ফাবিহা বিনতে হক

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজিতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বিল উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
প্রশ্নপত্র ফাঁস, ডিজিটাল কারসাজি, জাল সনদ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে নতুন সংশোধিত আইনে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনটি প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রণয়ন করা হয়েছিল। তখন মূল লক্ষ্য ছিল নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁস, জাল সনদ তৈরি এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধ করা। কিন্তু বর্তমানে পরীক্ষা পরিচালনা ও তথ্য সংরক্ষণে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বেড়েছে। এর ফলে নতুন ধরনের অপরাধও তৈরি হয়েছে, যেগুলো মোকাবিলার জন্য পুরোনো আইনের অনেক বিধান যথেষ্ট ছিল না। সেই কারণেই আইনটি সংশোধন করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, প্রথমবারের মতো ‘ডিজিটাল কারসাজি’ বা ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন-এর সংজ্ঞা আইনে যুক্ত হয়েছে। এর আওতায় পাবলিক পরীক্ষার ডেটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন, সংশোধন, মুছে ফেলা বা গোপন করাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।
নতুন আইনে অনলাইন প্ল্যাটফর্মসহ যেকোনোভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস করাও অপরাধ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। একইভাবে পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র বা উত্তরপত্র নিজের কাছে রাখা, প্রকাশ, প্রচার বা বিতরণ করলেও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। সংশোধিত আইনে সেই শাস্তি কমিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ নিষিদ্ধ করেছে এমন ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে বা নেওয়ার চেষ্টা করে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ করা এবং পরীক্ষা পরিচালনাসংক্রান্ত বৈধ নির্দেশনা ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।
কোনো পরীক্ষার্থীকে অসদুপায়ে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে লিখিত বা মৌখিক চুক্তি করলে বা এমন চুক্তির চেষ্টা করলেও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন ধারা ৯এ-তে অনুমোদনহীন পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন বা পরিচালনাকে অপরাধ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। যারা এ ধরনের পরীক্ষাকেন্দ্র পরিচালনা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। জেনেশুনে নিজেদের স্থাপনা পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করতে দেবেন, সেই ভবন বা প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও একই শাস্তি পাবেন।
উত্তরপত্র মূল্যায়নেও নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে। কোনো পরীক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত নম্বর (ওভার অ্যাসেস) বা কম নম্বর (আন্ডার অ্যাসেস) দিলে কিংবা ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। তবে এ ক্ষেত্রে অতিমূল্যায়ন বা অবমূল্যায়নের বিষয়টি তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
এ ছাড়া কোনো শিশু এই আইনের আওতায় অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০ মূলত পরীক্ষাকেন্দ্রভিত্তিক অপরাধ প্রতিরোধের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
এই আইনে অন্যের নামে বা ভুয়া পরিচয়ে পরীক্ষা দেওয়া কিংবা পরীক্ষার্থী না হয়েও নিজেকে পরীক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ করাকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এ অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি ছাড়া পরীক্ষা পরিচালনা করা, উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা অথবা অন্যের নামে বা ভুয়া পরিচয়ে এসব কাজ করলেও সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান ছিল।
এ ছাড়া পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাজে বাধা দেওয়া, পরীক্ষা অনুষ্ঠানে বিঘ্ন সৃষ্টি করা কিংবা পরীক্ষাকক্ষে বিশৃঙ্খলা তৈরি করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান ছিল।
এই আইনে কোনো অপরাধে সহায়তা করা বা সেই অপরাধের চেষ্টা করলেও একই ধরনের শাস্তির বিধান ছিল। পাশাপাশি এসব অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল এবং
এসব মামলার বিচার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে করা হবে।
১৯৮০ সালের আইন মূলত পরীক্ষাকেন্দ্রে সংঘটিত প্রচলিত অপরাধকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল। সেখানে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষার ডেটাবেজে অনুপ্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন বা অনলাইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের কোনো পৃথক সংজ্ঞা ছিল না। উত্তরপত্রের অন্যায্য মূল্যায়ন বা অনুমোদনহীন পরীক্ষাকেন্দ্র পরিচালনার বিষয়েও আলাদা বিধান ছিল না।
২০২৬ সালের সংশোধনীতে এসব বিষয় প্রথমবারের মতো স্পষ্টভাবে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের পাশাপাশি পরীক্ষা পরিচালনার নতুন ধরনের অনিয়ম মোকাবিলার জন্য বিদ্যমান আইনে নতুন বিধান যুক্ত হলো।
নতুন আইনে প্রযুক্তির মাধ্যমে করা বিভিন্ন অপরাধ কী, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর জন্য অপরাধ শনাক্ত করা এবং ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। আগে অনেক সময় কোনো ঘটনা ঠিক কোন আইনের আওতায় পড়বে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতো। নতুন আইনে এসব বিষয় আরও পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
প্রযুক্তির যুগে এই নতুন আইন পাবলিক পরীক্ষার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সহায়তা করবে। বর্তমানে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সংরক্ষণ, পরিবহন, ফলাফল প্রস্তুত এবং সনদ ব্যবস্থাপনার অনেক ধাপই ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন আর শুধু কাগজপত্র চুরি বা গোপন নথি পাচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ, ক্লাউড স্টোরেজ, অনলাইন গ্রুপ এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে খুব দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। তাই অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আইনও যুগোপযোগী করা জরুরি হয়ে পড়েছিল।

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজিতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বিল উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
প্রশ্নপত্র ফাঁস, ডিজিটাল কারসাজি, জাল সনদ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে নতুন সংশোধিত আইনে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনটি প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রণয়ন করা হয়েছিল। তখন মূল লক্ষ্য ছিল নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁস, জাল সনদ তৈরি এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধ করা। কিন্তু বর্তমানে পরীক্ষা পরিচালনা ও তথ্য সংরক্ষণে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বেড়েছে। এর ফলে নতুন ধরনের অপরাধও তৈরি হয়েছে, যেগুলো মোকাবিলার জন্য পুরোনো আইনের অনেক বিধান যথেষ্ট ছিল না। সেই কারণেই আইনটি সংশোধন করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, প্রথমবারের মতো ‘ডিজিটাল কারসাজি’ বা ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন-এর সংজ্ঞা আইনে যুক্ত হয়েছে। এর আওতায় পাবলিক পরীক্ষার ডেটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন, সংশোধন, মুছে ফেলা বা গোপন করাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।
নতুন আইনে অনলাইন প্ল্যাটফর্মসহ যেকোনোভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস করাও অপরাধ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। একইভাবে পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র বা উত্তরপত্র নিজের কাছে রাখা, প্রকাশ, প্রচার বা বিতরণ করলেও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। সংশোধিত আইনে সেই শাস্তি কমিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ নিষিদ্ধ করেছে এমন ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে বা নেওয়ার চেষ্টা করে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ করা এবং পরীক্ষা পরিচালনাসংক্রান্ত বৈধ নির্দেশনা ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।
কোনো পরীক্ষার্থীকে অসদুপায়ে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে লিখিত বা মৌখিক চুক্তি করলে বা এমন চুক্তির চেষ্টা করলেও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন ধারা ৯এ-তে অনুমোদনহীন পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন বা পরিচালনাকে অপরাধ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। যারা এ ধরনের পরীক্ষাকেন্দ্র পরিচালনা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। জেনেশুনে নিজেদের স্থাপনা পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করতে দেবেন, সেই ভবন বা প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও একই শাস্তি পাবেন।
উত্তরপত্র মূল্যায়নেও নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে। কোনো পরীক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত নম্বর (ওভার অ্যাসেস) বা কম নম্বর (আন্ডার অ্যাসেস) দিলে কিংবা ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। তবে এ ক্ষেত্রে অতিমূল্যায়ন বা অবমূল্যায়নের বিষয়টি তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
এ ছাড়া কোনো শিশু এই আইনের আওতায় অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০ মূলত পরীক্ষাকেন্দ্রভিত্তিক অপরাধ প্রতিরোধের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
এই আইনে অন্যের নামে বা ভুয়া পরিচয়ে পরীক্ষা দেওয়া কিংবা পরীক্ষার্থী না হয়েও নিজেকে পরীক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ করাকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এ অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি ছাড়া পরীক্ষা পরিচালনা করা, উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা অথবা অন্যের নামে বা ভুয়া পরিচয়ে এসব কাজ করলেও সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান ছিল।
এ ছাড়া পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাজে বাধা দেওয়া, পরীক্ষা অনুষ্ঠানে বিঘ্ন সৃষ্টি করা কিংবা পরীক্ষাকক্ষে বিশৃঙ্খলা তৈরি করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান ছিল।
এই আইনে কোনো অপরাধে সহায়তা করা বা সেই অপরাধের চেষ্টা করলেও একই ধরনের শাস্তির বিধান ছিল। পাশাপাশি এসব অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল এবং
এসব মামলার বিচার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে করা হবে।
১৯৮০ সালের আইন মূলত পরীক্ষাকেন্দ্রে সংঘটিত প্রচলিত অপরাধকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল। সেখানে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষার ডেটাবেজে অনুপ্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন বা অনলাইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের কোনো পৃথক সংজ্ঞা ছিল না। উত্তরপত্রের অন্যায্য মূল্যায়ন বা অনুমোদনহীন পরীক্ষাকেন্দ্র পরিচালনার বিষয়েও আলাদা বিধান ছিল না।
২০২৬ সালের সংশোধনীতে এসব বিষয় প্রথমবারের মতো স্পষ্টভাবে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের পাশাপাশি পরীক্ষা পরিচালনার নতুন ধরনের অনিয়ম মোকাবিলার জন্য বিদ্যমান আইনে নতুন বিধান যুক্ত হলো।
নতুন আইনে প্রযুক্তির মাধ্যমে করা বিভিন্ন অপরাধ কী, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর জন্য অপরাধ শনাক্ত করা এবং ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। আগে অনেক সময় কোনো ঘটনা ঠিক কোন আইনের আওতায় পড়বে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতো। নতুন আইনে এসব বিষয় আরও পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
প্রযুক্তির যুগে এই নতুন আইন পাবলিক পরীক্ষার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সহায়তা করবে। বর্তমানে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সংরক্ষণ, পরিবহন, ফলাফল প্রস্তুত এবং সনদ ব্যবস্থাপনার অনেক ধাপই ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন আর শুধু কাগজপত্র চুরি বা গোপন নথি পাচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ, ক্লাউড স্টোরেজ, অনলাইন গ্রুপ এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে খুব দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। তাই অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আইনও যুগোপযোগী করা জরুরি হয়ে পড়েছিল।
.png)

পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকালের বৃষ্টি ছিল গত ৪২ বছরের মধ্যে বন্দরনগরীতে একদিনের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। চার দশকের রেকর্ড ভেঙে হঠাৎ কেন এত বৃষ্টিপাত? এর পেছনে কারণ হিসেবে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কথা বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
০৮ জুলাই ২০২৬
পাবলিক বাসে পাশাপাশি সিটে বসে অফিসে যাচ্ছিলেন আসিফুর রহমান ও আদনান আহমেদ (ছদ্মনাম)। আসিফ সাহেব চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, চোখের সামনে পত্রিকা মেলে বসে আছেন। আদনান সাহেব চাকরি করেন সরকারি প্রতিষ্ঠানে।
০৭ জুলাই ২০২৬
বিচার হয় ব্যক্তির। দলের কি কখনো বিচার হয়? হ্যাঁ, হয়। ইতিহাসে এমন কিছু নজির রয়েছে, যেখানে কোনো কোনো রাষ্ট্র বা আদালত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ, বিলুপ্ত বা ভেঙে দিয়েছে, ধরন বুঝে শাস্তিও দিয়েছে।
০৭ জুলাই ২০২৬
সম্প্রতি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজার মধ্যে লাখো মানুষের চোখ আটকে ছিল একটি দৃশ্যে— প্রধান কফিনের ওপর রাখা ছোট্ট একটা সাদা কফিন। কফিনের সামনে রাখা একটি ছোট শিশুর ফ্রেমে বাঁধানো ছবি।
০৭ জুলাই ২০২৬