সোনা‌দিয়া দ্বীপ দখ‌লে ‘সর্বদলীয়’ থাবা, উধাও কা‌ছিম-লাল কাঁকড়া

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ২১
স্ট্রিম গ্রাফিক

কক্সবাজারের মহেশখালীর নৈসর্গিক দ্বীপ সোনাদিয়া। সামুদ্রিক কাছিম ও লাল কাঁকড়ার নিরাপদ প্রজননস্থল ৯ বর্গকিলোমিটারের দ্বীপটি অনেক আগে থেকেই সরকারি নথিতে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)। তবে এখানেই বালিয়াড়ি ও প্যারাবন ধ্বংস করে গড়ে তোলা হয়েছে অন্তত ৪০টি রিসোর্ট ও কটেজ।

স্থানীয়রা বলছেন, অবৈধ এসব স্থাপনার মালিকানায় রয়েছেন বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত, এনসিপিসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালীরা। নানা বিষয়ে মত-পথের ভিন্নতা থাকলেও দ্বীপের সর্বনাশে তারা সবাই এক।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবশেষ মৌসুমে ডিম দিতে সোনাদিয়ার সৈকতে আসেনি কোনো কাছিম। লাল কাঁকড়াও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। শুঁটকির জন্য এক সময় দেশজোড়া খ্যাতি থাকা দ্বীপটির আশপাশে মাছেরও আকাল দেখা দিয়েছে। আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দ্বীপের রক্ষাকবচ প্যারাবনও ধ্বংসের পথে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) আইনজীবী হাসান আল বান্না স্ট্রিমকে বলেন, সেন্ট মার্টিন রক্ষায় পর্যটক নিয়ন্ত্রণ শুরু পর ব্যবসায়ীরা সোনাদিয়াকে টার্গেট করেছে। কিন্তু ইসিএভুক্ত জায়গায় কোনো ধরনের কাঠামো নির্মাণের সুযোগই নেই। সেই হিসাবে এসব রিসোর্টের একটিরও পরিবেশগত ছাড়পত্র বা অনুমোদন থাকার কথা নয়। বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

নেপথ্যে রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালীরা

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, ইসিএ এলাকায় জীববৈচিত্র্য বা প্রাণীর আবাস ধ্বংস করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে থাকা জীববৈচিত্র্যময় দ্বীপটিতে এই আইনের প্রয়োগ নেই। কর্তৃপক্ষের চোখের সামনেই চলছে দখলের মহোৎসব।

কক্সবাজারের পরিবেশ সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) তথ্যমতে, স্থানীয়ভাবে ‘প্যারাদ্বীপ’ নামে পরিচিত ভূখণ্ডটিতে ৪০টির বেশি কটেজ ও রিসোর্ট নির্মাণে দখল করা হয়েছে অন্তত ৭০ একর খাস ও বনভূমি। চলছে আরও কয়েকটির কাজ।

রাতে সৈকতে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। স্ট্রিম ছবি
রাতে সৈকতে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। স্ট্রিম ছবি

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন এবং এক বন কর্মকর্তা স্ট্রিমকে জানান, এসব কটেজ ও রিসোর্টের মধ্যে ২০ থেকে ২৫টির পেছনেই রয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা। বাকিগুলোর মালিক স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এর মধ্যে রয়েছেন কক্সবাজার–২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদের ভাতিজা মহেশখালী ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক জাহেদুল হক নাহিদ, জামায়াত নেতা আয়াতুল্লাহ সিকদার, এনসিপির মহেশখালী উপজেলা আহ্বায়ক মির্জা তারেকের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তি। স্থানীয় কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শেখ কামালও রয়েছেন এই তালিকায়।

এ ছাড়া স্থানীয় শফিক মিয়া, মো. করিম ও শাহাদাত করিম মিলে রাজশাহীর এক ব্যক্তির (মূল শেয়ারহোল্ডার) অর্থায়নে ‘ক্যাম্প ডি সোনাদিয়া’সহ প্রায় সাতটি রিসোর্ট গড়ে তুলেছেন বলে জানান তারা। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। আর প্রভাবশালীদের মধ্যে নাম এসেছে ঘটিভাঙা ও সোনাদিয়া পশ্চিমপাড়ার মো. ফরহাদ, সিকদার আলী, জাহাঙ্গীর আলম, দিলদার মিয়া, সাদ্দাম হোসেন ও জসিম উদ্দিনের।

তাঁরা আরও জানান, দ্বীপের পূর্ব পাশে মগচরে সৈকতের তীরে ঝাউবন ঘিরে গড়ে তোলা ‘স্যান্ডি বিচ রিসোর্ট’-এ রয়েছে বাঁশ ও কাঠের পাঁচটি কটেজ। পুরো এলাকায় রং-বেরঙের বৈদ্যুতিক বাতিও ঝোলানো হয়েছে। একই এলাকায় শামীম ও রাকিব নামের দুজন নির্মাণ করেছেন ‘ক্যাম্প ফায়ার সোনাদিয়া’ নামের আরেকটি রিসোর্ট। অন্যদিকে দ্বীপের পশ্চিমপাড়ায় ঘাট থেকে ওঠার পরই চোখে পড়ে ‘স্যান্ডি হিল বিচ সোনাদিয়া’ নামের কটেজ, যার মালিক মো. পারভেজ। আর বালিয়াড়িতে জামায়াত নেতা আয়াতুল্লাহ সিকদারের গড়ে তোলা রিসোর্টের নাম ‘ওশান ব্রিজ’।

এসব ব্যক্তিদের সবাই কটেজ নির্মাণের কথা অস্বীকার করলেও তাদের বক্তব্যেই আবার এসেছে অন্যের নাম। এনসিপি নেতা মির্জা তারেক স্ট্রিমকে বলেন, ‘সোনাদিয়ায় আমাদের কোনো রিসোর্ট বা কটেজ নেই। বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগ নেতাদের আছে। মূলত কুতুবজোম ইউপি চেয়ারম্যান শেখ কামালই সবচেয়ে বেশি দখল করেছেন। তার নিজেরই দুই-তিনটি রিসোর্ট এবং অনেকগুলোতে শেয়ার রয়েছে।’

২০২০ সাল পর্যন্ত এই সৈকতে বছরে অন্তত ১০ হাজার ডিম পাড়ত বিভিন্ন প্রজাতির কাছিম। গত মৌসুমে তা নেমে এসেছে সাড়ে ৩ হাজারে। আর চলতি মৌসুমে ডিম দিতে কোনো মা কচ্ছপ সৈকতেই ওঠেনি।

বনভূমি দখল ও প্যারাবন ধ্বংসের অভিযোগে গত ২ এপ্রিল বন বিভাগের মামলায়ও এসেছে শেখ কামালের নাম। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সোনাদিয়া দ্বীপে আমার কোনো রিসোর্ট নেই। আমি প্যারাবনও দখল করিনি। বন বিভাগের মামলায় যাদের নাম এসেছে, তারাই বলতে পারবেন কারা এসব করেছে।’

আর বিএনপি নেতা জাহেদুল হক নাহিদ বলেন, ‘জীবনে কোনো দিন সোনাদিয়া দ্বীপে যাইওনি, সেখানে আমার রিসোর্ট থাকবে কীভাবে? স্থানীয় যারা আমার কথা বলেছেন, তারা মিথ্যা বলছেন।’

ডিম পাড়তে আসেনি কচ্ছপ, চলছে আগুন দিয়ে বন ধ্বংস

কক্সবাজার শহর থেকে বঙ্গোপসাগরের মোহনা পেরিয়ে উত্তর–পশ্চিমে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরের দ্বীপটিতে এরই মধ্যে দখলযজ্ঞের ছাপ পড়তে শুরু করেছে।

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা জানান, সামুদ্রিক কাছিমের ডিম দেওয়ার প্রধান মৌসুম অক্টোবর-মার্চ। সোনাদিয়ায় এই সময়ে দেখা মিলত উপকূলের দুর্লভ জলপাই রঙের অলিভ রিডলি ও সবুজ কাছিমের।

নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্টের (নেকম) তথ্য বলছে, ২০২০ সাল পর্যন্ত এই সৈকতে বছরে অন্তত ১০ হাজার ডিম পাড়ত বিভিন্ন প্রজাতির কাছিম। গত মৌসুমে তা নেমে এসেছে সাড়ে ৩ হাজারে। আর চলতি মৌসুমে ডিম দিতে কোনো মা কচ্ছপ সৈকতেই ওঠেনি।

সংস্থাটি বলছে, নির্জন দ্বীপে পর্যটকের আনাগোনা, রাতে আলোকসজ্জা, উচ্চ শব্দে বাদ্যযন্ত্র বাজানো, নির্বিচারে ঝাউগাছ কাটা এবং পর্যটকদের রাত্রিযাপনের কারণেই এই দুরবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

পর্যটন স্থাপনার বাইরে দ্বীপের বন ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের আরেক প্রধান কারণ অবৈধ চিংড়ি ঘের। এজন্য গাছ কাটার পাশাপাশি রাতের আঁধারে পেট্রোল ঢেলে প্যারাবনের হাজার হাজার একর কেওড়া ও বাইনগাছ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরিবেশবাদীদের তীব্র আপত্তি ও আইনি লড়াইয়ের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বেজার বন্দোবস্ত বাতিল করে ভূমি মন্ত্রণালয়। স্মারকের মাধ্যমে ওই জমি বন বিভাগের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আগের অবস্থা ফেরাতে একাধিক পরিকল্পনাও নেওয়া হয়। তবে সেই পরিকল্পনা আর বাস্তব হয়নি। উল্টো বেড়েছে দখলদারিত্ব।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলটির নেতারা এভাবে অন্তত ৩৭টি চিংড়ি ঘের করেছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার এবং বতর্মান বিএনপি সরকারের সময়ও ওই ধ্বংসযজ্ঞ থামেনি।

এতে দ্বীপের জীববৈচিত্র্যে যে প্রভাব পড়েছে তা খোদ পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যেই স্পষ্ট। সরকারি সংস্থাটির হিসাব বলছে, এক সময় সোনাদিয়ায় ৫৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১৫২ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, ২১ প্রজাতির কাঁকড়া, ২৫০ প্রজাতির মাছ, ৩ প্রজাতির ডলফিন, ১২ প্রজাতির উভচর, ১৯ প্রজাতির সরীসৃপ ও ২০৬ প্রজাতির পাখি ছিল। কিন্তু বনাঞ্চল পোড়ানো ও দখলের ফলে এর অর্ধেকই এখন বিলুপ্তির পথে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ নেওয়াজ চৌধুরী স্ট্রিমকে জানান, সোনাদিয়ায় অনেক আগে থেকেই চিংড়ি ঘের ও লবণের খেত করতে যাচ্ছেতাইভাবে বনাঞ্চল ধ্বংস করা হচ্ছে। স্যাটেলাইট বা গুগল আর্থের ছবি বিশ্লেষণে সহজেই এর সময় ও পরিমাপ চিহ্নিত করা সম্ভব।

প্যারাবন কেটে করা হয়েছে স্থাপনা। স্ট্রিম ছবি
প্যারাবন কেটে করা হয়েছে স্থাপনা। স্ট্রিম ছবি

বেজার ‘আত্মঘাতী’ পরিকল্পনায় শুরু

সোনাদিয়া দ্বীপে এক সময় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের আলোচনা ছিল। এরপর আসে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) ‘ইকোট্যুরিজম’ পার্কের পরিকল্পনা। শেষপর্যন্ত এর কোনটি বাস্তবায়ন না হলেও অবৈধ পর্যটন বাণিজ্যের জাঁতাকলে দ্বীপটি এখন বিপর্যস্ত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোনাদিয়াকে ধ্বংসের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা হয় ২০১৯ সালের দিকে। তখন মাত্র ১ হাজার ১ টাকা সালামিতে দ্বীপের ৯ হাজার ৪৬৭ একর জমি বেজাকে দীর্ঘমেয়াদে বরাদ্দ দেয় সরকার। বেজার পরিকল্পনা ছিল, দ্বীপের ৩০ শতাংশ এলাকায় পরিবেশবান্ধব ইকোট্যুরিজম পার্ক করা। ভারতীয় কোম্পানি মাহিন্দ্র গ্রুপকে যুক্ত করে ৫০০ একরের মতো এলাকার নকশাও চূড়ান্ত হয়েছিল।

সরকারের সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) সমীক্ষায় তখন বলা হয়েছিল, দ্বীপে পর্যটকের আনাগোনা বাড়লে অতিথি পাখি ও কাছিমের ডিম পাড়া বাধাগ্রস্ত হবে। হোটেল-মোটেল করলে বর্জ্য বাড়বে এবং দ্বীপের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

‘সোনাদিয়া দ্বীপের ছুরি শুঁটকি সারা দেশে বিখ্যাত ছিল। কিন্তু দূষণ ও দখলের কারণে সেখানে এখন মাছই কমে গেছে, শুঁটকি হবে কীভাবে? সোনাদিয়াকে বাঁচাতে হলে সবার আগে মানুষের যাতায়াত ও পর্যটন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

শেষপর্যন্ত পরিবেশবাদীদের তীব্র আপত্তি ও আইনি লড়াইয়ের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ওই বন্দোবস্ত বাতিল করে ভূমি মন্ত্রণালয়। স্মারকের মাধ্যমে ওই জমি বন বিভাগের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আগের অবস্থা ফেরাতে একাধিক পরিকল্পনাও নেওয়া হয়। তবে সেই পরিকল্পনা আর বাস্তব হয়নি। উল্টো বেড়েছে দখলদারিত্ব।

উপকূলীয় বন বিভাগের গোরকঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা আইয়ুব আলী স্ট্রিমকে বলেন, বরাদ্দ বাতিল হলেও জমির পুরো নিয়ন্ত্রণ এখনও বন বিভাগ পায়নি। পাঁচ-ছয়টি মৌজার মধ্যে মাত্র দুটির নিয়ন্ত্রণ তারা ফিরে পেয়েছেন। একক নিয়ন্ত্রণে না থাকায় দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও পারছেন না।

‘পর্যটন নিয়ন্ত্রণ জরুরি’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শাহ নেওয়াজ চৌধুরী স্ট্রিমকে বলেন, মহেশখালীর সোনাদিয়া অঞ্চলে এমন কিছু ‘ক্রিটিক্যাল হ্যাবিটেট’ বা সংকটাপন্ন আবাসস্থল রয়েছে, যা দেশের অন্য কোনো উপকূলে সচরাচর দেখা যায় না। যেমন: সিগ্রাস বা সামুদ্রিক ঘাস দেশের অন্য দু-এক জায়গায় আগে পাওয়ার তথ্য থাকলেও এখন আর সেগুলোর অস্তিত্ব নেই। উপকূলীয় বেশ কিছু বিরল প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থলও এই সোনাদিয়া।

এই গবেষক বলেন, প্যারাবন কেটে ও বালিয়াড়িতে কটেজ ও রিসোর্ট করা হলে এখানকার ইকোসিস্টেমের (বাস্তুতন্ত্র) মারাত্মক ক্ষতি হবে। আগে বালিয়াড়ির সেখানে কাছিম ডিম পাড়তে আসত। রিসোর্টের তীব্র আলো ও মানুষের কোলাহলের কারণে আর না আসার আশঙ্কা আছে।

দ্বীপটি রক্ষায় আর কালক্ষেপণের সুযোগ নেই জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবিলম্বে তিনটি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি-– আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বন বিভাগের কাছে ভূমি হস্তান্তরের গেজেট প্রকাশ করা, দ্বীপে পর্যটকদের রাত্রিযাপন ও সব ধরনের স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ করে পূর্ণাঙ্গ ‘জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা’ ঘোষণা করা এবং অবৈধ কটেজ ও রিসোর্ট দ্রুত উচ্ছেদ করে সেখানে বন বিভাগের শক্তিশালী বিট অফিস স্থাপন করা।

আরণ্যক ফাউন্ডেশনের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বন ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সোনাদিয়া দ্বীপের ছুরি শুঁটকি সারা দেশে বিখ্যাত ছিল। কিন্তু দূষণ ও দখলের কারণে সেখানে এখন মাছই কমে গেছে, শুঁটকি হবে কীভাবে? সোনাদিয়াকে বাঁচাতে হলে সবার আগে মানুষের যাতায়াত ও পর্যটন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

শুধু ইসিএ ঘোষণা করলেই সরকারের দায়িত্ব শেষ হয় না; কঠোর নজরদারি জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্পর্কিত