আজ ১৫ জানুয়ারি কবি নাজিম হিকমতের জন্মদিন। তাঁর জীবনের ১৭ বছরই কেটেছে স্বৈরশাসকের কারাগারে বন্দী হয়ে। এক সময় প্রাণশঙ্কায় তিনি নির্বাসিত হয়ে পাড়ি জমান রাশিয়ায়। তুরস্কের সরকার নাগরিকত্ব বাতিল করে তাঁকে চিরতরে নিষিদ্ধ করেছিল।
তারেক অণু

১৯০২ সালের আজকের দিনে (১৫ জানিয়ারি) জন্মেছিলেন কবি নাজিম হিকমত। আর ১৯৬৩ সালের ৩ জুন, স্বদেশ থেকে বহু দূরে মস্কোতে নির্বাসিত অবস্থায় তিনি চলে যান মহাকালের পথে। সেই সময়ে তাঁর স্বদেশ তুরস্কের ক্ষমতায় কে ছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তর আমি বা আপনি কেউই মনে রাখার প্রয়োজন বোধ করি না।
নাজিম হিকমতকে কেবল প্রাণে বাঁচিয়ে রেখে কারাগারে তিলে তিলে মেরে ফেলার জন্য, ধুঁকে ধুঁকে যন্ত্রণা দেওয়ার জন্য, চিরতরে স্বদেশভূমিতে ফেরার পথ বন্ধ করে যে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রনায়ক তাঁকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল, তাঁর নামও কেউ জানে না। বা জানলেও মনে রাখেনি। মনে রাখার মতো কিছু ছিল না বলেই হয়ত।
তুরস্কের সেই সময়ের সরকারপ্রধান আজ বিস্মৃত। ঠিক যেমন সময়ের নিয়মে একদিন হারিয়ে যাবেন বর্তমান তুরস্কের সরকারপ্রধানও। কিন্তু নাজিম হিকমত টিকে থাকবেন। টিকে থাকবেন গণমানুষের মনে তাঁর স্বপ্নে, দিন বদলের আর প্রতিবাদের শব্দে।

ঠিক যেমন ইতিহাস আজ আর তেমন করে উচ্চারণ করে না সিআইএ-সমর্থিত খুনি জেনারেল অগাস্তো পিনোশেটের নাম। ক্ষমতার জোরে তিনি একসময় ভয় তৈরি করেছিলেন, কিন্তু সময় সেই ভয়কে মুছে দিয়েছে। অথচ যত দিন যাচ্ছে কবি পাবলো নেরুদার নাম ততই উজ্জ্বল হচ্ছে মানুষের স্মৃতিতে, কবিতায়, ভালোবাসায়।
ঠিক তেমনই, স্পেনের স্বৈরশাসক ফ্রাংকোর কোনো ছবি আজ আর মানুষের দেয়ালে টাঙানো নেই। কিন্তু তাঁর আদেশে খুন হওয়া কবি ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা আজ জীবন আর সূর্যের প্রতীক। কেবল আন্দালুসিয়ায় নয়, সারা পৃথিবীতেই। ক্ষমতা হারিয়ে যায়, কিন্তু কবিতা আলো হয়ে থাকে।
এটাই আপোসহীন কবির জয়। যার শব্দ বুলেটের চেয়েও শক্তিশালী। যার জীবনের ব্যপ্তি সময়ের চেয়েও দীর্ঘ। যার প্রতি ভালোবাসা কোনো সীমান্ত মানে না।

তুরস্কের জনপ্রিয় সিনেমা ‘মুজিজে’-এর দ্বিতীয় পর্বে একটি দৃশ্য আছে। এজিয়ান সাগরের তীরের এক জনপদে শুটিং করা সেই দৃশ্যে দেখা যায়—১৯৬৩ সালে যখন সামরিক তুর্কি সরকার কতৃক নির্বাসিত কবি নাজিম হিকমত দূর মস্কোতে মারা যান, তখন এক পত্রিকার হকার চিৎকার করে সংবাদপত্রের হেডিং বলতে থাকে, ‘বেইমান নাজিম হিকমত রাশিয়ায় মারা গেছে’।
এই কথা শুনেই সিনেমার এক মানবদরদী, সচেতন চরিত্র সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে বলে ওঠে, ‘এমন এক অসাধারণ কবিকে বেইমান বলছে! এরা কেমন মানুষ?’
সিনেমার এই দৃশ্য দেখেই মনে পড়ে গিয়েছিল নিজের অভিজ্ঞতার কথা। এজিয়ান সাগরের ধারে তুরস্কের যে দুটি মাত্র দ্বীপ, তার একটির নাম বসজাদা। সেখানে একবার দিন দুয়েক থাকা হয়েছিল। দূরে তাকালে দেখা যেত গ্রীসের লেসবো দ্বীপ। বসজাদার একাধিক জায়গায়, পাবলিক প্লেসে, চেয়ার-টেবিলে, দেয়ালে নাজিম হিকমতের কবিতা খোদাই করা ও আঁকা দেখেছিলাম। রাষ্ট্র তাঁকে নির্বাসিত করেছিল, কিন্তু মানুষ আপন করে নিয়েছে।

সব অত্যাচার সহ্য করেও যে নাজিম হিকমত আদর্শের কাছে মাথা নত করেননি। যে নাজিম হিকমত বলেছিলেন, কবিরা ক্যানারি পাখির মতো। সারাজীবন খাঁচায় বন্দী করে রাখলেও তাঁরা সারাজীবন নিজের সুরই গাইবে। অন্য পাখির সুর নকল করবে না। ভয় পেয়ে অন্য কোনো আদর্শ মাথায় তুলে নেবে না।
শত শত বছর পরেও নাজিম হিকমত টিকে থাকবেন তুরস্কের দূরতম দ্বীপে, নামহীন পাহাড়ি জনপদে, পানশালার আড্ডায়। যেখানে তাঁকে আবিষ্কার করে উদ্বেলিত হবে দূর বাংলার কেউ। আর তিনি ছড়িয়ে থাকবেন, ভালোবাসার নৈবদ্য পাবেন বছরের প্রতিদিনই এই গ্রহের কোথাও না কোথাও।

১৯০২ সালের আজকের দিনে (১৫ জানিয়ারি) জন্মেছিলেন কবি নাজিম হিকমত। আর ১৯৬৩ সালের ৩ জুন, স্বদেশ থেকে বহু দূরে মস্কোতে নির্বাসিত অবস্থায় তিনি চলে যান মহাকালের পথে। সেই সময়ে তাঁর স্বদেশ তুরস্কের ক্ষমতায় কে ছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তর আমি বা আপনি কেউই মনে রাখার প্রয়োজন বোধ করি না।
নাজিম হিকমতকে কেবল প্রাণে বাঁচিয়ে রেখে কারাগারে তিলে তিলে মেরে ফেলার জন্য, ধুঁকে ধুঁকে যন্ত্রণা দেওয়ার জন্য, চিরতরে স্বদেশভূমিতে ফেরার পথ বন্ধ করে যে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রনায়ক তাঁকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল, তাঁর নামও কেউ জানে না। বা জানলেও মনে রাখেনি। মনে রাখার মতো কিছু ছিল না বলেই হয়ত।
তুরস্কের সেই সময়ের সরকারপ্রধান আজ বিস্মৃত। ঠিক যেমন সময়ের নিয়মে একদিন হারিয়ে যাবেন বর্তমান তুরস্কের সরকারপ্রধানও। কিন্তু নাজিম হিকমত টিকে থাকবেন। টিকে থাকবেন গণমানুষের মনে তাঁর স্বপ্নে, দিন বদলের আর প্রতিবাদের শব্দে।

ঠিক যেমন ইতিহাস আজ আর তেমন করে উচ্চারণ করে না সিআইএ-সমর্থিত খুনি জেনারেল অগাস্তো পিনোশেটের নাম। ক্ষমতার জোরে তিনি একসময় ভয় তৈরি করেছিলেন, কিন্তু সময় সেই ভয়কে মুছে দিয়েছে। অথচ যত দিন যাচ্ছে কবি পাবলো নেরুদার নাম ততই উজ্জ্বল হচ্ছে মানুষের স্মৃতিতে, কবিতায়, ভালোবাসায়।
ঠিক তেমনই, স্পেনের স্বৈরশাসক ফ্রাংকোর কোনো ছবি আজ আর মানুষের দেয়ালে টাঙানো নেই। কিন্তু তাঁর আদেশে খুন হওয়া কবি ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা আজ জীবন আর সূর্যের প্রতীক। কেবল আন্দালুসিয়ায় নয়, সারা পৃথিবীতেই। ক্ষমতা হারিয়ে যায়, কিন্তু কবিতা আলো হয়ে থাকে।
এটাই আপোসহীন কবির জয়। যার শব্দ বুলেটের চেয়েও শক্তিশালী। যার জীবনের ব্যপ্তি সময়ের চেয়েও দীর্ঘ। যার প্রতি ভালোবাসা কোনো সীমান্ত মানে না।

তুরস্কের জনপ্রিয় সিনেমা ‘মুজিজে’-এর দ্বিতীয় পর্বে একটি দৃশ্য আছে। এজিয়ান সাগরের তীরের এক জনপদে শুটিং করা সেই দৃশ্যে দেখা যায়—১৯৬৩ সালে যখন সামরিক তুর্কি সরকার কতৃক নির্বাসিত কবি নাজিম হিকমত দূর মস্কোতে মারা যান, তখন এক পত্রিকার হকার চিৎকার করে সংবাদপত্রের হেডিং বলতে থাকে, ‘বেইমান নাজিম হিকমত রাশিয়ায় মারা গেছে’।
এই কথা শুনেই সিনেমার এক মানবদরদী, সচেতন চরিত্র সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে বলে ওঠে, ‘এমন এক অসাধারণ কবিকে বেইমান বলছে! এরা কেমন মানুষ?’
সিনেমার এই দৃশ্য দেখেই মনে পড়ে গিয়েছিল নিজের অভিজ্ঞতার কথা। এজিয়ান সাগরের ধারে তুরস্কের যে দুটি মাত্র দ্বীপ, তার একটির নাম বসজাদা। সেখানে একবার দিন দুয়েক থাকা হয়েছিল। দূরে তাকালে দেখা যেত গ্রীসের লেসবো দ্বীপ। বসজাদার একাধিক জায়গায়, পাবলিক প্লেসে, চেয়ার-টেবিলে, দেয়ালে নাজিম হিকমতের কবিতা খোদাই করা ও আঁকা দেখেছিলাম। রাষ্ট্র তাঁকে নির্বাসিত করেছিল, কিন্তু মানুষ আপন করে নিয়েছে।

সব অত্যাচার সহ্য করেও যে নাজিম হিকমত আদর্শের কাছে মাথা নত করেননি। যে নাজিম হিকমত বলেছিলেন, কবিরা ক্যানারি পাখির মতো। সারাজীবন খাঁচায় বন্দী করে রাখলেও তাঁরা সারাজীবন নিজের সুরই গাইবে। অন্য পাখির সুর নকল করবে না। ভয় পেয়ে অন্য কোনো আদর্শ মাথায় তুলে নেবে না।
শত শত বছর পরেও নাজিম হিকমত টিকে থাকবেন তুরস্কের দূরতম দ্বীপে, নামহীন পাহাড়ি জনপদে, পানশালার আড্ডায়। যেখানে তাঁকে আবিষ্কার করে উদ্বেলিত হবে দূর বাংলার কেউ। আর তিনি ছড়িয়ে থাকবেন, ভালোবাসার নৈবদ্য পাবেন বছরের প্রতিদিনই এই গ্রহের কোথাও না কোথাও।

দোহারের ইকরাশি গ্রামের শান্তি রানী পাল। বয়স ৯২ বছর। বয়সের ভারে অনেকটাই নুয়ে পড়েছেন। চোখের আলো কমে গেছে, গলার স্বরও ভেঙে গেছে; তবু সংসারের চাকাকে সচল রাখতে আদি পেশা হিসেবে কুমারের কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
১৮ ঘণ্টা আগে
জেনে অবাক হবেন যে শত বছর আগে বৃহত্তর বগুড়া অঞ্চলে বন্যপ্রাণী বাস করত। কোন কোন বন্যপ্রাণী ও পাখি সেখানে ছিল? নদী, জলাভূমি ও পুকুরে কী কী মাছ পাওয়া যেত? ১৯১০ সালে প্রকাশিত জে এন গুপ্ত-এর পূর্ববঙ্গ ও আসামের ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার (বগুড়া) থেকে অনুবাদ করেছেন ভূ-পর্যটক তারেক অণু।
২০ ঘণ্টা আগে
আজ ২৫ জানুয়ারি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মদিন। সাহিত্যিক হিসেবে সাহিত্য-পরিসরে শতবর্ষ পরেও তিনি বেঁচে আছেন সক্রিয়তার ভেতর দিয়েই। এও সত্য যে, তাঁকে নিয়ে তাঁর কালেই তো বেশ জোরজারের সাথে চর্চা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ধুন্ধুমারভাবে প্রভাবিত করে গেছেন বিচিত্র ধারার সাহিত্যের লোকজনকে। এসবের পরও সেইকালে মধুসূদন
১ দিন আগে
হাতে বই কিংবা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিয়ে মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণ পরই চোখ চলে যায় স্মার্টফোনে। সিনেমা দেখতে বসেও কয়েক মিনিটের মধ্যে অন্য কনটেন্টে চলে যাওয়ার অভ্যাস এখন পরিচিত দৃশ্য। এই অস্থির মনোযোগ ও দ্রুত বিষয় বদলের প্রবণতাকেই আধুনিক মনোবিজ্ঞানে বলা হচ্ছে ‘পপকর্ন ব্রেইন’।
২ দিন আগে