মুহাম্মদ সাজ্জাদ সিদ্দিক

সম্প্রতি আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী একজন মেজর পদবির সেনা অফিসারকে গ্রেপ্তার করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই মেজরের বিরুদ্ধে ১৯৮১ সালের মে মাসে চট্টগ্রামে সংঘটিত সেনা বিদ্রোহে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে; যে ঘটনায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ আরও কয়েকজন সেনাসদস্য শাহাদাত বরণ করেন।
গ্রেপ্তারকৃত সেনা অফিসারের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ হলো—১৯৮১ সালে সংঘটিত সেনা বিদ্রোহ সংঘটন, অংশগ্রহণ; রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও অন্যান্য সেনা অফিসারদেরকে হত্যা এবং সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে পলায়ন।
গ্রেপ্তার হওয়া সেনা অফিসার অবসরপ্রাপ্ত, বা বরখাস্ত, না কি অন্য কোনোভাবে চাকরিচ্যুত সে বিষয়ে অনেকেরই মনে প্রশ্ন আছে। বস্তুত তিনি ওপরের কোনোটাই নন। সেনা আইন অনুযায়ী তিনি পলাতক মাত্র।
উল্লেখ্য, বিদ্রোহের ঘটনার ওপর অনুষ্ঠিত তদন্ত আদালতে গ্রেপ্তারকৃত অফিসারকে দায়ী করা হলেও ঘটনার অব্যবহিত পরে তিনি পলায়ন করেন। এ জন্য অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে সেনা আইন অনুযায়ী তাঁর বিচার করা সম্ভব হয়নি। কারণ সেনা আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচারের কোনো বিধান নেই। সেনা আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু করা এমন কি অব্যাহতও রাখা যায় না। ফলে তাঁকে দণ্ডপ্রাপ্ত বিবেচনা করার অবকাশও নেই।
সেনা আইনে ‘কোর্ট অব ইনকোয়ারি’ বা ‘তদন্ত আদালত’ একটি অনুসন্ধানী প্রক্রিয়া। নামে ‘আদালত’ হলেও বস্তুত এটি একটি তদন্ত পর্ষদ। তাই এ ধরনের তদন্ত আদালতের সুপারিশ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়; এটি কেবলই সুপারিশ। এই সুপারিশ কার্যকর করার জন্য আইনে বর্ণিত বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। কোর্ট-মার্শাল বা সামারি ডিস্পোজালে (লঘু অপরাধের জন্য বিচার পদ্ধতি) বিচার ব্যতীত কাউকে দণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
এছাড়া তাঁকে সেনা আইনের অধীনে কোর্ট-মার্শালে বিচার করা হবে, না কি অসামরিক ফৌজদারি আদালতে বিচার করতে হবে এ নিয়েও অনেকের মনে প্রশ্ন আছে। এরই মধ্যে পিলখানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছে, তাঁর বিচার হবে সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে। যদিও অনেকে এর পেছনে কোনো রহস্য খোঁজারও চেষ্টাও করছেন।
বিষয়টি সামগ্রিকভাবে আইনের দৃষ্টিতে আলোচনা করা যেতে পারে।
সেনা আইন, ১৯৫২-এর ৩৬ ধারা অনুযায়ী ‘পলায়ন’ একটি অপরাধ। এই অপরাধের প্রাথমিক উপাদান হলো প্রথমত, অনুমতি ব্যতিরেকে অনুপস্থিতি এবং দ্বিতীয়ত, চাকরিতে ফিরে না আসার অভিপ্রায় অথবা নির্দিষ্ট কোনো গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য এড়ানো। দ্বিতীয় উপাদান বা শর্ত পূরণ না হলে সেই অপরাধ শুধু অননুমোদিত অনুপস্থিতির অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
সেনা আইন ও তদাধীন বিধি-বিধান অনুযায়ী, কোনো সেনাসদস্য বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল থেকে অনুপস্থিত থাকলে তার অনুপস্থিতির বিষয়ে ইউনিট কর্তৃপক্ষ (অর্থাৎ যে ইউনিটে কর্মরত তার অধিনায়ক) অনতিবিলম্বে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। সেনাবাহিনীর রেগুলেশন্স অনুযায়ী এই পরোয়ানার নাম Desertion/ AWOL Report হলেও সাধারণভাবে সেনাবাহিনীতে এটা ‘অ্যাপ্রিহেনশন রোল’ নামেই বিশেষ পরিচিত। এই পরওয়ানা অসামরিক আদালতের গ্রেপ্তারি ওয়ারেন্টের মতোই ক্ষমতাসম্পন্ন ও কার্যকরী পরোয়ানা। এই পরোয়ানা জারির জন্য অনুপস্থিতির পর কোনো নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার হয় না; অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনা মোটামুটি নিশ্চিত হলেই অবিলম্বে এটা জারি করতে হয়। এই রিপোর্ট থানা, রেলওয়ে পুলিশ, পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্তৃপক্ষসহ ১৩ থেকে ১৪টি জায়গায় পাঠানো হয়।
তবে কেউ ছুটিতে গিয়ে অনুপস্থিত হলে অর্থাৎ যথাসময়ে ইউনিটে ফেরত না এলে, এই পরোয়ানা জারির জন্য সর্বোচ্চ ১৪ দিন এবং ছুটিতে যাওয়া সেনাসদস্য বন্যা বা প্রাকৃতিক দূর্যোগকবলিত এলাকায় অবস্থান করলে আরও অধিক সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার সুযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান যোগাযোগব্যবস্থা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেনানিবাস থাকার কারণে এই ১৪ দিন অপেক্ষা করার যৌক্তিকতাও নেই।
কোনো সেনাসদস্যের অনুপস্থিতি ৬০ দিন অতিক্রম করলে তার অনুপস্থিতির বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে অনুসন্ধান (তদন্ত আদালত) অনুষ্ঠিত হয়। তদন্ত কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে অনুপস্থিত ব্যক্তি হাজির না হলে বা গ্রেপ্তার না হলে এবং তার অনুপস্থিতির কোনো আইনানুগ বা যৌক্তিক কারণ না থাকলে, তদন্ত আদালত তার সেই অনুপস্থিতি অবৈধ ঘোষণা করে। কিন্তু তদন্ত আদালত কর্তৃক কখনো কাউকে পলাতক ঘোষণা করা হয় না।
তবে সেনা আইনের বিধান অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রয়োজনে এই ব্যক্তিকে পলাতক গণ্য করা হয়। কাউকে পলাতক গণ্য করার জন্য এই তদন্ত আদালত অনুষ্ঠানের কোনো আইনী আবশ্যকতা নেই। তার অনুপস্থিতি পলায়নের অপরাধ কিনা তা সেনা আইনের ৩৬ ধারার বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ্য যে, তদন্ত আদালতের ঘোষণার অব্যবহিত পরে সেই অনুপস্থিত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের জনবল থেকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু তার সেনা আইনের আওতাভুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটে না এবং তাকে তার ‘কোর’ এবং সেনাবাহিনীর মূল জনবল থেকে বাদও দেওয়া হয় না। পরবর্তী সময়ে ওই ব্যক্তি আত্মসমর্পন করলে বা গ্রেপ্তার হলে তাকে ইউনিটের জনবলে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বর্তমান ক্ষেত্রে এটা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত যে, গ্রেপ্তারকৃত সেনা অফিসার একজন পলাতক সেনাসদস্য এবং এখনো সেনা আইনের আওতাভুক্ত। তার এই পলায়নের অভিযোগে তাকে সেনা আইনেই অর্থাৎ কোর্ট-মার্শালেই বিচার করতে হবে। কারণ সেনাবাহিনী থেকে ‘পলায়ন’ একটা সামরিক অপরাধ; এবং অসামরিক ফৌজদারি আদালতে এই অপরাধের বিচারের কোনো বিধান নেই।
সেনা আইন, ১৯৫২-এর ৩১ ধারার অধীনে বিদ্রোহ একটি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ। নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর আইনেও এরূপ অপরাধ অনুরূপ দণ্ডনীয়। এছাড়া বাংলাদেশে বর্ডার গার্ড ও কোস্ট গার্ডের আইনে বিদ্রোহের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং আনসার ব্যাটালিয়নের আইনে বিদ্রোহের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা যায়। উল্লেখ্য, পুলিশের আইনে বিদ্রোহের অনুরূপ কোনো অপরাধের উল্লেখ নেই।
বাংলাদেশে প্রচলিত দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৫ ধারার বিধান অনুযায়ী, দণ্ডবিধির কোনো বিধানই প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা, সৈনিক, নাবিক বা বিমানসেনার বিদ্রোহ এবং পলায়নের জন্য শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রণীত কোনো আইনের কোনো বিধান রহিত, পরিবর্তিত, স্থগিত বা অন্য কোনোভাবে প্রভাবিত করবে না। সে অনুযায়ী সেনা, নৌ বা বিমান বাহিনীতে সংঘটিত বিদ্রোহের অপরাধের বিচার সংশ্লিষ্ট বাহিনীর আইন অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া সেনা আইনের মতো দণ্ডবিধিতে ‘বিদ্রোহ’ স্বতন্ত্র কোনো অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত নয়। দণ্ডবিধির ৭ম অধ্যায় (১৩১-১৪০ ধারা), যেখানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী সম্পর্কিত অপরাধ সম্পর্কে বলা হয়েছে, সেখানে ১৩১ ও ১৩২ ধারার ভাষ্যমতে, যদি কোনো ব্যক্তি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে কোনো অফিসার, সৈনিক, নাবিক বা বিমানসেনা কর্তৃক সংঘটিত কোনো বিদ্রোহে প্ররোচণা প্রদান করে তাহলে ওই ধারা অনুযায়ী সেই ব্যক্তি দণ্ডিত হবে। এরপরে দন্ডবিধির ধারা ১৩৯-এ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, ৭ম অধ্যায়ে বর্ণিত কোনো অপরাধের জন্য সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর আওতাভুক্ত কোনো ব্যক্তি দণ্ডবিধির অধীনে শাস্তিযোগ্য হবেন না।
সার্বিক পর্যালোচনায় এটাও নিশ্চিত যে, সেনা বিদ্রোহের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত অফিসারের বিচার সেনা আইনেই হতে হবে। উল্লেখ্য, সেনা আইন অনুযায়ী বিদ্রোহের সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ হলেও সেটি একমাত্র দণ্ড নয়। এরচেয়ে লঘুতর দণ্ড যেমন ‘যাবজ্জীবন কারাদণ্ড’ এবং ‘অনধিক ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড’ আরোপের সুযোগও রয়েছে।
সেনা আইনের ৫৯(২) ধারার বিধান অনুযায়ী কোনো সেনাসদস্য কর্তৃক সেনা, নৌ বা বিমান বাহিনীর আওতাভুক্ত নয় এমন কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘খুন’, ‘দণ্ডার্হ্য নরহত্যা’ ও ‘ধর্ষণ’-এর অপরাধ সংঘটিত হলে (যুদ্ধাবস্থা ও দেশের বাইরে সংঘটিত হওয়ার ঘটনা ছাড়া) সেনা আইনে তার বিচার করা যায় না।
বর্তমান ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন প্রাক্তন সেনাসদস্য হলেও যে সময় হত্যাকাণ্ড হয়, সে সময় তিনি আর সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন না। ফলে সেনাসদস্য কর্তৃক তাঁকে হত্যা করা হলেও সেনা আইনের অধীনে সেই অপরাধের বিচার করা আইনানুযায়ী আদৌ সম্ভব নয়।
তবে একই ঘটনায় নিহত অন্যান্য সেনাসদস্যের হত্যাকাণ্ডের বিচার সেনা আইনে সম্ভব হলেও সংগত কারণে তা মূল হত্যাকাণ্ড (রাষ্ট্রপতির হত্যাকাণ্ড) থেকে আলাদা করে বিচার করা আদৌ যৌক্তিক কি না, তা বিবেচনার অপেক্ষা রাখে।
উল্লেখ্য, সেনা সদস্য কর্তৃক সংঘটিত বিদ্রোহের বিচার অসামরিক ফৌজদারী আদালতে করা সম্ভব না হলেও একই ঘটনায় অন্যান্য সেনাসদস্যের হত্যাকাণ্ডের বিচার আইনানুযায়ী খুব স্বাভাবিকভাবেই দেশের প্রচলিত আইনে অসামরিক ফৌজদারী আদালতে অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব।
এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রেপ্তারকৃত অফিসারের বিদ্রোহ ও পলায়নের অপরাধের বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর তদন্তে স্বাভাবিকভাবে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রাধান্য পাবে না—এটিই স্বাভাবিক। সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য এবং এর সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা উদ্ঘাটনের জন্য জাতীয় পর্যায়ে কমিশন গঠনের মাধ্যমে তদন্ত করার সুযোগ রয়েছে।
আইন অনুযায়ী কোর্ট-মার্শাল একটি উন্মুক্ত আদালত। কোর্ট মার্শালের মর্যাদা, নিরাপত্তা, বিঘ্নবিহীন বিচারকার্য এবং সাক্ষীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাপেক্ষে দর্শক সারিতে যেকোনো ব্যক্তিকে আদালতের কার্যক্রম দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কোর্ট-মার্শাল অনুমতি দিতে পারে। তবে আদালতের কার্যক্রমে ব্যঘাত সৃষ্টি করলে এ ধরনের ব্যক্তিকে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করার ক্ষমতাও রাখে।
সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, গ্রেপ্তাকৃত অফিসারের পলায়ন ও বিদ্রোহের অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিচার সেনা আইনে হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
সেনা আইনে ১৪৩ ধারার বিধান অনুযায়ী বিচারে দণ্ডপ্রাপ্তির পর ক্ষমা প্রদর্শন করা ছাড়া বিচারের আগে এরূপ অপরাধ ক্ষমা করারও কোনো বিধান নেই।
এই অভিযোগের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি অনিষ্পন্নই থেকে যাবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি সেনা আইনের আওতাভুক্ত থেকে যাবেন। আরও উল্লেখ্য, অভিযোগের বিচার শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি দোষী কি না, তা আইনের দৃষ্টিতে এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

সম্প্রতি আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী একজন মেজর পদবির সেনা অফিসারকে গ্রেপ্তার করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই মেজরের বিরুদ্ধে ১৯৮১ সালের মে মাসে চট্টগ্রামে সংঘটিত সেনা বিদ্রোহে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে; যে ঘটনায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ আরও কয়েকজন সেনাসদস্য শাহাদাত বরণ করেন।
গ্রেপ্তারকৃত সেনা অফিসারের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ হলো—১৯৮১ সালে সংঘটিত সেনা বিদ্রোহ সংঘটন, অংশগ্রহণ; রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও অন্যান্য সেনা অফিসারদেরকে হত্যা এবং সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে পলায়ন।
গ্রেপ্তার হওয়া সেনা অফিসার অবসরপ্রাপ্ত, বা বরখাস্ত, না কি অন্য কোনোভাবে চাকরিচ্যুত সে বিষয়ে অনেকেরই মনে প্রশ্ন আছে। বস্তুত তিনি ওপরের কোনোটাই নন। সেনা আইন অনুযায়ী তিনি পলাতক মাত্র।
উল্লেখ্য, বিদ্রোহের ঘটনার ওপর অনুষ্ঠিত তদন্ত আদালতে গ্রেপ্তারকৃত অফিসারকে দায়ী করা হলেও ঘটনার অব্যবহিত পরে তিনি পলায়ন করেন। এ জন্য অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে সেনা আইন অনুযায়ী তাঁর বিচার করা সম্ভব হয়নি। কারণ সেনা আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচারের কোনো বিধান নেই। সেনা আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু করা এমন কি অব্যাহতও রাখা যায় না। ফলে তাঁকে দণ্ডপ্রাপ্ত বিবেচনা করার অবকাশও নেই।
সেনা আইনে ‘কোর্ট অব ইনকোয়ারি’ বা ‘তদন্ত আদালত’ একটি অনুসন্ধানী প্রক্রিয়া। নামে ‘আদালত’ হলেও বস্তুত এটি একটি তদন্ত পর্ষদ। তাই এ ধরনের তদন্ত আদালতের সুপারিশ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়; এটি কেবলই সুপারিশ। এই সুপারিশ কার্যকর করার জন্য আইনে বর্ণিত বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। কোর্ট-মার্শাল বা সামারি ডিস্পোজালে (লঘু অপরাধের জন্য বিচার পদ্ধতি) বিচার ব্যতীত কাউকে দণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
এছাড়া তাঁকে সেনা আইনের অধীনে কোর্ট-মার্শালে বিচার করা হবে, না কি অসামরিক ফৌজদারি আদালতে বিচার করতে হবে এ নিয়েও অনেকের মনে প্রশ্ন আছে। এরই মধ্যে পিলখানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছে, তাঁর বিচার হবে সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে। যদিও অনেকে এর পেছনে কোনো রহস্য খোঁজারও চেষ্টাও করছেন।
বিষয়টি সামগ্রিকভাবে আইনের দৃষ্টিতে আলোচনা করা যেতে পারে।
সেনা আইন, ১৯৫২-এর ৩৬ ধারা অনুযায়ী ‘পলায়ন’ একটি অপরাধ। এই অপরাধের প্রাথমিক উপাদান হলো প্রথমত, অনুমতি ব্যতিরেকে অনুপস্থিতি এবং দ্বিতীয়ত, চাকরিতে ফিরে না আসার অভিপ্রায় অথবা নির্দিষ্ট কোনো গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য এড়ানো। দ্বিতীয় উপাদান বা শর্ত পূরণ না হলে সেই অপরাধ শুধু অননুমোদিত অনুপস্থিতির অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
সেনা আইন ও তদাধীন বিধি-বিধান অনুযায়ী, কোনো সেনাসদস্য বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল থেকে অনুপস্থিত থাকলে তার অনুপস্থিতির বিষয়ে ইউনিট কর্তৃপক্ষ (অর্থাৎ যে ইউনিটে কর্মরত তার অধিনায়ক) অনতিবিলম্বে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। সেনাবাহিনীর রেগুলেশন্স অনুযায়ী এই পরোয়ানার নাম Desertion/ AWOL Report হলেও সাধারণভাবে সেনাবাহিনীতে এটা ‘অ্যাপ্রিহেনশন রোল’ নামেই বিশেষ পরিচিত। এই পরওয়ানা অসামরিক আদালতের গ্রেপ্তারি ওয়ারেন্টের মতোই ক্ষমতাসম্পন্ন ও কার্যকরী পরোয়ানা। এই পরোয়ানা জারির জন্য অনুপস্থিতির পর কোনো নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার হয় না; অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনা মোটামুটি নিশ্চিত হলেই অবিলম্বে এটা জারি করতে হয়। এই রিপোর্ট থানা, রেলওয়ে পুলিশ, পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্তৃপক্ষসহ ১৩ থেকে ১৪টি জায়গায় পাঠানো হয়।
তবে কেউ ছুটিতে গিয়ে অনুপস্থিত হলে অর্থাৎ যথাসময়ে ইউনিটে ফেরত না এলে, এই পরোয়ানা জারির জন্য সর্বোচ্চ ১৪ দিন এবং ছুটিতে যাওয়া সেনাসদস্য বন্যা বা প্রাকৃতিক দূর্যোগকবলিত এলাকায় অবস্থান করলে আরও অধিক সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার সুযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান যোগাযোগব্যবস্থা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেনানিবাস থাকার কারণে এই ১৪ দিন অপেক্ষা করার যৌক্তিকতাও নেই।
কোনো সেনাসদস্যের অনুপস্থিতি ৬০ দিন অতিক্রম করলে তার অনুপস্থিতির বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে অনুসন্ধান (তদন্ত আদালত) অনুষ্ঠিত হয়। তদন্ত কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে অনুপস্থিত ব্যক্তি হাজির না হলে বা গ্রেপ্তার না হলে এবং তার অনুপস্থিতির কোনো আইনানুগ বা যৌক্তিক কারণ না থাকলে, তদন্ত আদালত তার সেই অনুপস্থিতি অবৈধ ঘোষণা করে। কিন্তু তদন্ত আদালত কর্তৃক কখনো কাউকে পলাতক ঘোষণা করা হয় না।
তবে সেনা আইনের বিধান অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রয়োজনে এই ব্যক্তিকে পলাতক গণ্য করা হয়। কাউকে পলাতক গণ্য করার জন্য এই তদন্ত আদালত অনুষ্ঠানের কোনো আইনী আবশ্যকতা নেই। তার অনুপস্থিতি পলায়নের অপরাধ কিনা তা সেনা আইনের ৩৬ ধারার বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ্য যে, তদন্ত আদালতের ঘোষণার অব্যবহিত পরে সেই অনুপস্থিত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের জনবল থেকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু তার সেনা আইনের আওতাভুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটে না এবং তাকে তার ‘কোর’ এবং সেনাবাহিনীর মূল জনবল থেকে বাদও দেওয়া হয় না। পরবর্তী সময়ে ওই ব্যক্তি আত্মসমর্পন করলে বা গ্রেপ্তার হলে তাকে ইউনিটের জনবলে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বর্তমান ক্ষেত্রে এটা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত যে, গ্রেপ্তারকৃত সেনা অফিসার একজন পলাতক সেনাসদস্য এবং এখনো সেনা আইনের আওতাভুক্ত। তার এই পলায়নের অভিযোগে তাকে সেনা আইনেই অর্থাৎ কোর্ট-মার্শালেই বিচার করতে হবে। কারণ সেনাবাহিনী থেকে ‘পলায়ন’ একটা সামরিক অপরাধ; এবং অসামরিক ফৌজদারি আদালতে এই অপরাধের বিচারের কোনো বিধান নেই।
সেনা আইন, ১৯৫২-এর ৩১ ধারার অধীনে বিদ্রোহ একটি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ। নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর আইনেও এরূপ অপরাধ অনুরূপ দণ্ডনীয়। এছাড়া বাংলাদেশে বর্ডার গার্ড ও কোস্ট গার্ডের আইনে বিদ্রোহের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং আনসার ব্যাটালিয়নের আইনে বিদ্রোহের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা যায়। উল্লেখ্য, পুলিশের আইনে বিদ্রোহের অনুরূপ কোনো অপরাধের উল্লেখ নেই।
বাংলাদেশে প্রচলিত দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৫ ধারার বিধান অনুযায়ী, দণ্ডবিধির কোনো বিধানই প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা, সৈনিক, নাবিক বা বিমানসেনার বিদ্রোহ এবং পলায়নের জন্য শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রণীত কোনো আইনের কোনো বিধান রহিত, পরিবর্তিত, স্থগিত বা অন্য কোনোভাবে প্রভাবিত করবে না। সে অনুযায়ী সেনা, নৌ বা বিমান বাহিনীতে সংঘটিত বিদ্রোহের অপরাধের বিচার সংশ্লিষ্ট বাহিনীর আইন অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া সেনা আইনের মতো দণ্ডবিধিতে ‘বিদ্রোহ’ স্বতন্ত্র কোনো অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত নয়। দণ্ডবিধির ৭ম অধ্যায় (১৩১-১৪০ ধারা), যেখানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী সম্পর্কিত অপরাধ সম্পর্কে বলা হয়েছে, সেখানে ১৩১ ও ১৩২ ধারার ভাষ্যমতে, যদি কোনো ব্যক্তি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে কোনো অফিসার, সৈনিক, নাবিক বা বিমানসেনা কর্তৃক সংঘটিত কোনো বিদ্রোহে প্ররোচণা প্রদান করে তাহলে ওই ধারা অনুযায়ী সেই ব্যক্তি দণ্ডিত হবে। এরপরে দন্ডবিধির ধারা ১৩৯-এ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, ৭ম অধ্যায়ে বর্ণিত কোনো অপরাধের জন্য সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর আওতাভুক্ত কোনো ব্যক্তি দণ্ডবিধির অধীনে শাস্তিযোগ্য হবেন না।
সার্বিক পর্যালোচনায় এটাও নিশ্চিত যে, সেনা বিদ্রোহের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত অফিসারের বিচার সেনা আইনেই হতে হবে। উল্লেখ্য, সেনা আইন অনুযায়ী বিদ্রোহের সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ হলেও সেটি একমাত্র দণ্ড নয়। এরচেয়ে লঘুতর দণ্ড যেমন ‘যাবজ্জীবন কারাদণ্ড’ এবং ‘অনধিক ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড’ আরোপের সুযোগও রয়েছে।
সেনা আইনের ৫৯(২) ধারার বিধান অনুযায়ী কোনো সেনাসদস্য কর্তৃক সেনা, নৌ বা বিমান বাহিনীর আওতাভুক্ত নয় এমন কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘খুন’, ‘দণ্ডার্হ্য নরহত্যা’ ও ‘ধর্ষণ’-এর অপরাধ সংঘটিত হলে (যুদ্ধাবস্থা ও দেশের বাইরে সংঘটিত হওয়ার ঘটনা ছাড়া) সেনা আইনে তার বিচার করা যায় না।
বর্তমান ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন প্রাক্তন সেনাসদস্য হলেও যে সময় হত্যাকাণ্ড হয়, সে সময় তিনি আর সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন না। ফলে সেনাসদস্য কর্তৃক তাঁকে হত্যা করা হলেও সেনা আইনের অধীনে সেই অপরাধের বিচার করা আইনানুযায়ী আদৌ সম্ভব নয়।
তবে একই ঘটনায় নিহত অন্যান্য সেনাসদস্যের হত্যাকাণ্ডের বিচার সেনা আইনে সম্ভব হলেও সংগত কারণে তা মূল হত্যাকাণ্ড (রাষ্ট্রপতির হত্যাকাণ্ড) থেকে আলাদা করে বিচার করা আদৌ যৌক্তিক কি না, তা বিবেচনার অপেক্ষা রাখে।
উল্লেখ্য, সেনা সদস্য কর্তৃক সংঘটিত বিদ্রোহের বিচার অসামরিক ফৌজদারী আদালতে করা সম্ভব না হলেও একই ঘটনায় অন্যান্য সেনাসদস্যের হত্যাকাণ্ডের বিচার আইনানুযায়ী খুব স্বাভাবিকভাবেই দেশের প্রচলিত আইনে অসামরিক ফৌজদারী আদালতে অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব।
এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রেপ্তারকৃত অফিসারের বিদ্রোহ ও পলায়নের অপরাধের বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর তদন্তে স্বাভাবিকভাবে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রাধান্য পাবে না—এটিই স্বাভাবিক। সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য এবং এর সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা উদ্ঘাটনের জন্য জাতীয় পর্যায়ে কমিশন গঠনের মাধ্যমে তদন্ত করার সুযোগ রয়েছে।
আইন অনুযায়ী কোর্ট-মার্শাল একটি উন্মুক্ত আদালত। কোর্ট মার্শালের মর্যাদা, নিরাপত্তা, বিঘ্নবিহীন বিচারকার্য এবং সাক্ষীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাপেক্ষে দর্শক সারিতে যেকোনো ব্যক্তিকে আদালতের কার্যক্রম দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কোর্ট-মার্শাল অনুমতি দিতে পারে। তবে আদালতের কার্যক্রমে ব্যঘাত সৃষ্টি করলে এ ধরনের ব্যক্তিকে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করার ক্ষমতাও রাখে।
সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, গ্রেপ্তাকৃত অফিসারের পলায়ন ও বিদ্রোহের অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিচার সেনা আইনে হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
সেনা আইনে ১৪৩ ধারার বিধান অনুযায়ী বিচারে দণ্ডপ্রাপ্তির পর ক্ষমা প্রদর্শন করা ছাড়া বিচারের আগে এরূপ অপরাধ ক্ষমা করারও কোনো বিধান নেই।
এই অভিযোগের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি অনিষ্পন্নই থেকে যাবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি সেনা আইনের আওতাভুক্ত থেকে যাবেন। আরও উল্লেখ্য, অভিযোগের বিচার শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি দোষী কি না, তা আইনের দৃষ্টিতে এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
.png)

দেশে গ্যাস পরিস্থিতি কতটা খারাপ, সেটা নতুন করে বলার কিছু নেই। এ খাতে আমরা ক্রমে আরও আমদানিনির্ভর হচ্ছি। বাড়ছে এলএনজি-নির্ভরতা। ইরান যুদ্ধে জ্বালানি খাত অস্থির হওয়ায় এলএনজির দামও অনেক বেড়ে যায়। জ্বালানি খাতে ভর্তুকি ব্যয় বাড়ার এটা অন্যতম কারণ।
২ ঘণ্টা আগে
এটি এমন দুজন মানুষের গল্প, যাঁরা অনশনের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। দুটি ঘটনার মধ্যে প্রায় ১৫ বছরের ব্যবধান। তবে এই দুই অনশনের পার্থক্য বেশ নজর কাড়ার মতো। এই পার্থক্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়— ভারত ও তার রাজনীতির কতটা বদল ঘটেছে।
৬ ঘণ্টা আগে
২০২৬ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)-এর প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্ণ হলো। এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত জাতীয় কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। গত পাঁচ দশকে বারি এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছে। একসময় বাংলাদেশ ছিল খাদ্য ঘাটতির দেশ। বারি-এর প্রচেষ্টায় আজ আমরা খাদ্যে অনেকাংশেই স্বয়ংসম্পূর্ণ।
৮ ঘণ্টা আগে
রাজধানী ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও অংশগ্রহণকারী নারীদের স্মরণে নির্মিত ‘জুলাই শহীদ নারী মঞ্চে’র নারী ভাস্কর্যগুলো কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। কিন্তু কেন, তার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
৮ ঘণ্টা আগে