এক্সপ্লেইনার
মাহজাবিন নাফিসা

সারা দিন কাজের চাপে কেটে গেছে। সকালে অফিস, বিকেলে যানজট, বাসায় ফিরে সংসারের টুকিটাকি কাজ, সন্তানের পড়ালেখা… সব মিলিয়ে রাত ১১টা বেজে গেছে। শরীর বলছে, এবার একটু ঘুমানো দরকার। কিন্তু আপনি বিছানায় গিয়েও মোবাইলটা হাতে তুলে নিলেন। ভাবলেন, ‘আর মাত্র পাঁচ মিনিট।’ তারপর হয়তো একটা ভিডিও দেখলেন, অথবা কোনো সিরিজের নতুন একটা পর্ব দেখা শুরু করলেন। কখন যে ঘড়ির কাঁটা রাত দুটোর ঘর ছুঁয়ে ফেলল, তা টেরই পেলেন না।
পরদিন সকালে উঠে আবার সেই একই আফসোস—‘আজ সারা দিন খুব ঘুম পাচ্ছে। কাল থেকে আর এমন করব না।’ কিন্তু পরের রাতেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। এটা কি শুধুই মোবাইল ফোনের আসক্তি বা অলসতা? নাকি ইচ্ছে করে রাত জাগার পেছনে অন্য কোনো কারণ লুকিয়ে আছে?
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে কাজ করছে আধুনিক জীবনযাত্রার একটি আচরণগত সমস্যা। নাম ‘রিভেঞ্জ বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশন’। সহজ কথায়, সারা দিন নিজের জন্য একটুও সময় না পাওয়ার ক্ষতিপূরণ মানুষ রাতের ঘুমের সময় থেকে আদায় করে নিতে চায়। অর্থাৎ সে চাইলে ঘুমাতে পারে, ঘুমানো যে উচিত সেটাও সে জানে, তবু সে ঘুমায় না। কারণ সারা দিনের শেষে নিজের জন্য পাওয়া ওই একটুখানি ‘মি টাইম’ বা একান্ত নিজস্ব সময়টুকু সে হারাতে চায় না।
গত কয়েক বছরে এই শব্দটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এটি কেবল ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া কোনো ট্রেন্ড নয়। এটি আমাদের আধুনিক কর্মজীবন, মানসিক চাপ, ডিজিটাল জীবনযাপন আর ঘুমবিজ্ঞানের এক সম্মিলিত বাস্তবতা।
আমরা সবাই কোনো না কোনো কারণে কখনো না কখনো রাত জেগেছি। পরীক্ষার পড়া, অফিসের জরুরি কাজ, অসুস্থ কোনো স্বজনের পাশে বসে থাকা কিংবা প্রিয় দলের খেলা দেখা—এসব কারণে ঘুমাতে দেরি হতেই পারে। কিন্তু রিভেঞ্জ বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশনের বিষয়টি একেবারেই আলাদা। এখানে রাত জাগার পেছনে কোনো জরুরি কাজ থাকে না। মানুষ স্রেফ নিজের ইচ্ছেতেই ঘুমানোর সময়টা পিছিয়ে দেয়।
২০১৪ সালে নেদারল্যান্ডসের একদল গবেষক ‘বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশন’ বা ঘুমের সময় পিছিয়ে দেওয়া নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করেন। তাঁদের গবেষণায় উঠে আসে, অনেক মানুষ বাইরের কোনো বাধা বা কারণ ছাড়াই নিজেদের সিদ্ধান্তে ঘুমাতে দেরি করেন। পরবর্তী সময়ে কোভিড-১৯ মহামারির সময় রিভেঞ্জ বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশন শব্দটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পায়। কারণ তখন বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ নিজেদের অভ্যাসের সাথে এর মিল খুঁজে পেয়েছিলেন।

এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বীকৃত কোনো রোগ বা মানসিক সমস্যা নয়। এটি মানুষের এক ধরনের আচরণগত প্রবণতা, যা মূলত ঘুম, মানসিক চাপ এবং নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা নিয়ে গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়।
‘রিভেঞ্জ বেড টাইম’ শুনলে মনে হতে পারে, মানুষ বোধ হয় নিজের ঘুমের ওপরই রাগ ঝাড়ছে! কিন্তু আসল সত্যিটা একেবারেই উল্টো। মূলত এই প্রতিশোধটা নেওয়া হয় সারা দিনের একটানা ব্যস্ততার ওপর।
কীভাবে? তাহলে নগরমানুষের জীবনযাপনের দিকে একটু চোখ বুলানো যাক। একজন চাকরিজীবী হয়তো সকাল আটটায় বাসা থেকে বের হয়ে সন্ধ্যায় ফিরলেন। এরপর বাজার করা, রান্নাবান্না, পরিবারকে সময় দেওয়া এবং অন্যান্য দরকারি কাজ মেটাতে মেটাতে রাত সাড়ে দশটা বেজে যায়। কারণ আমাদের ‘অফিস আওয়ার’ বা কাজের সময় ৮ ঘণ্টা হলেও, অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি ও ঢাকার রাস্তার চরম যানজট মিলিয়ে শুধু কাজের পেছনেই দিনের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় পেরিয়ে যায়।
আবার একজন শিক্ষার্থীর ‘ডেইলি লাইফ’ দেখুন। সারা দিন ক্লাস, কোচিং, অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করা—এর পাশাপাশি কারও কারও হয়তো পার্ট-টাইম কাজও থাকে। নিদেনপক্ষে টিউশনি তো থাকেই। এত কিছুর পর নিজের জন্য তার আর সময় কোথায়?
এই মানুষগুলো যখন দিন শেষে রাতে সামান্য একটু অবসর পান, তখন তাঁদের মনে হয়, ‘আজ সারা দিন তো শুধু অন্যের দরকারেই কাজ করলাম। অন্তত একটা ঘণ্টা শুধু আমার নিজের জন্য বরাদ্দ থাক।’ আর এখান থেকেই শুরু বেডটাইম রিভেঞ্জ। নিজের ব্যস্ততার ওপর প্রতিশোধ।
সাইকোলজি টুডের গবেষণাপ্রবন্ধে গবেষক জন ক্লাইন লিখেছেন, দিনের ব্যস্ত সূচির কারণে অবসর না পাওয়া মানুষ নিজের আনন্দের জন্য ঘুম বিসর্জন দেয়। এই টার্মকেই বলা হচ্ছে রিভেঞ্জ বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশন।
এই সময়ে মানুষ কী করে? হয়তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোরাঘুরি করে, গান শোনে, সিনেমা দেখে বা কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই একের পর এক ভিডিও স্ক্রল করতে থাকে। টাইম ম্যাগাজিনের সাংবাদিক জেমি ফ্রিডল্যান্ডার সেরানো তাঁর এক লেখায় বলেছেন, রাত জাগার এই আচরণের পেছনে কোনো অলসতা কাজ করে না, বরং স্বাধীন বা একান্ত নিজস্ব সময়ের অভাবই এর মূল চালিকাশক্তি।
‘রিভেঞ্জ বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশন’ শব্দটির জনপ্রিয়তা কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো থেকে শুরু হয়নি, এর শুরুটা হয়েছিল চীনে। কয়েক বছর আগে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ‘বাওফুশিং আওয়ে’ নামের একটি শব্দ বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। বাংলায় অনুবাদ করলে এর অর্থ দাঁড়ায়—‘প্রতিশোধমূলক রাত জাগা’।
চীনের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, তীব্র প্রতিযোগিতামূলক কাজের পরিবেশ এবং ব্যস্ত শহুরে জীবনের কারণে সেখানকার অনেক তরুণ অনলাইনে লিখতে শুরু করেন যে, সারা দিন তাদের নিজেদের জন্য একটুও সময় থাকে না। তাই তাঁরা গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন, যদিও তাঁরা খুব ভালো করেই জানেন যে এর ফলে পরদিন সকালে তাদের শরীর ক্লান্ত থাকবে।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় এই ধারণাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক লেখালেখি শুরু হয়। তখন দেখা যায়, শুধু চীনই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষও ঠিক একই রকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কাজের প্রবল চাপ, ঘরে বসে অফিস করা (ওয়ার্ক ফ্রম হোম), দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে কাটানো এবং ব্যক্তিগত সময়ের চরম অভাব—সব মিলিয়ে এই শব্দটি খুব দ্রুত সারা বিশ্বে পরিচিতি পায়।

‘আর পাঁচ মিনিট’ কেন এক ঘণ্টা হয়ে যায়
অনেকেই হয়তো ভাবেন, মানুষ রাতে জেগে থাকে স্রেফ ওয়েব সিরিজ দেখতে ভালোবাসে বলে, অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেশায় আসক্ত হয়ে।
ধারণাটি আংশিক সত্য। গবেষক লিনা মুলার তাঁর আ কমপ্রোমাইজ ফর স্যাটিসফায়িং ফ্রাস্ট্রেটেড নিডস গবেষণায় বলেছেন, বেশির ভাগ মানুষ জেগে থাকে নিজেদের জন্য একটু সময় বের করতে। ভিডিও দেখা তাদের মূল উপলক্ষ নয়। মনোবিজ্ঞানের সেলফ ডিটারমিনেশন থিওরিতে মানুষের এই মানসিক চাহিদাকে বলা হয়েছে ‘অটোনমি’ বা নিজের জীবনের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ আছে, এমনটা অনুভব করা।
একজন মানুষ যখন সারা দিন ধরে শুধু অন্যের দেওয়া দায়িত্বই পালন করে যান, তখন দিন শেষে তাঁর মনে হতেই পারে যে, নিজের জন্য তিনি কিছুই করেননি। তখন রাতের ওই কয়েক ঘণ্টা সময় হয়ে ওঠে তাঁর কাছে সেই কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার প্রতীক। এ ধরনের মানুষ সম্পর্কে টেকিং ব্যাক আওয়ার লাইফ অ্যাট নাইট গবেষণায় বলা হয়েছে, যাদের মনে হয় তাদের নিজের সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই, তারা বেশি বেশি রিভেঞ্জ বেডটাইম করেন।
এ জন্য কি দায়ী শুধুই কাজের চাপ? না, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের মস্তিষ্কের কাজ করার ধরনও। এ ব্যাপারে মার্কিন মনোবিজ্ঞানী রয় এফ বাউমিস্টার তাঁর ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত ইগো ডিপলেশন গবেষণায় যা বলেছেন, তার মর্মার্থ হচ্ছে, কোন কাজটি আগে করব, কাকে মেসেজের রিপ্লাই দেব, বা কোন সমস্যার সমাধান কীভাবে করব—এসব নানা সিদ্ধান্ত নিতে দিন পার হয়ে যায়। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিক শক্তি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ফলে রাতে নিজের ওপর আত্মনিয়ন্ত্রণও বেশ দুর্বল হয়ে পড়ে।
আর ঠিক সেই দুর্বল মুহূর্তেই আমাদের হাতে থাকে স্মার্টফোন। একটি ছোট মজার ভিডিও বা প্রিয় সিরিজের পরবর্তী পর্ব—এসব কিছু আমাদের মস্তিষ্ককে তাৎক্ষণিক আনন্দ দেয়। এই ক্ষণস্থায়ী আনন্দের লোভে পড়েই আমরা বারবার ভাবতে থাকি, ‘যাই, আরেকটু স্ক্রল করি’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর ভিডিও দেখার প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যালগরিদম ঠিক সেভাবেই সাজানো, যেখানে ‘শেষ’ বলতে কিছু নেই। একটি ভিডিও শেষ হতে না হতেই নিজে থেকে আরেকটি ভিডিও চালু হয়ে যায়। এর ফলে পাঁচ মিনিট সময় যে কখন চল্লিশ মিনিট বা এক ঘণ্টায় গড়ায়, তা আমরা টেরই পাই না।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বি জে ফগ এবং পরে গবেষক নির ইয়াল বলেছেন, মানুষ যেহেতু জানে না, পরের ভিডিওটি কতটা মজার হবে, তাই সে আরও বেশি স্ক্রল করে। এটিকে বলা হয় ‘ভেরিয়েবল রিওয়ার্ড মেকানিজম’। এটি ক্যাসিনোর স্লট মেশিনের মতোই কাজ করে।
রিভেঞ্জ বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশন যে কারও ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে। তবে কিছু নির্দিষ্ট মানুষের মধ্যে এই প্রবণতা একটু বেশিই চোখে পড়ে। যেমন—দীর্ঘ সময় অফিসে কাটানো চাকরিজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, নতুন মা-বাবা হওয়া দম্পতি কিংবা যাঁরা সারা দিন ধরে শুধু অন্যের প্রয়োজন মেটাতেই ব্যস্ত থাকেন, তাঁদের মধ্যে এই সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, এই তালিকায় অলস বা কুঁড়ে মানুষের চেয়ে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ত মানুষের সংখ্যাই বেশি। কারণ দিন শেষে কেবল তাঁদের মনেই এই আক্ষেপটা সবচেয়ে বেশি জাগে যে, ‘আজ সারা দিন নিজের জন্য একটুও কিছু করতে পারলাম না।’

অনেকেই হয়তো ভাবেন, এক-দুই ঘণ্টা ঘুম কম হলে তেমন কোনো বড় ক্ষতি নেই। কিন্তু এভাবেই যখন সমস্যাটি প্রতিদিনের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়, তখন বিষয়টি আর মোটেও ছোট থাকে না।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) বলছে, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব মানুষের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর পাশাপাশি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, মুটিয়ে যাওয়া এবং চরম বিষণ্নতার ঝুঁকিও বহুগুণে বেড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘স্লিপ ফাউন্ডেশন’ বলছে, বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই প্রতিরাতে অন্তত সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। কিন্তু নিয়মিতভাবে ঘুম কম হতে থাকলে শরীরে ‘স্লিপ ডেট’ বা ঘুমের বিশাল ঘাটতি জমতে শুরু করে, যা সপ্তাহের ছুটির দিনে এক দিন বেশি ঘুমিয়ে কোনোভাবেই পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
এর সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হলো, রাতে ঘুম না হওয়ার কারণে পরদিন শরীর ক্লান্ত থাকে, ফলে যেকোনো কাজ শেষ করতে স্বাভাবিকের চেয়ে আরও বেশি সময় লাগে। এতে করে ব্যক্তিগত সময় আরও কমে আসে। আর সেই হারানো সময়ের ক্ষতিটুকু পুষিয়ে নিতে মানুষ পরের রাতে আবারও না ঘুমিয়ে জেগে থাকে। সহজ কথায়, এটি একটি ভয়ংকর দুষ্টচক্র, যেখান থেকে সহজে বের হয়ে আসা মোটেই সম্ভব নয়।
রাতে ঘুমানোর সময় ফোন বন্ধ রাখা অবশ্যই একটি দারুণ উপকারী কাজ। কিন্তু এটিই এই সমস্যার পুরোপুরি সমাধান নয়। কারণ যিনি রাত জাগছেন, তিনি খুব ভালো করেই জানেন যে এখন তাঁর ঘুমানো উচিত। তিনি ঘুমের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বও বোঝেন। তবু তিনি জেগেই থাকেন।
মার্কিন গবেষক ফ্লোর কোরসে পরামর্শ দিয়েছেন, দিনের বেলাতেই যদি একান্ত নিজের জন্য কিছুটা সময় আলাদা করে রাখা যায়—হোক সেটা মাত্র আধা ঘণ্টা হাঁটা, বই পড়া, পছন্দের গান শোনা বা শখের কোনো কাজ করা—তাহলে রাতে সেই হারানো সময় ‘উদ্ধার’ করার তাগিদ অনেকটাই কমে আসে।
তা ছাড়া ঘুমানোর আগে একটি সুনির্দিষ্ট রুটিন বা অভ্যাস তৈরি করাও বেশ কাজে দিতে পারে। যেমন—রাতে একটা নির্দিষ্ট সময়ে ঘরের আলো কমিয়ে দেওয়া, মোবাইল ঘাঁটার বদলে বই পড়া, অথবা ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে সব ধরনের স্ক্রিন (টিভি, মোবাইল, ল্যাপটপ) থেকে দূরে থাকা। এই কাজগুলো আমাদের মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে বিশ্রামের সংকেত পাঠায়।
রিভেঞ্জ বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশন নিয়ে যত বেশি গবেষণা হচ্ছে, ততই একটি বিষয় খুব পরিষ্কার হয়ে উঠছে—এটি শুধু রাত জাগার কোনো সাধারণ সমস্যা নয়। অত্যন্ত ক্লান্তিকর ও চরম ব্যস্ত এই জীবনে মানুষ আসলে ঘুমকে মোটেও অপছন্দ করে না, সে শুধু একান্তই নিজের জন্য একটুখানি সময় খুঁজে ফেরে।

সারা দিন কাজের চাপে কেটে গেছে। সকালে অফিস, বিকেলে যানজট, বাসায় ফিরে সংসারের টুকিটাকি কাজ, সন্তানের পড়ালেখা… সব মিলিয়ে রাত ১১টা বেজে গেছে। শরীর বলছে, এবার একটু ঘুমানো দরকার। কিন্তু আপনি বিছানায় গিয়েও মোবাইলটা হাতে তুলে নিলেন। ভাবলেন, ‘আর মাত্র পাঁচ মিনিট।’ তারপর হয়তো একটা ভিডিও দেখলেন, অথবা কোনো সিরিজের নতুন একটা পর্ব দেখা শুরু করলেন। কখন যে ঘড়ির কাঁটা রাত দুটোর ঘর ছুঁয়ে ফেলল, তা টেরই পেলেন না।
পরদিন সকালে উঠে আবার সেই একই আফসোস—‘আজ সারা দিন খুব ঘুম পাচ্ছে। কাল থেকে আর এমন করব না।’ কিন্তু পরের রাতেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। এটা কি শুধুই মোবাইল ফোনের আসক্তি বা অলসতা? নাকি ইচ্ছে করে রাত জাগার পেছনে অন্য কোনো কারণ লুকিয়ে আছে?
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে কাজ করছে আধুনিক জীবনযাত্রার একটি আচরণগত সমস্যা। নাম ‘রিভেঞ্জ বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশন’। সহজ কথায়, সারা দিন নিজের জন্য একটুও সময় না পাওয়ার ক্ষতিপূরণ মানুষ রাতের ঘুমের সময় থেকে আদায় করে নিতে চায়। অর্থাৎ সে চাইলে ঘুমাতে পারে, ঘুমানো যে উচিত সেটাও সে জানে, তবু সে ঘুমায় না। কারণ সারা দিনের শেষে নিজের জন্য পাওয়া ওই একটুখানি ‘মি টাইম’ বা একান্ত নিজস্ব সময়টুকু সে হারাতে চায় না।
গত কয়েক বছরে এই শব্দটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এটি কেবল ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া কোনো ট্রেন্ড নয়। এটি আমাদের আধুনিক কর্মজীবন, মানসিক চাপ, ডিজিটাল জীবনযাপন আর ঘুমবিজ্ঞানের এক সম্মিলিত বাস্তবতা।
আমরা সবাই কোনো না কোনো কারণে কখনো না কখনো রাত জেগেছি। পরীক্ষার পড়া, অফিসের জরুরি কাজ, অসুস্থ কোনো স্বজনের পাশে বসে থাকা কিংবা প্রিয় দলের খেলা দেখা—এসব কারণে ঘুমাতে দেরি হতেই পারে। কিন্তু রিভেঞ্জ বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশনের বিষয়টি একেবারেই আলাদা। এখানে রাত জাগার পেছনে কোনো জরুরি কাজ থাকে না। মানুষ স্রেফ নিজের ইচ্ছেতেই ঘুমানোর সময়টা পিছিয়ে দেয়।
২০১৪ সালে নেদারল্যান্ডসের একদল গবেষক ‘বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশন’ বা ঘুমের সময় পিছিয়ে দেওয়া নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করেন। তাঁদের গবেষণায় উঠে আসে, অনেক মানুষ বাইরের কোনো বাধা বা কারণ ছাড়াই নিজেদের সিদ্ধান্তে ঘুমাতে দেরি করেন। পরবর্তী সময়ে কোভিড-১৯ মহামারির সময় রিভেঞ্জ বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশন শব্দটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পায়। কারণ তখন বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ নিজেদের অভ্যাসের সাথে এর মিল খুঁজে পেয়েছিলেন।

এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বীকৃত কোনো রোগ বা মানসিক সমস্যা নয়। এটি মানুষের এক ধরনের আচরণগত প্রবণতা, যা মূলত ঘুম, মানসিক চাপ এবং নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা নিয়ে গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়।
‘রিভেঞ্জ বেড টাইম’ শুনলে মনে হতে পারে, মানুষ বোধ হয় নিজের ঘুমের ওপরই রাগ ঝাড়ছে! কিন্তু আসল সত্যিটা একেবারেই উল্টো। মূলত এই প্রতিশোধটা নেওয়া হয় সারা দিনের একটানা ব্যস্ততার ওপর।
কীভাবে? তাহলে নগরমানুষের জীবনযাপনের দিকে একটু চোখ বুলানো যাক। একজন চাকরিজীবী হয়তো সকাল আটটায় বাসা থেকে বের হয়ে সন্ধ্যায় ফিরলেন। এরপর বাজার করা, রান্নাবান্না, পরিবারকে সময় দেওয়া এবং অন্যান্য দরকারি কাজ মেটাতে মেটাতে রাত সাড়ে দশটা বেজে যায়। কারণ আমাদের ‘অফিস আওয়ার’ বা কাজের সময় ৮ ঘণ্টা হলেও, অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি ও ঢাকার রাস্তার চরম যানজট মিলিয়ে শুধু কাজের পেছনেই দিনের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় পেরিয়ে যায়।
আবার একজন শিক্ষার্থীর ‘ডেইলি লাইফ’ দেখুন। সারা দিন ক্লাস, কোচিং, অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করা—এর পাশাপাশি কারও কারও হয়তো পার্ট-টাইম কাজও থাকে। নিদেনপক্ষে টিউশনি তো থাকেই। এত কিছুর পর নিজের জন্য তার আর সময় কোথায়?
এই মানুষগুলো যখন দিন শেষে রাতে সামান্য একটু অবসর পান, তখন তাঁদের মনে হয়, ‘আজ সারা দিন তো শুধু অন্যের দরকারেই কাজ করলাম। অন্তত একটা ঘণ্টা শুধু আমার নিজের জন্য বরাদ্দ থাক।’ আর এখান থেকেই শুরু বেডটাইম রিভেঞ্জ। নিজের ব্যস্ততার ওপর প্রতিশোধ।
সাইকোলজি টুডের গবেষণাপ্রবন্ধে গবেষক জন ক্লাইন লিখেছেন, দিনের ব্যস্ত সূচির কারণে অবসর না পাওয়া মানুষ নিজের আনন্দের জন্য ঘুম বিসর্জন দেয়। এই টার্মকেই বলা হচ্ছে রিভেঞ্জ বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশন।
এই সময়ে মানুষ কী করে? হয়তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোরাঘুরি করে, গান শোনে, সিনেমা দেখে বা কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই একের পর এক ভিডিও স্ক্রল করতে থাকে। টাইম ম্যাগাজিনের সাংবাদিক জেমি ফ্রিডল্যান্ডার সেরানো তাঁর এক লেখায় বলেছেন, রাত জাগার এই আচরণের পেছনে কোনো অলসতা কাজ করে না, বরং স্বাধীন বা একান্ত নিজস্ব সময়ের অভাবই এর মূল চালিকাশক্তি।
‘রিভেঞ্জ বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশন’ শব্দটির জনপ্রিয়তা কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো থেকে শুরু হয়নি, এর শুরুটা হয়েছিল চীনে। কয়েক বছর আগে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ‘বাওফুশিং আওয়ে’ নামের একটি শব্দ বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। বাংলায় অনুবাদ করলে এর অর্থ দাঁড়ায়—‘প্রতিশোধমূলক রাত জাগা’।
চীনের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, তীব্র প্রতিযোগিতামূলক কাজের পরিবেশ এবং ব্যস্ত শহুরে জীবনের কারণে সেখানকার অনেক তরুণ অনলাইনে লিখতে শুরু করেন যে, সারা দিন তাদের নিজেদের জন্য একটুও সময় থাকে না। তাই তাঁরা গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন, যদিও তাঁরা খুব ভালো করেই জানেন যে এর ফলে পরদিন সকালে তাদের শরীর ক্লান্ত থাকবে।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় এই ধারণাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক লেখালেখি শুরু হয়। তখন দেখা যায়, শুধু চীনই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষও ঠিক একই রকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কাজের প্রবল চাপ, ঘরে বসে অফিস করা (ওয়ার্ক ফ্রম হোম), দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে কাটানো এবং ব্যক্তিগত সময়ের চরম অভাব—সব মিলিয়ে এই শব্দটি খুব দ্রুত সারা বিশ্বে পরিচিতি পায়।

‘আর পাঁচ মিনিট’ কেন এক ঘণ্টা হয়ে যায়
অনেকেই হয়তো ভাবেন, মানুষ রাতে জেগে থাকে স্রেফ ওয়েব সিরিজ দেখতে ভালোবাসে বলে, অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেশায় আসক্ত হয়ে।
ধারণাটি আংশিক সত্য। গবেষক লিনা মুলার তাঁর আ কমপ্রোমাইজ ফর স্যাটিসফায়িং ফ্রাস্ট্রেটেড নিডস গবেষণায় বলেছেন, বেশির ভাগ মানুষ জেগে থাকে নিজেদের জন্য একটু সময় বের করতে। ভিডিও দেখা তাদের মূল উপলক্ষ নয়। মনোবিজ্ঞানের সেলফ ডিটারমিনেশন থিওরিতে মানুষের এই মানসিক চাহিদাকে বলা হয়েছে ‘অটোনমি’ বা নিজের জীবনের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ আছে, এমনটা অনুভব করা।
একজন মানুষ যখন সারা দিন ধরে শুধু অন্যের দেওয়া দায়িত্বই পালন করে যান, তখন দিন শেষে তাঁর মনে হতেই পারে যে, নিজের জন্য তিনি কিছুই করেননি। তখন রাতের ওই কয়েক ঘণ্টা সময় হয়ে ওঠে তাঁর কাছে সেই কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার প্রতীক। এ ধরনের মানুষ সম্পর্কে টেকিং ব্যাক আওয়ার লাইফ অ্যাট নাইট গবেষণায় বলা হয়েছে, যাদের মনে হয় তাদের নিজের সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই, তারা বেশি বেশি রিভেঞ্জ বেডটাইম করেন।
এ জন্য কি দায়ী শুধুই কাজের চাপ? না, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের মস্তিষ্কের কাজ করার ধরনও। এ ব্যাপারে মার্কিন মনোবিজ্ঞানী রয় এফ বাউমিস্টার তাঁর ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত ইগো ডিপলেশন গবেষণায় যা বলেছেন, তার মর্মার্থ হচ্ছে, কোন কাজটি আগে করব, কাকে মেসেজের রিপ্লাই দেব, বা কোন সমস্যার সমাধান কীভাবে করব—এসব নানা সিদ্ধান্ত নিতে দিন পার হয়ে যায়। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিক শক্তি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ফলে রাতে নিজের ওপর আত্মনিয়ন্ত্রণও বেশ দুর্বল হয়ে পড়ে।
আর ঠিক সেই দুর্বল মুহূর্তেই আমাদের হাতে থাকে স্মার্টফোন। একটি ছোট মজার ভিডিও বা প্রিয় সিরিজের পরবর্তী পর্ব—এসব কিছু আমাদের মস্তিষ্ককে তাৎক্ষণিক আনন্দ দেয়। এই ক্ষণস্থায়ী আনন্দের লোভে পড়েই আমরা বারবার ভাবতে থাকি, ‘যাই, আরেকটু স্ক্রল করি’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর ভিডিও দেখার প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যালগরিদম ঠিক সেভাবেই সাজানো, যেখানে ‘শেষ’ বলতে কিছু নেই। একটি ভিডিও শেষ হতে না হতেই নিজে থেকে আরেকটি ভিডিও চালু হয়ে যায়। এর ফলে পাঁচ মিনিট সময় যে কখন চল্লিশ মিনিট বা এক ঘণ্টায় গড়ায়, তা আমরা টেরই পাই না।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বি জে ফগ এবং পরে গবেষক নির ইয়াল বলেছেন, মানুষ যেহেতু জানে না, পরের ভিডিওটি কতটা মজার হবে, তাই সে আরও বেশি স্ক্রল করে। এটিকে বলা হয় ‘ভেরিয়েবল রিওয়ার্ড মেকানিজম’। এটি ক্যাসিনোর স্লট মেশিনের মতোই কাজ করে।
রিভেঞ্জ বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশন যে কারও ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে। তবে কিছু নির্দিষ্ট মানুষের মধ্যে এই প্রবণতা একটু বেশিই চোখে পড়ে। যেমন—দীর্ঘ সময় অফিসে কাটানো চাকরিজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, নতুন মা-বাবা হওয়া দম্পতি কিংবা যাঁরা সারা দিন ধরে শুধু অন্যের প্রয়োজন মেটাতেই ব্যস্ত থাকেন, তাঁদের মধ্যে এই সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, এই তালিকায় অলস বা কুঁড়ে মানুষের চেয়ে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ত মানুষের সংখ্যাই বেশি। কারণ দিন শেষে কেবল তাঁদের মনেই এই আক্ষেপটা সবচেয়ে বেশি জাগে যে, ‘আজ সারা দিন নিজের জন্য একটুও কিছু করতে পারলাম না।’

অনেকেই হয়তো ভাবেন, এক-দুই ঘণ্টা ঘুম কম হলে তেমন কোনো বড় ক্ষতি নেই। কিন্তু এভাবেই যখন সমস্যাটি প্রতিদিনের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়, তখন বিষয়টি আর মোটেও ছোট থাকে না।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) বলছে, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব মানুষের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর পাশাপাশি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, মুটিয়ে যাওয়া এবং চরম বিষণ্নতার ঝুঁকিও বহুগুণে বেড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘স্লিপ ফাউন্ডেশন’ বলছে, বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই প্রতিরাতে অন্তত সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। কিন্তু নিয়মিতভাবে ঘুম কম হতে থাকলে শরীরে ‘স্লিপ ডেট’ বা ঘুমের বিশাল ঘাটতি জমতে শুরু করে, যা সপ্তাহের ছুটির দিনে এক দিন বেশি ঘুমিয়ে কোনোভাবেই পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
এর সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হলো, রাতে ঘুম না হওয়ার কারণে পরদিন শরীর ক্লান্ত থাকে, ফলে যেকোনো কাজ শেষ করতে স্বাভাবিকের চেয়ে আরও বেশি সময় লাগে। এতে করে ব্যক্তিগত সময় আরও কমে আসে। আর সেই হারানো সময়ের ক্ষতিটুকু পুষিয়ে নিতে মানুষ পরের রাতে আবারও না ঘুমিয়ে জেগে থাকে। সহজ কথায়, এটি একটি ভয়ংকর দুষ্টচক্র, যেখান থেকে সহজে বের হয়ে আসা মোটেই সম্ভব নয়।
রাতে ঘুমানোর সময় ফোন বন্ধ রাখা অবশ্যই একটি দারুণ উপকারী কাজ। কিন্তু এটিই এই সমস্যার পুরোপুরি সমাধান নয়। কারণ যিনি রাত জাগছেন, তিনি খুব ভালো করেই জানেন যে এখন তাঁর ঘুমানো উচিত। তিনি ঘুমের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বও বোঝেন। তবু তিনি জেগেই থাকেন।
মার্কিন গবেষক ফ্লোর কোরসে পরামর্শ দিয়েছেন, দিনের বেলাতেই যদি একান্ত নিজের জন্য কিছুটা সময় আলাদা করে রাখা যায়—হোক সেটা মাত্র আধা ঘণ্টা হাঁটা, বই পড়া, পছন্দের গান শোনা বা শখের কোনো কাজ করা—তাহলে রাতে সেই হারানো সময় ‘উদ্ধার’ করার তাগিদ অনেকটাই কমে আসে।
তা ছাড়া ঘুমানোর আগে একটি সুনির্দিষ্ট রুটিন বা অভ্যাস তৈরি করাও বেশ কাজে দিতে পারে। যেমন—রাতে একটা নির্দিষ্ট সময়ে ঘরের আলো কমিয়ে দেওয়া, মোবাইল ঘাঁটার বদলে বই পড়া, অথবা ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে সব ধরনের স্ক্রিন (টিভি, মোবাইল, ল্যাপটপ) থেকে দূরে থাকা। এই কাজগুলো আমাদের মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে বিশ্রামের সংকেত পাঠায়।
রিভেঞ্জ বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশন নিয়ে যত বেশি গবেষণা হচ্ছে, ততই একটি বিষয় খুব পরিষ্কার হয়ে উঠছে—এটি শুধু রাত জাগার কোনো সাধারণ সমস্যা নয়। অত্যন্ত ক্লান্তিকর ও চরম ব্যস্ত এই জীবনে মানুষ আসলে ঘুমকে মোটেও অপছন্দ করে না, সে শুধু একান্তই নিজের জন্য একটুখানি সময় খুঁজে ফেরে।
.png)

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর। ফলে ২০২৭ সালের জন্য নতুন মহাসচিব বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
৫ ঘণ্টা আগে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সকাল থেকেই দেখা যাচ্ছে অনেকেই লিখছেন, ‘হ্যাপি ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডশিপ ডে।’ কিন্তু আর মাত্র কয়েক দিন পরই, আগস্টের প্রথম রোববার আবারও ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম আর হোয়াটসঅ্যাপ ভরে যাবে একই শুভেচ্ছাবার্তায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—বন্ধু দিবস কি বছরে দুবার আসে?
৭ ঘণ্টা আগে
সকাল সাড়ে আটটা। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের সোয়েটো শহরের এক ব্যস্ত সড়কের পাশে ছোট্ট একটি কনভিনিয়েন্স স্টোর। ক্রেতাদের কেউ দুধ কিনছেন, কেউ রুটি, কেউ মোবাইল রিচার্জ, কেউ আবার শিশুদের জন্য বিস্কুট।
২৯ জুলাই ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল মঙ্গলবা (২৮ জুলাই) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে টেলিফোন করেন। তার আগে তিনি জ্বালানি সহযোগিতা চেয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠান। পরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের চলমান গ্যাসসংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাওয়া হয
২৯ জুলাই ২০২৬