জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ঈদের ছুটিতে কে-ড্রামা ভক্তদের জন্য ১০ মাস্ট-ওয়াচ কোরিয়ান সিনেমা

ঈদের ছুটিতে সময়টা আরও সুন্দর করে তুলতে পারে একটা ভালো সিনেমা। যারা সারা বছর কে-ড্রামা দেখেন, তাঁদের জন্য এই ছুটি কোরিয়ান সিনেমা দেখার দারুণ সুযোগ। ১৬ পর্বের লম্বা ড্রামা দেখার বদলে মাত্র দুই ঘণ্টাতেই উপভোগ করা যায় চমৎকার গল্প আর প্রিয় তারকাদের অভিনয়।

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬, ১৫: ৩৯
স্ট্রিম কোলাজ

ঈদের ছুটিতে সময়টা আরও সুন্দর করে তুলতে পারে একটা ভালো সিনেমা। যারা সারা বছর কে-ড্রামা দেখেন, তাঁদের জন্য এই ছুটি কোরিয়ান সিনেমা দেখার দারুণ সুযোগ। ১৬ পর্বের লম্বা ড্রামা দেখার বদলে মাত্র দুই ঘণ্টাতেই উপভোগ করা যায় চমৎকার গল্প আর প্রিয় তারকাদের অভিনয়।

তাই এই ঈদে দেখতে পারেন রোমান্টিক কমেডি, থ্রিলার বা ড্রামা—এমন ১০টি জনপ্রিয় কোরিয়ান সিনেমার তালিকা নিচে দেওয়া হলো।

লাভ রিসেট

ঈদের ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে মন খুলে হাসতে চাইলে এই রোমান্টিক কমেডি মুভিটি আপনার জন্য। কাং হা-নুল এবং জং সো-মিন অভিনীত এই সিনেমায় দেখা যায়, বিবাহবিচ্ছেদের ঠিক ৩০ দিন আগে এক দম্পতি ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নিজেদের সব স্মৃতি হারিয়ে ফেলে। স্মৃতি হারানোর আগে তারা একে অপরকে একেবারেই সহ্য করতে পারত না।

লাভ রিসেট সিনেমার দৃশ্য। সংগৃহীত ছবি
লাভ রিসেট সিনেমার দৃশ্য। সংগৃহীত ছবি

কিন্তু ঘটনাচক্রে, সবকিছু ভুলে যাওয়ার পর এই দুজন কীভাবে আবার অদ্ভুত ও হাস্যকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে একে অপরের কাছাকাছি আসে, সেই মজার গল্প নিয়েই এই সিনেমা। স্মৃতি ফেরানোর জন্য দুই পরিবারের নানা হাস্যকর ব্যর্থ চেষ্টা এবং নায়ক-নায়িকার দারুণ কেমিস্ট্রি আপনাকে পুরোটা সময় হাসিয়ে যাবে।

ফরগটেন

থ্রিলার ভালোবাসলে এই সিনেমাটি আপনার ঈদের আনন্দ ও উত্তেজনা বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে। সাইকোলজিক্যাল মিস্ট্রি ঘরানার এই গল্পের শুরুতে দেখা যায়, জিন-সোক নামের এক তরুণের বড় ভাই অপহৃত হওয়ার ঠিক ১৯ দিন পর ফিরে আসে। কিন্তু সেই ১৯ দিনের কোনো স্মৃতিই তার মনে নেই। ছোট ভাই জিন-সোক ধীরে ধীরে খেয়াল করে, বড় ভাইয়ের স্বভাব, হাঁটাচলা এবং আচরণে অদ্ভুত সব পরিবর্তন এসেছে। ভাইয়ের এই পরিবর্তনের রহস্য খুঁজতে গিয়ে জিন-সোক এক ভয়ংকর সত্যের মুখোমুখি হয়।

এই সত্য দর্শক হিসেবে আপনার কল্পনাকেও হার মানাবে। পরতে পরতে রহস্য, অপ্রত্যাশিত টুইস্ট আর দুর্দান্ত সাসপেন্সে ভরপুর এই সিনেমাটি থ্রিলার প্রেমীদের জন্য একটি মাস্টারপিস।

প্যারাসাইট

সমাজের চরম বাস্তবতাকে একটু ভিন্নভাবে, বিশেষ করে রোমাঞ্চ আর ডার্ক কমেডির মোড়কে দেখতে চাইলে বং জুন-হো পরিচালিত ‘প্যারাসাইট’-এর কোনো তুলনা নেই। অস্কারজয়ী এই সিনেমার গল্প বলার ধরন একেবারেই আলাদা। হতদরিদ্র বেকার পরিবার কীভাবে ফন্দি এঁটে এক ধনী ও অভিজাত পরিবারে বিভিন্ন পদে চাকরি নেয়। পরবর্তী সময়ে এই পরিবারের সঙ্গে কী কী অপ্রত্যাশিত ও ভয়ংকর ঘটনা ঘটতে থাকে—তা নিয়েই এই মুভি।

প্যারাসাইট সিনেমার একটি দৃশ্য। সংগৃহীত ছবি
প্যারাসাইট সিনেমার একটি দৃশ্য। সংগৃহীত ছবি

শুনতে খুব সাধারণ গল্প মনে হলেও, সিনেমাটির নির্মাণশৈলী দর্শককে পুরো সময় স্ক্রিনে আটকে রাখবে। সিনেমার শেষে নিজের অজান্তেই আপনার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসবে গভীর দীর্ঘশ্বাস।

মিডনাইট রানার্স

অ্যাকশন আর কমেডির দারুণ প্যাকেজ এই সিনেমা। পার্ক সিও-জুন এবং কাং হা-নুল অভিনীত এই সিনেমার গল্পে দেখানো হয়েছে, পুলিশ একাডেমির দুই তরুণ ছাত্র রাতের বেলায় বাইরে বেরিয়ে চোখের সামনেই একটি মেয়েকে অপহৃত হতে দেখে। পুলিশের কাছে সাহায্য চেয়েও না পেয়ে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তারা নিজেরাই মেয়েটিকে উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেয়।

নিজেদের বইয়ে পড়া পুঁথিগত বিদ্যা আর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা একটি ভয়ংকর অপরাধ চক্রের সন্ধান পায়। পদে পদে বিপদ আর অনভিজ্ঞতার কারণে তৈরি হওয়া হাস্যরস, আপনাকে যেমন হাসাবে, সঙ্গে টানটান উত্তেজনাও অনুভব করবেন।

অ্যা ট্যাক্সি ড্রাইভার

ঐতিহাসিক ও ইমোশনাল গল্পের প্রতি যাদের বিশেষ আগ্রহ আছে, এই মুভিটি তাদের হৃদয় ছুঁয়ে যেতে বাধ্য। সং কাং-হো অভিনীত এই সিনেমাটি ১৯৮০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়াংজুতে ঘটে যাওয়া গণ-অভ্যুত্থানের সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।

অ্যা ট্যাক্সি ড্রাইভার সিনেমার দৃশ্য। সংগৃহীত ছবি
অ্যা ট্যাক্সি ড্রাইভার সিনেমার দৃশ্য। সংগৃহীত ছবি

সিউলের একজন সাধারণ ট্যাক্সি ড্রাইভার, যিনি দেশের রাজনীতি নিয়ে মোটেও ভাবেন না, শুধু ভাড়ার আশায় একজন জার্মান সাংবাদিককে নিয়ে অবরুদ্ধ শহরে প্রবেশ করেন। সেখানে গিয়ে মিলিটারির নির্মমতা দেখে তার বিবেকে নাড়া দেয়। নিজের জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে তিনি কীভাবে সেই বিদেশি সাংবাদিককে সাহায্য করেন এবং সত্য ঘটনা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন, সিনেমাটি তারই এক অনবদ্য ও মানবিক দলিল।

টিউন ইন ফর লাভ

ঈদ বিকেলে এক কাপ চা বা কফি হাতে নিয়ে দেখার মতো সুন্দর ও স্নিগ্ধ রোমান্টিক সিনেমা এটা। কিম গো-ইউন এবং জং হ্যায়-ইন অভিনীত এই সিনেমাটি নব্বইয়ের দশকের নস্টালজিয়ায় ভরপুর। ১৯৯৪ সালে এক বেকারিতে পরিচয় হওয়া দুজন মানুষের গল্প এই সিনেমা, যারা রেডিওর গানের মতোই জীবনের নানা ওঠানামার মধ্য দিয়ে যায়।

সময়ের পরিক্রমায়, জীবনের নানা বাঁকে, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি আর টাইমিংয়ের অভাবে তারা বারবার একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে যায়, আবার অদ্ভুতভাবে ফিরেও আসে। যারা একটু ধীরগতির এবং বাস্তবসম্মত রোমান্টিক সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন, ‘টিউন ইন ফর লাভ’ তাদের মোটেও হতাশ করবে না।

এক্সট্রিম জব

ঈদের ছুটিতে একটু হালকা মেজাজের কমেডি ধাঁচের কিছু দেখতে চাইলে এই মুভিটি একদম পারফেক্ট। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসের অন্যতম ব্যবসাসফল একটি কমেডি মুভি। একদল চরম ব্যর্থ পুলিশ অফিসার একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রকে ধরার জন্য আন্ডারকাভার মিশন হাতে নেয়। নজরদারির সুবিধার জন্য তারা অপরাধীদের আস্তানার ঠিক সামনে ফ্রাইড চিকেনের দোকান কিনে নেয়। কিন্তু অপরাধী ধরার বদলে তাদের বানানো সেই চিকেন এতটাই সুস্বাদু হয় যে, রাতারাতি দোকানটি সুপারহিট হয়ে যায়।

এক্সট্রিম জব সিনেমার পোস্টার। সংগৃহীত ছবি
এক্সট্রিম জব সিনেমার পোস্টার। সংগৃহীত ছবি

পুলিশরা অপরাধী ধরার চেয়ে মুরগি ভাজতেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে, আর তখন ঘটতে থাকে চরম হাস্যকর সব ঘটনা। এই ঘটনা নিয়েই সাজানো হয়েছে সিনেমাটি।

টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি গার্ল

ঈদের ছুটিতে প্রথম প্রেমের নস্টালজিয়ায় ডুব দিতে চাইলে এই সিনেমাটি দেখতে পারেন। কিম ইউ-জং অভিনীত এই মুভিটি আপনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে ১৯৯৯ সালে। নব্বই দশকের সেই দিনগুলোতে মানুষের ভালবাসা আদান-প্রদানের মাধ্যম এই সময়ের চেয়ে আলাদা ছিল।

সিনেমায় দেখা যায়, নায়িকা বো-রা তার অসুস্থ বান্ধবীর জন্য এক ছেলের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করে। কিন্তু এই গোয়েন্দাগিরি করতে গিয়ে সে নিজেই অপ্রত্যাশিতভাবে প্রেমের মায়ায় জড়িয়ে পড়ে। বন্ধুত্বের গভীরতা, প্রথম প্রেমের মিষ্টি অনুভূতি, হাসি-কান্নার মিশেল আর দারুণ এক ইমোশনাল টুইস্ট দিয়ে তৈরি এই সিনেমাটি রোমান্সপ্রেমীদের ভালোবাসায় ডুবিয়ে রাখবে।

ট্রেন টু বুসান

আপনি যদি থ্রিলার বা জম্বি ঘরানার মুভি পছন্দ করেন, তবে গং ইউ অভিনীত ব্লকবাস্টার এই মুভিটি আপনার জন্য। ডিভোর্সি বাবা তার ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে সিউল থেকে বুসানগামী একটি ট্রেনে ওঠে। কিন্তু ট্রেন ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে সেখানে এক জম্বি নারী উঠে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো ট্রেনে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।

চলন্ত ট্রেনের মধ্যে বেঁচে থাকার ভয়ংকর লড়াই শুরু হয়। এই সিনেমাটিতে বাবা ও মেয়ের ভালোবাসা এবং বিপদের সময় মানবিকতার চরম পরীক্ষার বিষয়গুলো এত সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে, চোখের পানি ধরে রাখা কষ্টকর হয়ে যাবে।

দ্য বিউটি ইনসাইড

ফ্যান্টাসি আর রোমান্সের দারুণ মিশেল দেখতে চাইলে এই সিনেমাটি বেছে নিতে পারেন। উ-জিন নামের একজন ফার্নিচার ডিজাইনার এক আজব সমস্যায় আক্রান্ত। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তার চেহারা, বয়স, এমনকি লিঙ্গও বদলে যায়। একদিন সে বৃদ্ধ মানুষ, পরের দিন ছোট্ট শিশু, আবার কখনো বা সুন্দরী নারী হয়ে তার ঘুম ভাঙে। এমন অদ্ভুত জীবন নিয়ে সে একদিন ই-সু নামের একটি মেয়ের প্রেমে পড়ে।

প্রতিদিন সম্পূর্ণ নতুন একটি চেহারা নিয়ে একই মানুষকে ভালোবাসার এই গল্পটি আপনাকে ভালোবাসার আসল অর্থ নতুন করে শেখাবে। বাহ্যিক রূপের চেয়ে মানুষের ভেতরের সৌন্দর্য যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা অত্যন্ত সুন্দরভাবে এই সিনেমায় ফুটে উঠেছে।

সম্পর্কিত