ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুরের দুই প্রবাসীর মৃত্যু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জামালপুর

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ২৩: ৪৬
ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। সংগৃহীত ছবি

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) বাংলাদেশ সময় ভোরে কুর্দিস্তান এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারী এলাকার খলিল মন্ডলের বড় ছেলে মনোহার আলী (৩৫) এবং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দি এলাকার মরহুম আলাউদ্দিন মাস্টারের ছেলে বজলু (৪০)। তাঁরা কুর্দিস্তানের একটি কনফেকশনারি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মনোহার আলী প্রায় চার বছর আগে জীবিকার তাগিদে ইরাকে পাড়ি জমান। বৈধ পারমিট বা আকামা না থাকায় বিভিন্ন স্থানে 'সাপ্লাই' কাজ করে কষ্টে পরিবারের খরচ চালাতেন তিনি। বিদেশ যাওয়ার জন্য নেওয়া ঋণ চার বছরেও শোধ করতে পারেননি। এর মধ্যেই তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই দিন সকালে ঘূর্ণিঝড়ে তাঁদের বসতঘরের চাল উড়ে যাওয়ায় দুই সন্তান নিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছেন মনোহারের স্ত্রী।

একই দুর্ঘটনায় নিহত বজলু প্রায় দেড় বছর আগে কর্মসংস্থানের আশায় ইরাকে যান। ঋণ করে বিদেশে গেলেও পরিবারের আর্থিক অবস্থার বিশেষ উন্নতি করতে পারেননি তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি।

নিহত মনোহার আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার বলেন, 'রোববার বিকেলেও আমার স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। সোমবার ভোরে ইরাক থেকে ফোন দিয়ে জানানো হয় তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এখন সন্তানদের নিয়ে কীভাবে বাঁচব, বুঝতে পারছি না। ঝড়ে ঘরটাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের কাছে স্বামীর মরদেহ দেশে আনার অনুরোধ জানাই।'

বজলুর স্ত্রী আখি আক্তার বলেন, 'রোববার রাত সাড়ে সাতটার দিকে শেষবারের মতো তাঁর সঙ্গে কথা হয়। ছেলে-মেয়েদের খোঁজ নিয়েছেন, দেশে ফেরার কথাও বলেছেন। তাঁর এমন মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। সরকারের কাছে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।'

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তাঁরা বিষয়টি জানতে পেরেছেন। নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

সম্পর্কিত