জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

যুদ্ধ থেকে ইরান আসলে কী চায়

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬, ১৮: ৩৩
স্ট্রিম গ্রাফিক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে ঘিরে ইরান কী চায় এবং কীভাবে তার কৌশল পুনর্গঠন করছে, তা এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়লেও তেহরান এটিকে কেবল সামরিক লড়াই হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে দেখছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি নতুন প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে তোলা, যা ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসন ঠেকাতে কার্যকর হবে এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নতুনভাবে নির্ধারণ করবে।

বিখ্যাত প্রুশিয়ান সামরিক তাত্ত্বিক কার্ল ভন ক্লজভিৎস বলেছিলেন, যুদ্ধ রাজনীতির সমাপ্তি নয় বরং রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের অন্য একটি মাধ্যম। যুদ্ধের আগে তেহরান ও ওয়াশিংটন যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় নিয়োজিত ছিল এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে একটি শান্তি চুক্তি প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার টেবিলের পরিবর্তে যুদ্ধক্ষেত্রে তার রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের পথ বেছে নেন।

তবে সমস্যাটি ছিল, ট্রাম্পের রাজনৈতিক লক্ষ্য তখন আর স্পষ্ট বা সরল ছিল না। তিনি যে লক্ষ্যটি বারবার উল্লেখ করেছেন, অর্থাৎ ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া, সেটি কূটনৈতিক উপায়ে অর্জন করা সম্ভব ছিল। তবুও অতিরিক্ত কোনো লক্ষ্য, যেমন শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা, কিংবা দেশটির ভৌগোলিক বিভাজন, যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে টেনে নেয়, তা অস্পষ্ট রয়ে গেছে।

তেহরানের সুপরিকল্পিত কৌশল

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাকিয়েহ ইয়াজদানশেনাস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়াই এই যুদ্ধে প্রবেশ করলেও ইরানের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ফলে সংঘাতে জড়িয়ে পড়লেও তেহরান একটি সুপরিকল্পিত কৌশল অনুসরণ করছে, যা বহু আগে থেকেই ইরানের রাজনৈতিক পরিসরে আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো একটি নতুন ধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা ভবিষ্যতে যেকোনো হামলা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে।

ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, গত তিন দশকের তথাকথিত “কৌশলগত ধৈর্য” ওয়াশিংটনে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়াতে ইরানের সংযত আচরণকে দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয়েছে যে ইরানের সংঘাত বড় করার সক্ষমতা বা ইচ্ছা নেই।

ইরানের দৃষ্টিতে, কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পরবর্তী ঘটনাগুলো এই ভুল ব্যাখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। যেমন ইরাকের আল-আসাদ ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণহানি এড়িয়েও দৃঢ়তা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছিল। কিন্তু কোনও প্রাণহানি না হওয়ায় তা ওয়াশিংটনে দুর্বলতার নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইরানি কর্মকর্তারা মনে করেন, এই ধরনের ব্যাখ্যা যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সাহসী করে তোলে এবং এই বিশ্বাসকে জোরদার করে যে তেহরান শেষ পর্যন্ত চাপ মেনে নেবে।

গত বছরের জুন মাসে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তেহরানে একটি বিরল ঐকমত্য সৃষ্টি করে। এতে ধারণা জন্ম নেয় যে দীর্ঘদিনের সংযমের কৌশল শুধু প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করতে ব্যর্থ হয়নি, বরং আরও চাপ প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে। ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে এই উপলব্ধি একটি বড় ধরনের কৌশলগত পুনর্মূল্যায়নের সূচনা করে।

এর আগে তেহরান “অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স” নামে পরিচিত মিত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে একটি প্রতিরক্ষামূলক বেষ্টনী তৈরি করার চেষ্টা করেছিল। এই কৌশলের লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতকে দেশের সীমানা থেকে দূরে রাখা। তবে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে একাধিক সরাসরি সংঘর্ষ, বিশেষ করে ১২ দিনের যুদ্ধ দেখিয়েছে যে এই কৌশল আর দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না।

‘শাস্তিমূলক প্রতিরোধ’

এই প্রেক্ষাপটে ইরান তার কৌশল পুনর্গঠন করে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর তৎকালীন প্রধান মেজর জেনারেল আবদোলরাহিম মুসাভি ঘোষণা করেন যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান তার প্রতিরক্ষা নীতি পরিবর্তন করেছে এবং দ্রুত ও বিস্তৃত আক্রমণের কৌশল গ্রহণ করেছে। তার মতে, ভবিষ্যতে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে দ্রুত, সিদ্ধান্তমূলক এবং যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব-নিকাশের সীমাবদ্ধতার বাইরে। একই সময়ে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও সতর্ক করে দেন যে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর হামলা চালায়, তাহলে তা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধে রূপ নেবে।

ইরানের নতুন কৌশল মূলত “শাস্তিমূলক প্রতিরোধ” ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই কৌশলের আওতায় পারস্য উপসাগরজুড়ে বিস্তৃত আকারে সংঘাত ছড়িয়ে দিয়ে যুদ্ধের ব্যয় এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই যুদ্ধ অর্থনৈতিক কৌশলগতভাবে টেকসই না থাকে। আলোচনার টেবিলে কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য অর্জনে ব্যর্থ হলেও, ইরান এখন যুদ্ধক্ষেত্রে তার ভূরাজনৈতিক সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে নতুন ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে এবং ভবিষ্যতের আগাম হামলা প্রতিরোধ করতে চায়।

তেহরান এই কৌশলগত পরিবর্তনকে গোপন রাখেনি। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার আগে একাধিকবার প্রকাশ্যে সতর্ক করেছিলেন যে ইরানকে দুর্বল ভাবার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের “ভুল হিসাব” সংশোধন করা প্রয়োজন। তিনি সামরিক মহড়া এবং শক্তি প্রদর্শনের আহ্বান জানান। ইরান স্পষ্টভাবে জানাতে চেয়েছে যে ভবিষ্যতে কোনো আক্রমণ হলে তার জবাব আরও কঠোর হবে।

২০২৫ সালের শেষদিকে ইরানের কর্মকর্তারা আরও দাবি করেন যে জুন মাসের যুদ্ধে দেশটি তার মোট সক্ষমতার মাত্র ২০ শতাংশ ব্যবহার করেছিল। তারা ইঙ্গিত দেন যে পরবর্তী সংঘাতে তেহরান আরও উন্নত ও কৌশলগত সক্ষমতা প্রয়োগ করতে প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষভাবে পারস্য উপসাগরকে সম্ভাব্য উত্তেজনার কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।

ইরানের বড় সুবিধা: হরমুজ প্রণালি

এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক সুবিধা হলো হরমুজ প্রণালির ওপর তার নিয়ন্ত্রণ। এই জলপথটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত এই পথটি বন্ধ করে রেখেছে, যার ফলে বৈশ্বিক তেলের দাম বেড়ে গেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরানের আরেকটি বড় সুবিধা হলো উপসাগরীয় দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোর সঙ্গে তার ভৌগোলিক নৈকট্য। এই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র এবং সেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েও ইরান এসব দেশের সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানতে পারে। একই সঙ্গে তেল ও গ্যাস অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালালে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার জবাবে ইরান কাতারের রাস লাফান স্থাপনায় বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পাশাপাশি সৌদি আরবের সৌদি আরামকো-এক্সন শোধনাগার এবং কুয়েতের দুটি শোধনাগারেও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এসব পদক্ষেপ ইঙ্গিত করে যে ইরান প্রচলিত কৌশলগত হিসাবের বাইরে গিয়ে অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখাতে প্রস্তুত।

এই যুদ্ধ ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকবে, যতক্ষণ না এমন একটি সমঝোতার পথ তৈরি হয়, যা উভয় পক্ষের কাছে চলমান সংঘাতের খরচের তুলনায় বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্পষ্ট বা সীমিত রাজনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেননি। সামগ্রিকভাবে তিনি একটি নির্ণায়ক বিজয় এবং ইরানের আত্মসমর্পণকে চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন বলে ধারণা করা হয়।

তবে বাস্তবতা হলো, ইরানের নিরাপত্তা কৌশল অসম সক্ষমতা এবং পারস্য উপসাগরে তার ভৌগোলিক সুবিধার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই কারণে দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা বা তার সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌ সক্ষমতার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে, তবুও ইরানের জন্য উন্নত নৌবাহিনী বা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি অপরিহার্য নয়। ছোট ও দ্রুতগতির নৌযান এবং স্বল্পমূল্যের শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেই তারা বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। এসব নৌযানের একটি বড় সংখ্যা এখনো ইরানের কাছে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

এছাড়া ইরান এখনো তার সবচেয়ে বিপজ্জনক বিকল্পটি ব্যবহার করেনি, যা হলো হরমুজ প্রণালিতে মাইন পাতা। যদি এই পথ মাইন দিয়ে বন্ধ করা হয়, তাহলে তা পরিষ্কার করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে এবং এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হবে ও সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে।

নতুন প্রতিরোধ সক্ষমতা অর্জন

তেহরানের দৃষ্টিতে এই যুদ্ধ তখনই শেষ হবে, যখন নতুন প্রতিরোধ সক্ষমতা বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তার আগে কোনো যুদ্ধবিরতি গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ তা শুধু এমন একটি পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনবে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সহজেই ইরানের ওপর হামলা চালাতে পারে। যদিও এই যুদ্ধে ইরানের অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে, তবুও দেশটির সরকার মনে করে দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত লাভ এই ক্ষতির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই তেহরানের কাছে এই যুদ্ধ একটি নির্ধারণী সংঘাত, যেখানে হয় ইরান তার প্রতিপক্ষের কাছে নিজের দৃঢ়তার ধারণা বদলাতে পারবে, নয়তো শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের ঝুঁকিতে পড়বে।

ফরেইন অ্যাফেয়ার্সের বিশ্লেষক মোহাম্মদ আয়াতোল্লাহি তাবার বলেন, এই যুদ্ধকে ইরান তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করছে। বোমা হামলা শুরুর আগে দেশটির শাসনব্যবস্থা জনগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। বারবার গণবিক্ষোভ দেখা দিয়েছিল, যা দমন করতে সরকারকে ক্রমেই কঠোর দমন-পীড়নের আশ্রয় নিতে হয়েছিল। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অতিরিক্ত যুক্তি দিচ্ছে।

একই সঙ্গে এটি শাসকগোষ্ঠীর জন্য নতুন ধরনের বৈধতার উৎস তৈরি করছে। ইরানের নেতারা এখন জনগণের সামনে নিজেদেরকে বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে পারছেন। এই সংঘাত দেশের ভেতরে একটি নতুন ঐক্যের অনুভূতি তৈরি করছে। চলমান বোমা হামলায় সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকও নিহত হচ্ছে। এর ফলে এক ধরনের শহীদি সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করছে, যা রাষ্ট্রীয় বয়ানকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবশেষে পরিস্থিতি এমন দিকে যাচ্ছে যেখানে উভয় পক্ষকেই আবার আলোচনার টেবিলে ফিরতে হবে। তবে এবার সেই আলোচনা শুরু হবে যুদ্ধক্ষেত্রে একটি নতুন শক্তির ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর। সংঘাতের গতিপ্রকৃতি ইঙ্গিত দেয় যে কূটনীতি আবার সামনে আসবে, তবে তা বিকল্প পথ হিসেবে নয় বরং চাপ প্রয়োগের পরিণতি হিসেবে। যখন উভয় পক্ষ মনে করবে যে একটি আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা যুদ্ধের চেয়ে বেশি কৌশলগত সুবিধা দেবে, তখনই আলোচনা ফলপ্রসূ হবে।

তথ্যসূত্র: ফরেন পলিসি ও ফরেন অ্যাফেয়ার্স

সম্পর্কিত