মাহজাবিন নাফিসা

পয়লা বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম ধুমধাম করে পালন করা উৎসব। এটি শুধু একটি দিন নয়, একটি সমষ্টিগত আচার। শহর আর গ্রামে এই দিনটিতে মানুষ নিজেরাই বিভিন্ন উপায়ে উদযাপন করত। দোকানের হালখাতা, পাড়ার মাঠে মেলা, নাগরদোলা, গ্রামীণ খেলাধুলা—সব মিলিয়ে বৈশাখ উদযাপন আড়ম্ববরপূর্ণ হলেও এর চেহারা ছিল বেশ সাদামাটা। কোথাও একক মেলা বা কন্সার্ট নয় বরং উৎসবের কেন্দ্রে ছিল মানুষ, তাদের অংশগ্রহণ।
তবে গ্রামীণ এই ধারা এখন অনেকটাই বদলে গেছে। পাড়ার মাঠ বা বাজার থেকে এই মেলা চলে এসেছে অভিজাতদের দখলে। ঢাকায় এই উদযাপনের একটি সাংস্কৃতিক রূপ ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে। ছায়ানটের হাত ধরেই মূলত এই যাত্রা। ভোরে রমনা বটমূলে গান দিয়ে বর্ষবরণের যে প্রথা, তা সময়ের সঙ্গে বৈশাখের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকে পরিণত হয়েছে। পরে বৈশাখী শোভাযাত্রা যুক্ত হয়, যা এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ইউনেস্কো বৈশাখের শোভাযাত্রাকে মানবজাতির অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বা ‘বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
সময়ের সঙ্গে সেই চিত্রে পরিবর্তন এসেছে ধীরে ধীরে, কিন্তু দৃশ্যমানভাবে। আজকের ঢাকায় পয়লা বৈশাখ শুধু রমনা বটমূলকেন্দ্রিক নয়, এটি এখন একাধিক আয়োজনের সমষ্টি—এক ধরনের ‘ইভেন্ট ক্লাস্টার’। শহরের বিভিন্ন নির্দিষ্ট জায়গায় প্রোগ্রাম, মঞ্চ, সময়সূচি—সব মিলিয়ে উৎসবটি অনেক বেশি ছকে বাঁধা হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তনটা হঠাৎ নয় বরং নগর জীবনের চাপ, অবকাশ উদযাপন, সামাজিক চাপ থেকেই শুরু হয়েছে।

নিরাপত্তা এই পরিবর্তনের একটি বড় কারণ। বড় জনসমাগম এখন পরিকল্পনার বাইরে ভাবা যায় না। ফলে রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা বা শহীদ মিনারের মতো জায়গাগুলোতে প্রবেশ, চলাচল, এমনকি অবস্থান—সবকিছুই এখন অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত। এছাড়াও, এর আগে এমন দিনে ভয়াবহ নারী হেনস্থার ঘটনাও ঘটেছে। তাই এই নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজনীয় হলেও, এটি স্বাভাবিকভাবেই সেই পুরোনো স্বতঃস্ফূর্ততার জায়গাকে কিছুটা সংকুচিত করে দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারিয়া বলেন, ‘আগে টিএসসি এলাকাতেই আমরা পয়লা বৈশাখে ঘুরতে আসতাম। এখন এদিকে এলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি, তাই নিরাপত্তা ব্যাবস্থা আছে এমন কোথাও এবার যাব।’
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মিডিয়া ও ভিজ্যুয়াল সংস্কৃতির প্রভাব। পয়লা বৈশাখ এখন শুধু অংশগ্রহণের উৎসব নয়, এটি একটি দেখার মতো ইভেন্টও। টেলিভিশন, অনলাইন লাইভ, সামাজিক মাধ্যম— সবকিছু মিলিয়ে আয়োজনগুলো এখন অনেক বেশি ‘প্রেজেন্টেবল’ করে তৈরি করা হয়। ফলে উৎসবের অভিজ্ঞতা যেমন বদলেছে, তেমনি বদলেছে সেটিকে উপস্থাপন করার ভাষাও।
বর্তমানে অর্থনীতিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বৈশাখ এখন একটি বড় ‘সিজনাল বাজার’। পোশাক ব্র্যান্ড, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, ইভেন্ট কোম্পানি—সবাই এই সময়কে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা করে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় থিমভিত্তিক আয়োজন, নির্দিষ্ট প্যাকেজ, টিকিট-ভিত্তিক ইভেন্ট—এসব এখন খুব স্বাভাবিক চিত্র।
উৎসবটি তাই কেবল সাংস্কৃতিক নয়, বরং একটি সক্রিয় অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও পরিণত হয়েছে। রাজধানীর আর্কা বৈশাখী বা রিস্কা ফেস্টের মতো কয়েক দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হচ্ছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো বেচাকেনা।
সকালে লাল-সাদা পোশাকে মানুষের ভিড়, খোলা জায়গায় গান; আর বিকেলে কোথাও টিকিট কেটে ঢুকতে হয় এমন কনসার্ট, আলোয় সাজানো মঞ্চ—দুটোই বৈশাখ, কিন্তু অভিজ্ঞতা আলাদা। এইসব ছোট ছোট দৃশ্যই বৈশাখী উৎসবের পরিবর্তনকে স্পষ্ট করে দেয়।
আগের বৈশাখ ছিল বেশ কিছু ছোট ছোট কেন্দ্রের সমষ্টি—পাড়া, গ্রাম, বাজার, স্কুল। এখন সেই বিকেন্দ্রীভূত চিত্রটি অনেকটাই সরে এসে শহরের ৩০০ ফিটের কোর্টইয়ার্ড, রবীন্দ্র সরোবর, কামাল আতার্তুক পার্ক, শেরাটন হোটেলের মতো কয়েকটি নির্দিষ্ট ‘হটস্পট’ এ কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
এই পরিবর্তনগুলোকে একপাক্ষিকভাবে দেখা কঠিন। একদিকে এটি বৈশাখকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে গেছে, নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় করেছে, অর্থনৈতিক কার্যক্রম তৈরি করেছে। অন্যদিকে, এটি প্রশ্নও তুলেছে—উৎসবের মূল যে স্বতঃস্ফূর্ততা, যে অংশগ্রহণভিত্তিক আনন্দ, সেটি কতটা অটুট আছে।

পয়লা বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম ধুমধাম করে পালন করা উৎসব। এটি শুধু একটি দিন নয়, একটি সমষ্টিগত আচার। শহর আর গ্রামে এই দিনটিতে মানুষ নিজেরাই বিভিন্ন উপায়ে উদযাপন করত। দোকানের হালখাতা, পাড়ার মাঠে মেলা, নাগরদোলা, গ্রামীণ খেলাধুলা—সব মিলিয়ে বৈশাখ উদযাপন আড়ম্ববরপূর্ণ হলেও এর চেহারা ছিল বেশ সাদামাটা। কোথাও একক মেলা বা কন্সার্ট নয় বরং উৎসবের কেন্দ্রে ছিল মানুষ, তাদের অংশগ্রহণ।
তবে গ্রামীণ এই ধারা এখন অনেকটাই বদলে গেছে। পাড়ার মাঠ বা বাজার থেকে এই মেলা চলে এসেছে অভিজাতদের দখলে। ঢাকায় এই উদযাপনের একটি সাংস্কৃতিক রূপ ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে। ছায়ানটের হাত ধরেই মূলত এই যাত্রা। ভোরে রমনা বটমূলে গান দিয়ে বর্ষবরণের যে প্রথা, তা সময়ের সঙ্গে বৈশাখের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকে পরিণত হয়েছে। পরে বৈশাখী শোভাযাত্রা যুক্ত হয়, যা এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ইউনেস্কো বৈশাখের শোভাযাত্রাকে মানবজাতির অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বা ‘বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
সময়ের সঙ্গে সেই চিত্রে পরিবর্তন এসেছে ধীরে ধীরে, কিন্তু দৃশ্যমানভাবে। আজকের ঢাকায় পয়লা বৈশাখ শুধু রমনা বটমূলকেন্দ্রিক নয়, এটি এখন একাধিক আয়োজনের সমষ্টি—এক ধরনের ‘ইভেন্ট ক্লাস্টার’। শহরের বিভিন্ন নির্দিষ্ট জায়গায় প্রোগ্রাম, মঞ্চ, সময়সূচি—সব মিলিয়ে উৎসবটি অনেক বেশি ছকে বাঁধা হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তনটা হঠাৎ নয় বরং নগর জীবনের চাপ, অবকাশ উদযাপন, সামাজিক চাপ থেকেই শুরু হয়েছে।

নিরাপত্তা এই পরিবর্তনের একটি বড় কারণ। বড় জনসমাগম এখন পরিকল্পনার বাইরে ভাবা যায় না। ফলে রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা বা শহীদ মিনারের মতো জায়গাগুলোতে প্রবেশ, চলাচল, এমনকি অবস্থান—সবকিছুই এখন অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত। এছাড়াও, এর আগে এমন দিনে ভয়াবহ নারী হেনস্থার ঘটনাও ঘটেছে। তাই এই নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজনীয় হলেও, এটি স্বাভাবিকভাবেই সেই পুরোনো স্বতঃস্ফূর্ততার জায়গাকে কিছুটা সংকুচিত করে দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারিয়া বলেন, ‘আগে টিএসসি এলাকাতেই আমরা পয়লা বৈশাখে ঘুরতে আসতাম। এখন এদিকে এলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি, তাই নিরাপত্তা ব্যাবস্থা আছে এমন কোথাও এবার যাব।’
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মিডিয়া ও ভিজ্যুয়াল সংস্কৃতির প্রভাব। পয়লা বৈশাখ এখন শুধু অংশগ্রহণের উৎসব নয়, এটি একটি দেখার মতো ইভেন্টও। টেলিভিশন, অনলাইন লাইভ, সামাজিক মাধ্যম— সবকিছু মিলিয়ে আয়োজনগুলো এখন অনেক বেশি ‘প্রেজেন্টেবল’ করে তৈরি করা হয়। ফলে উৎসবের অভিজ্ঞতা যেমন বদলেছে, তেমনি বদলেছে সেটিকে উপস্থাপন করার ভাষাও।
বর্তমানে অর্থনীতিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বৈশাখ এখন একটি বড় ‘সিজনাল বাজার’। পোশাক ব্র্যান্ড, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, ইভেন্ট কোম্পানি—সবাই এই সময়কে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা করে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় থিমভিত্তিক আয়োজন, নির্দিষ্ট প্যাকেজ, টিকিট-ভিত্তিক ইভেন্ট—এসব এখন খুব স্বাভাবিক চিত্র।
উৎসবটি তাই কেবল সাংস্কৃতিক নয়, বরং একটি সক্রিয় অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও পরিণত হয়েছে। রাজধানীর আর্কা বৈশাখী বা রিস্কা ফেস্টের মতো কয়েক দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হচ্ছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো বেচাকেনা।
সকালে লাল-সাদা পোশাকে মানুষের ভিড়, খোলা জায়গায় গান; আর বিকেলে কোথাও টিকিট কেটে ঢুকতে হয় এমন কনসার্ট, আলোয় সাজানো মঞ্চ—দুটোই বৈশাখ, কিন্তু অভিজ্ঞতা আলাদা। এইসব ছোট ছোট দৃশ্যই বৈশাখী উৎসবের পরিবর্তনকে স্পষ্ট করে দেয়।
আগের বৈশাখ ছিল বেশ কিছু ছোট ছোট কেন্দ্রের সমষ্টি—পাড়া, গ্রাম, বাজার, স্কুল। এখন সেই বিকেন্দ্রীভূত চিত্রটি অনেকটাই সরে এসে শহরের ৩০০ ফিটের কোর্টইয়ার্ড, রবীন্দ্র সরোবর, কামাল আতার্তুক পার্ক, শেরাটন হোটেলের মতো কয়েকটি নির্দিষ্ট ‘হটস্পট’ এ কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
এই পরিবর্তনগুলোকে একপাক্ষিকভাবে দেখা কঠিন। একদিকে এটি বৈশাখকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে গেছে, নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় করেছে, অর্থনৈতিক কার্যক্রম তৈরি করেছে। অন্যদিকে, এটি প্রশ্নও তুলেছে—উৎসবের মূল যে স্বতঃস্ফূর্ততা, যে অংশগ্রহণভিত্তিক আনন্দ, সেটি কতটা অটুট আছে।
.png)

ইন্টারনেটের হাজারো নেতিবাচকতার ভিড়ে প্রাণীদের ‘কিউট’ ভিডিও ছিল এক চিলতে স্বস্তি। কিন্তু এআই-এর যুগে সেই নির্ভেজাল বিশ্বাসে এখন ফাটল ধরেছে। কোনো ভিডিও দেখে হাসার বদলে আমাদের মনে আগে প্রশ্ন জাগছে, এটি কি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি? অবিশ্বাসের এই ডিজিটাল চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের ছোট ছোট আনন্দ
১৬ ঘণ্টা আগে
সমকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জনপ্রিয়তা ও মননশীলতার মেলবন্ধনের দুর্লভ উদাহরণ তিনি। সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তিনি একজন কর্মবীর। আজ তিনি সাতাশি বছর পূর্ণ করলেন।
১৬ ঘণ্টা আগে
এইতো কিছুদিন আগে কথা। অফিস থেকে বেরিয়ে বিশেষ একটি কাজে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠেছিলাম। বিকেলের ব্যস্ত ঢাকার চিরচেনা যানজটে রিকশাটি একসময় থেমে গেল। চারপাশে শুধু হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর অসংখ্য গাড়ির সারি। ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে ভেসে এলো এক পরিচিত সুর ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা’…!
১৯ ঘণ্টা আগে
প্রাক-আধুনিক যুগের আদর্শবাদী তারুণ্য থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের টেক-স্যাভি ‘জেন জি’ প্রজন্ম—প্রতিটি যুগের তারুণ্যের রক্তস্রোত প্রমাণ করেছে যে বন্দুকের নল বা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন দিয়ে মানুষের মুক্তির স্পৃহাকে চিরতরে বন্দি করা যায় না। আর এই প্রতিটি রক্তঝরা লড়াইয়ে নারীর সক্রিয়, সমান্তরাল, আপসহীন ও বীরত্বপূ
১৯ ঘণ্টা আগে