নদীর জাল টানা থেকে দিনমজুরি, এবার নিজের দোকানে স্বপ্ন বুনছেন বাঘবিধবা মাহফুজা
স্ট্রিম সংবাদদাতা

সুন্দরবনের বাঘ কেড়ে নিয়েছিল স্বামীকে। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে একাই সংসারের হাল ধরেন মাহফুজা খাতুন। নিশ্চিত আয়ের কোনো পথ ছিল না, ছিল না স্বচ্ছল জীবনের নিশ্চয়তা। তবু থেমে থাকেননি তিনি। শুরু করেন নতুন করে বাঁচার লড়াই।
কখনো সুন্দরবনের নদীতে জাল টেনেছেন, কখনো করেছেন দিনমজুরের কাজ। সন্তানদের বড় করতে বছরের পর বছর অভাবের সঙ্গে লড়াই করেছেন। এবার সেই সংগ্রামী জীবনে যুক্ত হয়েছে নতুন অধ্যায়— নিজের একটি মুদি দোকান।
২০০২ সালের ১ জুন সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে নিহত হন শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ এলাকার মাহফুজা খাতুনের স্বামী আব্দুস সাত্তার। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন মাহফুজা। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে সামাজিক বাধা ও সংকোচ উপেক্ষা করে নিজেই সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা শুরু করেন। সন্তানরা বড় হলেও অভাবের সঙ্গে তার লড়াই থামেনি।
গত এপ্রিল মাসে দেশব্যাপী জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র হলে শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ডেলমা ফিলিং স্টেশনে দিনরাত মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সেই সময় ফিলিং স্টেশনের পাশে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে চা, পানি, বিস্কিট, কলা, কেক ও সিদ্ধ ডিম বিক্রি শুরু করেন মাহফুজা।
অল্প পরিসরে শুরু করা সেই উদ্যোগই তাকে নতুন করে পরিচিত করে তোলে। মাহফুজার সংগ্রামী জীবনের গল্প স্থানীয় সংবাদমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিষয়টি নজরে আসে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালকের।
পরে মাহফুজাকে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার জন্য ব্যবস্থা করা হয় একটি স্থায়ী দোকানের। নতুন দোকান ঘিরে এখন স্বপ্ন দেখছেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর।
স্থানীয় উন্নয়নকর্মীরা বলছেন, মাহফুজার মতো সংগ্রামী নারীদের জন্য আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা শুধু একটি পরিবারকে সহায়তা করা নয়, বরং সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনের পথ তৈরি করা।
মথুরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাদেচ্ছুর রহমান বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার অনেক বাঘ বিধবাকে এখনো নানা সামাজিক অবহেলা ও কটুক্তির মুখোমুখি হতে হয়। তাদের স্বাবলম্বী করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
.png)






