লিটারভিত্তিক সীমা না মেনে নির্দিষ্ট টাকার ভিত্তিতে জ্বালানি বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিটি গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে, যাতে লাইনে থাকা আরও বেশি মানুষকে সেবা দেওয়া যায়।

এ ছাড়া ব্যস্ত পাম্পগুলোতে আগের রসিদ যাচাইয়ের নিয়ম অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করা মানুষের ক্ষোভ থেকে সহিংসতার আশঙ্কায় কর্মীরা দ্রুত জ্বালানি দিয়ে দিচ্ছেন।

কিছু পাম্পে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এতে খোলা পাম্পগুলোর ওপর চাপ আরও বেড়ে গেছে। তাই বিপিসি নাগরিকদের প্রয়োজন অনুযায়ী দুই থেকে তিন দিনের জন্য যতটুকু দরকার ততটুকু জ্বালানি কেনার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় মজুদ না করার অনুরোধ করেছে।

মানুষের প্রতিক্রিয়া

রাজধানীর পরিবাগে অবস্থিত মেঘনা মডেল সার্ভিসের সামনে যানবাহনের অস্বাভাবিক দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সেখানে মোটরসাইকেল চালক ও পাম্পকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও তর্কাতর্কির ঘটনাও ঘটে। পাম্পটির ম্যানেজার জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ক্রেতার চাপ যাচ্ছে।

মোটরসাইকেল নিয়ে লাইনে দাঁড়ানো রোমান নামের এক গ্রাহক স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমি তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় তেল নিতে এসেছি। তবে এমন অনেকে আছেন যাঁরা আতঙ্কে আগেভাগে তেল মজুদ করার জন্য তেল নিচ্ছেন।’

এএম শোয়েব সিদ্দিকী নামের আরেক গ্রাহক বলেন, ‘ঈদের সময় আমি ঢাকার বাইরে যাব। তাই আগেভাগেই তেল নিয়ে রাখছি।’ তাঁর মতে, অনেকেই তেলের দাম বাড়া ও সরবরাহ না থাকার আশঙ্কায় জ্বালানি মজুদ করছেন।

আসাদ নামের এক গ্রাহক জানান, মিরপুর দারুসসালাম, টেকনিক্যাল মোড়, গাবতলী আন্ডারপাস, মগবাজার ওয়্যারলেস মোড় ও রাজারবাগসহ কয়েকটি পাম্পে ঘুরেও তিনি জ্বালানি পাননি। পরে তিনি এ পাম্পে আসেন।

রাইডশেয়ার চালক কামাল মিয়া বলেন, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর তাঁর মোটরসাইকেলের জন্য মাত্র দুই লিটার জ্বালানি পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এত কম জ্বালানি নিয়ে কীভাবে আমি সারা দিন কাজ করব?’ তাঁর প্রশ্ন, দেশে যদি পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ থাকে তাহলে এত কঠোর সীমা কেন।

এলিফ্যান্ট রোডের রহমান অ্যান্ড কোং ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ওসমান বলেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গ্রাহকের চাপ অনেক বেশি। তাঁর অভিযোগ, অনেকেই প্রয়োজন ছাড়াও জ্বালানি কিনছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। #FuelCrisisBD, #BPCFailure এবং #HoardingBD হ্যাশট্যাগে অসংখ্য ভিডিও ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে।

ভোক্তা সংগঠন ভয়েস অব কনজুমারস বলেছে, জ্বালানি সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজনীয় হলেও বিষয়টি যথাযথভাবে জনগণকে জানানো হয়নি। তাঁদের মতে, প্রকৃত মজুদ পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।

সরকারের আশ্বাস ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি

সরকার বলছে দেশে তাৎক্ষণিক কোনো জ্বালানি সংকট নেই। ৬ মার্চ পর্যন্ত হিসাবে ফার্নেস অয়েলের মজুদ প্রায় ৯৩ দিনের, ডিজেল ও পেট্রলের মজুদ প্রায় ১৫ দিনের এবং অকটেনের মজুদ প্রায় এক মাসের সমান রয়েছে। স্বাভাবিক ব্যবহারের হিসাবে সামগ্রিকভাবে দুই থেকে তিন সপ্তাহের জ্বালানি মজুদ রয়েছে।

দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুও। শনিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘দেশে ডিজেল, পেট্রল, অকটেনসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।’ টুকু জানিয়েছেন, ৯ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে আরও দুটি জ্বালানি ট্যাংকার পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

তবু অনেকের মনে প্রশ্ন রয়ে গেছে—যদি মজুদ থাকে, তাহলে কেন সীমা? এ পরিস্থিতিকে অনেক বিশ্লেষক ‘রিজার্ভ প্যারাডক্স’ বলে উল্লেখ করছেন।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরবরাহ সম্পর্কে মানুষের আস্থা কমে গেলে আতঙ্কে বেশি কেনাকাটা করা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তাঁর মতে, প্রতিদিন মজুদ পরিস্থিতি ও বিকল্প আমদানির পরিকল্পনা জানালে মানুষের উদ্বেগ কমতে পারে।

জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, বাস্তবে কয়েক সপ্তাহের জ্বালানি মজুদ থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ মানুষের মনে বড় মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলছে। অনেকেই ভবিষ্যতে দাম বাড়া বা সরবরাহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় এখনই জ্বালানি কিনে রাখছেন।

বর্তমান পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে ৯ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা থাকা জ্বালানিবাহী ট্যাংকারগুলোর ওপর। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এই ট্যাংকারগুলো দেশে পৌঁছানো এবং সেখান থেকে জ্বালানি দ্রুত খালাস করে জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত করা গেলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে তা অনেকটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের গতিপ্রকৃতি এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির ওপর। যদি এ নৌপথ দীর্ঘ সময় অচল হয়ে পড়ে, তাহলে বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি আমদানি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সে ক্ষেত্রে বর্তমান সীমিত রেশনিং ব্যবস্থা আরও কঠোর জ্বালানি জরুরি অবস্থায় রূপ নিতে পারে।

সম্পর্কিত