মাহজাবিন নাফিসা

বিশ্বের মাদকবাজার দ্রুত বদলে যাচ্ছে। মাদকের উৎপাদন, পরিবহন, অর্থপাচার এবং বিক্রির নেটওয়ার্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি বৈশ্বিক হয়ে উঠেছে। আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে মেক্সিকোর দুই কুখ্যাত অপরাধী সংগঠন—সিনালোয়া কার্টেল এবং কার্টেল দে জালিস্কো নুয়েভা জেনেরাসিওন (সিজেএনজি)।
একসময় এসব কার্টেলের প্রধান লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন ও অন্যান্য মাদক সরবরাহ করা। কিন্তু গত এক দশকে তারা নিজেদের কার্যক্রম এমনভাবে বিস্তৃত করেছে যে এখন তাদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেক্সিকান কার্টেলগুলো আর শুধু মাদক পাচারকারী নয়। তারা ধীরে ধীরে একটি বৈশ্বিক অপরাধী অর্থনীতির নিয়ন্ত্রকে পরিণত হচ্ছে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষণা বলছে, কার্টেলগুলোর বর্তমান কৌশল হলো উৎপাদন, পরিবহন এবং পাইকারি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা। তারা সাধারণত কোনো দেশের খুচরা মাদকবাজার নিজেরা পরিচালনা করে না। তারা স্থানীয় অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে জোট গড়ে তুলে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলকে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে অনেক দেশে তাদের সদস্যসংখ্যা খুব সীমিত হলেও প্রভাব অত্যন্ত গভীর।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় জনসংখ্যা, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং বিশাল বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের কারণে এশিয়া এখন বৈধ ও অবৈধ—দুই ধরনের ব্যবসার জন্যই আকর্ষণীয় অঞ্চল। মেক্সিকান কার্টেলগুলো এই সুযোগকেই ব্যবহার করছে।
শূন্য দশকের শুরুতে (২০০০ সাল) সিনালোয়া কার্টেলের শীর্ষ নেতারা চীনের অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন। তখন তাদের মূল লক্ষ্য ছিল মেথঅ্যামফেটামিন তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করা। পরে সেই সম্পর্ক বিস্তৃত হয়ে অর্থপাচার, ফেন্টানিল উৎপাদন এবং অন্যান্য অবৈধ বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলে।
বর্তমানে চীন ও ভারতের বিভিন্ন সরবরাহকারীর কাছ থেকে মেথ ও ফেন্টানিল তৈরির রাসায়নিক উপাদান সংগ্রহ করছে মেক্সিকান কার্টেলগুলো। একই সঙ্গে চীনা মানি লন্ডারিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মাদক বিক্রির অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানান্তর করছে। গবেষকদের মতে, বর্তমানে মেক্সিকান কার্টেলগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহযোগীদের মধ্যে রয়েছে চীনা অর্থপাচার চক্র।
কিন্তু এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এখন শুধু কাঁচামাল বা অর্থপাচারে সীমাবদ্ধ নেই। কার্টেলগুলো ধীরে ধীরে এশিয়াকে একটি সম্ভাব্য ভোক্তা বাজার হিসেবেও দেখতে শুরু করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়ায় মেক্সিকান কার্টেলের সঙ্গে সম্পর্কিত কোকেন ও মেথঅ্যামফেটামিনের চালান জব্দ হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করেন, এসব চালানের কিছু অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার পথে ছিল। তবে কিছু চালান স্থানীয় বাজারে প্রবেশের উদ্দেশ্যেও পাঠানো হয়ে থাকতে পারে।
একই সময়ে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় কার্টেল-সংশ্লিষ্ট লজিস্টিক অপারেটরদের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। এসব দেশে তারা সরাসরি অস্ত্রধারী বাহিনী নিয়ে আসে না। বরং স্থানীয় অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুলে পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা পরিচালনা করে।
এই মডেল তাদের জন্য খুব কার্যকর। কারণ এতে স্থানীয় বাস্তবতা বুঝতে সুবিধা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরও তুলনামূলক কম পড়ে।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মেক্সিকান কার্টেলগুলোর সবচেয়ে বড় সাফল্য দেখা যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে।
প্রায় ৩০ বছর ধরে এই অঞ্চলের মেথঅ্যামফেটামিন বাজার নিয়ন্ত্রণ করত চীনা ট্রায়াড গোষ্ঠীগুলো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পরিস্থিতি বদলে গেছে। ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, দেশটিতে জব্দ হওয়া মেথঅ্যামফেটামিনের প্রায় ৭০ শতাংশই মেক্সিকান উৎসের। অর্থাৎ মেক্সিকান কার্টেলগুলো কার্যত চীনা নেটওয়ার্ককে পেছনে ফেলেছে।
এর পেছনে বড় কারণ হলো মেক্সিকান মেথের উচ্চমাত্রার বিশুদ্ধতা ও শক্তিশালী প্রভাব। একই সঙ্গে এটি তুলনামূলক কম দামে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে বাজারে এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রতিযোগিতা শুধু মাদকবাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। স্থানীয় অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে সংঘাতও বাড়তে পারে।
ফিজি, টোঙ্গা, সামোয়া এবং পাপুয়া নিউগিনির মতো ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো এখন মাদক পাচারের গুরুত্বপূর্ণ করিডরে পরিণত হচ্ছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ জলসীমা এবং তুলনামূলক সীমিত নজরদারির সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাচারকারীরা এসব অঞ্চল ব্যবহার করছে। কিন্তু এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে স্থানীয় জনগণ।
কারণ অনেক সময় কার্টেলগুলো স্থানীয় সহযোগীদের নগদ অর্থের বদলে মাদক দিয়ে পারিশ্রমিক দেয়। পরে সেই মাদক স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। ফলে যেখানে আগে মাদক ব্যবহার সীমিত ছিল, সেখানে নতুন ভোক্তা শ্রেণি তৈরি হচ্ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে আসক্তি, সংক্রামক রোগ এবং সামাজিক অস্থিরতা।
বিশ্বজুড়ে মেক্সিকান কার্টেলগুলোর বিস্তারের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো মেথঅ্যামফেটামিনের প্রসার।
কোকেনের তুলনায় মেথ অনেক বেশি আসক্তি তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি অনেক বেশি। এটি স্মৃতিশক্তি নষ্ট করতে পারে, মানসিক রোগ বাড়াতে পারে এবং সহিংস আচরণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেক্সিকান কার্টেলগুলোর উৎপাদিত মেথ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সংস্করণগুলোর একটি। যুক্তরাষ্ট্রে গত এক দশকে মেথ-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। এখন সেই একই মাদক নতুন বাজার খুঁজছে ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ায়।
আরও বড় উদ্বেগ হলো, মেথের জন্য তৈরি হওয়া সরবরাহ নেটওয়ার্ক ভবিষ্যতে ফেন্টানিলের মতো আরও প্রাণঘাতী মাদক ছড়িয়ে দেওয়ার পথ তৈরি করতে পারে।
মেক্সিকান কার্টেলগুলোর কার্যক্রম এখন আর শুধু মাদককেন্দ্রিক নয়। তারা মানবপাচার, বন্যপ্রাণী পাচার, অবৈধ মাছ ধরা, অবৈধ খনন এবং স্বর্ণ ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে।
আফ্রিকায় তারা বন্যপ্রাণী পাচার নেটওয়ার্কে ঢুকেছে। লাতিন আমেরিকায় অবৈধ স্বর্ণখনি ও মাছ ধরার ব্যবসায় প্রভাব বাড়িয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এসব অবৈধ পণ্য ব্যবহার করা হচ্ছে মাদক উৎপাদনের কাঁচামালের বিনিময়মূল্য হিসেবেও। অর্থাৎ কার্টেলগুলো ধীরে ধীরে একটি বহুমুখী আন্তর্জাতিক অপরাধী করপোরেশনে পরিণত হচ্ছে।
মাদক এখন আর কোনো সীমান্ত মানে না। চীন বা ভারত থেকে মেথের কাঁচামাল নিয়ে তা মেক্সিকোয় তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়া হয় ইউরোপ, আফ্রিকা বা এশিয়ায় দেশগুলোতে। এই মাদক বিক্রির অর্থ দুবাই বা হংকং এ পাচার হয়ে আবার ঘুরে ফিরে নতুন অপরাধে বিনিয়োগ হয়।
মেক্সিকান কার্টেলগুলোর সাম্প্রতিক বিস্তার থেকে দেখা যায় বৈশ্বিক মাদকবাণিজ্য এখন শুধু আমেরিকার সমস্যা নয়। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র—সবখানেই এর প্রভাব পৌঁছাতে শুরু করেছে। ফলে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই এখন একটি দেশের নয়, এটি একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। মেক্সিকোর কার্টেলগুলোর এই বিস্তার এশিয়া হয়ে প্রভাব ফেলতে পারে আমাদের দেশেও।

বিশ্বের মাদকবাজার দ্রুত বদলে যাচ্ছে। মাদকের উৎপাদন, পরিবহন, অর্থপাচার এবং বিক্রির নেটওয়ার্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি বৈশ্বিক হয়ে উঠেছে। আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে মেক্সিকোর দুই কুখ্যাত অপরাধী সংগঠন—সিনালোয়া কার্টেল এবং কার্টেল দে জালিস্কো নুয়েভা জেনেরাসিওন (সিজেএনজি)।
একসময় এসব কার্টেলের প্রধান লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন ও অন্যান্য মাদক সরবরাহ করা। কিন্তু গত এক দশকে তারা নিজেদের কার্যক্রম এমনভাবে বিস্তৃত করেছে যে এখন তাদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেক্সিকান কার্টেলগুলো আর শুধু মাদক পাচারকারী নয়। তারা ধীরে ধীরে একটি বৈশ্বিক অপরাধী অর্থনীতির নিয়ন্ত্রকে পরিণত হচ্ছে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষণা বলছে, কার্টেলগুলোর বর্তমান কৌশল হলো উৎপাদন, পরিবহন এবং পাইকারি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা। তারা সাধারণত কোনো দেশের খুচরা মাদকবাজার নিজেরা পরিচালনা করে না। তারা স্থানীয় অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে জোট গড়ে তুলে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলকে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে অনেক দেশে তাদের সদস্যসংখ্যা খুব সীমিত হলেও প্রভাব অত্যন্ত গভীর।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় জনসংখ্যা, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং বিশাল বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের কারণে এশিয়া এখন বৈধ ও অবৈধ—দুই ধরনের ব্যবসার জন্যই আকর্ষণীয় অঞ্চল। মেক্সিকান কার্টেলগুলো এই সুযোগকেই ব্যবহার করছে।
শূন্য দশকের শুরুতে (২০০০ সাল) সিনালোয়া কার্টেলের শীর্ষ নেতারা চীনের অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন। তখন তাদের মূল লক্ষ্য ছিল মেথঅ্যামফেটামিন তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করা। পরে সেই সম্পর্ক বিস্তৃত হয়ে অর্থপাচার, ফেন্টানিল উৎপাদন এবং অন্যান্য অবৈধ বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলে।
বর্তমানে চীন ও ভারতের বিভিন্ন সরবরাহকারীর কাছ থেকে মেথ ও ফেন্টানিল তৈরির রাসায়নিক উপাদান সংগ্রহ করছে মেক্সিকান কার্টেলগুলো। একই সঙ্গে চীনা মানি লন্ডারিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মাদক বিক্রির অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানান্তর করছে। গবেষকদের মতে, বর্তমানে মেক্সিকান কার্টেলগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহযোগীদের মধ্যে রয়েছে চীনা অর্থপাচার চক্র।
কিন্তু এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এখন শুধু কাঁচামাল বা অর্থপাচারে সীমাবদ্ধ নেই। কার্টেলগুলো ধীরে ধীরে এশিয়াকে একটি সম্ভাব্য ভোক্তা বাজার হিসেবেও দেখতে শুরু করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়ায় মেক্সিকান কার্টেলের সঙ্গে সম্পর্কিত কোকেন ও মেথঅ্যামফেটামিনের চালান জব্দ হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করেন, এসব চালানের কিছু অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার পথে ছিল। তবে কিছু চালান স্থানীয় বাজারে প্রবেশের উদ্দেশ্যেও পাঠানো হয়ে থাকতে পারে।
একই সময়ে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় কার্টেল-সংশ্লিষ্ট লজিস্টিক অপারেটরদের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। এসব দেশে তারা সরাসরি অস্ত্রধারী বাহিনী নিয়ে আসে না। বরং স্থানীয় অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুলে পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা পরিচালনা করে।
এই মডেল তাদের জন্য খুব কার্যকর। কারণ এতে স্থানীয় বাস্তবতা বুঝতে সুবিধা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরও তুলনামূলক কম পড়ে।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মেক্সিকান কার্টেলগুলোর সবচেয়ে বড় সাফল্য দেখা যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে।
প্রায় ৩০ বছর ধরে এই অঞ্চলের মেথঅ্যামফেটামিন বাজার নিয়ন্ত্রণ করত চীনা ট্রায়াড গোষ্ঠীগুলো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পরিস্থিতি বদলে গেছে। ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, দেশটিতে জব্দ হওয়া মেথঅ্যামফেটামিনের প্রায় ৭০ শতাংশই মেক্সিকান উৎসের। অর্থাৎ মেক্সিকান কার্টেলগুলো কার্যত চীনা নেটওয়ার্ককে পেছনে ফেলেছে।
এর পেছনে বড় কারণ হলো মেক্সিকান মেথের উচ্চমাত্রার বিশুদ্ধতা ও শক্তিশালী প্রভাব। একই সঙ্গে এটি তুলনামূলক কম দামে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে বাজারে এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রতিযোগিতা শুধু মাদকবাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। স্থানীয় অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে সংঘাতও বাড়তে পারে।
ফিজি, টোঙ্গা, সামোয়া এবং পাপুয়া নিউগিনির মতো ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো এখন মাদক পাচারের গুরুত্বপূর্ণ করিডরে পরিণত হচ্ছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ জলসীমা এবং তুলনামূলক সীমিত নজরদারির সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাচারকারীরা এসব অঞ্চল ব্যবহার করছে। কিন্তু এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে স্থানীয় জনগণ।
কারণ অনেক সময় কার্টেলগুলো স্থানীয় সহযোগীদের নগদ অর্থের বদলে মাদক দিয়ে পারিশ্রমিক দেয়। পরে সেই মাদক স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। ফলে যেখানে আগে মাদক ব্যবহার সীমিত ছিল, সেখানে নতুন ভোক্তা শ্রেণি তৈরি হচ্ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে আসক্তি, সংক্রামক রোগ এবং সামাজিক অস্থিরতা।
বিশ্বজুড়ে মেক্সিকান কার্টেলগুলোর বিস্তারের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো মেথঅ্যামফেটামিনের প্রসার।
কোকেনের তুলনায় মেথ অনেক বেশি আসক্তি তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি অনেক বেশি। এটি স্মৃতিশক্তি নষ্ট করতে পারে, মানসিক রোগ বাড়াতে পারে এবং সহিংস আচরণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেক্সিকান কার্টেলগুলোর উৎপাদিত মেথ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সংস্করণগুলোর একটি। যুক্তরাষ্ট্রে গত এক দশকে মেথ-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। এখন সেই একই মাদক নতুন বাজার খুঁজছে ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ায়।
আরও বড় উদ্বেগ হলো, মেথের জন্য তৈরি হওয়া সরবরাহ নেটওয়ার্ক ভবিষ্যতে ফেন্টানিলের মতো আরও প্রাণঘাতী মাদক ছড়িয়ে দেওয়ার পথ তৈরি করতে পারে।
মেক্সিকান কার্টেলগুলোর কার্যক্রম এখন আর শুধু মাদককেন্দ্রিক নয়। তারা মানবপাচার, বন্যপ্রাণী পাচার, অবৈধ মাছ ধরা, অবৈধ খনন এবং স্বর্ণ ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে।
আফ্রিকায় তারা বন্যপ্রাণী পাচার নেটওয়ার্কে ঢুকেছে। লাতিন আমেরিকায় অবৈধ স্বর্ণখনি ও মাছ ধরার ব্যবসায় প্রভাব বাড়িয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এসব অবৈধ পণ্য ব্যবহার করা হচ্ছে মাদক উৎপাদনের কাঁচামালের বিনিময়মূল্য হিসেবেও। অর্থাৎ কার্টেলগুলো ধীরে ধীরে একটি বহুমুখী আন্তর্জাতিক অপরাধী করপোরেশনে পরিণত হচ্ছে।
মাদক এখন আর কোনো সীমান্ত মানে না। চীন বা ভারত থেকে মেথের কাঁচামাল নিয়ে তা মেক্সিকোয় তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়া হয় ইউরোপ, আফ্রিকা বা এশিয়ায় দেশগুলোতে। এই মাদক বিক্রির অর্থ দুবাই বা হংকং এ পাচার হয়ে আবার ঘুরে ফিরে নতুন অপরাধে বিনিয়োগ হয়।
মেক্সিকান কার্টেলগুলোর সাম্প্রতিক বিস্তার থেকে দেখা যায় বৈশ্বিক মাদকবাণিজ্য এখন শুধু আমেরিকার সমস্যা নয়। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র—সবখানেই এর প্রভাব পৌঁছাতে শুরু করেছে। ফলে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই এখন একটি দেশের নয়, এটি একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। মেক্সিকোর কার্টেলগুলোর এই বিস্তার এশিয়া হয়ে প্রভাব ফেলতে পারে আমাদের দেশেও।
.png)

দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক হাসপাতাল। শয্যা ৭৫০টি। রয়েছে পাঁচটি বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র। তবে উদ্বোধনের প্রায় চার বছর পরও পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হয়নি বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল।
১৩ ঘণ্টা আগে
একসময় দেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই বাড়ির আঙিনায় দু-চারটি দেশি মুরগি পালন করা হতো। উদ্দেশ্য ছিল পরিবারের জন্য ডিম ও মাংসের জোগান। বাজারের সঙ্গে এর সম্পর্ক ছিল খুবই সীমিত।
১৪ জুলাই ২০২৬
দেশজুড়ে টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও তার জেরে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা-বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার (১৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচ জেলা ছাড়া দেশের বাকি অঞ্চলে নির্ধারিত সময়সূচি মেনেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
১৪ জুলাই ২০২৬
চলতি বছরের জানুয়ারিতে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রায় ৬০৮ কোটি টাকার চুক্তি করে। বগুড়ায় সামরিক ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা করার কথা ছিল ওই চুক্তিতে। কিন্তু ছয় মাস না যেতেই এলো আরেক ঘোষণা।
১৪ জুলাই ২০২৬