ফাবিহা বিনতে হক

২০১৫ সালের কথা। এসএসসি পরীক্ষার পর জীবনে প্রথমবারের মতো চেনা গণ্ডির বাইরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ হলো। গন্তব্য ছিল সিলেটের মৌলভীবাজার। সেই প্রথমবার চা বাগান দেখা। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা ঝরনা আর পাথুরে নদীর স্বচ্ছ পানির ধারা চোখের সামনে আবিষ্কার করা।
মৌলভীবাজার বৃষ্টির শহর। পাহাড়ের ওপর একটা ছোট্ট টিলার ওপর ছিল আমাদের রিসোর্ট। পাহাড়ের ওপর বৃষ্টি যে এত সুন্দর হতে পারে, সেখানে না গেলে বুঝতাম না। এরপর বাবা-মা আর ভাইকে নিয়ে আরও দু’বার মৌলভীবাজার গিয়েছি। প্রতিবারই সেই রিসোর্টে থেকেছি। এমনকি বিয়ের পরও প্রথম বেড়াতে গেলাম সেই চেনা মৌলভীবাজারে। মাধবকুণ্ড, লাউয়াছড়া, জাফলং সবই চেনা জায়গা। তবুও সেখানে বারবার ফিরে যাওয়াতে এক অদ্ভুত আনন্দ আছে। সুযোগ পেলে আজও পরিবারের সবাইকে নিয়ে আবার সিলেটেই ছুটে যেতে ইচ্ছে করে।
একই রকম অনুভূতি জড়িয়ে আছে সেন্ট মার্টিনের সঙ্গেও। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রায় প্রতি বছরই বিভাগ থেকে সেন্ট মার্টিন নিয়ে যাওয়া হতো। এখন মনে হয়, দারুচিনি দ্বীপে কাটানো সেই দিনগুলো জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি। এখনও সময় পেলে দলবল নিয়ে আমি সেখানে যেতে চাই। চাই বন্ধুরা আমার পাশে থাকুক।
একই জায়গায় বারবার ঘুরে যাওয়ার এই ইচ্ছাকে বলা হয় ‘নস্টালজিয়া ট্রিপ’। এবারের ঈদের ছুটিতে আপনিও যেতে পারেন নস্টালজিয়া ট্রিপে। তা হতে পারে কোনো দর্শনীয় স্থান কিংবা স্মৃতিবিজড়িত কোনো গ্রাম বা আত্মীয়বাড়ি।
কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ লিখেছিলেন, ‘শেষমেশ যে যার সন্ধ্যার কাছে ফিরে যায়, যে যার অন্ধকারের কাছে।’
আমাদের জীবনটাও হয়তো ঠিক তেমনই। জীবনের হাজারো ব্যস্ততা আর ক্লান্তির শেষে আমরা সেই পুরোনো চেনা সুখস্মৃতির কাছেই ফিরে যেতে চাই। অতীতে যে আনন্দের মুহূর্তগুলো কোনো এক চেনা জায়গায় ফেলে এসেছি, সেই অতীতকে খুঁজে ফেরার জন্যই আমরা পরিচিত জায়গায় বারবার যাই। ছুটে যাই সুখের সন্ধানে।
আমাদের চারপাশে কত নতুন নতুন ঘোরার জায়গা আছে। তবু মানুষ কেন পুরোনো জায়গায় বারবার ফিরে যায়? মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, এর পেছনে কাজ করে মানুষের মানসিক শান্তি ও নিরাপত্তার খোঁজ।
নতুন কোনো জায়গায় গেলে এক ধরনের রোমাঞ্চ থাকে ঠিকই, তবে এর সঙ্গে থাকে অজানা মানসিক চাপ। কোথায় থাকব, কেমন খাবার পাব, রাস্তাঘাট কেমন হবে; এইসব নিয়ে মনের মধ্যে দ্বিধা কাজ করে। কিন্তু চেনা জায়গায় সেই ভয় থাকে না। সেখানে পা রাখামাত্রই মন স্বস্তি পায়। আপনি আগে থেকেই জানেন সেই জায়গার কোন হোটেলের জানালা দিয়ে পাহাড়ের দৃশ্য সবচেয়ে সুন্দর দেখায়। আপনি জানেন কোন রেস্তোরাঁর খাবার সবচেয়ে সুস্বাদু।
এ ছাড়া নস্টালজিয়া-ড্রিভেন ট্রিপ মানুষকে তার অতীত জীবনের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করে। আমরা যখন আমাদের স্কুল ক্যাম্পাস, শৈশবের খেলার মাঠ কিংবা স্মৃতিঘেরা কোনো জায়গায় ঘুরতে যাই, তখন আমরা আসলে ‘হারিয়ে ফেলা নিজেকে’ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করি। মানুষ যখন খুব একাকী বোধ করে বা জীবনের গতিতে হাঁপিয়ে ওঠে, তখন সে স্মৃতির চেনা গলিতে আশ্রয় খোঁজে। নতুন জায়গায় যাওয়ার মধ্যে একটা অনিশ্চয়তা থাকে। কিন্তু চেনা পথের ভ্রমণ আপনাকে দেয় স্বস্তি।
ছোটবেলায় পড়া রবি ঠাকুরের ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতার কথা মনে আছে? সেখানে জমিদার ‘উপেন’ নামের এক দরিদ্র ব্যক্তির দুই বিঘা পরিমাণ ভিটাবাড়ি কেড়ে নেয়। তারপর থেকে সন্ন্যাসী হয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ায় উপেন। কিন্তু সেই দুই বিঘা জমির সেই মায়া ভুলতে পারে না। তাই তো উপেন বলেন, ‘কত হেরিলাম মনোহর ধাম, কত মনোরম দৃশ্য। ভূধরে সাগরে বিজনে নগরে যখন যেখানে ভ্রমি তবু নিশিদিনে ভুলিতে পারি নে সেই দুই বিঘা জমি।’
আমরাও কি সেই উপেনের মতো নই? আমাদের স্মৃতিবিজড়িত শৈশব, চেনা জায়গার মায়া কি আমরা সারাজীবনে কখনও ভুলতে পারি?
হিলটনের গ্লোবাল ট্রাভেল রিপোর্ট বলছে, ৫৮ শতাংশ ট্রাভেলার তাঁদের সন্তানদের নিয়ে নিজেদের শৈশবের কোনো গন্তব্যে ভ্রমণ করতে চান। ২০২৬ সালে করা প্রাইসলাইন ভ্রমণকারীদের নিয়ে একটি জরিপ বলছে, ৭৩ শতাংশ ট্রাভেলার পুরোনো জায়গায় ঘুরতে যেতে চান, যেখানে আগেও এক বা একাধিকবার বেড়াতে গেছেন।
নস্টালজিয়া-ড্রিভেন ট্রিপের সংজ্ঞা কিন্তু সবার জন্য এক নয়। কারো জন্য এটা হতে পারে কোনো সমুদ্র সৈকত, আবার কারো জন্য হতে পারে স্মৃতিবিজড়িত দূরের কোনো গ্রাম। এবারের ঈদে নস্টালজিয়া-ড্রিভেন ট্রিপের গন্তব্য হতে পারে আপনার আদিনিবাস। শৈশবে যে দাদার বাড়ি বা নানার বাড়িতে ঈদের ছুটি কাটত আনন্দে, নাগরিক ব্যস্ততায় সেই বাড়িটি হয়তো এখন শুধুই অবহেলায় পড়ে আছে। এবারের ঈদে সেই চেনা উঠোনে পা রেখে দেখতে পারেন। পুরোনো ঘরের বারান্দায় বসে জিরিয়ে নিতে পারেন।
অথবা কোনো প্রিয় আত্মীয়ের বাড়ি, যেখানে ছোটবেলায় খালাতো বা মামাতো ভাইবোনদের সঙ্গে দিনরাত আড্ডা হতো, সেখানেও ঘুরে আসতে পারেন। শৈশবের সেই চেনা মেঠো পথ, পুকুর ঘাট কিংবা আমগাছের ছায়া আপনাকে বিলাসী জীবন না দিলেও পরিতৃপ্তি দেবে।
যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ড. কনস্টানটাইন সেডিকাইডসের মতে, নস্টালজিয়া মানুষের মনের জন্য রক্ষাকবচ বা ঢাল হিসেবে কাজ করে। মানুষ যখন খুব একা বোধ করে বা অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকে, তখন পুরোনো স্মৃতি তাঁকে বাঁচতে সাহায্য করে। চেনা জায়গায় ফিরে গেলে মানুষের মনের ভেতরের একাকিত্ব দ্রুত দূর হয়ে যায়।
জীবন আসলে খুব ছোট। এই ছোট জীবনে আমরা কেবলই সামনের দিকে ছুটে চলি। কিন্তু মাঝে মাঝে পেছনের দিকে তাকানোও খুব দরকার। অতীতের সেই সুন্দর দিনগুলো আমাদের আগামী দিনে বেঁচে থাকার শক্তি জোগায়। তাই এবারের ঈদের ছুটিতে স্মৃতির ঝাঁপিটা খুলে বসুন। বেছে নিন এমন কোনো জায়গা, যেখানে জীবনের সুন্দর কিছু মুহূর্ত জড়িয়ে আছে।

২০১৫ সালের কথা। এসএসসি পরীক্ষার পর জীবনে প্রথমবারের মতো চেনা গণ্ডির বাইরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ হলো। গন্তব্য ছিল সিলেটের মৌলভীবাজার। সেই প্রথমবার চা বাগান দেখা। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা ঝরনা আর পাথুরে নদীর স্বচ্ছ পানির ধারা চোখের সামনে আবিষ্কার করা।
মৌলভীবাজার বৃষ্টির শহর। পাহাড়ের ওপর একটা ছোট্ট টিলার ওপর ছিল আমাদের রিসোর্ট। পাহাড়ের ওপর বৃষ্টি যে এত সুন্দর হতে পারে, সেখানে না গেলে বুঝতাম না। এরপর বাবা-মা আর ভাইকে নিয়ে আরও দু’বার মৌলভীবাজার গিয়েছি। প্রতিবারই সেই রিসোর্টে থেকেছি। এমনকি বিয়ের পরও প্রথম বেড়াতে গেলাম সেই চেনা মৌলভীবাজারে। মাধবকুণ্ড, লাউয়াছড়া, জাফলং সবই চেনা জায়গা। তবুও সেখানে বারবার ফিরে যাওয়াতে এক অদ্ভুত আনন্দ আছে। সুযোগ পেলে আজও পরিবারের সবাইকে নিয়ে আবার সিলেটেই ছুটে যেতে ইচ্ছে করে।
একই রকম অনুভূতি জড়িয়ে আছে সেন্ট মার্টিনের সঙ্গেও। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রায় প্রতি বছরই বিভাগ থেকে সেন্ট মার্টিন নিয়ে যাওয়া হতো। এখন মনে হয়, দারুচিনি দ্বীপে কাটানো সেই দিনগুলো জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি। এখনও সময় পেলে দলবল নিয়ে আমি সেখানে যেতে চাই। চাই বন্ধুরা আমার পাশে থাকুক।
একই জায়গায় বারবার ঘুরে যাওয়ার এই ইচ্ছাকে বলা হয় ‘নস্টালজিয়া ট্রিপ’। এবারের ঈদের ছুটিতে আপনিও যেতে পারেন নস্টালজিয়া ট্রিপে। তা হতে পারে কোনো দর্শনীয় স্থান কিংবা স্মৃতিবিজড়িত কোনো গ্রাম বা আত্মীয়বাড়ি।
কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ লিখেছিলেন, ‘শেষমেশ যে যার সন্ধ্যার কাছে ফিরে যায়, যে যার অন্ধকারের কাছে।’
আমাদের জীবনটাও হয়তো ঠিক তেমনই। জীবনের হাজারো ব্যস্ততা আর ক্লান্তির শেষে আমরা সেই পুরোনো চেনা সুখস্মৃতির কাছেই ফিরে যেতে চাই। অতীতে যে আনন্দের মুহূর্তগুলো কোনো এক চেনা জায়গায় ফেলে এসেছি, সেই অতীতকে খুঁজে ফেরার জন্যই আমরা পরিচিত জায়গায় বারবার যাই। ছুটে যাই সুখের সন্ধানে।
আমাদের চারপাশে কত নতুন নতুন ঘোরার জায়গা আছে। তবু মানুষ কেন পুরোনো জায়গায় বারবার ফিরে যায়? মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, এর পেছনে কাজ করে মানুষের মানসিক শান্তি ও নিরাপত্তার খোঁজ।
নতুন কোনো জায়গায় গেলে এক ধরনের রোমাঞ্চ থাকে ঠিকই, তবে এর সঙ্গে থাকে অজানা মানসিক চাপ। কোথায় থাকব, কেমন খাবার পাব, রাস্তাঘাট কেমন হবে; এইসব নিয়ে মনের মধ্যে দ্বিধা কাজ করে। কিন্তু চেনা জায়গায় সেই ভয় থাকে না। সেখানে পা রাখামাত্রই মন স্বস্তি পায়। আপনি আগে থেকেই জানেন সেই জায়গার কোন হোটেলের জানালা দিয়ে পাহাড়ের দৃশ্য সবচেয়ে সুন্দর দেখায়। আপনি জানেন কোন রেস্তোরাঁর খাবার সবচেয়ে সুস্বাদু।
এ ছাড়া নস্টালজিয়া-ড্রিভেন ট্রিপ মানুষকে তার অতীত জীবনের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করে। আমরা যখন আমাদের স্কুল ক্যাম্পাস, শৈশবের খেলার মাঠ কিংবা স্মৃতিঘেরা কোনো জায়গায় ঘুরতে যাই, তখন আমরা আসলে ‘হারিয়ে ফেলা নিজেকে’ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করি। মানুষ যখন খুব একাকী বোধ করে বা জীবনের গতিতে হাঁপিয়ে ওঠে, তখন সে স্মৃতির চেনা গলিতে আশ্রয় খোঁজে। নতুন জায়গায় যাওয়ার মধ্যে একটা অনিশ্চয়তা থাকে। কিন্তু চেনা পথের ভ্রমণ আপনাকে দেয় স্বস্তি।
ছোটবেলায় পড়া রবি ঠাকুরের ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতার কথা মনে আছে? সেখানে জমিদার ‘উপেন’ নামের এক দরিদ্র ব্যক্তির দুই বিঘা পরিমাণ ভিটাবাড়ি কেড়ে নেয়। তারপর থেকে সন্ন্যাসী হয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ায় উপেন। কিন্তু সেই দুই বিঘা জমির সেই মায়া ভুলতে পারে না। তাই তো উপেন বলেন, ‘কত হেরিলাম মনোহর ধাম, কত মনোরম দৃশ্য। ভূধরে সাগরে বিজনে নগরে যখন যেখানে ভ্রমি তবু নিশিদিনে ভুলিতে পারি নে সেই দুই বিঘা জমি।’
আমরাও কি সেই উপেনের মতো নই? আমাদের স্মৃতিবিজড়িত শৈশব, চেনা জায়গার মায়া কি আমরা সারাজীবনে কখনও ভুলতে পারি?
হিলটনের গ্লোবাল ট্রাভেল রিপোর্ট বলছে, ৫৮ শতাংশ ট্রাভেলার তাঁদের সন্তানদের নিয়ে নিজেদের শৈশবের কোনো গন্তব্যে ভ্রমণ করতে চান। ২০২৬ সালে করা প্রাইসলাইন ভ্রমণকারীদের নিয়ে একটি জরিপ বলছে, ৭৩ শতাংশ ট্রাভেলার পুরোনো জায়গায় ঘুরতে যেতে চান, যেখানে আগেও এক বা একাধিকবার বেড়াতে গেছেন।
নস্টালজিয়া-ড্রিভেন ট্রিপের সংজ্ঞা কিন্তু সবার জন্য এক নয়। কারো জন্য এটা হতে পারে কোনো সমুদ্র সৈকত, আবার কারো জন্য হতে পারে স্মৃতিবিজড়িত দূরের কোনো গ্রাম। এবারের ঈদে নস্টালজিয়া-ড্রিভেন ট্রিপের গন্তব্য হতে পারে আপনার আদিনিবাস। শৈশবে যে দাদার বাড়ি বা নানার বাড়িতে ঈদের ছুটি কাটত আনন্দে, নাগরিক ব্যস্ততায় সেই বাড়িটি হয়তো এখন শুধুই অবহেলায় পড়ে আছে। এবারের ঈদে সেই চেনা উঠোনে পা রেখে দেখতে পারেন। পুরোনো ঘরের বারান্দায় বসে জিরিয়ে নিতে পারেন।
অথবা কোনো প্রিয় আত্মীয়ের বাড়ি, যেখানে ছোটবেলায় খালাতো বা মামাতো ভাইবোনদের সঙ্গে দিনরাত আড্ডা হতো, সেখানেও ঘুরে আসতে পারেন। শৈশবের সেই চেনা মেঠো পথ, পুকুর ঘাট কিংবা আমগাছের ছায়া আপনাকে বিলাসী জীবন না দিলেও পরিতৃপ্তি দেবে।
যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ড. কনস্টানটাইন সেডিকাইডসের মতে, নস্টালজিয়া মানুষের মনের জন্য রক্ষাকবচ বা ঢাল হিসেবে কাজ করে। মানুষ যখন খুব একা বোধ করে বা অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকে, তখন পুরোনো স্মৃতি তাঁকে বাঁচতে সাহায্য করে। চেনা জায়গায় ফিরে গেলে মানুষের মনের ভেতরের একাকিত্ব দ্রুত দূর হয়ে যায়।
জীবন আসলে খুব ছোট। এই ছোট জীবনে আমরা কেবলই সামনের দিকে ছুটে চলি। কিন্তু মাঝে মাঝে পেছনের দিকে তাকানোও খুব দরকার। অতীতের সেই সুন্দর দিনগুলো আমাদের আগামী দিনে বেঁচে থাকার শক্তি জোগায়। তাই এবারের ঈদের ছুটিতে স্মৃতির ঝাঁপিটা খুলে বসুন। বেছে নিন এমন কোনো জায়গা, যেখানে জীবনের সুন্দর কিছু মুহূর্ত জড়িয়ে আছে।

আজ সোমবার (২৫ মে) থেকে শুরু হয়েছে কোরবানি ঈদের ছুটি। ঈদের ছুটি মানেই ঘরমুখো মানুষের স্রোত। গতকাল রোববার রাত থেকেই দলে দলে যে যেভাবে পারছে রাজধানী ছেড়ে যাচ্ছে। প্রতি ঈদে যানবাহনের চরম সংকট ও ভাড়াসহ নানা কারণে যাত্রীরা বিকল্প উপায়ে গ্রামের বাড়িতে যান।
৪ ঘণ্টা আগে
পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানোর জন্য আমরা সারা বছর অপেক্ষায় থাকি। কিন্তু স্বপ্ন যত দ্রুতই বাড়ি ফিরতে চাক না কেন, পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় রাস্তার যানজট। ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যানজটে আটকে থাকা দেশের স্বাভাবিক চিত্র। এই সময়টাকে অন্যভাবে কাজে লাগানো গেলে দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি কিছুটা হলেও দূর হয়।
৪ ঘণ্টা আগে
কোরবানির পশুর হাটে ভিড় বাড়ছে। চারদিকে শোরগোল। বেশ মোটাতাজা গরুর পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইল উঁচিয়ে ধরেছেন এক তরুণ। মুখে তাঁর চওড়া হাসি। গরুর গলায় ঝোলানো রঙিন মালাটা ঠিকমতো ফ্রেমে আসছে কি না, সেটাই তখন তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা। ক্যামেরায় বেশ কয়েকটি ক্লিক করার পর অবশেষে মুখে স্বস্তির হাসি ফুটল! পাশ থেকে তাঁর বা
১ দিন আগে
বিখ্যাত ব্যক্তিদের ব্যক্তিজীবন ইতিহাসের চেয়ে কম কিছু নয়। তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা নিয়ে এত কিংবদন্তির জন্ম হয় যে নির্দিষ্ট সময় পর আর পার্থক্য করা যায় না—কোন ঘটনাটি আসলেই সত্য, আর কোনটি মিথ। বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) সাম্য, প্রেম ও দ্রোহের কবি।
১ দিন আগে