আব্দুর রহমান সার্জিল

বিশ্বব্যাংক তাদের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক শ্রেণিবিন্যাসে বড় পরিবর্তন এনেছে। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া এই পুনর্বিন্যাসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল থেকে সরিয়ে ‘মিডল ইস্ট, নর্থ আফ্রিকা, আফগানিস্তান অ্যান্ড পাকিস্তান (মেনাপ)’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এটি কোনো রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তন নয়। পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান বদলায়নি। দক্ষিণ এশিয়ার সদস্যপদও শেষ হয়ে যায়নি। তবে বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন কার্যক্রম, গবেষণা, পরিসংখ্যান, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এই পরিবর্তনের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
কী পরিবর্তন করেছে বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংক তাদের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে দেশগুলোকে বিভিন্ন আঞ্চলিক ইউনিটে ভাগ করে। এতদিন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ—সবই দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে সরিয়ে মিডল ইস্ট, নর্থ আফ্রিকা, আফগানিস্তান অ্যান্ড পাকিস্তান (মেনাপ) অঞ্চলে নেওয়া হয়েছে।
ফলে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে এখন রয়ে গেছে ছয়টি দেশ—বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ।
বিশ্বব্যাংক বলছে, এটি তাদের উন্নয়ন কর্মসূচি, গবেষণা ও আঞ্চলিক সমন্বয় আরও কার্যকর করার জন্য করা একটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস।
কেন এই পরিবর্তন?
বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে একাধিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক কারণ রয়েছে।
প্রথমত, পাকিস্তানের অর্থনীতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বেশি সংযুক্ত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাকিস্তান ৩৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে। এর অর্ধেকেরও বেশি এসেছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। শুধু সৌদি আরব থেকেই এক মাসে এসেছে ৭৩৯ মিলিয়ন ডলার। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৬৯৪ মিলিয়ন ডলার।
দ্বিতীয়ত, আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর দেশটির উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা, শরণার্থী সংকট ও নিরাপত্তা ইস্যুগুলো দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত হয়ে উঠেছে।
তৃতীয়ত, বিশ্বব্যাংক এখন অঞ্চলভিত্তিক প্রকল্পগুলোকে বাস্তব অর্থনৈতিক সংযোগ, অভিবাসন, শ্রমবাজার, জ্বালানি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে চাইছে।
পরিসংখ্যানে কী পরিবর্তন আসবে?
এই পুনর্বিন্যাসের ফলে মেনাপ অঞ্চলের চিত্রই বদলে গেছে।
পাকিস্তানের ২৫ কোটির বেশি জনসংখ্যা যুক্ত হওয়ায় মেনাপ অঞ্চলের মোট জনসংখ্যা ৫১৯ মিলিয়ন থেকে বেড়ে প্রায় ৮১৩ মিলিয়নে পৌঁছেছে।
একই সঙ্গে অঞ্চলটির মাথাপিছু জিডিপি ৩০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। কারণ তুলনামূলক নিম্ন আয়ের দুটি দেশ এই অঞ্চলে যুক্ত হয়েছে। বদলেছে শ্রমবাজারের চিত্রও। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তরুণ জনগোষ্ঠী যুক্ত হওয়ায় মেনাপ অঞ্চলে যুব কর্মসংস্থানের হার ১৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৭ শতাংশ হয়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধিও পরিসংখ্যানে কিছুটা বেড়ে যাবে। কারণ তুলনামূলক ধীরগতির অর্থনীতির পাকিস্তান ও আফগানিস্তান আর এই অঞ্চলের গড় হিসাবের অংশ থাকবে না।
দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এর অর্থ কী
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক পরিচয়ে। এখন দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ভারত আরও বেশি প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের উন্নয়ন সূচকও আগের তুলনায় বেশি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়, দারিদ্র্য ও সামাজিক উন্নয়নের গড় সূচকগুলো আগের তুলনায় আরও ইতিবাচক দেখা যেতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য কী অর্থ বহন করে?
বাংলাদেশের জন্য এই পরিবর্তনের কয়েকটি ইতিবাচক দিক রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি, জলবায়ু অভিযোজন ও সামাজিক উন্নয়নের চিত্র আরও স্পষ্টভাবে উঠে আসতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রকল্পে বাংলাদেশের গুরুত্বও কিছুটা বাড়তে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশি ঋণ বা অনুদান পাবে। কারণ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এখনো দেশভিত্তিক প্রয়োজন, প্রকল্পের মান ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।
পাকিস্তানের জন্য লাভ নাকি ক্ষতি?
পাকিস্তানের জন্য এটি প্রতীকী এবং বাস্তব—দুই ধরনের গুরুত্ব বহন করে।
একদিকে দেশটি এখন মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে একই উন্নয়ন কাঠামোর অংশ হবে। পানি ব্যবস্থাপনা, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি, জলবায়ু অভিযোজন এবং অভিবাসন নিয়ে নতুন ধরনের আঞ্চলিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে পাকিস্তানে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের রূপরেখাও রয়েছে।
তবে আছে ঝুঁকিও। ২০২৪ সালে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ছিল প্রায় ১৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যেখানে মেনা অঞ্চলে ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এই ধারা অব্যাহত থাকলে পাকিস্তান তুলনামূলক কম অর্থায়নের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে কী প্রভাব
আফগানিস্তানের জন্য এই পরিবর্তনের গুরুত্ব তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে দেশটি মানবিক সহায়তা, শরণার্থী সংকট, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এসব বিষয়ে সমন্বয় সহজ হতে পারে।
তবে তালেবান সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা আগের মতোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
আঞ্চলিক সহযোগিতায় কী প্রভাব পড়বে
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দুর্বল দিক হলো সীমিত আঞ্চলিক বাণিজ্য। সার্ক মূলত দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতির কারণে বহু আঞ্চলিক উদ্যোগ স্থবির হয়ে আছে।
এই বাস্তবতায় বিশ্বব্যাংকের নতুন শ্রেণিবিন্যাসকে অনেক বিশ্লেষক দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তবে এটি সার্কের সদস্যপদ বা দক্ষিণ এশিয়ার ভৌগোলিক সীমানা পরিবর্তন করছে না।

বিশ্বব্যাংক তাদের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক শ্রেণিবিন্যাসে বড় পরিবর্তন এনেছে। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া এই পুনর্বিন্যাসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল থেকে সরিয়ে ‘মিডল ইস্ট, নর্থ আফ্রিকা, আফগানিস্তান অ্যান্ড পাকিস্তান (মেনাপ)’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এটি কোনো রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তন নয়। পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান বদলায়নি। দক্ষিণ এশিয়ার সদস্যপদও শেষ হয়ে যায়নি। তবে বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন কার্যক্রম, গবেষণা, পরিসংখ্যান, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এই পরিবর্তনের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
কী পরিবর্তন করেছে বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংক তাদের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে দেশগুলোকে বিভিন্ন আঞ্চলিক ইউনিটে ভাগ করে। এতদিন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ—সবই দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে সরিয়ে মিডল ইস্ট, নর্থ আফ্রিকা, আফগানিস্তান অ্যান্ড পাকিস্তান (মেনাপ) অঞ্চলে নেওয়া হয়েছে।
ফলে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে এখন রয়ে গেছে ছয়টি দেশ—বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ।
বিশ্বব্যাংক বলছে, এটি তাদের উন্নয়ন কর্মসূচি, গবেষণা ও আঞ্চলিক সমন্বয় আরও কার্যকর করার জন্য করা একটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস।
কেন এই পরিবর্তন?
বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে একাধিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক কারণ রয়েছে।
প্রথমত, পাকিস্তানের অর্থনীতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বেশি সংযুক্ত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাকিস্তান ৩৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে। এর অর্ধেকেরও বেশি এসেছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। শুধু সৌদি আরব থেকেই এক মাসে এসেছে ৭৩৯ মিলিয়ন ডলার। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৬৯৪ মিলিয়ন ডলার।
দ্বিতীয়ত, আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর দেশটির উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা, শরণার্থী সংকট ও নিরাপত্তা ইস্যুগুলো দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত হয়ে উঠেছে।
তৃতীয়ত, বিশ্বব্যাংক এখন অঞ্চলভিত্তিক প্রকল্পগুলোকে বাস্তব অর্থনৈতিক সংযোগ, অভিবাসন, শ্রমবাজার, জ্বালানি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে চাইছে।
পরিসংখ্যানে কী পরিবর্তন আসবে?
এই পুনর্বিন্যাসের ফলে মেনাপ অঞ্চলের চিত্রই বদলে গেছে।
পাকিস্তানের ২৫ কোটির বেশি জনসংখ্যা যুক্ত হওয়ায় মেনাপ অঞ্চলের মোট জনসংখ্যা ৫১৯ মিলিয়ন থেকে বেড়ে প্রায় ৮১৩ মিলিয়নে পৌঁছেছে।
একই সঙ্গে অঞ্চলটির মাথাপিছু জিডিপি ৩০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। কারণ তুলনামূলক নিম্ন আয়ের দুটি দেশ এই অঞ্চলে যুক্ত হয়েছে। বদলেছে শ্রমবাজারের চিত্রও। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তরুণ জনগোষ্ঠী যুক্ত হওয়ায় মেনাপ অঞ্চলে যুব কর্মসংস্থানের হার ১৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৭ শতাংশ হয়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধিও পরিসংখ্যানে কিছুটা বেড়ে যাবে। কারণ তুলনামূলক ধীরগতির অর্থনীতির পাকিস্তান ও আফগানিস্তান আর এই অঞ্চলের গড় হিসাবের অংশ থাকবে না।
দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এর অর্থ কী
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক পরিচয়ে। এখন দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ভারত আরও বেশি প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের উন্নয়ন সূচকও আগের তুলনায় বেশি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়, দারিদ্র্য ও সামাজিক উন্নয়নের গড় সূচকগুলো আগের তুলনায় আরও ইতিবাচক দেখা যেতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য কী অর্থ বহন করে?
বাংলাদেশের জন্য এই পরিবর্তনের কয়েকটি ইতিবাচক দিক রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি, জলবায়ু অভিযোজন ও সামাজিক উন্নয়নের চিত্র আরও স্পষ্টভাবে উঠে আসতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রকল্পে বাংলাদেশের গুরুত্বও কিছুটা বাড়তে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশি ঋণ বা অনুদান পাবে। কারণ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এখনো দেশভিত্তিক প্রয়োজন, প্রকল্পের মান ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।
পাকিস্তানের জন্য লাভ নাকি ক্ষতি?
পাকিস্তানের জন্য এটি প্রতীকী এবং বাস্তব—দুই ধরনের গুরুত্ব বহন করে।
একদিকে দেশটি এখন মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে একই উন্নয়ন কাঠামোর অংশ হবে। পানি ব্যবস্থাপনা, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি, জলবায়ু অভিযোজন এবং অভিবাসন নিয়ে নতুন ধরনের আঞ্চলিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে পাকিস্তানে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের রূপরেখাও রয়েছে।
তবে আছে ঝুঁকিও। ২০২৪ সালে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ছিল প্রায় ১৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যেখানে মেনা অঞ্চলে ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এই ধারা অব্যাহত থাকলে পাকিস্তান তুলনামূলক কম অর্থায়নের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে কী প্রভাব
আফগানিস্তানের জন্য এই পরিবর্তনের গুরুত্ব তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে দেশটি মানবিক সহায়তা, শরণার্থী সংকট, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এসব বিষয়ে সমন্বয় সহজ হতে পারে।
তবে তালেবান সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা আগের মতোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
আঞ্চলিক সহযোগিতায় কী প্রভাব পড়বে
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দুর্বল দিক হলো সীমিত আঞ্চলিক বাণিজ্য। সার্ক মূলত দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতির কারণে বহু আঞ্চলিক উদ্যোগ স্থবির হয়ে আছে।
এই বাস্তবতায় বিশ্বব্যাংকের নতুন শ্রেণিবিন্যাসকে অনেক বিশ্লেষক দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তবে এটি সার্কের সদস্যপদ বা দক্ষিণ এশিয়ার ভৌগোলিক সীমানা পরিবর্তন করছে না।
.png)

দুই বছর আগেও বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ডলারের সংকট এবং আমদানি ব্যয়। এখন সেই তালিকার শীর্ষে রয়েছে মূল্যস্ফীতি। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, অন্যদিকে উচ্চ সুদহারের কারণে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়েছে ব্যবসায়ীরা।
২৯ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রেখেছে। দীর্ঘদিনের এই সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
২ ঘণ্টা আগে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে ঘিরে শুরু হয়েছে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধ, যেখানে মুখোমুখি বিশ্বের দুই পরাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। প্রথম নজরে এটি উন্নত চ্যাটবট বা আরও স্মার্ট সফটওয়্যার তৈরির প্রতিযোগিতা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক গভীর।
১৯ ঘণ্টা আগে
২০১১ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাশ হয়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আনা এ সংশোধনীটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম সংবেদনশীল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলা একটি বিল।
২০ ঘণ্টা আগে