এক্সপ্লেইনার
মারুফ ইসলাম

ফিসফাস করে নয়, বেশ জোরেসোরেই একটি ভিডিও ফাঁস হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই সেই ভিডিও সম্পর্কে উর্ধ্বকমার মধ্যে লিখছেন ‘অন্তরঙ্গ ভিডিও’ ফাঁস। ঠিকই ধরেছেন, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের ভিডিওর কথাই বলা হচ্ছে।
ভিডিওতে যা দেখা গেছে, সেই কাজ নৈতিক কিনা, তা নিয়ে এই লেখা নয়। এই লেখার বিষয় ‘প্রাইভেসি’ বা গোপনীয়তা নিয়ে।
সারা বিশ্বেই ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অডিও-ভিডিও ফাঁস হচ্ছে। এই তালিকায় মন্ত্রী, এমপি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও চিত্রতারকাও রয়েছেন। যেমন ২০২২ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সরকারি কর্মকর্তাদের একাধিক ব্যক্তিগত ফোনালাপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০১৪ সালে জেনিফার লরেন্স, কেট আপটনসহ শতাধিক হলিউড তারকার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় কে বা কারা ছড়িয়ে দিয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালে ভারতের কর্ণাটকের সংসদ সদস্য প্রজ্বল রেভান্নাকে ঘিরে অসংখ্য ব্যক্তিগত ভিডিও প্রকাশ পেয়েছিল।
কিন্তু কারা এসব ফাঁস করছে কেউ জানে না। এমনকি এ নিয়ে কেউ প্রশ্নও তুলছে না। এই প্রশ্ন না তোলাটাই সবচেয়ে ভয়ংকর।
২০২১ সালের শেষদিকে দেশ কাঁপিয়ে দিয়েছিল তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের একটি ফোনালাপ। সেই ফোনালাপের জেরে তাঁকে মন্ত্রীত্ব পর্যন্ত হারাতে হয়েছিল। কিন্তু কে ফাঁস করেছিল সেই ফোনালাপ, কীভাবে করেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর আজও মেলেনি।
এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক গ্রুপ রয়েছে, যেগুলোতে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের পারিবারিক মুহূর্ত, পার্কে বসে থাকার মুহূর্ত, শপিং মলের মহূর্ত, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার মুহূর্তের ভিডিও প্রচার করা হয়।
কখনো কখনো দেখা যায়, পুলিশ কোনো কোনো পার্কে অভিযান চালিয়ে ‘অন্তরঙ্গ অবস্থায়’ আটক করছে তরুণ-তরুণীদের। সেসব আটকের দৃশ্য আবার ফলাও করে প্রচার করে ইউটিউবার, টিকটকার থেকে শুরু করে কোনো কোনো মূলধারার গণমাধ্যমও।
আবার ফেসবুক, ইউটিউবে অনেক ভ্লগার নিজেরাই নিজেদের বেডরুমের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন। সুতরাং, সবমিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে—আমরা কি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা প্রকাশের ব্যাপারে ক্রমশ অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি?
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হ্যাঁ। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ফাঁস হওয়াটা এখন আর কোনো বিস্ময়ের বিষয় নয়। এটা প্রায় প্রতিদিনের বাস্তবতা। আর এই বাস্তবতা কতটা ভীতিকর, তা পরিসংখ্যান দেখলে কিছুটা আন্দাজ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইডেন্টিটি থেফট রিসোর্স সেন্টারের (আইটিআরসি) সবশেষ প্রতিবেদন বলছে, শুধু ২০২৫ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে ঘটেছে রেকর্ড ৩ হাজার ৩২২টি তথ্য ফাঁসের ঘটনা। এটি ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ৭৯ শতাংশ বেশি।
মাথা ঘুরছে? তাহলে আরও কিছু নির্ভেজাল তথ্যের দিকে তাকানো যাক। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সার্ফশার্ক জানাচ্ছে, ২০২৫ সালে গোটা বিশ্বে ফাঁস হয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৫৭ লাখ মানুষের তথ্য। শুধু ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকেই যুক্তরাষ্ট্রে ৪ কোটি ২৫ লাখ আর ফ্রান্সে ১ কোটি ১৪ লাখ মানুষের তথ্য বেহাত হয়েছে।
২০০৪ সাল থেকে হিসাব করলে সবচেয়ে বেশি তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে তিনটি দেশে—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া আর চীনে।
এসব তথ্য ফাঁসের দাম শুনলে আরেকবার মাথা ঘুরবে। আইবিএমের ২০২৬ সালের ‘কস্ট অব আ ডেটা ব্রিচ’ রিপোর্ট বলছে, একটা ডেটা ব্রিচের গড় বৈশ্বিক আর্থিক ক্ষতি এখন ৪৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই খরচ আরও ভয়ংকর—গড়ে ১ কোটি ২২ লাখ ডলার। সার্ফশার্কের বিশ্লেষণ বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ আর ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে রাশিয়া, চীন আর যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তু।
২০১১ সালে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানে লেখা এক নিবন্ধে আইরিশ সাংবাদিক জন নটন লিখেছিলেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা একদিন হয়ে উঠবে দুর্লভ বস্তু, ফেলে আসা এক অতীত। মানুষ ধীরে ধীরে এই বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেবে।
পনেরো বছর পর আজ চারপাশে তাকালে বোঝা যায়, নটন ভুল বলেননি। তিনি যতটা ভেবেছিলেন, বাস্তবতা বরং তার চেয়েও দ্রুত এগিয়েছে। আর এই গোপনীয়তা ভাঙার খেলায় শুধু ব্যক্তি বা হ্যাকাররাই নেই। খোদ রাষ্ট্রও নাম লিখিয়েছে এই তালিকায়।
২০২১ সালের জুলাইয়ে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এনএসওর তৈরি ‘পেগাসাস’ স্পাইওয়্যার নিয়ে যে হইচই হয়েছিল, তা এখনো অনেকের মনে আছে। কিন্তু গল্পটা সেখানেই থেমে থাকেনি।
সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগ ফরবিডেন স্টোরিজ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আর সিটিজেন ল্যাবের ২০২৫-২০২৬ সালের গবেষণা বলছে, পেগাসাসের পর এখন মাঠে নেমেছে আরও আধুনিক স্পাইওয়্যার—‘প্রিডেটর’ আর ‘গ্রাফাইট’। সার্বিয়া, গ্রিস থেকে অ্যাঙ্গোলা—সাংবাদিক আর মানবাধিকারকর্মীদের ফোনে এসব স্পাইওয়্যারের অস্তিত্ব মিলেছে একের পর এক দেশে।
সংবিধান বলে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নাগরিকের অধিকার। কিন্তু রাষ্ট্র কেন সেই অধিকার লঙ্ঘনকারী প্রযুক্তি কেনে, সেই প্রশ্ন তোলা বারণ। তাই প্রশ্নটা ঘুরিয়ে করাই ভালো—ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এত সস্তা, এত সহজলভ্য হলো কীভাবে?
উত্তরটা পাওয়া গেল শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য রিচার্ড জোনসের একটা লেখায়—সেই ২০১১ সালেই, দ্য গার্ডিয়ানে।
রিচার্ড জোনস লিখেছেন, দায়টা আসলে ‘ন্যানো প্রযুক্তির’। মোবাইল আর ল্যাপটপে যে চিপ ব্যবহার হয়, তার ভিত্তিই এই ন্যানো প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর ন্যানো প্রযুক্তির যুগলবন্দিতে চিপ উৎপাদন যেমন সস্তা হয়েছে, তেমনি বেড়েছে তার ক্ষমতাও।
এই দৌড়ে সবার আগে রয়েছে তাইওয়ান। দেশটির সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) ২০২৬ সালে তাদের মূলধনী ব্যয় বাড়িয়ে নিয়ে গেছে ৬৪ বিলিয়ন ডলারে। অত্যাধুনিক এআই চিপের চাহিদা যে কতটা প্রবল, এটি তারই প্রমাণ।
ওই একই লেখায় রিচার্ড জোনস বলেছেন, যে প্রযুক্তি ফোন-ল্যাপটপ চালায়, তা ইতিমধ্যেই ন্যানো স্কেলে কাজ করছে। আগামী ২৫ বছরে এই প্রযুক্তি এমন জায়গায় পৌঁছাবে যে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বলে আর কিছুই থাকবে না।
রিচার্ড জোনসের সেই ভবিষ্যদ্বাণীর বয়স এখন ১৫ বছর। বাকি আছে আর মাত্র ১০ বছর। অর্থাৎ ২০৩৬ সালে বোঝা যাবে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সত্যিই মৃত্যু হবে কি না।
তথ্যসূত্র: সুজুল্যাবস, সার্ফশার্ক, গ্লোবাল সিকিউরিটি ম্যাগ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, সিটিজেন ল্যাব, রয়টার্স ও দ্য হিন্দু

ফিসফাস করে নয়, বেশ জোরেসোরেই একটি ভিডিও ফাঁস হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই সেই ভিডিও সম্পর্কে উর্ধ্বকমার মধ্যে লিখছেন ‘অন্তরঙ্গ ভিডিও’ ফাঁস। ঠিকই ধরেছেন, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের ভিডিওর কথাই বলা হচ্ছে।
ভিডিওতে যা দেখা গেছে, সেই কাজ নৈতিক কিনা, তা নিয়ে এই লেখা নয়। এই লেখার বিষয় ‘প্রাইভেসি’ বা গোপনীয়তা নিয়ে।
সারা বিশ্বেই ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অডিও-ভিডিও ফাঁস হচ্ছে। এই তালিকায় মন্ত্রী, এমপি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও চিত্রতারকাও রয়েছেন। যেমন ২০২২ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সরকারি কর্মকর্তাদের একাধিক ব্যক্তিগত ফোনালাপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০১৪ সালে জেনিফার লরেন্স, কেট আপটনসহ শতাধিক হলিউড তারকার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় কে বা কারা ছড়িয়ে দিয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালে ভারতের কর্ণাটকের সংসদ সদস্য প্রজ্বল রেভান্নাকে ঘিরে অসংখ্য ব্যক্তিগত ভিডিও প্রকাশ পেয়েছিল।
কিন্তু কারা এসব ফাঁস করছে কেউ জানে না। এমনকি এ নিয়ে কেউ প্রশ্নও তুলছে না। এই প্রশ্ন না তোলাটাই সবচেয়ে ভয়ংকর।
২০২১ সালের শেষদিকে দেশ কাঁপিয়ে দিয়েছিল তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের একটি ফোনালাপ। সেই ফোনালাপের জেরে তাঁকে মন্ত্রীত্ব পর্যন্ত হারাতে হয়েছিল। কিন্তু কে ফাঁস করেছিল সেই ফোনালাপ, কীভাবে করেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর আজও মেলেনি।
এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক গ্রুপ রয়েছে, যেগুলোতে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের পারিবারিক মুহূর্ত, পার্কে বসে থাকার মুহূর্ত, শপিং মলের মহূর্ত, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার মুহূর্তের ভিডিও প্রচার করা হয়।
কখনো কখনো দেখা যায়, পুলিশ কোনো কোনো পার্কে অভিযান চালিয়ে ‘অন্তরঙ্গ অবস্থায়’ আটক করছে তরুণ-তরুণীদের। সেসব আটকের দৃশ্য আবার ফলাও করে প্রচার করে ইউটিউবার, টিকটকার থেকে শুরু করে কোনো কোনো মূলধারার গণমাধ্যমও।
আবার ফেসবুক, ইউটিউবে অনেক ভ্লগার নিজেরাই নিজেদের বেডরুমের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন। সুতরাং, সবমিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে—আমরা কি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা প্রকাশের ব্যাপারে ক্রমশ অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি?
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হ্যাঁ। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ফাঁস হওয়াটা এখন আর কোনো বিস্ময়ের বিষয় নয়। এটা প্রায় প্রতিদিনের বাস্তবতা। আর এই বাস্তবতা কতটা ভীতিকর, তা পরিসংখ্যান দেখলে কিছুটা আন্দাজ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইডেন্টিটি থেফট রিসোর্স সেন্টারের (আইটিআরসি) সবশেষ প্রতিবেদন বলছে, শুধু ২০২৫ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে ঘটেছে রেকর্ড ৩ হাজার ৩২২টি তথ্য ফাঁসের ঘটনা। এটি ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ৭৯ শতাংশ বেশি।
মাথা ঘুরছে? তাহলে আরও কিছু নির্ভেজাল তথ্যের দিকে তাকানো যাক। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সার্ফশার্ক জানাচ্ছে, ২০২৫ সালে গোটা বিশ্বে ফাঁস হয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৫৭ লাখ মানুষের তথ্য। শুধু ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকেই যুক্তরাষ্ট্রে ৪ কোটি ২৫ লাখ আর ফ্রান্সে ১ কোটি ১৪ লাখ মানুষের তথ্য বেহাত হয়েছে।
২০০৪ সাল থেকে হিসাব করলে সবচেয়ে বেশি তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে তিনটি দেশে—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া আর চীনে।
এসব তথ্য ফাঁসের দাম শুনলে আরেকবার মাথা ঘুরবে। আইবিএমের ২০২৬ সালের ‘কস্ট অব আ ডেটা ব্রিচ’ রিপোর্ট বলছে, একটা ডেটা ব্রিচের গড় বৈশ্বিক আর্থিক ক্ষতি এখন ৪৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই খরচ আরও ভয়ংকর—গড়ে ১ কোটি ২২ লাখ ডলার। সার্ফশার্কের বিশ্লেষণ বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ আর ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে রাশিয়া, চীন আর যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তু।
২০১১ সালে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানে লেখা এক নিবন্ধে আইরিশ সাংবাদিক জন নটন লিখেছিলেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা একদিন হয়ে উঠবে দুর্লভ বস্তু, ফেলে আসা এক অতীত। মানুষ ধীরে ধীরে এই বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেবে।
পনেরো বছর পর আজ চারপাশে তাকালে বোঝা যায়, নটন ভুল বলেননি। তিনি যতটা ভেবেছিলেন, বাস্তবতা বরং তার চেয়েও দ্রুত এগিয়েছে। আর এই গোপনীয়তা ভাঙার খেলায় শুধু ব্যক্তি বা হ্যাকাররাই নেই। খোদ রাষ্ট্রও নাম লিখিয়েছে এই তালিকায়।
২০২১ সালের জুলাইয়ে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এনএসওর তৈরি ‘পেগাসাস’ স্পাইওয়্যার নিয়ে যে হইচই হয়েছিল, তা এখনো অনেকের মনে আছে। কিন্তু গল্পটা সেখানেই থেমে থাকেনি।
সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগ ফরবিডেন স্টোরিজ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আর সিটিজেন ল্যাবের ২০২৫-২০২৬ সালের গবেষণা বলছে, পেগাসাসের পর এখন মাঠে নেমেছে আরও আধুনিক স্পাইওয়্যার—‘প্রিডেটর’ আর ‘গ্রাফাইট’। সার্বিয়া, গ্রিস থেকে অ্যাঙ্গোলা—সাংবাদিক আর মানবাধিকারকর্মীদের ফোনে এসব স্পাইওয়্যারের অস্তিত্ব মিলেছে একের পর এক দেশে।
সংবিধান বলে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নাগরিকের অধিকার। কিন্তু রাষ্ট্র কেন সেই অধিকার লঙ্ঘনকারী প্রযুক্তি কেনে, সেই প্রশ্ন তোলা বারণ। তাই প্রশ্নটা ঘুরিয়ে করাই ভালো—ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এত সস্তা, এত সহজলভ্য হলো কীভাবে?
উত্তরটা পাওয়া গেল শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য রিচার্ড জোনসের একটা লেখায়—সেই ২০১১ সালেই, দ্য গার্ডিয়ানে।
রিচার্ড জোনস লিখেছেন, দায়টা আসলে ‘ন্যানো প্রযুক্তির’। মোবাইল আর ল্যাপটপে যে চিপ ব্যবহার হয়, তার ভিত্তিই এই ন্যানো প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর ন্যানো প্রযুক্তির যুগলবন্দিতে চিপ উৎপাদন যেমন সস্তা হয়েছে, তেমনি বেড়েছে তার ক্ষমতাও।
এই দৌড়ে সবার আগে রয়েছে তাইওয়ান। দেশটির সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) ২০২৬ সালে তাদের মূলধনী ব্যয় বাড়িয়ে নিয়ে গেছে ৬৪ বিলিয়ন ডলারে। অত্যাধুনিক এআই চিপের চাহিদা যে কতটা প্রবল, এটি তারই প্রমাণ।
ওই একই লেখায় রিচার্ড জোনস বলেছেন, যে প্রযুক্তি ফোন-ল্যাপটপ চালায়, তা ইতিমধ্যেই ন্যানো স্কেলে কাজ করছে। আগামী ২৫ বছরে এই প্রযুক্তি এমন জায়গায় পৌঁছাবে যে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বলে আর কিছুই থাকবে না।
রিচার্ড জোনসের সেই ভবিষ্যদ্বাণীর বয়স এখন ১৫ বছর। বাকি আছে আর মাত্র ১০ বছর। অর্থাৎ ২০৩৬ সালে বোঝা যাবে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সত্যিই মৃত্যু হবে কি না।
তথ্যসূত্র: সুজুল্যাবস, সার্ফশার্ক, গ্লোবাল সিকিউরিটি ম্যাগ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, সিটিজেন ল্যাব, রয়টার্স ও দ্য হিন্দু
.png)

মোংলা বন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের পর এবার মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের দায়িত্বও গেছে চীনের হাতে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং দ্বিতীয় ব্যস্ততম সমুদ্রবন্দর মোংলার পাশে ১১০ একর জমিতে গড়ে উঠছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল।
৮ মিনিট আগে
একটি সাধারণ প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে তরুণরা পুরো ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং মোদি সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক বিশাল প্রতিবাদে পরিণত করেছে। জবাবদিহির এই দাবি এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকেই তাক করা।
২১ জুলাই ২০২৬
জুন মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হয়েছিল নিট-দুর্নীতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহির দাবিতে প্রতিবাদ। প্রথমে সেটি ছিল ছাত্র-যুবদের আন্দোলন। পরে সেই মঞ্চেই অনশনে বসেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই আন্দোলন দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ও নাগরিক আন্দোলনে পরিণত হয়।
২১ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যেতে চান বা ইতোমধ্যে সেখানে পড়াশোনা করছেন এমন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) একটি চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশ করেছে, যার মাধ্যমে প্রায় পাঁচ দশক
২০ জুলাই ২০২৬