স্ট্রিম প্রতিবেদক

কক্সবাজারে মহেশখালী উপজেলায় বিদ্যমান সব প্রাকৃতিক ও সৃজিত প্যারাবনে বনবিরোধী কার্যক্রম—বিশেষ করে চিংড়ি ও লবণ চাষ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। নোটিশে এ সব বনভূমিতে বিদ্যমান অবৈধ স্থাপনা ও দখলদার উচ্ছেদের জোরালো দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একইসঙ্গে এই এলাকার প্রাকৃতিক বন ও সৃজিত বাগান ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, বন সংরক্ষকের কার্যালয়ের বন সংরক্ষক, চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক এবং মহেশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে মহেশখালী উপজেলায় প্যারাবন ধ্বংস করে গৃহীত সব উন্নয়ন প্রকল্প বাতিল এবং বনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে বনের যে ক্ষতি সাধন হয়েছে, তা নিরূপণ সাপেক্ষে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে প্যারাবন পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটিভাঙ্গা ও এর সংযোগ খাল চিংড়ি চাষমুক্ত করে পুনরুদ্ধারপূর্বক এর যথাযথ সংরক্ষণেরও জোর দাবি জানানো হয়েছে।
বেলা বলছে, কক্সবাজার জেলাধীন মহেশখালী উপজেলাটি তিনটি ছোট ছোট দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত বিধায় এটিকে মহেশখালী দ্বীপ বলা হয়ে থাকে। মূলত, এটি দেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ। পরিবেশগত তাৎপর্য বিবেচনায় এ উপজেলার সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা মৌজার ৪ হাজার ৯১৬ হেক্টর এলাকা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে প্রাকৃতিক বন ও গাছ কাটা; উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসকারী কার্যক্রম এবং ভূমি ও পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনকারী সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ।
মহেশখালীতে গোরকঘাটা ও চরণদ্বীপ রেঞ্জে প্রায় ৪১৪২ দশমিক ৭৯ হেক্টর সংরক্ষিত বন রয়েছে। ইসিএ ঘোষণা করে দেওয়া প্রজ্ঞাপণের ৪ ও ৬ ধারায় উল্লেখিত বনও রয়েছে এ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে, যার ২৩৮০ দশমিক ০২ একর সোনাদিয়া এবং ৪৩৬০ একর ঘটিভাঙ্গা মৌজাধীন। এছাড়া রয়েছে সৃজিত উপকূলীয় প্যারাবন যা ‘সবুজ বেষ্টনী’ হিসেবে খ্যাত। মূলত, ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে মহেশখালীর অসংখ্য মানুষের প্রাণহানির পর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষা করতে এ বন তৈরি করা হয়।
বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, এসব প্যারাবনে ২৫০ প্রজাতির মাছ, ১৫০ প্রজাতির শামুক ও ঝিনুক, ৫০ প্রজাতির কাঁকড়া, ৪০ প্রজাতির চিংড়ি, ১৭০ প্রজাতির পাখি, ৫০ প্রজাতির বালিয়াড়ি উদ্ভিদ, ১৫ প্রজাতির ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ, ৩ প্রজাতির ডলফিন, সামুদ্রিক কাছিম, মেছো বাঘ, শিয়াল, সাপ, গুইসাপসহ অসংখ্য প্রাণীর বসবাস রয়েছে—যার অর্ধেকের বেশি ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
মহেশখালীর বিভিন্ন স্থানে প্যারাবন ধ্বংস করে লবণ চাষ, চিংড়ি ঘের তৈরি ও স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে অভিযোগ করে সংগঠনটি আইনি নোটিশে জানিয়েছে, ঘটিভাঙ্গা খাল থেকে সৃষ্ট সরু খালের মুখে মাটির বাঁধ দিয়ে সেখানে লবণ চাষ করা হচ্ছে। বাঁধ দেয়ার পাশাপাশি খালটিকে কয়েক খণ্ডে বিভক্ত করে সেখানে চিংড়ি চাষও করা হচ্ছে। শুধুমাত্র সোনাদিয়ায় রয়েছে প্রায় ৫০টি চিংড়ি প্রকল্প এবং ঘটিভাঙ্গা ও বড় মহেশখালী মৌজায় রয়েছে প্রায় ১৫টি প্রকল্প। প্রতিটি প্রকল্প গড়ে উঠেছে প্রায় ৫০০ একর বনভূমি ধ্বংস করে। গোরকঘাটা রেঞ্জের গোরকঘাটা ও চরণদ্বীপের প্রায় ১০,৫৬৩ একর প্যারাবন ইতোমধ্যে দখল হয়ে গেছে।
দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্যারাবন ধ্বংস করে চিংড়ি চাষ, লবণ চাষ ও স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও নীতিমালায় প্যারাবন সংরক্ষণে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে এবং বিশেষ করে চিংড়ি ও লবণ চাষের জন্য নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। অধিকন্তু, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় রয়েছে সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
বনবিরোধী কার্যক্রম রোধে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায় ও আদেশ রয়েছে। এসব রায়ের উদাহরণ তুলে ধরে বেলা বলছে, এক সিভিল পিটিশন লিভ টু আপিলে ২০১৩ সালের ৬ অক্টোবর আদেশে আপিল বিভাগ প্রজ্ঞাপিত উপকূলীয় বনভূমি সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছেন। বেলার দায়ের করা একটি জনস্বার্থমূলক মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর আদালত কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা মৌজার প্রজ্ঞাপিত বনভূমি এবং ইসিএ এলাকায় গাছ কাটা ও চিংড়ি ঘের নির্মাণ বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেছেন। একইসঙ্গে ৪ হাজার ৯১৬ হেক্টর ঘোষিত ইসিএ ও ৮ হাজার ১ দশমিক ৭০ একর প্রজ্ঞাপিত বনভূমির ক্ষতি নিরূপণ করে একটি পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়নপূর্বক আদালতে দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বেলার দায়ের করা আরেকটি জনস্বার্থমূলক মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১২ সালের ১৭ জুন আদালত প্রজ্ঞাপিত বনভূমি চিংড়ি চাষের জন্য ইজারা প্রদান থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন।
স্পষ্ট আইনি বিধান ও আদালতের সুনির্দিষ্ট আদেশ থাকা সত্ত্বেও মহেশখালীসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে উপকূলীয় প্যারাবন ও সৃজিত সবুজ বেষ্টনি ধ্বংস করে চিংড়ি চাষ, লবণ চাষ ও স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ বেলার। সংগঠনটি মনে করে, এধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে প্যারাবন রক্ষা করতে না পারা আইন ও বিচারিক ব্যবস্থার প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ও অবজ্ঞার পরিচায়ক। এটি আদালত অবমাননার শামিলও বটে।
বেলা নোটিশগ্রহীতাদের আগামী সাত দিনের মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপ জানাতে অনুরোধ করেছে, তা না হলে আদালত অবমাননার অভিযোগে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

কক্সবাজারে মহেশখালী উপজেলায় বিদ্যমান সব প্রাকৃতিক ও সৃজিত প্যারাবনে বনবিরোধী কার্যক্রম—বিশেষ করে চিংড়ি ও লবণ চাষ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। নোটিশে এ সব বনভূমিতে বিদ্যমান অবৈধ স্থাপনা ও দখলদার উচ্ছেদের জোরালো দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একইসঙ্গে এই এলাকার প্রাকৃতিক বন ও সৃজিত বাগান ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, বন সংরক্ষকের কার্যালয়ের বন সংরক্ষক, চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক এবং মহেশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে মহেশখালী উপজেলায় প্যারাবন ধ্বংস করে গৃহীত সব উন্নয়ন প্রকল্প বাতিল এবং বনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে বনের যে ক্ষতি সাধন হয়েছে, তা নিরূপণ সাপেক্ষে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে প্যারাবন পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটিভাঙ্গা ও এর সংযোগ খাল চিংড়ি চাষমুক্ত করে পুনরুদ্ধারপূর্বক এর যথাযথ সংরক্ষণেরও জোর দাবি জানানো হয়েছে।
বেলা বলছে, কক্সবাজার জেলাধীন মহেশখালী উপজেলাটি তিনটি ছোট ছোট দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত বিধায় এটিকে মহেশখালী দ্বীপ বলা হয়ে থাকে। মূলত, এটি দেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ। পরিবেশগত তাৎপর্য বিবেচনায় এ উপজেলার সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা মৌজার ৪ হাজার ৯১৬ হেক্টর এলাকা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে প্রাকৃতিক বন ও গাছ কাটা; উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসকারী কার্যক্রম এবং ভূমি ও পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনকারী সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ।
মহেশখালীতে গোরকঘাটা ও চরণদ্বীপ রেঞ্জে প্রায় ৪১৪২ দশমিক ৭৯ হেক্টর সংরক্ষিত বন রয়েছে। ইসিএ ঘোষণা করে দেওয়া প্রজ্ঞাপণের ৪ ও ৬ ধারায় উল্লেখিত বনও রয়েছে এ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে, যার ২৩৮০ দশমিক ০২ একর সোনাদিয়া এবং ৪৩৬০ একর ঘটিভাঙ্গা মৌজাধীন। এছাড়া রয়েছে সৃজিত উপকূলীয় প্যারাবন যা ‘সবুজ বেষ্টনী’ হিসেবে খ্যাত। মূলত, ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে মহেশখালীর অসংখ্য মানুষের প্রাণহানির পর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষা করতে এ বন তৈরি করা হয়।
বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, এসব প্যারাবনে ২৫০ প্রজাতির মাছ, ১৫০ প্রজাতির শামুক ও ঝিনুক, ৫০ প্রজাতির কাঁকড়া, ৪০ প্রজাতির চিংড়ি, ১৭০ প্রজাতির পাখি, ৫০ প্রজাতির বালিয়াড়ি উদ্ভিদ, ১৫ প্রজাতির ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ, ৩ প্রজাতির ডলফিন, সামুদ্রিক কাছিম, মেছো বাঘ, শিয়াল, সাপ, গুইসাপসহ অসংখ্য প্রাণীর বসবাস রয়েছে—যার অর্ধেকের বেশি ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
মহেশখালীর বিভিন্ন স্থানে প্যারাবন ধ্বংস করে লবণ চাষ, চিংড়ি ঘের তৈরি ও স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে অভিযোগ করে সংগঠনটি আইনি নোটিশে জানিয়েছে, ঘটিভাঙ্গা খাল থেকে সৃষ্ট সরু খালের মুখে মাটির বাঁধ দিয়ে সেখানে লবণ চাষ করা হচ্ছে। বাঁধ দেয়ার পাশাপাশি খালটিকে কয়েক খণ্ডে বিভক্ত করে সেখানে চিংড়ি চাষও করা হচ্ছে। শুধুমাত্র সোনাদিয়ায় রয়েছে প্রায় ৫০টি চিংড়ি প্রকল্প এবং ঘটিভাঙ্গা ও বড় মহেশখালী মৌজায় রয়েছে প্রায় ১৫টি প্রকল্প। প্রতিটি প্রকল্প গড়ে উঠেছে প্রায় ৫০০ একর বনভূমি ধ্বংস করে। গোরকঘাটা রেঞ্জের গোরকঘাটা ও চরণদ্বীপের প্রায় ১০,৫৬৩ একর প্যারাবন ইতোমধ্যে দখল হয়ে গেছে।
দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্যারাবন ধ্বংস করে চিংড়ি চাষ, লবণ চাষ ও স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও নীতিমালায় প্যারাবন সংরক্ষণে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে এবং বিশেষ করে চিংড়ি ও লবণ চাষের জন্য নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। অধিকন্তু, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় রয়েছে সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
বনবিরোধী কার্যক্রম রোধে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায় ও আদেশ রয়েছে। এসব রায়ের উদাহরণ তুলে ধরে বেলা বলছে, এক সিভিল পিটিশন লিভ টু আপিলে ২০১৩ সালের ৬ অক্টোবর আদেশে আপিল বিভাগ প্রজ্ঞাপিত উপকূলীয় বনভূমি সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছেন। বেলার দায়ের করা একটি জনস্বার্থমূলক মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর আদালত কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা মৌজার প্রজ্ঞাপিত বনভূমি এবং ইসিএ এলাকায় গাছ কাটা ও চিংড়ি ঘের নির্মাণ বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেছেন। একইসঙ্গে ৪ হাজার ৯১৬ হেক্টর ঘোষিত ইসিএ ও ৮ হাজার ১ দশমিক ৭০ একর প্রজ্ঞাপিত বনভূমির ক্ষতি নিরূপণ করে একটি পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়নপূর্বক আদালতে দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বেলার দায়ের করা আরেকটি জনস্বার্থমূলক মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১২ সালের ১৭ জুন আদালত প্রজ্ঞাপিত বনভূমি চিংড়ি চাষের জন্য ইজারা প্রদান থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন।
স্পষ্ট আইনি বিধান ও আদালতের সুনির্দিষ্ট আদেশ থাকা সত্ত্বেও মহেশখালীসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে উপকূলীয় প্যারাবন ও সৃজিত সবুজ বেষ্টনি ধ্বংস করে চিংড়ি চাষ, লবণ চাষ ও স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ বেলার। সংগঠনটি মনে করে, এধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে প্যারাবন রক্ষা করতে না পারা আইন ও বিচারিক ব্যবস্থার প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ও অবজ্ঞার পরিচায়ক। এটি আদালত অবমাননার শামিলও বটে।
বেলা নোটিশগ্রহীতাদের আগামী সাত দিনের মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপ জানাতে অনুরোধ করেছে, তা না হলে আদালত অবমাননার অভিযোগে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
.png)

বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে বাংলাদেশের উপকূলের প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বের বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বন সুন্দরবন। তবে মানুষের আগ্রাসন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে ধীরে ধীরে ক্ষয় হচ্ছে এই বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য। বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবসে সুন্দরবনের সেই সংকটের চিত্রই সামনে এসেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ঢাকার ধামরাইয়ে গাজিখালী নদীতে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের বিরুদ্ধে অপরিশোধিত তরল বর্জ্য ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর পানি কালচে হয়ে গেছে। ভেসে উঠছে মরা মাছসহ জলজ প্রাণী। নদীর তীরজুড়ে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।
১৯ জুলাই ২০২৬
আপাতত ৩৮ হাজারের যে সংখ্যা দেখানো হচ্ছে, এটি মূলত অস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি। এখানকার একটি অংশ পরে স্থায়ী বাস্তুচ্যুতির শিকার হবেন। বাস্তুচ্যুতরা তাঁদের সহায়-সম্বল হারান। ফলে দারিদ্র্যসীমার নিচের মানুষেরা হন অতিদরিদ্র।
১৪ জুলাই ২০২৬
প্রায় প্রতিবর্ষায় বন্যা আসে। এ বছরও জুলাই মাসে টানা সাত দিনের বৃষ্টিতে বন্যার কবলে পড়েছে দেশ। দেশের দক্ষিণাঞ্চল সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইতিমধ্যেই পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় মারা গেছেন অন্তত ৫১ জন।
১৩ জুলাই ২০২৬