আরডিআরসির গবেষণা
স্ট্রিম প্রতিবেদক

দেশে গত এক বছরে সরকারি প্রকল্প ও দখলের জন্য কাটা পড়েছে ৫২ হাজার ৩৭৫টি গাছ। সংখ্যাটি বেশ বড় মনে হলেও, এটি আগের বছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ২ শতাংশ কম। মূলত দেশে বড় বড় নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্প আপাতত বন্ধ অথবা ধীরগতিতে চলায় গাছ কাটার হার কমেছে। তবে এসব প্রকল্প পুরোদমে শুরু হলে বনভূমি আবারও হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গবেষণা সংস্থা রিভার অ্যান্ড ডেলটা রিসার্চ সেন্টার (আরডিআরসি) প্রকাশিত ‘লগিং অব ট্রিস ইন বাংলাদেশ (২০২৫-২৬)’ শীর্ষক এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের মে থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত দেশের জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণা করা হয়।
এই গবেষণায় উল্লেখিত সবগুলো গাছ শুধু সরকারি জমির নয়। তবে কাটা পড়া গাছের সিংহভাগই সরকারি, প্রাতিষ্ঠানিক ও উন্মুক্ত জমির। গবেষণাপত্রটির তথ্য এবং সংবাদের উদাহরণগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গাছ কাটার বড় ঘটনাগুলো ঘটেছে মূলত রাস্তার পাশে, বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে, খাল বা নদীর পাড়ে এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে।
গবেষণায় মূলত সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক জমির (সড়ক ও জনপথ বিভাগ, এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিএডিসি, সিটি করপোরেশন এবং রেলওয়ে) গাছ কাটার হিসাব এসেছে। এর বাইরে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি জুট মিল বা চিনিকল, দখলের জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কিছু জমির গাছ নিধনের তথ্য এসেছে।
গবেষণার তথ্যানুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে গাছ কাটার মহোৎসব হয়। ওই এক বছরে সারা দেশে কাটা পড়ে প্রায় ১১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৬৫টি গাছ। এরপরের বছর (২০২৪-২৫ অর্থবছর) প্রায় ১০ লাখ কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮১ হাজার ৮১৮টিতে। সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাটা হয়েছে ৫২ হাজার ৩৭৫টি গাছ। অর্থাৎ, মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে দেশে গাছ কাটা কমেছে ৯৫ দশমিক ৪ শতাংশ।
তবে গবেষকরা বলছেন, সাধারণভাবে একে বন রক্ষায় বিশাল অর্জন মনে হলেও পেছনের কারণ ভিন্ন। মূলত এই সময়ে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প ও রাস্তাঘাট সম্প্রসারণ কাজ কম হয়েছে। তাই এটি বন রক্ষার কাঠামোগত উন্নতি, নাকি প্রকল্প বন্ধ থাকার সাময়িক ফল—তা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
গবেষণায় দেশের ২৯ জেলায় গাছ কাটার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য বলছে, গত এক বছরে গড়ে প্রতি মাসে ৪ হাজার ৩৬৫টি গাছ কাটা পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গাছ কাটা হয়েছে রাজশাহী জেলায়–২৩ হাজার ৪১টি। এরপরই ১১ হাজার গাছ কাটা পড়েছে কক্সবাজারে, সুনামগঞ্জে ৬ হাজার ৪০৯ এবং চট্টগ্রামে ৫ হাজার ১০৩টি।
অন্যদিকে, সবচেয়ে কম গাছ কাটা হয়েছে মাগুরা ও মাদারীপুর জেলায়। এই দুই জেলায় মাত্র ১টি করে গাছ কাটার খবর পাওয়া গেছে।
দেশে বন উজাড় বা গাছ কাটার পেছনে বেশকিছু কারণও দেখিয়েছেন গবেষকেরা। প্রথমত, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কৃষিকাজ সম্প্রসারণ এবং নতুন বসতি স্থাপনের জন্য বনভূমি উজাড় করা হচ্ছে। দ্রুত নগরায়ণ ও নিত্যনতুন অবকাঠামো নির্মাণও গাছ কাটার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
এ ছাড়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চিংড়ি ও লবণের ঘের তৈরির জন্যও নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে। কাঠ পাচারকারী ও অসাধু কাঠ ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতার পাশাপাশি পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতার অভাব, ভুল তথ্য ও নানা কুসংস্কারের বশবর্তী হয়েও অনেকে অকারণে গাছপালা কেটে ফেলছেন বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।
বন ধ্বংসের পেছনে সরকারি সংস্থাগুলোর নামই সবচেয়ে বেশি এসেছে। বন বিভাগ, সড়ক ও জনপথ, এলজিইডি, বিএডিসি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদগুলোর নানা প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি গাছ কাটা পড়েছে।
পাশাপাশি রাজনৈতিক ছত্রছায়া থাকা ব্যক্তিরাও এর জন্য দায়ী। বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং অসাধু কাঠ ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে সংগঠিতভাবে গাছ নিধনের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এজন্য আইনের দুর্বল প্রয়োগ ও জবাবদিহির অভাবের কথা বলা হয়েছে।
অবাধে গাছ কাটার ফলে পরিবেশ, সমাজ ও অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব পড়ছে বলে গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, বন ধ্বংসের কারণে একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে জলবায়ুতে চরম ভাবাপন্নতা দেখা দিচ্ছে।
গাছ কমে যাওয়ায় দিনে তীব্র গরম এবং রাতে হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। বনের মাটি রোদে শুকিয়ে পানিশূন্য হয়ে ধীরে ধীরে মরুভূমির রূপ নিচ্ছে। গাছের শিকড় মাটিকে শক্ত করে আটকে রাখে, কিন্তু বন উজাড় হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে উপরের উর্বর মাটি ধুয়ে যাচ্ছে। এই মাটি গিয়ে পড়ছে নদীতে, ফলে নদীর নাব্যতা কমছে এবং অল্প বৃষ্টিতেই বন্যার প্রকোপ দেখা দিচ্ছে।
পরিবেশের পাশাপাশি এর সামাজিক প্রভাবও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণায়। বনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা তাদের আদি বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ হচ্ছেন। কৃষিজমি কমে যাওয়া এবং বনজ সম্পদ ধ্বংস হওয়ায় শিকার ও চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সার্বিক খাদ্যনিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে।
অবশ্য গত এক বছরে বনভূমি পুনরুদ্ধারে বেশ কিছু ইতিবাচক ও কঠোর পদক্ষেপ দেখা গেছে। সোনাদিয়া দ্বীপ, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বেদখল হওয়া ৫ হাজার ৯৩ একর বনভূমি উদ্ধার করে নতুন করে বনায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটি আসে গত এপ্রিলে।
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ রক্ষায় কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক চার লেনে উন্নীত করার নকশা পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। কেবল এই একটি নির্দেশনার ফলেই সড়কটির পাশের প্রায় ৩ হাজার গাছ রক্ষা পায়। এ ছাড়া সরকার সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর একটি বিশাল কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে আগামী ৫ বছরে ১০ হাজার কমিউনিটি নার্সারির মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বনাঞ্চল রক্ষায় গবেষণাটিতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, ১৯২৭ সালের বন আইন ও ১৯৯৪ সালের বননীতির কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বন বিভাগের ভেতরে থাকা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
কোথায় বেআইনিভাবে গাছ কাটা হচ্ছে, তা দ্রুত শনাক্তে স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের ডেটা ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কৃষি বনায়ন বা পরিবেশবান্ধব টেকসই কৃষিকাজে উৎসাহিত করার পাশাপাশি চাষিদের প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া শহরের যেকোনো নতুন ভবন বা অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সবুজায়নকে বাধ্যতামূলক করে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় আদিবাসী ও বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের প্রথাগত অধিকার রক্ষায় তাঁদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার তাগিদও দেওয়া হয়েছে।

দেশে গত এক বছরে সরকারি প্রকল্প ও দখলের জন্য কাটা পড়েছে ৫২ হাজার ৩৭৫টি গাছ। সংখ্যাটি বেশ বড় মনে হলেও, এটি আগের বছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ২ শতাংশ কম। মূলত দেশে বড় বড় নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্প আপাতত বন্ধ অথবা ধীরগতিতে চলায় গাছ কাটার হার কমেছে। তবে এসব প্রকল্প পুরোদমে শুরু হলে বনভূমি আবারও হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গবেষণা সংস্থা রিভার অ্যান্ড ডেলটা রিসার্চ সেন্টার (আরডিআরসি) প্রকাশিত ‘লগিং অব ট্রিস ইন বাংলাদেশ (২০২৫-২৬)’ শীর্ষক এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের মে থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত দেশের জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণা করা হয়।
এই গবেষণায় উল্লেখিত সবগুলো গাছ শুধু সরকারি জমির নয়। তবে কাটা পড়া গাছের সিংহভাগই সরকারি, প্রাতিষ্ঠানিক ও উন্মুক্ত জমির। গবেষণাপত্রটির তথ্য এবং সংবাদের উদাহরণগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গাছ কাটার বড় ঘটনাগুলো ঘটেছে মূলত রাস্তার পাশে, বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে, খাল বা নদীর পাড়ে এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে।
গবেষণায় মূলত সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক জমির (সড়ক ও জনপথ বিভাগ, এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিএডিসি, সিটি করপোরেশন এবং রেলওয়ে) গাছ কাটার হিসাব এসেছে। এর বাইরে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি জুট মিল বা চিনিকল, দখলের জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কিছু জমির গাছ নিধনের তথ্য এসেছে।
গবেষণার তথ্যানুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে গাছ কাটার মহোৎসব হয়। ওই এক বছরে সারা দেশে কাটা পড়ে প্রায় ১১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৬৫টি গাছ। এরপরের বছর (২০২৪-২৫ অর্থবছর) প্রায় ১০ লাখ কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮১ হাজার ৮১৮টিতে। সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাটা হয়েছে ৫২ হাজার ৩৭৫টি গাছ। অর্থাৎ, মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে দেশে গাছ কাটা কমেছে ৯৫ দশমিক ৪ শতাংশ।
তবে গবেষকরা বলছেন, সাধারণভাবে একে বন রক্ষায় বিশাল অর্জন মনে হলেও পেছনের কারণ ভিন্ন। মূলত এই সময়ে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প ও রাস্তাঘাট সম্প্রসারণ কাজ কম হয়েছে। তাই এটি বন রক্ষার কাঠামোগত উন্নতি, নাকি প্রকল্প বন্ধ থাকার সাময়িক ফল—তা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
গবেষণায় দেশের ২৯ জেলায় গাছ কাটার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য বলছে, গত এক বছরে গড়ে প্রতি মাসে ৪ হাজার ৩৬৫টি গাছ কাটা পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গাছ কাটা হয়েছে রাজশাহী জেলায়–২৩ হাজার ৪১টি। এরপরই ১১ হাজার গাছ কাটা পড়েছে কক্সবাজারে, সুনামগঞ্জে ৬ হাজার ৪০৯ এবং চট্টগ্রামে ৫ হাজার ১০৩টি।
অন্যদিকে, সবচেয়ে কম গাছ কাটা হয়েছে মাগুরা ও মাদারীপুর জেলায়। এই দুই জেলায় মাত্র ১টি করে গাছ কাটার খবর পাওয়া গেছে।
দেশে বন উজাড় বা গাছ কাটার পেছনে বেশকিছু কারণও দেখিয়েছেন গবেষকেরা। প্রথমত, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কৃষিকাজ সম্প্রসারণ এবং নতুন বসতি স্থাপনের জন্য বনভূমি উজাড় করা হচ্ছে। দ্রুত নগরায়ণ ও নিত্যনতুন অবকাঠামো নির্মাণও গাছ কাটার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
এ ছাড়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চিংড়ি ও লবণের ঘের তৈরির জন্যও নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে। কাঠ পাচারকারী ও অসাধু কাঠ ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতার পাশাপাশি পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতার অভাব, ভুল তথ্য ও নানা কুসংস্কারের বশবর্তী হয়েও অনেকে অকারণে গাছপালা কেটে ফেলছেন বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।
বন ধ্বংসের পেছনে সরকারি সংস্থাগুলোর নামই সবচেয়ে বেশি এসেছে। বন বিভাগ, সড়ক ও জনপথ, এলজিইডি, বিএডিসি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদগুলোর নানা প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি গাছ কাটা পড়েছে।
পাশাপাশি রাজনৈতিক ছত্রছায়া থাকা ব্যক্তিরাও এর জন্য দায়ী। বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং অসাধু কাঠ ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে সংগঠিতভাবে গাছ নিধনের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এজন্য আইনের দুর্বল প্রয়োগ ও জবাবদিহির অভাবের কথা বলা হয়েছে।
অবাধে গাছ কাটার ফলে পরিবেশ, সমাজ ও অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব পড়ছে বলে গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, বন ধ্বংসের কারণে একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে জলবায়ুতে চরম ভাবাপন্নতা দেখা দিচ্ছে।
গাছ কমে যাওয়ায় দিনে তীব্র গরম এবং রাতে হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। বনের মাটি রোদে শুকিয়ে পানিশূন্য হয়ে ধীরে ধীরে মরুভূমির রূপ নিচ্ছে। গাছের শিকড় মাটিকে শক্ত করে আটকে রাখে, কিন্তু বন উজাড় হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে উপরের উর্বর মাটি ধুয়ে যাচ্ছে। এই মাটি গিয়ে পড়ছে নদীতে, ফলে নদীর নাব্যতা কমছে এবং অল্প বৃষ্টিতেই বন্যার প্রকোপ দেখা দিচ্ছে।
পরিবেশের পাশাপাশি এর সামাজিক প্রভাবও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণায়। বনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা তাদের আদি বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ হচ্ছেন। কৃষিজমি কমে যাওয়া এবং বনজ সম্পদ ধ্বংস হওয়ায় শিকার ও চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সার্বিক খাদ্যনিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে।
অবশ্য গত এক বছরে বনভূমি পুনরুদ্ধারে বেশ কিছু ইতিবাচক ও কঠোর পদক্ষেপ দেখা গেছে। সোনাদিয়া দ্বীপ, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বেদখল হওয়া ৫ হাজার ৯৩ একর বনভূমি উদ্ধার করে নতুন করে বনায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটি আসে গত এপ্রিলে।
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ রক্ষায় কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক চার লেনে উন্নীত করার নকশা পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। কেবল এই একটি নির্দেশনার ফলেই সড়কটির পাশের প্রায় ৩ হাজার গাছ রক্ষা পায়। এ ছাড়া সরকার সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর একটি বিশাল কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে আগামী ৫ বছরে ১০ হাজার কমিউনিটি নার্সারির মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বনাঞ্চল রক্ষায় গবেষণাটিতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, ১৯২৭ সালের বন আইন ও ১৯৯৪ সালের বননীতির কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বন বিভাগের ভেতরে থাকা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
কোথায় বেআইনিভাবে গাছ কাটা হচ্ছে, তা দ্রুত শনাক্তে স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের ডেটা ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কৃষি বনায়ন বা পরিবেশবান্ধব টেকসই কৃষিকাজে উৎসাহিত করার পাশাপাশি চাষিদের প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া শহরের যেকোনো নতুন ভবন বা অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সবুজায়নকে বাধ্যতামূলক করে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় আদিবাসী ও বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের প্রথাগত অধিকার রক্ষায় তাঁদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার তাগিদও দেওয়া হয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরে (২০২৬-২০৩০) বৈশ্বিক তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, এর ফলে হুমকির মুখে পড়বে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা।
৭ দিন আগে
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
৭ দিন আগে
২০২৬ সালের এই আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবসে আসুন, আমরা সবাই মিলে এক নতুন প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ হই। আমাদের ওয়ার্ডে আমাদের পাড়ায় আমাদের আঙিনায় নেওয়া প্রতিটি ছোট স্থানীয় পদক্ষেপই একদিন রাষ্ট্রীয় গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে ইতিবাচক পরিবর্তনের শক্তিশালী ঢেউ তুলতে পারে।
১৩ দিন আগে
যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মা—দেশের প্রধান এই তিন নদীর ১১টি এলাকায় তীব্র ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। এতে ঝুঁকিতে রয়েছে ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যেসব স্থানে ১০০ মিটারের বেশি ভাঙনের শঙ্কা থাকে, মূলত সে এলাকাগুলোকেই এই প্রতিবেদনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
১৫ দিন আগে