ইইউর সঙ্গে বাণিজ্যে ৪৮টি অশুল্ক বাধা দূর হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ৪৪
ইইউয়ের প্রতিনিধিদলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক হয়। সংগৃহীত ছবি
ইইউয়ের প্রতিনিধিদলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক হয়। সংগৃহীত ছবি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) চিহ্নিত ৬১টি অশুল্ক বাণিজ্য বাধার ৪৮টি সমাধান করেছে বাংলাদেশ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ও ইইউয়ের বাণিজ্য সহজ করতে চিহ্নিত ৬১টি অশুল্ক বাধার (নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার) মধ্যে ৪৮টির সমাধান হয়েছে। অবশিষ্ট ১৩টি দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত মার্চে ইইউ রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে বাণিজ্য পরিচালনায় বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরে। এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, নৌপরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত এসব সমস্যার বড় অংশের সমাধান করা হয়।

সমাধান হওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন লজিস্টিক কোম্পানির লাইসেন্স নবায়নসংক্রান্ত জটিলতা দূর করা, বাণিজ্যিক স্যাম্পল আমদানির বার্ষিক সীমা ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার মার্কিন ডলার করা এবং রপ্তানি পণ্যের ট্রেসিবিলিটির জন্য ব্যবহৃত স্ক্যানিং স্মার্ট কার্ডের শুল্কায়ন জটিলতা নিরসন ও যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ অন্যতম।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা শুরুর প্রস্তাবে ইইউ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার জানান, সদস্য দেশগুলোর অনুমোদন সম্পন্ন হলে চলতি সপ্তাহ থেকেই এ বিষয়ে যৌথ কারিগরি আলোচনা শুরু হতে পারে। তিনি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপর জোর দিয়ে দুই অঞ্চলের মধ্যে বিমান চলাচল ও বাণিজ্য বাড়াতে এয়ারবাস ক্রয়সংক্রান্ত আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগে ইইউর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটি (সিডিপি) ও ইকোসকের ইতিবাচক সুপারিশের পর সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন হবে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, কোনো নির্দিষ্ট দেশের চাপে পড়ে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা, পণ্যের গুণগত মান ও জনগণের প্রয়োজন বিবেচনা করেই সরকারি ক্রয় কমিটি এলএনজি ও খাদ্যশস্য আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়।

ব্রিফিংয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত