ভারতের আলোকচিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ এবং লেন্সের জাদুকর রঘু রাই আর নেই। গত দুই বছর ধরে তিনি প্রোস্টেট এবং পাকস্থলীর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ক্যানসার তাঁর মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে পর্যন্তও তিনি তাঁর প্রিয় ক্যামেরা হাতে ছবি তুলে গেছেন।
অনন্ত রায়হান

ভারতের প্রখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাই বলেছিলেন, তিনি ক্যামেরা ছাড়া কখনোই ধ্যান বা মেডিটেশন করতে পারতেন না। বেশ কয়েকবার চোখ বন্ধ করে ধ্যানে বসার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছেন। লেন্সের পেছনে দাঁড়ানোই ছিল তাঁর ধ্যানের একমাত্র পথ। সেখানেই নিজেকে খুঁজে পেতেন এবং এক প্রকার আধ্যাত্মিক স্তরে পৌঁছে যেতেন।
রঘু রাইয়ের কাছে ছবি তোলা ছিল অনেকটা ‘দর্শন’-এর মতো। বিশ্বাস করতেন, ছবি মানে কেবল দৃশ্যত কোনো কিছুকে বন্দি করা নয়। সেই মুহূর্তের সামগ্রিকতা, আবেগ, অনুভূতি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে সেই মুহূর্তের ‘এনার্জি’ বা শক্তিকেও ধারণ করা।
রঘুর ছবিগুলো ছিল সরল, কিন্তু জাদুকরী। দীর্ঘ ছয় দশকের ক্যারিয়ারে মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগ পর্যন্তও তাঁর আঙুল ক্যামেরার সাটারে সচল ছিল। তাঁর এই নিরলস যাত্রা ছিল মূলত নিজের ‘অহং’-এর সঙ্গে লড়াই, যেখানে তিনি গতানুগতিক কম্পোজিশন ভেঙে মুহূর্তের সার্থকতা খুঁজে নিতেন।

রঘু রাইয়ের কাছে আলোকচিত্র এবং আধ্যাত্মিকতা ছিল অবিচ্ছেদ্য। ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপের এডিটোরিয়াল ডিরেক্টর রাজ চেঙ্গাপ্পা রঘুর সঙ্গে কাজ করার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘আশির দশকে যখন তিনি তরুণ সাংবাদিক হিসেবে রঘুর সঙ্গে কাজ শুরু করেন, তখন তাঁর তীব্র একাগ্রতা ও মনোযোগ সবাইকে মুগ্ধ করত।’
রাজ আরও জানিয়েছেন, ‘রঘু রাই যখন কারও দিকে তাকাতেন বা কোনো কিছুর দিকে লেন্স তাক করতেন, তিনি সেখানে সম্পূর্ণভাবে উপস্থিত থাকতেন। পারিপার্শ্বিক কোনো পরিস্থিতি তাঁকে বিচলিত করতে পারত না। তাঁর মধ্যে ছিল শিশুর মতো কৌতূহল এবং সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে থাকা মুহূর্তগুলো খুঁজে বের করার অদ্ভুত ক্ষমতা।’
রঘু রাইয়ের আলোকচিত্রী হওয়ার গল্পটা ছিল নেহাতই আকস্মিক। ১৯৬০-এর দশকে একদিন একঘেয়েমি কাটাতে তিনি তাঁর বড় ভাই প্রখ্যাত আলোকচিত্রী এস. পলের ক্যামেরা হাতে নিয়েছিলেন। শখের বশে তিনি গাধার ছবি তুলেছিলেন। গাধাটি সরাসরি লেন্সের দিকে তাকিয়ে ছিল। তাঁর ভাই সেই ছবি লন্ডনের ‘দ্য টাইমস’ পত্রিকায় পাঠিয়ে দেন। ছবিটা প্রকাশিত হয়।

সেই শুরু, এরপর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৬৬ সালে তিনি ‘দ্য স্টেটসম্যান’ পত্রিকায় চিফ ফটোগ্রাফার হিসেবে যোগ দেন।
পরবর্তী সময়ে রঘু ভারতের ইতিহাসের অন্যতম প্রধান সাক্ষী হয়ে ওঠেন। রাজনীতির মঞ্চে ইন্দিরা গান্ধীর তেজস্বী রূপ থেকে শুরু করে মাদার তেরেসা বা দালাই লামার স্নিগ্ধতা—সবই রঘুর ক্যামেরায় পেয়েছে নতুন মাত্রা। তিনি মনে করতেন, ইতিহাস বারবার লেখা বা পুনর্লিখন করা যায়, কিন্তু ‘ভিজ্যুয়াল হিস্ট্রি’ বা ছবির ইতিহাস কখনো বদলানো যায় না।

১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং শরণার্থী শিবিরের সেই হাহাকার তিনি তাঁর লেন্সে বন্দি করেছিলেন। মানুষের চোখের শূন্যতা আর যন্ত্রণার সেই ছবিগুলো কোনো শব্দ ছাড়াই ইতিহাসের ট্র্যাজেডি তুলে ধরেছিল। এই কাজের জন্য ১৯৭২ সালে তিনি ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত হন। তিনিই ছিলেন ভারতের প্রথম ফটোসাংবাদিক যিনি এই বেসামরিক সম্মান লাভ করেন।
রঘু রাইয়ের কাছে ফটোগ্রাফি ছিল বর্তমান সময়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা। তিনি ‘ওয়াইড অ্যাঙ্গেল’ লেন্স ব্যবহার করতে পছন্দ করতেন। তাঁর মতে, এতে পরিস্থিতির একদম ভেতরে গিয়ে ছবি তোলা যায়। আজকের দিনে ফটোগ্রাফাররা দূর থেকে টেলিফটো লেন্স দিয়ে ছবি তোলেন, কিন্তু রঘু রাই থাকতে চাইতেন ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিষয়ের একদম কাছে গিয়ে তার স্পন্দন অনুভব করাই ছিল তাঁর বৈশিষ্ট্য।

রঘু রাই বলতেন, ‘আপনি যদি মনে করেন সব শিখে ফেলেছেন, তবে আপনার শেখার পথ বন্ধ হয়ে গেল।’ বারাণসী বা বেনারস শহর তাঁকে খুব টানত। সেখানকার শ্মশানঘাট, গঙ্গার আরতি আর চায়ের দোকানের সাধারণ আড্ডা—সবই তাঁর লেন্সে অসাধারণ ভাবে এসেছে। তাঁর মতে, বেনারস এমন জায়গা যা পোজ দিতে জানে না। আর এই কৃত্রিমতাহীনতাই ছিল তাঁর ছবির প্রাণ।

মাদার তেরেসা বা দালাই লামার মতো মানুষদের ছবি তোলার সময় রঘু বলতেন, তিনি যেন এই মানুষগুলোর মধ্যে ঐশ্বরিক জ্যোতি বা ‘ডিভিনিটি’ দেখতে পাচ্ছেন। ফটোগ্রাফি ছিল তাঁর কাছে জীবনের চিরন্তন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার একটি মাধ্যম—আমরা কে এবং কোথায় আমাদের গন্তব্য। ১৯৮৪ সালের ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডির সেই ভয়াবহ ছবি, যেখানে এক বাবা তাঁর মৃত সন্তানকে দাফন করছেন, তা আজও বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দেয়।
রঘু রাই ৫৬টি বই লিখে গেছেন। ৫৭তম বইয়ের কাজ চলমান ছিল। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘রঘু রাই ফাউন্ডেশন’-এ তাঁর তোলা ৫০ হাজারেরও বেশি ছবির আর্কাইভ রয়েছে। তাঁর কাজগুলো কেবল ভারতের নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সমানভাবে আদৃত। টাইম, লাইফ, নিউইয়র্ক টাইমস এবং নিউ ইয়র্কারের মতো বিখ্যাত সব প্রকাশনীতে তা নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে।

রঘু রাই আজ সশরীরে নেই, কিন্তু রেখে যাওয়া হাজার হাজার ছবি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়ে যাবে। বিশ্বের অগণিত আলোকচিত্র প্রেমীর হৃদয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন। তাঁর সেই জাদুকরী লেন্স আর কখনো নতুন কোনো মুহূর্তকে বন্দি করবে না ঠিকই, কিন্তু যে মুহূর্তগুলো তিনি দিয়ে গেছেন, তা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষকে পথ দেখাবে। আর তিনি সেই বিস্তৃত মহাকাশে জায়গা করে নিয়েছেন, যেখানে কেবল রয়েছে আলো আর ছায়ার অনন্ত খেলা।

ভারতের প্রখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাই বলেছিলেন, তিনি ক্যামেরা ছাড়া কখনোই ধ্যান বা মেডিটেশন করতে পারতেন না। বেশ কয়েকবার চোখ বন্ধ করে ধ্যানে বসার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছেন। লেন্সের পেছনে দাঁড়ানোই ছিল তাঁর ধ্যানের একমাত্র পথ। সেখানেই নিজেকে খুঁজে পেতেন এবং এক প্রকার আধ্যাত্মিক স্তরে পৌঁছে যেতেন।
রঘু রাইয়ের কাছে ছবি তোলা ছিল অনেকটা ‘দর্শন’-এর মতো। বিশ্বাস করতেন, ছবি মানে কেবল দৃশ্যত কোনো কিছুকে বন্দি করা নয়। সেই মুহূর্তের সামগ্রিকতা, আবেগ, অনুভূতি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে সেই মুহূর্তের ‘এনার্জি’ বা শক্তিকেও ধারণ করা।
রঘুর ছবিগুলো ছিল সরল, কিন্তু জাদুকরী। দীর্ঘ ছয় দশকের ক্যারিয়ারে মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগ পর্যন্তও তাঁর আঙুল ক্যামেরার সাটারে সচল ছিল। তাঁর এই নিরলস যাত্রা ছিল মূলত নিজের ‘অহং’-এর সঙ্গে লড়াই, যেখানে তিনি গতানুগতিক কম্পোজিশন ভেঙে মুহূর্তের সার্থকতা খুঁজে নিতেন।

রঘু রাইয়ের কাছে আলোকচিত্র এবং আধ্যাত্মিকতা ছিল অবিচ্ছেদ্য। ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপের এডিটোরিয়াল ডিরেক্টর রাজ চেঙ্গাপ্পা রঘুর সঙ্গে কাজ করার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘আশির দশকে যখন তিনি তরুণ সাংবাদিক হিসেবে রঘুর সঙ্গে কাজ শুরু করেন, তখন তাঁর তীব্র একাগ্রতা ও মনোযোগ সবাইকে মুগ্ধ করত।’
রাজ আরও জানিয়েছেন, ‘রঘু রাই যখন কারও দিকে তাকাতেন বা কোনো কিছুর দিকে লেন্স তাক করতেন, তিনি সেখানে সম্পূর্ণভাবে উপস্থিত থাকতেন। পারিপার্শ্বিক কোনো পরিস্থিতি তাঁকে বিচলিত করতে পারত না। তাঁর মধ্যে ছিল শিশুর মতো কৌতূহল এবং সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে থাকা মুহূর্তগুলো খুঁজে বের করার অদ্ভুত ক্ষমতা।’
রঘু রাইয়ের আলোকচিত্রী হওয়ার গল্পটা ছিল নেহাতই আকস্মিক। ১৯৬০-এর দশকে একদিন একঘেয়েমি কাটাতে তিনি তাঁর বড় ভাই প্রখ্যাত আলোকচিত্রী এস. পলের ক্যামেরা হাতে নিয়েছিলেন। শখের বশে তিনি গাধার ছবি তুলেছিলেন। গাধাটি সরাসরি লেন্সের দিকে তাকিয়ে ছিল। তাঁর ভাই সেই ছবি লন্ডনের ‘দ্য টাইমস’ পত্রিকায় পাঠিয়ে দেন। ছবিটা প্রকাশিত হয়।

সেই শুরু, এরপর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৬৬ সালে তিনি ‘দ্য স্টেটসম্যান’ পত্রিকায় চিফ ফটোগ্রাফার হিসেবে যোগ দেন।
পরবর্তী সময়ে রঘু ভারতের ইতিহাসের অন্যতম প্রধান সাক্ষী হয়ে ওঠেন। রাজনীতির মঞ্চে ইন্দিরা গান্ধীর তেজস্বী রূপ থেকে শুরু করে মাদার তেরেসা বা দালাই লামার স্নিগ্ধতা—সবই রঘুর ক্যামেরায় পেয়েছে নতুন মাত্রা। তিনি মনে করতেন, ইতিহাস বারবার লেখা বা পুনর্লিখন করা যায়, কিন্তু ‘ভিজ্যুয়াল হিস্ট্রি’ বা ছবির ইতিহাস কখনো বদলানো যায় না।

১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং শরণার্থী শিবিরের সেই হাহাকার তিনি তাঁর লেন্সে বন্দি করেছিলেন। মানুষের চোখের শূন্যতা আর যন্ত্রণার সেই ছবিগুলো কোনো শব্দ ছাড়াই ইতিহাসের ট্র্যাজেডি তুলে ধরেছিল। এই কাজের জন্য ১৯৭২ সালে তিনি ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত হন। তিনিই ছিলেন ভারতের প্রথম ফটোসাংবাদিক যিনি এই বেসামরিক সম্মান লাভ করেন।
রঘু রাইয়ের কাছে ফটোগ্রাফি ছিল বর্তমান সময়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা। তিনি ‘ওয়াইড অ্যাঙ্গেল’ লেন্স ব্যবহার করতে পছন্দ করতেন। তাঁর মতে, এতে পরিস্থিতির একদম ভেতরে গিয়ে ছবি তোলা যায়। আজকের দিনে ফটোগ্রাফাররা দূর থেকে টেলিফটো লেন্স দিয়ে ছবি তোলেন, কিন্তু রঘু রাই থাকতে চাইতেন ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিষয়ের একদম কাছে গিয়ে তার স্পন্দন অনুভব করাই ছিল তাঁর বৈশিষ্ট্য।

রঘু রাই বলতেন, ‘আপনি যদি মনে করেন সব শিখে ফেলেছেন, তবে আপনার শেখার পথ বন্ধ হয়ে গেল।’ বারাণসী বা বেনারস শহর তাঁকে খুব টানত। সেখানকার শ্মশানঘাট, গঙ্গার আরতি আর চায়ের দোকানের সাধারণ আড্ডা—সবই তাঁর লেন্সে অসাধারণ ভাবে এসেছে। তাঁর মতে, বেনারস এমন জায়গা যা পোজ দিতে জানে না। আর এই কৃত্রিমতাহীনতাই ছিল তাঁর ছবির প্রাণ।

মাদার তেরেসা বা দালাই লামার মতো মানুষদের ছবি তোলার সময় রঘু বলতেন, তিনি যেন এই মানুষগুলোর মধ্যে ঐশ্বরিক জ্যোতি বা ‘ডিভিনিটি’ দেখতে পাচ্ছেন। ফটোগ্রাফি ছিল তাঁর কাছে জীবনের চিরন্তন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার একটি মাধ্যম—আমরা কে এবং কোথায় আমাদের গন্তব্য। ১৯৮৪ সালের ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডির সেই ভয়াবহ ছবি, যেখানে এক বাবা তাঁর মৃত সন্তানকে দাফন করছেন, তা আজও বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দেয়।
রঘু রাই ৫৬টি বই লিখে গেছেন। ৫৭তম বইয়ের কাজ চলমান ছিল। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘রঘু রাই ফাউন্ডেশন’-এ তাঁর তোলা ৫০ হাজারেরও বেশি ছবির আর্কাইভ রয়েছে। তাঁর কাজগুলো কেবল ভারতের নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সমানভাবে আদৃত। টাইম, লাইফ, নিউইয়র্ক টাইমস এবং নিউ ইয়র্কারের মতো বিখ্যাত সব প্রকাশনীতে তা নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে।

রঘু রাই আজ সশরীরে নেই, কিন্তু রেখে যাওয়া হাজার হাজার ছবি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়ে যাবে। বিশ্বের অগণিত আলোকচিত্র প্রেমীর হৃদয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন। তাঁর সেই জাদুকরী লেন্স আর কখনো নতুন কোনো মুহূর্তকে বন্দি করবে না ঠিকই, কিন্তু যে মুহূর্তগুলো তিনি দিয়ে গেছেন, তা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষকে পথ দেখাবে। আর তিনি সেই বিস্তৃত মহাকাশে জায়গা করে নিয়েছেন, যেখানে কেবল রয়েছে আলো আর ছায়ার অনন্ত খেলা।
.png)
চিত্রশিল্পী তৌহিন হাসান ঘুরে দেখেছেন দেশ-বিদেশের বিখ্যাত সব আর্ট মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারি। প্রতিটি সংগ্রহশালায় ক্যানভাস থেকে ক্যানভাসে তিনি খুঁজেছেন শিল্পের ভাষা; রঙ, আলো আর তুলির আঁচড়ে অনুভব করেছেন শিল্পীদের জীবন, সময় ও সৃষ্টির গল্প। সেই শিল্পভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হলো নতুন ধারাবাহিক
৩ ঘণ্টা আগে
ইন্টারনেটের হাজারো নেতিবাচকতার ভিড়ে প্রাণীদের ‘কিউট’ ভিডিও ছিল এক চিলতে স্বস্তি। কিন্তু এআই-এর যুগে সেই নির্ভেজাল বিশ্বাসে এখন ফাটল ধরেছে। কোনো ভিডিও দেখে হাসার বদলে আমাদের মনে আগে প্রশ্ন জাগছে, এটি কি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি? অবিশ্বাসের এই ডিজিটাল চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের ছোট ছোট আনন্দ
২৫ জুলাই ২০২৬
সমকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জনপ্রিয়তা ও মননশীলতার মেলবন্ধনের দুর্লভ উদাহরণ তিনি। সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তিনি একজন কর্মবীর। আজ তিনি সাতাশি বছর পূর্ণ করলেন।
২৫ জুলাই ২০২৬
এইতো কিছুদিন আগে কথা। অফিস থেকে বেরিয়ে বিশেষ একটি কাজে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠেছিলাম। বিকেলের ব্যস্ত ঢাকার চিরচেনা যানজটে রিকশাটি একসময় থেমে গেল। চারপাশে শুধু হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর অসংখ্য গাড়ির সারি। ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে ভেসে এলো এক পরিচিত সুর ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা’…!
২৫ জুলাই ২০২৬