ইনস্ক্রিপ্ট প্রতিবেদক

জুন মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হয়েছিল নিট-দুর্নীতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহির দাবিতে প্রতিবাদ। প্রথমে সেটি ছিল ছাত্র-যুবদের আন্দোলন। পরে সেই মঞ্চেই অনশনে বসেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই আন্দোলন দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ও নাগরিক আন্দোলনে পরিণত হয়। অনশন, আদালতের হস্তক্ষেপ, পুলিশের কড়া নিরাপত্তা, হাসপাতালে স্থানান্তর, বিরোধী দলগুলির সমর্থন এবং শেষ পর্যন্ত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি—ঘটনার পর ঘটনা আন্দোলনকে নতুন মোড় দেয়।
গত ১৬ মে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে এই সংগঠনের সূচনা করেন অভিজিৎ দীপকে। আত্মপ্রকাশের পর কয়েকদিনেই সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই পার্টি। ২০ জুন হাতে আম্বেদকরের আত্মজীবনী নিয়ে, দিল্লিতে পা রাখেন তিনি। সে দিন থেকেই শুরু হয় দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান-বিক্ষোভ। তাদের অভিযোগ ছিল, নিট পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং সেই ঘটনার নৈতিক দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত। একই সঙ্গে তারা শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তৃত সংস্কারের দাবিও তোলে। শুরু থেকেই আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সংবিধান হাতে নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান।
২০ জুন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের অভিযোগ ছিল, নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের ফলে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংগঠনের দাবি ছিল, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
প্রথম থেকেই আন্দোলনকে অহিংস ও সাংবিধানিক পথে পরিচালনার কথা জানায় সিজেপি। যন্তর মন্তরে প্রতিদিন ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এসে আন্দোলনে যোগ দিতে শুরু করেন।
আন্দোলন শুরুর ঠিক সাত দিন পরে, ২৭ জুন যন্তর মন্তরের মঞ্চে অনশনে বসেন লাদাখের পরিবেশকর্মী, প্রকৌশলী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তিনি জানান, শুধুমাত্র নিট ইস্যু নয়, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহির প্রশ্নে তিনি এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। ওয়াংচুকের যোগদানের ফলে আন্দোলন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়তে শুরু করে। তাঁর অনশনকে ঘিরে দেশ-বিদেশে আলোচনা শুরু হয়। যন্তর মন্তরে মানুষের ভিড়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে থাকে।
জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে আন্দোলনের পরিধি আরও বাড়ে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র সংগঠন, শিক্ষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ যন্তর মন্তরে পৌঁছতে থাকেন।
প্রথম থেকেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। হাতে ড. বি আর আম্বেদকরের লেখা সংবিধান ও আত্মজীবনী নিয়ে তিনি আন্দোলনের মঞ্চে উপস্থিত হন। তাঁর বক্তব্য, এই আন্দোলন কেবল একটি পরীক্ষা নয়, সংবিধান রক্ষা এবং শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।
ক্রমশ সোনম ওয়াংচুকের অনশন দীর্ঘ হতে থাকে। চিকিৎসকেরা বারবার সতর্ক করতে থাকেন যে দীর্ঘ অনশনের ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। কিন্তু ওয়াংচুক জানান, দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না। এই সময় তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন ছাত্রও অনশনে যোগ দেন।
১৮ জুলাই ভোরে যন্তর মন্তরে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন সাদা পোশাকের পুলিশ আচমকা আন্দোলনস্থলে ঢুকে পড়ে। প্রথমে বড় সাদা চাদর দিয়ে ওয়াংচুকের বিছানাটি ঘিরে ফেলা হয় যাতে বাইরে থেকে কেউ কিছু দেখতে না পারেন। এরপর তাঁকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হয়। দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর জীবন রক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ অনশনের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালের স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং আন্দোলন ভাঙতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ওয়াংচুক ঘোষণা করেন, তাঁর অনশন অব্যাহত থাকবে।
ওয়াংচুককে হাসপাতালে স্থানান্তরের ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্ব পায়। রয়টার্স, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, ২০ দিনের বেশি অনশনের পর দিল্লি পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ এবং পুলিশের অবস্থান—দুই দিকই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে।
সোমবার সকালে আন্দোলনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। সিজেপি আগেই ঘোষণা করেছিল ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি। যদিও দিল্লি পুলিশ আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, এই মিছিলের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং কর্মসূচিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ভারী বৃষ্টির মধ্যেই যন্তর মন্তর থেকে হাজার হাজার আন্দোলনকারী মিছিল শুরু করেন। কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারও হাতে সংবিধানের কপি।

মিছিল সংসদের দিকে এগোতে শুরু করতেই বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করে। পুলিশের অভিযোগ, আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দিল্লি পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং পরে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। বহু আন্দোলনকারী আহত হন। পুলিশের পক্ষ থেকেও কয়েকজন কর্মী আহত হওয়ার দাবি করা হয়। সংসদ থানা সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। এই ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়ের করে।
ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রদের উপর অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।
সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এবং প্রবীণ নেত্রী বৃন্দা কারাট যন্তর মন্তরে গিয়ে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ান। কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাতে প্রশ্ন তোলেন, যদি আন্দোলনের বিষয় শিক্ষা-সংক্রান্ত হয়, তাহলে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পরিবর্তে জে পি নাড্ডা কেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন?
সিজেপির প্রতিনিধি সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রঙ্কা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সরকারি বাসভবনে যান। প্রায় দশ মিনিট ধরে বৈঠক হয়। তাঁরা সংগঠনের দাবিপত্র মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। বৈঠক শেষে সিজেপির দাবি, নাড্ডা তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন যে বিষয়গুলি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরা হবে এবং সংশ্লিষ্ট স্তরে আলোচনা করা হবে। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শুধু বৈঠক নয়, দাবিগুলির বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন চলবে।
তাঁরা তিনটি দাবি জানিয়েছেন, সোনাম ওয়াংচুকের অবিলম্বে মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে এবং নিট-সংক্রান্ত আত্মহত্যার ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
একই দিনে দিল্লি হাইকোর্টে সোনম ওয়াংচুকের মামলার শুনানি হয়। ওয়াংচুকের আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে বলেন, তাঁর মক্কেলকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হোক। আদালত নির্দেশ দেন, চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক এবং ওয়াংচুকের আস্থাভাজন চিকিৎসক—দুজনকেই পরবর্তী শুনানিতে উপস্থিত থাকতে হবে। আদালত আরও জানায়, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস)-এর পরিচালকের অনুমতি ছাড়া কোনো বড় চিকিৎসা-পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে না।
যদিও সোনম ওয়াংচুক হাসপাতালে রয়েছেন, তাঁর অনশন এখনও চলমান। তাঁর সঙ্গে অনশন শুরু করা তিন ছাত্র সোমবার সকালে অনশন ভাঙেন। কিন্তু আন্দোলনের মূল কর্মসূচি এখনো বন্ধ হয়নি।
যন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন কেবল নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ নয়। এটি শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার এবং সরকারের জবাবদিহি নিয়ে জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে সিজেপি আপাতত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে সরকার সংলাপের ইঙ্গিত দিলেও আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, লিখিত আশ্বাস বা কার্যকর সিদ্ধান্ত ছাড়া তাঁরা পিছু হটবেন না।

জুন মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হয়েছিল নিট-দুর্নীতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহির দাবিতে প্রতিবাদ। প্রথমে সেটি ছিল ছাত্র-যুবদের আন্দোলন। পরে সেই মঞ্চেই অনশনে বসেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই আন্দোলন দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ও নাগরিক আন্দোলনে পরিণত হয়। অনশন, আদালতের হস্তক্ষেপ, পুলিশের কড়া নিরাপত্তা, হাসপাতালে স্থানান্তর, বিরোধী দলগুলির সমর্থন এবং শেষ পর্যন্ত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি—ঘটনার পর ঘটনা আন্দোলনকে নতুন মোড় দেয়।
গত ১৬ মে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে এই সংগঠনের সূচনা করেন অভিজিৎ দীপকে। আত্মপ্রকাশের পর কয়েকদিনেই সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই পার্টি। ২০ জুন হাতে আম্বেদকরের আত্মজীবনী নিয়ে, দিল্লিতে পা রাখেন তিনি। সে দিন থেকেই শুরু হয় দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান-বিক্ষোভ। তাদের অভিযোগ ছিল, নিট পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং সেই ঘটনার নৈতিক দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত। একই সঙ্গে তারা শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তৃত সংস্কারের দাবিও তোলে। শুরু থেকেই আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সংবিধান হাতে নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান।
২০ জুন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের অভিযোগ ছিল, নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের ফলে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংগঠনের দাবি ছিল, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
প্রথম থেকেই আন্দোলনকে অহিংস ও সাংবিধানিক পথে পরিচালনার কথা জানায় সিজেপি। যন্তর মন্তরে প্রতিদিন ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এসে আন্দোলনে যোগ দিতে শুরু করেন।
আন্দোলন শুরুর ঠিক সাত দিন পরে, ২৭ জুন যন্তর মন্তরের মঞ্চে অনশনে বসেন লাদাখের পরিবেশকর্মী, প্রকৌশলী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তিনি জানান, শুধুমাত্র নিট ইস্যু নয়, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহির প্রশ্নে তিনি এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। ওয়াংচুকের যোগদানের ফলে আন্দোলন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়তে শুরু করে। তাঁর অনশনকে ঘিরে দেশ-বিদেশে আলোচনা শুরু হয়। যন্তর মন্তরে মানুষের ভিড়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে থাকে।
জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে আন্দোলনের পরিধি আরও বাড়ে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র সংগঠন, শিক্ষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ যন্তর মন্তরে পৌঁছতে থাকেন।
প্রথম থেকেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। হাতে ড. বি আর আম্বেদকরের লেখা সংবিধান ও আত্মজীবনী নিয়ে তিনি আন্দোলনের মঞ্চে উপস্থিত হন। তাঁর বক্তব্য, এই আন্দোলন কেবল একটি পরীক্ষা নয়, সংবিধান রক্ষা এবং শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।
ক্রমশ সোনম ওয়াংচুকের অনশন দীর্ঘ হতে থাকে। চিকিৎসকেরা বারবার সতর্ক করতে থাকেন যে দীর্ঘ অনশনের ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। কিন্তু ওয়াংচুক জানান, দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না। এই সময় তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন ছাত্রও অনশনে যোগ দেন।
১৮ জুলাই ভোরে যন্তর মন্তরে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন সাদা পোশাকের পুলিশ আচমকা আন্দোলনস্থলে ঢুকে পড়ে। প্রথমে বড় সাদা চাদর দিয়ে ওয়াংচুকের বিছানাটি ঘিরে ফেলা হয় যাতে বাইরে থেকে কেউ কিছু দেখতে না পারেন। এরপর তাঁকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হয়। দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর জীবন রক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ অনশনের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালের স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং আন্দোলন ভাঙতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ওয়াংচুক ঘোষণা করেন, তাঁর অনশন অব্যাহত থাকবে।
ওয়াংচুককে হাসপাতালে স্থানান্তরের ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্ব পায়। রয়টার্স, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, ২০ দিনের বেশি অনশনের পর দিল্লি পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ এবং পুলিশের অবস্থান—দুই দিকই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে।
সোমবার সকালে আন্দোলনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। সিজেপি আগেই ঘোষণা করেছিল ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি। যদিও দিল্লি পুলিশ আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, এই মিছিলের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং কর্মসূচিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ভারী বৃষ্টির মধ্যেই যন্তর মন্তর থেকে হাজার হাজার আন্দোলনকারী মিছিল শুরু করেন। কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারও হাতে সংবিধানের কপি।

মিছিল সংসদের দিকে এগোতে শুরু করতেই বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করে। পুলিশের অভিযোগ, আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দিল্লি পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং পরে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। বহু আন্দোলনকারী আহত হন। পুলিশের পক্ষ থেকেও কয়েকজন কর্মী আহত হওয়ার দাবি করা হয়। সংসদ থানা সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। এই ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়ের করে।
ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রদের উপর অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।
সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এবং প্রবীণ নেত্রী বৃন্দা কারাট যন্তর মন্তরে গিয়ে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ান। কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাতে প্রশ্ন তোলেন, যদি আন্দোলনের বিষয় শিক্ষা-সংক্রান্ত হয়, তাহলে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পরিবর্তে জে পি নাড্ডা কেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন?
সিজেপির প্রতিনিধি সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রঙ্কা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সরকারি বাসভবনে যান। প্রায় দশ মিনিট ধরে বৈঠক হয়। তাঁরা সংগঠনের দাবিপত্র মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। বৈঠক শেষে সিজেপির দাবি, নাড্ডা তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন যে বিষয়গুলি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরা হবে এবং সংশ্লিষ্ট স্তরে আলোচনা করা হবে। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শুধু বৈঠক নয়, দাবিগুলির বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন চলবে।
তাঁরা তিনটি দাবি জানিয়েছেন, সোনাম ওয়াংচুকের অবিলম্বে মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে এবং নিট-সংক্রান্ত আত্মহত্যার ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
একই দিনে দিল্লি হাইকোর্টে সোনম ওয়াংচুকের মামলার শুনানি হয়। ওয়াংচুকের আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে বলেন, তাঁর মক্কেলকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হোক। আদালত নির্দেশ দেন, চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক এবং ওয়াংচুকের আস্থাভাজন চিকিৎসক—দুজনকেই পরবর্তী শুনানিতে উপস্থিত থাকতে হবে। আদালত আরও জানায়, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস)-এর পরিচালকের অনুমতি ছাড়া কোনো বড় চিকিৎসা-পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে না।
যদিও সোনম ওয়াংচুক হাসপাতালে রয়েছেন, তাঁর অনশন এখনও চলমান। তাঁর সঙ্গে অনশন শুরু করা তিন ছাত্র সোমবার সকালে অনশন ভাঙেন। কিন্তু আন্দোলনের মূল কর্মসূচি এখনো বন্ধ হয়নি।
যন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন কেবল নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ নয়। এটি শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার এবং সরকারের জবাবদিহি নিয়ে জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে সিজেপি আপাতত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে সরকার সংলাপের ইঙ্গিত দিলেও আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, লিখিত আশ্বাস বা কার্যকর সিদ্ধান্ত ছাড়া তাঁরা পিছু হটবেন না।
.png)

একটি সাধারণ প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে তরুণরা পুরো ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং মোদি সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক বিশাল প্রতিবাদে পরিণত করেছে। জবাবদিহির এই দাবি এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকেই তাক করা।
৪ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যেতে চান বা ইতোমধ্যে সেখানে পড়াশোনা করছেন এমন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) একটি চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশ করেছে, যার মাধ্যমে প্রায় পাঁচ দশক
২০ জুলাই ২০২৬
চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয় ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। পুরো পৃথিবী যেন এক বিশাল ফুটবল স্টেডিয়ামে পরিণত হয়। এক মাসের জন্য বদলে যায় সবার রুটিন। বদলে যায় অনেক দেশের কর্মব্যস্ততা, রাত জেগে খেলা দেখে কোটি কোটি মানুষ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে ওঠে তর্ক-বিতর্কে, আর শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয় বিজয়-উল্লাস ক
১৯ জুলাই ২০২৬
কয়েক দিন আগে পাকিস্তান থেকে বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ‘রিপাবলিক অব বেলুচিস্তান’ নামে নতুন একটি রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে বলে ফেসবুক, এক্স ও টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীরা সত্য হিসেবে প্রচার করেন।
১৮ জুলাই ২০২৬