মিড-ডে মিলে পচা রুটি-ডিম, যাচাইয়ের নির্দেশ মন্ত্রণালয়ের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ২৩: ১৮
শিবগঞ্জের চাতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রতি মিড-ডে মিল খেয়ে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্ট্রিম গ্রাফিক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচির (মিড-ডে মিল) আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা বনরুটি, কলা ও দুর্গন্ধযুক্ত ডিম সরবরাহের অভিযোগ যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে প্রধান শিক্ষকদের খাবার নেওয়ার আগে তা যাচাই করতে বলা হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে গাফিলতি বা অনিয়ম পেলে বিভাগীয় মামলাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতাভুক্ত দেশের ১৫০টি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পচা বনরুটি ও কলা এবং ডিম বিতরণসহ নানা অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। মানসম্মত খাদ্য সরবরাহে এই ঘাটতির কারণে একদিকে যেমন প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই বিদ্যালয়ে বিতরণের আগে খাবারের মান নিশ্চিত করা জরুরি।

খাবারের মান যাচাইয়ে প্রধান শিক্ষকদের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বনরুটি তাজা, নরম ও সঠিকভাবে মোড়কজাত কিনা, তা পরীক্ষা করতে হবে। প্যাকেজিং হতে হবে অক্ষত। কোনোভাবেই ছিঁড়ে যাওয়া, আর্দ্রতাযুক্ত, পচন ধরা, ফাংগাস পড়া বা দুর্গন্ধযুক্ত রুটি নেওয়া যাবে না। প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নিট ওজন (১২০ গ্রাম) উল্লেখ আছে কিনা, তা যাচাই করতে হবে।

সরবরাহ করা ডিম ফাটা, দুর্গন্ধযুক্ত, পিচ্ছিল বা দৃশ্যমান কোনো দূষণ আছে কিনা, তা দেখতে হবে। কলা হতে হবে দাগ বা পোকামাকড়মুক্ত। বেশি পাকা বা পচা কলা কোনোভাবে নিয়ে শিক্ষার্থীদের দেওয়া যাবে না।

ইউএইচটি মিল্ক ও ফর্টিফায়েড বিস্কুটের প্যাকেজিং অক্ষত থাকতে হবে এবং প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নিট ওজন যাচাই করতে হবে। এছাড়া, সরবরাহকারীর সঙ্গে চুক্তির স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ খাবার নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে নিয়ে বিতরণের বিষয় নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে চিঠিতে। বিদ্যালয়ের মজুত এবং বিতরণ ব্যবস্থাও উন্নত করতে হবে, যাতে খাবারের গুণগত মান বজায় থাকে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনোভাবেই নিম্নমানের ও ত্রুটিপূর্ণ খাবার সরবরাহকারীদের কাছ থেকে নেওয়া যাবে না। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের খাবার দিলে না নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

শিক্ষকদের সতর্ক করে চিঠিতে বলা হয়েছে, খাবার নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি, শৈথিল্য ও অনিয়ম পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত