জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ঈদের আগে মাছ-মাংস-মসলার বাজার চড়া, কিছুটা স্বস্তি কাঁচাবাজারে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

বাজারদর। স্ট্রিম গ্রাফিক

ঈদকে সামনে রেখে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ফের বেড়েছে। বিশেষ করে গরু-খাসির মাংস, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি, পোলাওয়ের চাল, মশলা, শুকনা ফল ও ফলমূলের বাজার বেশ চড়া। সবজির দাম কিছুটা কমে স্বস্তি দিলেও সামগ্রিকভাবে দৈনন্দিন খরচ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

কাওরান বাজারে এদিন গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৮০০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ৭৫০ টাকার নিচে। খুচরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা বলছেন, রাজধানীর অন্যান্য বাজারে গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৮৫০ টাকা। কোথাও কোথাও তা ৯০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে।

কাওরান বাজারের খুচরা গরুর মাংস বিক্রেতা মো. হাফিজ বলেন, ‘গতকালও গরুর মাংস ৭৮০ টাকায় বিক্রি করেছি। কিন্তু চাহিদা বাড়ায় আজ ৮০০ টাকায় বিক্রি করছি। আগামীকাল হয়তো আরও বেশিতে বিক্রি করতে হবে। আসলে আমরাও পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে গরু কিনতে বাধ্য হচ্ছি। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

খাসির মাংসের কেজিতেও বেড়েছে ৫০ থেকে দেড়শ টাকা। কাওরান বাজারের বিক্রেতা মুজিবুর রহমান বলেন, ‘খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা করে বিক্রি করছি, যা কয়েকদিন আগেও ১ হাজার ২৫০ টাকা ছিল।’ অন্য দোকানে একই মাংস ১ হাজার ৪০০ টাকায়ও বিক্রি হতে দেখা গেছে।

একইভাবে ব্রয়লার মুরগি কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে ২২০ থেকে ২৬০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও ডজনে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় পৌঁছেছে।

কাওরান বাজারের বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, ‘কয়েকদিন আগেও সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। ঈদ উপলক্ষ্যে এখন ৩৮০ টাকায় বিক্রি করছি। এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩১০-২০ টাকা।’

মাছের বাজারও চড়া। কাওরান বাজারে বড় রুই মাছ প্রতি কেজি ৪০০-৪৫০ টাকা, মাঝারি ৩৫০-৪০০ ও ছোট রুই মাছ বিক্রি হয়েছে ৩০০-৩৫০ টাকায়। মাছ বিক্রেতা জোবায়ের জানান, কাওরান বাজার ছাড়া রাজধানীর মহল্লার বাজারে কেজিতে আরও ৫০-১০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া তেলাপিয়া ২৩০ থেকে ২৭০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং চিংড়ি ৬০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পোলাওয়ের চাল ও সরু চালের পাশাপাশি বেড়েছে সাধারণ মোটা চালের দামও। ঈদের রান্নায় ব্যবহৃত পোলাওয়ের চাল এখন কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে কেজিপ্রতি ১৪৫ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ কয়েক সপ্তাহ আগেও একই চাল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে ছিল।

কাওরান বাজারের চাল বিক্রেতা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগেও যে চাল ১৩০ টাকা ছিল এখন তা ১৪০-৪৫ টাকা। সরু নাজিরশাইল চালও ৪-৫ টাকা বেড়ে ৭৫-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় কোম্পানিগুলো রপ্তানি করার জন্য চাল মজুত করে রাখায় বাজারে চালের সরবরাহ কম এবং দাম বেশি।’

সরকার নির্ধারিত দাম মানছেন না ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে প্রায় ১০-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে এই তেল মানভেদে ১৯০-২২০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। আর বোতলজাত পাঁচ লিটার সয়াবিন বোতল বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৯৫৫ টাকায়।

ঈদের রান্নার অন্যতম অনুষঙ্গ মশলার বাজারেও স্বস্তি নেই। জিরা, লবঙ্গ, দারুচিনি, এলাচ ও গোলমরিচের মতো পণ্যের সঙ্গে শুকনা ফল ও বিশেষ উপকরণের দাম বেড়েছে।

পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দামও এক সপ্তাহ আগের চেয়ে বেশি বলে জানান খুচরা বিক্রেতারা। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা দরে, যা এক সপ্তাহ আগেও ২৫-৩০ টাকা ছিল। দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়। আদার দামও কিছুটা বেড়ে ১৪০-১৫০ টাকা হয়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ায় বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, চাহিদা বেশি দেখে বড় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পাইকারি বাজারে দামি বাড়িয়ে দেওয়ায় তারাও খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

ফলমূলের বাজারেও একই অবস্থা। আপেল, কমলা, আঙুর, মাল্টাসহ প্রায় সব ফলই আগের তুলনায় কেজিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ফলের বাজার অনেকটাই নাগালের বাইরে চলে গেছে।

মাহমুদুল হক নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘মাছ-মাংস সব কিছুর দাম বেশি। চিংড়ি মাছ কিনলাম ১ হাজার টাকায়।’ কামরুজ্জামান নামের আরেক ক্রেতা বলেন, মুরগির দাম অত্যধিক বেশি। সালমা ইসলাম ডলি নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘পাঁচদিন আগে বাসমতি চাল কিনেছি ২২০ টাকায়, অথচ আজ তা ৩০০ টাকা। অনেক ঘোরাঘুরি করে শেষে ২৬০ টাকায় কিনেছি।’

পুরো বাজার ঘুরে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে সবজির দামে। রমজানের শুরুর দিকে যেসব সবজির দাম হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল, সেগুলোর দাম এখন অনেক কমেছে। বেগুন, শসা, টমেটো, শিম ও আলুর বাজারে আগের তুলনায় স্বস্তির ভাব দেখা গেছে। যেই বেগুন রোজার শুরুতে ১০০-১২০ টাকা ছিল, তা এখন ৪০-৬০ টাকায় নেমেছে। শসা ৮০-১২০ টাকা থেকে কমে ৪০-৬০ টাকা, টমেটো ৬০-৮০ টাকা থেকে কমে ২০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতারা জানান, অন্যান্য সবজির দামও সহনীয় আছে।

তবে লেবুর বাজার এখনো কিছুটা চড়া, এখনও আকার ভেদে প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৮০ টাকায়।

আনোয়ার নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘কাঁচা বাজার ঠিক আছে। মুরগির দাম অনেক বেশি। পোলাওয়ের চালও অনেক বেশি দাম দিয়ে কিনেছি। গরুর মাংস কিনতে পারিনি।’

সামগ্রিকভাবে সবজির দাম কিছুটা স্বস্তি দিলেও ঈদকেন্দ্রিক পণ্য কিনতে গেছে তা উবে যাচ্ছে। ফলে ঈদে রান্নাঘরের ব্যয় মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে।

সম্পর্কিত