অনলাইন বেটিং-ক্রিপ্টো লেনদেনে শীর্ষে চাকরিজীবীরা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১৮: ৫৯
সংগৃহীত প্রতীকী ছবি

দেশে নিষিদ্ধ অনলাইন গেমিং, বেটিং, জুয়া এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্পৃক্ততা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসব অবৈধ খাতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন করেছেন চাকরিজীবীরা। তাদের পরেই আছেন গৃহিণী, কৃষি ও মৎস্য খাতে যুক্তরা।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে এসব পাওয়া গেছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব লেনদেনে যুক্ত হওয়ায় দেশে আর্থিক অপরাধ, আসক্তিমূলক ব্যয় এবং সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ অর্থ স্থানান্তরের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

বিএফআইইউর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসব কার্যক্রমে প্রায় পৌনে দুই হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে ১ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা এবং এসব অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে ১ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়মিত আয় থাকায় চাকরিজীবীরা অনলাইন বেটিং, গেমিং ও অন্যান্য নিষিদ্ধ ডিজিটাল কার্যক্রমে তুলনামূলক বেশি অংশ নিচ্ছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তারা এসব কার্যক্রমে ৬৪০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন করেছেন।

নিষিদ্ধ এসব আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ততায় চাকরিজীবীদের পরেই আছেন গৃহিণীরা। তাদের নামে এক বছরে ৩৭১ কোটি টাকা পরিশোধ ও ৩৪৭ কোটি টাকা গ্রহণের প্রমাণ পেয়েছে বিএফআইইউ। তালিকায় এরপরই আছেন কৃষক ও মৎস্য খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। এ শ্রেণির মানুষের মাধ্যমে গত এক বছরে ২৩০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে।

বিএফআইইউর করা তালিকার উপরের দিকেই আছে শিক্ষার্থীদের নাম। সংস্থাটি জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসাব থেকে এক অর্থবছরে ১৯৪ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, শিক্ষার্থী ও তরুণদের একটি অংশ তাদের সঞ্চিত অর্থ এসব নিষিদ্ধ কার্যক্রমে ব্যবহার করছে, যা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।

বিএফআইইউর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিষিদ্ধ কার্যক্রমের এসব লেনদেন শুধু শহর বা উচ্চ আয়ের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। চাকরিজীবী, কৃষক, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এর বিস্তার ঘটেছে। তবে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, তালিকায় থাকা কেউ কেউ প্রকৃত পেশা গোপন করে থাকতে পারেন।

বিএফআইইউ জানায়, এসবের অধিকাংশ লেনদেনই ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। প্রযুক্তি-সচেতন ব্যবহারকারীরা ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণার পাশাপাশি বিদেশভিত্তিক বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ও ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মেও যুক্ত হচ্ছেন।

বিএফআইইউর প্রতিবেদন মতে, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এসব কার্যক্রমের বিস্তার দেশের জন্য ক্রমবর্ধমান আর্থিক ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এসব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্‌ম মানুষের আসক্তিমূলক ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং সীমান্ত পেরিয়ে অর্থ পাচারের সুযোগ তৈরি করছে।

নিষিদ্ধ এসব আর্থিক কর্মকাণ্ড দমনে গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদে জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬ পাস হয়েছে। নতুন আইনে অনলাইন বেটিং, ডিজিটাল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া এবং ম্যাচ ফিক্সিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আইনটি সরকারকে জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাপ ও ওয়েবসাইট বন্ধ করার পাশাপাশি, এ ধরনের কার্যক্রমে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব জব্দ করার ক্ষমতা দিয়েছে। একইসঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা বাতিল করে জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধ নতুন আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত