এক্সপ্লেইনার
মারুফ ইসলাম

আগামী দুই এক দিনের মধ্যে তাপপ্রবাহ কমার কোনো সম্ভাবনা তো নেইই, উল্টো ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর এমনটাই বলছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলাসহ রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মো. শাহিনুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এই তাপমাত্রা অস্বাভাবিক নয়। রাজশাহীতে ৪০ বা ঢাকায় ৩৬-৩৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা হওয়াটা স্বাভাবিক। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এই গরম কমবে না। আগামী দুই-তিন দিনও একই অবস্থা থাকতে পারে।’
অস্বাভাবিক গরমের জন্য প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট ‘এল নিনো’কে দায়ী করছেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক ও আবহাওয়াবিদ মমিনুল ইসলাম। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘এই গরমের পেছনে অন্যতম কারণ এল নিনোর প্রভাব। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি না থাকায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। আমাদের মডেল অনুযায়ী, এল নিনো বর্তমানে সক্রিয়। এর প্রভাবে বৃষ্টিপাত কমে যায় এবং তাপমাত্রা বাড়ে। তবে এল নিনোর কারণে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও গরমের অনুভব অনেক বেশি হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১৪-১৫ জুনের দিকে দেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হতে পারে। এর প্রভাবে বৃষ্টিপাত শুরু হলে গরমের তীব্রতা কমবে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে।’
তবে এল নিনো ছাড়াও আরও কিছু কারণ রয়েছে তাপপ্রবাহ বাড়ার পেছনে। মেলবোর্নভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য কনভারসেশনে প্রকাশিত লেখায় অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এআরসি সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর দ্য ওয়েদার অব দ্য টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরির রিসার্চ ফেলো ওলুওয়াফেমি ই আদেয়েরি লিখেছেন, গরম বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো একটানা উচ্চচাপবিশিষ্ট আবহাওয়া ব্যবস্থা।
ওলুওয়াফেমির মতে, উচ্চচাপবিশিষ্ট আবহাওয়া ব্যবস্থাগুলো যখন এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকে, তখন এগুলো মেঘ সৃষ্টিতে বাধা দেয় এবং শীতল বৃষ্টির সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়ে তাপপ্রবাহের আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে। এ বছর ভারত ও পাকিস্তানের কিছু অংশে শক্তিশালী উচ্চচাপ ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে, যা ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি গরম বাতাসকে আটকে রেখেছে এবং দিনের পর দিন তাপমাত্রা বৃদ্ধির সুযোগ করে দিয়েছে।
শহরে গরম বেশি অনুভূত হওয়ার পেছনে কংক্রিটকে দায়ী করেছেন আবহাওয়াবিদেরা। এআরসি সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর দ্য ওয়েদার অব দ্য টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরির আরেক গবেষক সারা পারকিন্স-কার্কপ্যাট্রিক বলেছেন, কংক্রিট ও অ্যাসফাল্ট (রাস্তা, রানওয়ে, পার্কিং লট এবং ছাদ নির্মাণে ব্যবহৃত হয়) দিনের বেলা তাপ শোষণ করে এবং রাতে ধীরে ধীরে তা বিকিরণ করে। এর ফলে শহরগুলো সারারাত তপ্ত থাকে।
এছাড়া তাপপ্রবাহ বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ—জলবায়ু পরিবর্তন। পৃথিবী যত উত্তপ্ত হচ্ছে, তাপপ্রবাহও ততই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’জানিয়েছে, এ বছরের প্রথম বড় তাপপ্রবাহটি (১৫-২৯ এপ্রিল) অন্যান্য বছরের তুলনায় প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উত্তপ্ত ছিল। এর জন্য জলবায়ু পরিবর্তন অন্তত তিনগুণ বেশি দায়ী।
ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন আরও জানিয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মাত্রা ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর অর্থ হলো এই উপমহাদেশকে প্রতি পাঁচ বছরে প্রায় একবার এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এখন আমরা ২১০০ সালের মধ্যে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণায়নের দিকে ধাবিত হচ্ছি। তাপের মাত্রা সেই পর্যায়ে পৌঁছালে, এই ধরনের তাপপ্রবাহ প্রতি ২-৩ বছর অন্তর আঘাত হানবে এবং তাপমাত্রা আরও ২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার অনেক এলাকা (ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ইত্যাদি) অত্যন্ত আর্দ্রতাপূর্ণ। এই অঞ্চলের কিছু অংশে আর্দ্রতার মাত্রা দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের শরীর শীতল হওয়ার প্রধান পদ্ধতি হচ্ছে, শরীর থেকে ঘাম বের হয়ে যাওয়া। যখন এই উষ্ণ জলের বিন্দুগুলো ত্বক থেকে বাষ্পীভূত হয়, তখন শরীর থেকে তাপ বেরিয়ে যায়।
কিন্তু বাতাস অতিমাত্রায় আর্দ্রতাপূর্ণ হওয়ায় শরীর শীতল করার পদ্ধতিটি ঠিকমতো কাজ করে না। কারণ বাতাসে আগে থেকেই প্রচুর আর্দ্রতা থাকায় ঘাম বাষ্পীভূত হতে বেশি সময় লাগে। এর ফলে ঘাম হওয়া সত্ত্বেও শরীরের তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকতে পারে।
এই কারণেই বিজ্ঞানীরা ‘প্রাণঘাতী আর্দ্রতা’নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। তারা বলছেন, শরীর থেকে তাপ বের করে দেওয়ার জন্য মানুষ বেশি বেশি ঘামতে থাকে, কিন্তু ঘাম ঠিকমতো কাজ করে না। এভাবে শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং হিটস্ট্রোক শুরু হতে পারে।
তাপ এবং আর্দ্রতার সম্মিলিত বিপদ পরিমাপ করতে বিজ্ঞানীরা ‘ওয়েট-বাল্ব টেম্পারেচার’ নামের পরিমাপক ব্যবহার করেন। এটি নির্দেশ করে যে ঘামের মাধ্যমে শরীরকে কতটা শীতল করা সম্ভব।
আগে মনে করা হতো মানুষের টিকে থাকার সীমা হলো ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ‘ওয়েট-বাল্ব টেম্পারেচার’। কিন্তু নতুন গবেষণা দেখাচ্ছে, তাপ ও আর্দ্রতার বিভিন্ন মাত্রার সংমিশ্রণও প্রাণঘাতী হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বাইরে থাকা বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ৯০ শতাংশ আর্দ্রতা ঠিক ততটাই প্রাণঘাতী হতে পারে যতটা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ৩০ শতাংশ আর্দ্রতা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার তাপপ্রবাহের সময় এই মাত্রাগুলো ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে। এমনকি ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সুস্থ ব্যক্তিদের জন্যও ৪০ শতাংশ আর্দ্রতা এবং ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে।

আগামী দুই এক দিনের মধ্যে তাপপ্রবাহ কমার কোনো সম্ভাবনা তো নেইই, উল্টো ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর এমনটাই বলছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলাসহ রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মো. শাহিনুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এই তাপমাত্রা অস্বাভাবিক নয়। রাজশাহীতে ৪০ বা ঢাকায় ৩৬-৩৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা হওয়াটা স্বাভাবিক। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এই গরম কমবে না। আগামী দুই-তিন দিনও একই অবস্থা থাকতে পারে।’
অস্বাভাবিক গরমের জন্য প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট ‘এল নিনো’কে দায়ী করছেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক ও আবহাওয়াবিদ মমিনুল ইসলাম। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘এই গরমের পেছনে অন্যতম কারণ এল নিনোর প্রভাব। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি না থাকায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। আমাদের মডেল অনুযায়ী, এল নিনো বর্তমানে সক্রিয়। এর প্রভাবে বৃষ্টিপাত কমে যায় এবং তাপমাত্রা বাড়ে। তবে এল নিনোর কারণে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও গরমের অনুভব অনেক বেশি হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১৪-১৫ জুনের দিকে দেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হতে পারে। এর প্রভাবে বৃষ্টিপাত শুরু হলে গরমের তীব্রতা কমবে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে।’
তবে এল নিনো ছাড়াও আরও কিছু কারণ রয়েছে তাপপ্রবাহ বাড়ার পেছনে। মেলবোর্নভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য কনভারসেশনে প্রকাশিত লেখায় অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এআরসি সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর দ্য ওয়েদার অব দ্য টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরির রিসার্চ ফেলো ওলুওয়াফেমি ই আদেয়েরি লিখেছেন, গরম বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো একটানা উচ্চচাপবিশিষ্ট আবহাওয়া ব্যবস্থা।
ওলুওয়াফেমির মতে, উচ্চচাপবিশিষ্ট আবহাওয়া ব্যবস্থাগুলো যখন এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকে, তখন এগুলো মেঘ সৃষ্টিতে বাধা দেয় এবং শীতল বৃষ্টির সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়ে তাপপ্রবাহের আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে। এ বছর ভারত ও পাকিস্তানের কিছু অংশে শক্তিশালী উচ্চচাপ ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে, যা ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি গরম বাতাসকে আটকে রেখেছে এবং দিনের পর দিন তাপমাত্রা বৃদ্ধির সুযোগ করে দিয়েছে।
শহরে গরম বেশি অনুভূত হওয়ার পেছনে কংক্রিটকে দায়ী করেছেন আবহাওয়াবিদেরা। এআরসি সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর দ্য ওয়েদার অব দ্য টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরির আরেক গবেষক সারা পারকিন্স-কার্কপ্যাট্রিক বলেছেন, কংক্রিট ও অ্যাসফাল্ট (রাস্তা, রানওয়ে, পার্কিং লট এবং ছাদ নির্মাণে ব্যবহৃত হয়) দিনের বেলা তাপ শোষণ করে এবং রাতে ধীরে ধীরে তা বিকিরণ করে। এর ফলে শহরগুলো সারারাত তপ্ত থাকে।
এছাড়া তাপপ্রবাহ বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ—জলবায়ু পরিবর্তন। পৃথিবী যত উত্তপ্ত হচ্ছে, তাপপ্রবাহও ততই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’জানিয়েছে, এ বছরের প্রথম বড় তাপপ্রবাহটি (১৫-২৯ এপ্রিল) অন্যান্য বছরের তুলনায় প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উত্তপ্ত ছিল। এর জন্য জলবায়ু পরিবর্তন অন্তত তিনগুণ বেশি দায়ী।
ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন আরও জানিয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মাত্রা ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর অর্থ হলো এই উপমহাদেশকে প্রতি পাঁচ বছরে প্রায় একবার এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এখন আমরা ২১০০ সালের মধ্যে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণায়নের দিকে ধাবিত হচ্ছি। তাপের মাত্রা সেই পর্যায়ে পৌঁছালে, এই ধরনের তাপপ্রবাহ প্রতি ২-৩ বছর অন্তর আঘাত হানবে এবং তাপমাত্রা আরও ২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার অনেক এলাকা (ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ইত্যাদি) অত্যন্ত আর্দ্রতাপূর্ণ। এই অঞ্চলের কিছু অংশে আর্দ্রতার মাত্রা দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের শরীর শীতল হওয়ার প্রধান পদ্ধতি হচ্ছে, শরীর থেকে ঘাম বের হয়ে যাওয়া। যখন এই উষ্ণ জলের বিন্দুগুলো ত্বক থেকে বাষ্পীভূত হয়, তখন শরীর থেকে তাপ বেরিয়ে যায়।
কিন্তু বাতাস অতিমাত্রায় আর্দ্রতাপূর্ণ হওয়ায় শরীর শীতল করার পদ্ধতিটি ঠিকমতো কাজ করে না। কারণ বাতাসে আগে থেকেই প্রচুর আর্দ্রতা থাকায় ঘাম বাষ্পীভূত হতে বেশি সময় লাগে। এর ফলে ঘাম হওয়া সত্ত্বেও শরীরের তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকতে পারে।
এই কারণেই বিজ্ঞানীরা ‘প্রাণঘাতী আর্দ্রতা’নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। তারা বলছেন, শরীর থেকে তাপ বের করে দেওয়ার জন্য মানুষ বেশি বেশি ঘামতে থাকে, কিন্তু ঘাম ঠিকমতো কাজ করে না। এভাবে শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং হিটস্ট্রোক শুরু হতে পারে।
তাপ এবং আর্দ্রতার সম্মিলিত বিপদ পরিমাপ করতে বিজ্ঞানীরা ‘ওয়েট-বাল্ব টেম্পারেচার’ নামের পরিমাপক ব্যবহার করেন। এটি নির্দেশ করে যে ঘামের মাধ্যমে শরীরকে কতটা শীতল করা সম্ভব।
আগে মনে করা হতো মানুষের টিকে থাকার সীমা হলো ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ‘ওয়েট-বাল্ব টেম্পারেচার’। কিন্তু নতুন গবেষণা দেখাচ্ছে, তাপ ও আর্দ্রতার বিভিন্ন মাত্রার সংমিশ্রণও প্রাণঘাতী হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বাইরে থাকা বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ৯০ শতাংশ আর্দ্রতা ঠিক ততটাই প্রাণঘাতী হতে পারে যতটা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ৩০ শতাংশ আর্দ্রতা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার তাপপ্রবাহের সময় এই মাত্রাগুলো ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে। এমনকি ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সুস্থ ব্যক্তিদের জন্যও ৪০ শতাংশ আর্দ্রতা এবং ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে।

বাংলাদেশে প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে সরকার ২০১৩ সালে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন প্রণয়ন করে। এতে সন্তানদের ওপর মা-বাবার ভরণপোষণের আইনগত বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। যৌথ পরিবারের পরিবর্তে একক পরিবার ব্যবস্থার বিস্তার, কর্মসংস্থানের কারণে সন্তানদের দূরে বসবাস এবং সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তনের ফলে অনেক প্রবীণ মা
১৯ ঘণ্টা আগে
ঢাকায় এখন গরম যেন আগুন ঝরাচ্ছে। দিনের বেলায় রাস্তায় বের হওয়া কঠিন, রাতেও মিলছে না স্বস্তি। ওয়েদার ফোরকাস্ট অনুযায়ী, আজকের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এই তাপমাত্রায় এটি অনুভুত হচ্ছে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বাড়তে পারে।
১ দিন আগে
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কাজ ও ক্ষমতা কী? এই অর্জনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ কী কী সুবিধা পাবে?
২ দিন আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরানে সামরিক যুদ্ধে জড়ানো উচিত হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের। বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের কথা টেনে বলেন, ‘আমাদের প্রথমেই সেখানে যাওয়া উচিত হয়নি।’ এরপর তিনি বলেন, ‘আমাদের ইরানেও যুদ্ধে জড়ানো উচিত হয়নি।’
২ দিন আগে