
একই মঞ্চে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এমন দৃশ্য বিশ্ব রাজনীতি পরিবর্তনের একটি বড় বার্তা। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরান, পাকিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর নেতারা।
ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরানকে ঘিরে সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের সময় এবারের সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলন তাই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে এসসিওর ২৬তম শীর্ষ সম্মেলন। ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর নেতারা নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন।
এসসিও হলো ইউরেশিয়ার একটি বহুপক্ষীয় রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম। ২০০১ সালে চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান মিলে এটি প্রতিষ্ঠা করে। পরে ভারত, পাকিস্তান, ইরান ও বেলারুশ পূর্ণ সদস্য হয়েছে।
তবে এসসিও ন্যাটোর মতো সামরিক জোট নয়। সংগঠনটির নিজস্ব যৌথ সামরিক কমান্ড বা সদস্যদের জন্য ন্যাটোর ‘একজনের ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা’ ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। এসসিও নিজেও বলছে, এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত জোট নয়। এর মূল লক্ষ্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবিলা, সীমান্ত নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়ানো।
এসসিওর এবারের বৈঠক এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন বিশ্ব রাজনীতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সংঘাত। এর প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজার, সমুদ্রপথ, সরবরাহব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে।
এসসিওর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জুলাইয়ের বৈঠকেই ইরান পরিস্থিতি, সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বহুপাক্ষিক বাণিজ্যব্যবস্থা নিয়ে জোর দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, এসসিও এখন শুধু মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করার জায়গা নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির বড় প্রশ্নগুলো নিয়েও এখানে আলোচনা হয়।
এবারের সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ। মোদি পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে যুদ্ধের অবসান এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। অন্যদিকে রাশিয়া তার নিজস্ব অবস্থান বজায় রেখেছে।
ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতও ছিল গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ভারতের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, জ্বালানি সরবরাহ, সমুদ্রপথ ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় সরাসরি প্রভাব রয়েছে।
এর বাইরে ছিল সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার, সীমান্ত নিরাপত্তা, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা। এসসিও দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবিলাকে তার নিরাপত্তা সহযোগিতার অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে দেখছে। তাছাড়া অর্থনৈতিক দিকেও গুরুত্ব বাড়ছে। সদস্য দেশগুলো পারস্পরিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পরিবহন ও লজিস্টিকস, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করছে।
একই মঞ্চে বসলেও তিন দেশের স্বার্থ পুরোপুরি এক নয়। চীনের প্রধান লক্ষ্য হলো ইউরেশিয়ায় তার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে আরও বহুমেরুকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। শি-পুতিন বৈঠকেও দুই নেতা বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কার ও আরও ‘বহুমেরু’ বিশ্বব্যবস্থার কথা বলেছেন।
রাশিয়ার জন্য এসসিও আরও গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও ইউক্রেন যুদ্ধের পর মস্কো এশিয়া ও গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চাইছে। চীন ও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও জ্বালানি সম্পর্ক তাই রাশিয়ার জন্য বড় স্বার্থ।
অন্যদিকে, ভারতের হিসাব কিছুটা আলাদা। নয়াদিল্লি চীন বা রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন কোনো শিবিরে পুরোপুরি যেতে চায় না। এসসিও, ব্রিকস, কোয়াড সব প্ল্যাটফর্মেই একসঙ্গে সক্রিয় থেকে নিজের কৌশলগত স্বাধীনতা ধরে রাখতে চায়।
এসসিও সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী জোট নয়, তবে মার্কিন প্রভাব ঠেকাতে এটি ক্রমেই পাল্টা শক্তির মঞ্চ হয়ে উঠছে। চীন ও রাশিয়া প্রকাশ্যেই বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে। এসসিওর নথিতেও একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থার সংস্কারের কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু সংগঠনটির সদস্যদের স্বার্থ এক নয়। ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধ রয়েছে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কও বৈরী। আবার ভারত একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কোয়াডে কাজ করছে। ফলে এসসিওকে একক ‘অ্যান্টি-আমেরিকা ব্লক’ হিসেবে দেখলে বাস্তবতাকে অতি সরল মনে হবে।
এসসিওর বড় পরিবর্তন হলো এটি এখন এমন একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার বাইরে থাকা কিংবা তার সঙ্গে ভারসাম্য রাখতে চাওয়া বড় শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থ সমন্বয় করতে পারছে। এ কারণেই এবারের সম্মেলনের গুরুত্ব শুধু একটি আঞ্চলিক জোটের বৈঠকে সীমাবদ্ধ নয়। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে ইরান সংকট, জ্বালানি থেকে বাণিজ্য এসসিওর আলোচনায় উঠে আসছে বদলে যাওয়া বিশ্বরাজনীতির বাস্তব চিত্র।
.png)

মাসের শুরুতে বেতন হাতে এলেই স্বস্তি ফেরে কর্মজীবীদের জীবনে। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয় না। বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিল, বাজার-সদাই, সন্তানের পড়াশোনা, যাতায়াত, চিকিৎসার খরচ ইত্যাদি নানা খাতে এক এক করে বেতনের বড় অংশ চলে যায়।
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে নভেম্বর পর্যন্ত এশিয়া ও ইউরোপে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বাতিল করেছে কাতার এনার্জি। এর ফলে বাংলাদেশসহ আমদানিকারক দেশগুলোতে সংকট আরও বাড়বে। ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানকে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে যে সরবরাহ বাতিলের এই প্রক্রিয়া অক্টোবর পর্যন
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনে, তাহলে দেশের বিমানবাহিনীর সক্ষমতা নিঃসন্দেহে বাড়বে। কিন্তু এর সঙ্গে আরেকটি প্রশ্নও সামনে আসছে—নতুন যুদ্ধবিমান কেনার মাধ্যমে বাংলাদেশ কি ধীরে ধীরে চীনের আরও বড় একটি সামরিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে? বাংলাদেশের জে-১০সিই কেনার প্রস্
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কর্ণফুলী নদীর তীরে লালদিয়া চর। সেখানে ঝোপঝাড় আর ঘাসের জঙ্গল। কোনো বসতি নেই। প্রায় অবকাঠামোহীন একটি এলাকা। কিন্তু বদলে যাচ্ছে সেই চিরচেনা দৃশ্য। এখন সেখানেই তৈরি হচ্ছে এমন একটি কনটেইনার টার্মিনাল, যা বাংলাদেশের বৈশ্বিক বাণিজ্যের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গত রোববার (
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬