জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ছাত্রদলের শীর্ষ পদে আলোচনায় ২ ডজন নেতা

স্ট্রিম গ্রাফিক

সারা দেশে সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনে নজর দিচ্ছে ছাত্রদল। কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনে চলছে তোড়জোড়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে দুই ডজনের বেশি নেতা দৌড়ঝাঁপ করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পদ পেতে আগ্রহীরা মাঠ পর্যায়ে তৎপর; সক্রিয় অবস্থান জানান দিচ্ছেন সামাজিক মাধ্যমেও। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি ও নিয়মিত বৈঠক করে কেন তিনি শীর্ষস্থানীয় পদের দাবিদার, তা তুলে ধরছেন।

বিএনপি নেতারা বলছেন, ঈদুল ফিতরের পর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টারা সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করার পরামর্শ দেন। বিএনপির চেয়ারম্যানও ঈদুল ফিতরের পর এ লক্ষ্যে কাজ শুরুর ইঙ্গিত দেন।

এ ব্যাপারে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ হয়নি।

এগিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতারা

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষস্থানীয় পদে অন্তত দুই ডজন নেতার নাম আলোচিত হচ্ছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের অধিকাংশ দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন। তাদের কেউ কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, আবার কেউ বিশ্ববিদ্যালয় ও হল পর্যায় থেকে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।

নতুন কমিটির আভাস পেয়ে এসব নেতারা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। পুরো রমজানে ইফতার এবং দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মীদের নিয়ে শোডাউন দিয়েছেন। এসব অনুষ্ঠানের ছবি, ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে নিজেদের অবস্থান জানানোর চেষ্টা করেছেন পদপ্রত্যাশীরা।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এবং ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি খোরসেদ আলম সোহেল, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, রিয়াদ রহমান, এইচএম আবু জাফর ও এজাজুল কবির রুয়েল আলোচনায় আছেন।

ঘুরফিরে আসছে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, প্রচার সম্পাদক শরিফ প্রধান শুভ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, ১ নম্বর সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, সিনিয়র সহসভাপতি মাসুম বিল্লাহ, নাছির উদ্দিন শাওন, তারেক হাসান মামুন, গাজী সাদ্দাম হোসেন, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, রাজু আহমেদ ও ইব্রাহিম খলিলের নাম।

ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির সভাপতি পদে আসতে পারেন– এমন আলোচনা সংগঠনে রয়েছে। পাশাপাশি একই কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুমকেও শীর্ষ নেতৃত্বের সম্ভাব্য মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানিয়েছে।

ছাত্রদলের কমিটিতে আলোচনায় যারা। স্ট্রিম কোলাজ
ছাত্রদলের কমিটিতে আলোচনায় যারা। স্ট্রিম কোলাজ

সুপার ফাইভে চোখ

সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, সিনিয়র সহসভাপতি ও সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক– ছাত্রদলের পাঁচটি পদকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়। শুধু সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী হলেও, গুরুত্ব বিবেচনায় এই পাঁচ পদকে সুপার ফাইভ বলা হয়।

শীর্ষ পাঁচে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে আলোচনায় আছেন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমান কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মো. বাবর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।

বর্তমানে সুপার ফাইভের সবগুলো পদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতাদের দখলে। অতীতে মহানগর কিংবা অন্যান্য ক্যাম্পাস থেকে শীর্ষ দুই পদে নেতৃত্বে আসার উদাহরণ থাকলেও, প্রাধান্য পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এবার সুপার ফাইভে মূল্যায়ন চান অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতারা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মো. বাবর স্ট্রিমকে বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি জাবি, জবি, রাবি ও চবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও এসব ইউনিটের সঙ্গে সক্রিয় ছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজের নেতারা। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবদ্ধ না থেকে ক্ষমতার বিকেন্দ্রিক হলে সাংগঠনিক শক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

পাঁচ বলয় সক্রিয়

ছাত্রদলের নেতৃত্ব কাউন্সিলের মাধ্যমে ডেলিগেটদের সরাসরি ভোটে এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে সিলেকশনের মাধ্যমে করা হয়। সংগঠনের ইতিহাসে উভয় পদ্ধতির নজির রয়েছে। সর্বশেষ সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির সিলেকশন পদ্ধতিতে নেতৃত্বে এসেছেন।

জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে সর্বশেষ কমিটি হয়েছে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে। দীর্ঘ ২৯ বছর পর কাউন্সিলের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হন ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ইকবাল হোসেন শ্যামল।

ছাত্রদলের নেতারা বলছেন, বর্তমানে সংগঠনে অন্তত পাঁচটি বলয় সক্রিয়। এগুলোর পেছনে ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষনেতারা সক্রিয়। দুটি বলয়ের নেতৃত্বে আছেন সংসদের হুইপ ও বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল এবং মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এছাড়া বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সহসম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টুর নেতৃত্ব পৃথক আলাদা বলয় সক্রিয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সাংগঠনিক বাস্তবতায় নতুন করে কাউন্সিল করা সহজ নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বর্তমান কমিটির এক সহসভাপতি স্ট্রিমকে বলেন, বাস্তবতা হলো বর্তমানে অধিকাংশ জেলা কমিটির মেয়াদ নেই। প্রায় ৪০ শতাংশ জেলা কমিটি ২০১৪ সালে হয়েছে। এখন ছাত্রদলকে সারা দেশে পুনর্গঠন করে কাউন্সিল সম্ভব নয়। কাউন্সিল করলে কাঙ্ক্ষিত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে।

সম্পর্কিত