মাহজাবিন নাফিসা

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ অত্যন্ত পরিচিত শব্দ। প্রায়ই শোনা যায়, কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী অন্য দেশকে বলছেন, ‘তারা আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র আবার সংকটের সময় বলছেন, বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে আমরা তাদের সহযোগিতা কামনা করছি।’
‘বন্ধু রাষ্ট্র’ বলতে আসলে কী বোঝায়? এটি কি কোনো আইনি মর্যাদা, না কি কেবল কূটনৈতিক ভাষা? রাষ্ট্র কীভাবে আরেকটি রাষ্ট্রের বন্ধু হয়? এসব প্রশ্নের উত্তর বুঝতে হলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কিছু মৌলিক বিষয় জানা দরকার।
আন্তর্জাতিক আইনে ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ নামে কোনো আনুষ্ঠানিক বা আইনি পরিকাঠামো নেই। পৃথিবীর কোথাও এমন কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি নেই, যেখানে লেখা আছে—কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।
শব্দটির উৎপত্তি তাহলে কোথা থেকে? এটি মূলত কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ভাষার একটি প্রচলিত পরিভাষা। যখন দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের ইতিবাচক সম্পর্ক, নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়, তখন একে অপরের ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ বলে উল্লেখ করা হয়। বন্ধু রাষ্ট্রের সম্পর্ক প্রতিযোগিতার চেয়ে সহযোগিতার ওপর বেশি দাঁড়িয়ে থাকে।
সাধারণত বন্ধুত্ব মানে আবেগ, বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক। কিন্তু রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের অর্থ কিছুটা ভিন্ন। এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো পারস্পরিক স্বার্থ, আস্থা, ধারাবাহিক সহযোগিতা এবং নির্ভরযোগ্যতা। একটি দেশকে বন্ধু রাষ্ট্র বলা মানে এই নয় যে তারা সব সময় সব বিষয়ে একই অবস্থান নেবে। এর অর্থ হলো, দুটি রাষ্ট্র এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, যেখানে মতপার্থক্য থাকলেও তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয় না, সহযোগিতার পথ খোলা থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে উভয়েই সেই সম্পর্ককে মূল্যবান মনে করে।
দুই রাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্ব এক দিনে তৈরি হয় না। এটি সাধারণত বহু বছরের যোগাযোগ, সহযোগিতা এবং অভিন্ন স্বার্থের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। অনেক সময় ঐতিহাসিক মুহূর্তও একটি বড় ভূমিকা রাখে। যেমন স্বাধীনতা সংগ্রামে সহযোগিতা, যুদ্ধের সময় সহায়তা অথবা দুর্যোগে পাশে দাঁড়ানো—এসব ঘটনা ভবিষ্যতের সম্পর্ককে গভীর করে।
এখানে অর্থনীতিও গুরুত্বপূর্ণ। দুটি দেশের মধ্যে যদি নিবিড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকে, বিনিয়োগ বাড়ে, প্রযুক্তি আদান-প্রদান হয় বা কর্মসংস্থান তৈরি হয়, তাহলে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। এ ছাড়াও সন্ত্রাসবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা, জলদস্যুতা প্রতিরোধ কিংবা সামরিক প্রশিক্ষণের মতো ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করলে আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়। শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, পর্যটন এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগও বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করে।
শুধু ভালো সম্পর্ক থাকলেই কি বন্ধু রাষ্ট্র বলা যায়? সব সময় বলা যায় না। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক দেশ একে অপরের সঙ্গে সৌজন্যমূলক সম্পর্ক বজায় রাখে। তাদের মধ্যে দূতাবাস থাকে, বাণিজ্য হয়, রাষ্ট্রীয় সফর হয়। কিন্তু সবাইকে বন্ধু রাষ্ট্র বলা হয় না।
বন্ধু রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সাধারণত দুটি রাষ্ট্র একে অপরকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে, নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ রাখে, সংকটের সময় সহযোগিতা করে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করে। এটি কেবল কূটনৈতিক সম্পর্কের চেয়ে গভীর একটি অবস্থান।
এর এক কথায় উত্তর হলো—না। এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও নানা বিষয়ে মতপার্থক্য হতে পারে। বাণিজ্য নিয়ে বিরোধ হতে পারে, সীমান্ত নিয়ে আলোচনা চলতে পারে, আন্তর্জাতিক কোনো ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থানও নেওয়া হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বহু মিত্র দেশের সম্পর্ক দেখা যায়। তারা নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ হলেও জলবায়ু, বাণিজ্য, প্রযুক্তি বা শুল্ক নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মতবিরোধে জড়িয়েছে।
বন্ধু রাষ্ট্র আর মিত্র রাষ্ট্রকে অনেকেই এক মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে এদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। মিত্র রাষ্ট্র সাধারণত এমন দেশকে বোঝায়, যারা কোনো আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা বা সামরিক চুক্তির মাধ্যমে একে অপরকে সহায়তা করার অঙ্গীকার করে। উদাহরণ হিসেবে ন্যাটো জোটকে ধরা যায়। সেখানে সদস্য দেশগুলোর ওপর আক্রমণ হলে অন্য সদস্যদের সহায়তার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
অন্য দিকে বন্ধু রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এমন আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে না। সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ঠ হোক, প্রয়োজনে তারা সাহায্য করবে কি না, সেটি নির্ভর করে তাদের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।
বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আস্থা। যখন দুটি দেশের মধ্যে আস্থা থাকে, তখন বাণিজ্য সহজ হয়, বিনিয়োগ বাড়ে, ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি কম অনুভব করেন এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী বিনিময়, গবেষণা, প্রযুক্তি সহযোগিতা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি উন্নয়ন এবং অবকাঠামো নির্মাণেও সহযোগিতা বাড়ে।
জাতিসংঘ বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার বিভিন্ন ভোটাভুটিতে অনেক সময় বন্ধু রাষ্ট্র একে অপরের অবস্থানকে সমর্থন করে।
এছাড়াও দুর্যোগের সময় মানবিক সহায়তা কিংবা জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর ক্ষেত্রেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সব বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সব সময় স্থায়ী নয়। সরকার পরিবর্তন, নতুন পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, সীমান্ত বিরোধ, ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন কিংবা আন্তর্জাতিক সংঘাত—এসব কারণে বহু পুরোনো সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হতে পারে।
আবার উল্টো ঘটনাও ঘটে। যে দেশগুলো একসময় দূরে ছিল, তারা নতুন বাস্তবতায় একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার পর থেকেই ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এই পররাষ্ট্রনীতির নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। এটি বাংলাদেশের সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অংশ হিসেবেও প্রতিফলিত হয়েছে। এই নীতির অর্থ হলো, বাংলাদেশ যতটা সম্ভব বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় এবং অপ্রয়োজনীয় সংঘাতে জড়াতে চায় না। তাই বাংলাদেশের কূটনৈতিক ভাষায় বিভিন্ন দেশকে প্রায়ই ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ বলা হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের গভীরতা সমান। কোনো দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বেশি, কারও সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বেশি, আবার কারও সঙ্গে ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বেশি।
তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ সনদ, বাংলাদেশের সংবিধান (রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ), ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোম্যাটিক রিলেশনস (১৯৬১)

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ অত্যন্ত পরিচিত শব্দ। প্রায়ই শোনা যায়, কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী অন্য দেশকে বলছেন, ‘তারা আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র আবার সংকটের সময় বলছেন, বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে আমরা তাদের সহযোগিতা কামনা করছি।’
‘বন্ধু রাষ্ট্র’ বলতে আসলে কী বোঝায়? এটি কি কোনো আইনি মর্যাদা, না কি কেবল কূটনৈতিক ভাষা? রাষ্ট্র কীভাবে আরেকটি রাষ্ট্রের বন্ধু হয়? এসব প্রশ্নের উত্তর বুঝতে হলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কিছু মৌলিক বিষয় জানা দরকার।
আন্তর্জাতিক আইনে ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ নামে কোনো আনুষ্ঠানিক বা আইনি পরিকাঠামো নেই। পৃথিবীর কোথাও এমন কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি নেই, যেখানে লেখা আছে—কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।
শব্দটির উৎপত্তি তাহলে কোথা থেকে? এটি মূলত কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ভাষার একটি প্রচলিত পরিভাষা। যখন দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের ইতিবাচক সম্পর্ক, নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়, তখন একে অপরের ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ বলে উল্লেখ করা হয়। বন্ধু রাষ্ট্রের সম্পর্ক প্রতিযোগিতার চেয়ে সহযোগিতার ওপর বেশি দাঁড়িয়ে থাকে।
সাধারণত বন্ধুত্ব মানে আবেগ, বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক। কিন্তু রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের অর্থ কিছুটা ভিন্ন। এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো পারস্পরিক স্বার্থ, আস্থা, ধারাবাহিক সহযোগিতা এবং নির্ভরযোগ্যতা। একটি দেশকে বন্ধু রাষ্ট্র বলা মানে এই নয় যে তারা সব সময় সব বিষয়ে একই অবস্থান নেবে। এর অর্থ হলো, দুটি রাষ্ট্র এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, যেখানে মতপার্থক্য থাকলেও তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয় না, সহযোগিতার পথ খোলা থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে উভয়েই সেই সম্পর্ককে মূল্যবান মনে করে।
দুই রাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্ব এক দিনে তৈরি হয় না। এটি সাধারণত বহু বছরের যোগাযোগ, সহযোগিতা এবং অভিন্ন স্বার্থের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। অনেক সময় ঐতিহাসিক মুহূর্তও একটি বড় ভূমিকা রাখে। যেমন স্বাধীনতা সংগ্রামে সহযোগিতা, যুদ্ধের সময় সহায়তা অথবা দুর্যোগে পাশে দাঁড়ানো—এসব ঘটনা ভবিষ্যতের সম্পর্ককে গভীর করে।
এখানে অর্থনীতিও গুরুত্বপূর্ণ। দুটি দেশের মধ্যে যদি নিবিড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকে, বিনিয়োগ বাড়ে, প্রযুক্তি আদান-প্রদান হয় বা কর্মসংস্থান তৈরি হয়, তাহলে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। এ ছাড়াও সন্ত্রাসবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা, জলদস্যুতা প্রতিরোধ কিংবা সামরিক প্রশিক্ষণের মতো ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করলে আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়। শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, পর্যটন এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগও বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করে।
শুধু ভালো সম্পর্ক থাকলেই কি বন্ধু রাষ্ট্র বলা যায়? সব সময় বলা যায় না। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক দেশ একে অপরের সঙ্গে সৌজন্যমূলক সম্পর্ক বজায় রাখে। তাদের মধ্যে দূতাবাস থাকে, বাণিজ্য হয়, রাষ্ট্রীয় সফর হয়। কিন্তু সবাইকে বন্ধু রাষ্ট্র বলা হয় না।
বন্ধু রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সাধারণত দুটি রাষ্ট্র একে অপরকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে, নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ রাখে, সংকটের সময় সহযোগিতা করে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করে। এটি কেবল কূটনৈতিক সম্পর্কের চেয়ে গভীর একটি অবস্থান।
এর এক কথায় উত্তর হলো—না। এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও নানা বিষয়ে মতপার্থক্য হতে পারে। বাণিজ্য নিয়ে বিরোধ হতে পারে, সীমান্ত নিয়ে আলোচনা চলতে পারে, আন্তর্জাতিক কোনো ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থানও নেওয়া হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বহু মিত্র দেশের সম্পর্ক দেখা যায়। তারা নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ হলেও জলবায়ু, বাণিজ্য, প্রযুক্তি বা শুল্ক নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মতবিরোধে জড়িয়েছে।
বন্ধু রাষ্ট্র আর মিত্র রাষ্ট্রকে অনেকেই এক মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে এদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। মিত্র রাষ্ট্র সাধারণত এমন দেশকে বোঝায়, যারা কোনো আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা বা সামরিক চুক্তির মাধ্যমে একে অপরকে সহায়তা করার অঙ্গীকার করে। উদাহরণ হিসেবে ন্যাটো জোটকে ধরা যায়। সেখানে সদস্য দেশগুলোর ওপর আক্রমণ হলে অন্য সদস্যদের সহায়তার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
অন্য দিকে বন্ধু রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এমন আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে না। সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ঠ হোক, প্রয়োজনে তারা সাহায্য করবে কি না, সেটি নির্ভর করে তাদের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।
বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আস্থা। যখন দুটি দেশের মধ্যে আস্থা থাকে, তখন বাণিজ্য সহজ হয়, বিনিয়োগ বাড়ে, ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি কম অনুভব করেন এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী বিনিময়, গবেষণা, প্রযুক্তি সহযোগিতা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি উন্নয়ন এবং অবকাঠামো নির্মাণেও সহযোগিতা বাড়ে।
জাতিসংঘ বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার বিভিন্ন ভোটাভুটিতে অনেক সময় বন্ধু রাষ্ট্র একে অপরের অবস্থানকে সমর্থন করে।
এছাড়াও দুর্যোগের সময় মানবিক সহায়তা কিংবা জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর ক্ষেত্রেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সব বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সব সময় স্থায়ী নয়। সরকার পরিবর্তন, নতুন পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, সীমান্ত বিরোধ, ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন কিংবা আন্তর্জাতিক সংঘাত—এসব কারণে বহু পুরোনো সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হতে পারে।
আবার উল্টো ঘটনাও ঘটে। যে দেশগুলো একসময় দূরে ছিল, তারা নতুন বাস্তবতায় একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার পর থেকেই ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এই পররাষ্ট্রনীতির নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। এটি বাংলাদেশের সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অংশ হিসেবেও প্রতিফলিত হয়েছে। এই নীতির অর্থ হলো, বাংলাদেশ যতটা সম্ভব বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় এবং অপ্রয়োজনীয় সংঘাতে জড়াতে চায় না। তাই বাংলাদেশের কূটনৈতিক ভাষায় বিভিন্ন দেশকে প্রায়ই ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ বলা হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের গভীরতা সমান। কোনো দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বেশি, কারও সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বেশি, আবার কারও সঙ্গে ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বেশি।
তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ সনদ, বাংলাদেশের সংবিধান (রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ), ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোম্যাটিক রিলেশনস (১৯৬১)
.png)

চতুর্থবারের মতো ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। এবার সম্মেলনের পাশাপাশি আয়োজিত আউটরিচ সেশনগুলোও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
২ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি ঢাকা সফর করে গেছেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন। ডিজিএফআইয়ের আমন্ত্রণে আসা এই সফরে তিনি সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামসুল ইসলামের সঙ্গে।
২১ ঘণ্টা আগে
গত আট বছরে তিনবার বদলেছে বাংলাদেশের ডিজিটাল আইন। ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইন। প্রতিবারই সরকার বলেছে, নতুন আইন আগের আইনের বিতর্কিত দিকগুলো সংশোধন করবে, অযথা হয়রানির সুযোগ কমাবে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল সাইবার অপরাধ মোকাবিলায়
১১ আগস্ট ২০২৬
বরাবরের মতো এবারও এসএসসির ফলে চমক দেখিয়েছে মেয়েরা। এবার ছাত্রীদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ, আর ছাত্রদের ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ ছাত্রীরা ছাত্রদের চেয়ে প্রায় ৮ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের হিসাবেও একই চিত্র। ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে ৬৩ হাজার ৮৯৬ জনই ছাত্রী।
১০ আগস্ট ২০২৬