এক্সপ্লেইনার
মাহজাবিন নাফিসা

বিশ্বজুড়ে দিনদিন তাপপ্রবাহ, বন্যা, খরা বেড়েই চলেছে। সঙ্গে আছে ঘূর্ণিঝড় ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। তাই জলবায়ু নিয়ে এখন কম-বেশি সব জায়গায়ই আলোচনা হয়। আর এই আলোচনা হলেই যে প্রসঙ্গ চলে আসে, তা হলো জলবায়ু অর্থায়ন।
জলবায়ু অর্থায়ন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতি বছর শত শত বিলিয়ন ডলার পরিবেশ সংরক্ষণ, কার্বন নিঃসরণ কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বন সংরক্ষণ এবং জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্পে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই অর্থ আসলে কোথায় যায়?
বিশ্বব্যাংক, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক, জাতিসংঘভিত্তিক তহবিল এবং সরকারগুলো নিয়মিতভাবে জলবায়ু প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের দাবি করে। কিন্তু প্রকল্প অনুমোদনের সময় যে অর্থ বরাদ্দ দেখানো হয়, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সেই অর্থ বাস্তবে কোথায় খরচ হয়েছে, কতটা পরিবেশগত ফল দিয়েছে, আর কতটা প্রশাসনিক ব্যয়, বিলম্ব বা অনিয়মে হারিয়ে গেছে—সেই প্রশ্নের উত্তর অনেক ক্ষেত্রেই অস্পষ্ট থেকে যায়।
জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত বিতর্কের জন্ম দেয় অক্সফামের ২০২৪ সালের গবেষণা ‘ক্লাইমেট ফাইন্যান্স আনচেকড’।
গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের জলবায়ু অর্থায়নের ২৪ থেকে ৪১ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থের ক্ষেত্রে প্রকল্প অনুমোদনের পর এবং প্রকল্প সমাপ্তির মধ্যে ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ ও জনসম্মুখে যাচাইযোগ্য হিসাব পাওয়া যায়নি। অক্সফাম বলছে, তারা এমন কোনো প্রমাণ পায়নি যে অর্থ চুরি হয়েছে; বরং তারা দেখিয়েছে যে, অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে, তার পর্যাপ্ত ট্র্যাকিং এবং পোস্ট-প্রজেক্ট মূল্যায়ন নেই।
তবে বিশ্বব্যাংক এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, অর্থ হারিয়ে যায়নি এবং প্রতিটি প্রকল্প অডিটের আওতায় ছিল। কিন্তু একই সঙ্গে বিতর্ক থেকে যায়—যদি অর্থের প্রকৃত ব্যয়ের তথ্য সহজে পাওয়া না যায়, তাহলে জলবায়ু প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা কীভাবে সম্ভব?
জলবায়ু অর্থায়নের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, প্রকল্প অনুমোদনের সময় যেটাকে ‘ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়, প্রকল্প শেষ হওয়ার সময় সেই অর্থের কতটা আসলে জলবায়ু খাতে ব্যবহৃত হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য মূল্যায়ন প্রায়ই অনুপস্থিত।
অক্সফামের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংক সাধারণত প্রকল্পের শুরুতে অনুমানভিত্তিক জলবায়ু ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ব্যয়ের ধরণ বদলাতে পারে, অগ্রাধিকার বদলাতে পারে, এমনকি অর্থ অন্য খাতে স্থানান্তরও হতে পারে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সেই পরিবর্তনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রায়ই প্রকাশিত হয় না।
ফলে একটি প্রকল্পে ১০০ মিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়ন ঘোষণা করা হলেও, শেষ পর্যন্ত ১০০ মিলিয়নই জলবায়ু খাতে গেছে কিনা, সেটি বাইরের গবেষকদের পক্ষে নিশ্চিত করা কঠিন।
এই বিতর্কের মধ্যেও জলবায়ু অর্থায়নের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে।
বিশ্বব্যাংক ২০২৪ অর্থবছরে রেকর্ড ৪২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়নের ঘোষণা দেয়। একই সময়ে বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলো সম্মিলিতভাবে ১৩৭ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়ন করেছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এর অর্থ হলো, আগামী বছরগুলোতে এই অর্থ আরও বাড়বে। ফলে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার প্রশ্নও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। ফলে জলবায়ু তহবিলের বড় অংশ বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে এসেছে। কিন্তু ২০২৫ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত গবেষণা নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে।
টিআইবির গবেষণা অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট এর আওতায় অনুমোদিত ৮৯১টি প্রকল্পে প্রায় ২৪৮ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২ হাজার ১১০ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের হিসাবে, মোট বরাদ্দের প্রায় ৫৪ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির প্রভাবে পড়েছে।
গবেষণায় যেসব অনিয়মের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—প্রকল্প অনুমোদনে ঘুষ ও অবৈধ লেনদেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প নির্বাচন, ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম, প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ আত্মসাৎ, অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি, সময়সীমা বারবার বাড়ানো ইত্যাদি।
টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, ৬১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রকল্পে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং প্রকল্পগুলোর গড় বাস্তবায়নকাল ১৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
এখানে একটি বড় বিতর্ক হলো ‘জলবায়ু অর্থায়ন’ কী এবং তার সংজ্ঞা।
সমালোচকদের মতে, অনেক সময় সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থা এমন প্রকল্পকেও জলবায়ু প্রকল্প হিসেবে দেখায়, যেগুলো মূলত সাধারণ উন্নয়ন প্রকল্প।
উদাহরণ হিসেবে কোনো সড়ক নির্মাণ, সেচব্যবস্থা, নগর উন্নয়ন বা অবকাঠামো প্রকল্পে একটি ছোট জলবায়ু উপাদান যুক্ত থাকলেই পুরো প্রকল্পের বড় অংশকে জলবায়ু অর্থায়ন হিসেবে দেখানো হয়। ফলে প্রকৃত পরিবেশগত প্রভাব নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
না। বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, উপকূলীয় বাঁধ, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি, লবণাক্ততা মোকাবিলা প্রকল্প এবং ম্যানগ্রোভ বন সংরক্ষণে জলবায়ু অর্থায়নের ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। বিশ্বব্যাংকও বাংলাদেশের সাইক্লোন শেল্টারসহ একাধিক প্রকল্পকে জলবায়ু অর্থায়নের সফল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
কিন্তু সমস্যাটি হলো, সফল প্রকল্পের সংখ্যা যতই থাকুক, অর্থের ব্যবহার যদি স্বচ্ছ না হয়, তাহলে কোন প্রকল্প সফল আর কোনটি ব্যর্থ—সেটি নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা যায় না।
জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি বলা হয়—কত বিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তবে গবেষকদের মতে, এরচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কত টাকা মাঠে পৌঁছেছে, কত টাকা প্রকৃত পরিবেশগত কাজে খরচ হয়েছে, কত গাছ লাগানো হয়েছে, কত কার্বন নিঃসরণ কমেছে, কত মানুষ জলবায়ু ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেয়েছে, আর কত টাকা প্রশাসনিক ব্যয়, বিলম্ব বা দুর্নীতিতে হারিয়েছে। এই প্রশ্নগুলোর স্বচ্ছ উত্তর ছাড়া জলবায়ু অর্থায়নের প্রকৃত সাফল্য মাপা সম্ভব নয়।
জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক বিতর্কগুলোর একটি হলো—ধনী দেশগুলো যে অর্থকে ‘জলবায়ু সহায়তা’ হিসেবে দেখায়, তার কতটা প্রকৃত অনুদান এবং কতটা ঋণ। উন্নয়নশীল দেশগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী শিল্পোন্নত দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে সেই অর্থের বড় অংশই ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়। অর্থাৎ জলবায়ু বিপর্যয়ের শিকার দেশগুলোকে নিজেদের ক্ষতি মোকাবিলার জন্য আবার ঋণ নিয়ে অর্থ পরিশোধ করতে হয়।
অক্সফামের প্রতিবেদনে বলা হয়, ধনী দেশগুলো যে জলবায়ু অর্থায়নের হিসাব দেখায়, তার প্রকৃত মূল্য ঘোষিত অঙ্কের তুলনায় অনেক কম হতে পারে, কারণ এর একটি বড় অংশ ঋণ, বাজারমূল্যের ঋণ বা এমন প্রকল্পে ব্যয় হয় যার জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই কারণে আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলো কপ সম্মেলনগুলোতে বারবার দাবি জানিয়ে আসছে যে, জলবায়ু অর্থায়নের বড় অংশ যেন অনুদানভিত্তিক হয়, ঋণভিত্তিক নয়। তাদের যুক্তি, যে সংকট তৈরিতে তাদের ভূমিকা সবচেয়ে কম, সেই সংকট মোকাবিলার খরচের বোঝাও তাদের কাঁধে নিতে রাজি নন তারা।

বিশ্বজুড়ে দিনদিন তাপপ্রবাহ, বন্যা, খরা বেড়েই চলেছে। সঙ্গে আছে ঘূর্ণিঝড় ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। তাই জলবায়ু নিয়ে এখন কম-বেশি সব জায়গায়ই আলোচনা হয়। আর এই আলোচনা হলেই যে প্রসঙ্গ চলে আসে, তা হলো জলবায়ু অর্থায়ন।
জলবায়ু অর্থায়ন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতি বছর শত শত বিলিয়ন ডলার পরিবেশ সংরক্ষণ, কার্বন নিঃসরণ কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বন সংরক্ষণ এবং জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্পে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই অর্থ আসলে কোথায় যায়?
বিশ্বব্যাংক, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক, জাতিসংঘভিত্তিক তহবিল এবং সরকারগুলো নিয়মিতভাবে জলবায়ু প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের দাবি করে। কিন্তু প্রকল্প অনুমোদনের সময় যে অর্থ বরাদ্দ দেখানো হয়, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সেই অর্থ বাস্তবে কোথায় খরচ হয়েছে, কতটা পরিবেশগত ফল দিয়েছে, আর কতটা প্রশাসনিক ব্যয়, বিলম্ব বা অনিয়মে হারিয়ে গেছে—সেই প্রশ্নের উত্তর অনেক ক্ষেত্রেই অস্পষ্ট থেকে যায়।
জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত বিতর্কের জন্ম দেয় অক্সফামের ২০২৪ সালের গবেষণা ‘ক্লাইমেট ফাইন্যান্স আনচেকড’।
গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের জলবায়ু অর্থায়নের ২৪ থেকে ৪১ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থের ক্ষেত্রে প্রকল্প অনুমোদনের পর এবং প্রকল্প সমাপ্তির মধ্যে ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ ও জনসম্মুখে যাচাইযোগ্য হিসাব পাওয়া যায়নি। অক্সফাম বলছে, তারা এমন কোনো প্রমাণ পায়নি যে অর্থ চুরি হয়েছে; বরং তারা দেখিয়েছে যে, অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে, তার পর্যাপ্ত ট্র্যাকিং এবং পোস্ট-প্রজেক্ট মূল্যায়ন নেই।
তবে বিশ্বব্যাংক এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, অর্থ হারিয়ে যায়নি এবং প্রতিটি প্রকল্প অডিটের আওতায় ছিল। কিন্তু একই সঙ্গে বিতর্ক থেকে যায়—যদি অর্থের প্রকৃত ব্যয়ের তথ্য সহজে পাওয়া না যায়, তাহলে জলবায়ু প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা কীভাবে সম্ভব?
জলবায়ু অর্থায়নের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, প্রকল্প অনুমোদনের সময় যেটাকে ‘ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়, প্রকল্প শেষ হওয়ার সময় সেই অর্থের কতটা আসলে জলবায়ু খাতে ব্যবহৃত হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য মূল্যায়ন প্রায়ই অনুপস্থিত।
অক্সফামের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংক সাধারণত প্রকল্পের শুরুতে অনুমানভিত্তিক জলবায়ু ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ব্যয়ের ধরণ বদলাতে পারে, অগ্রাধিকার বদলাতে পারে, এমনকি অর্থ অন্য খাতে স্থানান্তরও হতে পারে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সেই পরিবর্তনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রায়ই প্রকাশিত হয় না।
ফলে একটি প্রকল্পে ১০০ মিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়ন ঘোষণা করা হলেও, শেষ পর্যন্ত ১০০ মিলিয়নই জলবায়ু খাতে গেছে কিনা, সেটি বাইরের গবেষকদের পক্ষে নিশ্চিত করা কঠিন।
এই বিতর্কের মধ্যেও জলবায়ু অর্থায়নের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে।
বিশ্বব্যাংক ২০২৪ অর্থবছরে রেকর্ড ৪২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়নের ঘোষণা দেয়। একই সময়ে বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলো সম্মিলিতভাবে ১৩৭ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়ন করেছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এর অর্থ হলো, আগামী বছরগুলোতে এই অর্থ আরও বাড়বে। ফলে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার প্রশ্নও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। ফলে জলবায়ু তহবিলের বড় অংশ বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে এসেছে। কিন্তু ২০২৫ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত গবেষণা নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে।
টিআইবির গবেষণা অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট এর আওতায় অনুমোদিত ৮৯১টি প্রকল্পে প্রায় ২৪৮ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২ হাজার ১১০ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের হিসাবে, মোট বরাদ্দের প্রায় ৫৪ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির প্রভাবে পড়েছে।
গবেষণায় যেসব অনিয়মের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—প্রকল্প অনুমোদনে ঘুষ ও অবৈধ লেনদেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প নির্বাচন, ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম, প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ আত্মসাৎ, অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি, সময়সীমা বারবার বাড়ানো ইত্যাদি।
টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, ৬১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রকল্পে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং প্রকল্পগুলোর গড় বাস্তবায়নকাল ১৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
এখানে একটি বড় বিতর্ক হলো ‘জলবায়ু অর্থায়ন’ কী এবং তার সংজ্ঞা।
সমালোচকদের মতে, অনেক সময় সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থা এমন প্রকল্পকেও জলবায়ু প্রকল্প হিসেবে দেখায়, যেগুলো মূলত সাধারণ উন্নয়ন প্রকল্প।
উদাহরণ হিসেবে কোনো সড়ক নির্মাণ, সেচব্যবস্থা, নগর উন্নয়ন বা অবকাঠামো প্রকল্পে একটি ছোট জলবায়ু উপাদান যুক্ত থাকলেই পুরো প্রকল্পের বড় অংশকে জলবায়ু অর্থায়ন হিসেবে দেখানো হয়। ফলে প্রকৃত পরিবেশগত প্রভাব নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
না। বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, উপকূলীয় বাঁধ, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি, লবণাক্ততা মোকাবিলা প্রকল্প এবং ম্যানগ্রোভ বন সংরক্ষণে জলবায়ু অর্থায়নের ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। বিশ্বব্যাংকও বাংলাদেশের সাইক্লোন শেল্টারসহ একাধিক প্রকল্পকে জলবায়ু অর্থায়নের সফল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
কিন্তু সমস্যাটি হলো, সফল প্রকল্পের সংখ্যা যতই থাকুক, অর্থের ব্যবহার যদি স্বচ্ছ না হয়, তাহলে কোন প্রকল্প সফল আর কোনটি ব্যর্থ—সেটি নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা যায় না।
জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি বলা হয়—কত বিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তবে গবেষকদের মতে, এরচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কত টাকা মাঠে পৌঁছেছে, কত টাকা প্রকৃত পরিবেশগত কাজে খরচ হয়েছে, কত গাছ লাগানো হয়েছে, কত কার্বন নিঃসরণ কমেছে, কত মানুষ জলবায়ু ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেয়েছে, আর কত টাকা প্রশাসনিক ব্যয়, বিলম্ব বা দুর্নীতিতে হারিয়েছে। এই প্রশ্নগুলোর স্বচ্ছ উত্তর ছাড়া জলবায়ু অর্থায়নের প্রকৃত সাফল্য মাপা সম্ভব নয়।
জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক বিতর্কগুলোর একটি হলো—ধনী দেশগুলো যে অর্থকে ‘জলবায়ু সহায়তা’ হিসেবে দেখায়, তার কতটা প্রকৃত অনুদান এবং কতটা ঋণ। উন্নয়নশীল দেশগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী শিল্পোন্নত দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে সেই অর্থের বড় অংশই ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়। অর্থাৎ জলবায়ু বিপর্যয়ের শিকার দেশগুলোকে নিজেদের ক্ষতি মোকাবিলার জন্য আবার ঋণ নিয়ে অর্থ পরিশোধ করতে হয়।
অক্সফামের প্রতিবেদনে বলা হয়, ধনী দেশগুলো যে জলবায়ু অর্থায়নের হিসাব দেখায়, তার প্রকৃত মূল্য ঘোষিত অঙ্কের তুলনায় অনেক কম হতে পারে, কারণ এর একটি বড় অংশ ঋণ, বাজারমূল্যের ঋণ বা এমন প্রকল্পে ব্যয় হয় যার জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই কারণে আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলো কপ সম্মেলনগুলোতে বারবার দাবি জানিয়ে আসছে যে, জলবায়ু অর্থায়নের বড় অংশ যেন অনুদানভিত্তিক হয়, ঋণভিত্তিক নয়। তাদের যুক্তি, যে সংকট তৈরিতে তাদের ভূমিকা সবচেয়ে কম, সেই সংকট মোকাবিলার খরচের বোঝাও তাদের কাঁধে নিতে রাজি নন তারা।

আগামী দুই এক দিনের মধ্যে তাপপ্রবাহ কমার কোনো সম্ভাবনা তো নেইই, উল্টো ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর এমনটাই বলছে।
১ দিন আগে
বাংলাদেশে প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে সরকার ২০১৩ সালে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন প্রণয়ন করে। এতে সন্তানদের ওপর মা-বাবার ভরণপোষণের আইনগত বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। যৌথ পরিবারের পরিবর্তে একক পরিবার ব্যবস্থার বিস্তার, কর্মসংস্থানের কারণে সন্তানদের দূরে বসবাস এবং সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তনের ফলে অনেক প্রবীণ মা
২ দিন আগে
ঢাকায় এখন গরম যেন আগুন ঝরাচ্ছে। দিনের বেলায় রাস্তায় বের হওয়া কঠিন, রাতেও মিলছে না স্বস্তি। ওয়েদার ফোরকাস্ট অনুযায়ী, আজকের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এই তাপমাত্রায় এটি অনুভুত হচ্ছে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বাড়তে পারে।
২ দিন আগে
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কাজ ও ক্ষমতা কী? এই অর্জনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ কী কী সুবিধা পাবে?
৩ দিন আগে