চিত্রকর্ম
শিল্পী আশরাফুল হাসানের চিত্রকর্মের সামগ্রিক পাঠে তার কাজগুলো দর্শকের কাছে একটি গভীর এবং প্রতীকঘন জগৎ নির্মাণ করে, যেখানে মানুষ, প্রকৃতি এবং সময়—তিনটি উপাদান পরস্পরের ভেতরে ঢুকে গিয়ে একধরনের ভঙ্গুর অস্তিত্বের রূপ ধারণ করে। এখানে মানবদেহ স্বাভাবিক কোনো প্রাণবন্ত সত্তা নয়; বরং তা ধীরে ধীরে গাছের কাণ্ড, বাকল, শুকিয়ে যাওয়া মাটি কিংবা ক্ষয়ে যাওয়া পাথরের অবয়বে রূপান্তরিত হতে থাকে—সবকিছু যেন সময়ের নির্মমতা ও অভ্যন্তরীণ ভাঙনের দৃশ্যমান অনুবাদ।
শিল্পী মানবদেহকে শুধু প্রকৃতির সঙ্গে তুলনা করেননি, বরং একেবারে একীভূত করেছেন। এই রূপ কোনো শান্ত সহাবস্থানের নয়; বরং এক ধরনের ট্র্যাজিক মিলন, যেখানে মানুষ প্রকৃতির অংশ হয়ে ওঠার আগেই ক্ষয়প্রাপ্ত, পুড়ে যাওয়া বা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে থাকে। আগুনের উপস্থিতি, বিশেষ করে বৃক্ষ-মানবের পটভূমিতে, এই ধ্বংস ও বিপর্যয়ের অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তোলে। ফলে চিত্রগুলোতে এক ধরনের পরিবেশগত এবং অস্তিত্বগত সংকট খুব সহজে চোখে ধরা পড়ে।
একই সঙ্গে, শিল্পীর কাজে আধুনিকতার ছাপও স্পষ্ট। সংবাদপত্রের স্তূপের ওপর শায়িত দেহ কিংবা শরীরের সঙ্গে যুক্ত অদ্ভুত লাল তার—এইসব উপাদান মানুষের বর্তমান বাস্তবতা, তথ্যের ভিড়, ডিজিটাল জীবন এবং কৃত্রিম সংযোগের ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু এই সংযোগ জীবন্ত নয়; বরং তা বিচ্ছিন্নতা ও শূন্যতার প্রতীক। মানুষ যেন চারপাশের তথ্য ও বাস্তবতার ভেতরে থেকেও নিজ অস্তিত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন।
রঙের ব্যবহারে শিল্পী সচেতনভাবে ম্লান, ধূসর ও মৃতপ্রায় টোন বেছে নিয়েছেন, যা তার কাজগুলোকে দর্শকের মনোজগতে একটি বিষণ্ণ আবহ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, আগুনের কমলা বা রক্তিম রঙ হঠাৎ উপস্থিত হয়ে এক ধরনের হিংস্রতা, অস্থিরতা ও বিপদের ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি, রঙের এই দ্বন্দ্ব পুরো চিত্রভাষাকে আরও নাটকীয় তোলে।
সব মিলিয়ে, এই পেইন্টিংগুলো একটি ধারাবাহিক ভাবনার অংশ—যেখানে মানুষ যেন নিজের অস্তিত্ব, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক, এবং সময়ের ক্ষয়ের মধ্যে আটকে পড়া এক অসহায় সত্তা। শিল্পীর কাজ দর্শককে আনন্দিত করে না; বরং এক ধরনের ধীর, গভীর অস্বস্তির ভেতর নিয়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত আমাদের নিজেদের অবস্থান নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে।
শিল্পী আশরাফুল হাসান, জন্ম ১৯৭৭ সালে, ফেনী জেলায়। ২০০৪ সালে চিত্রকলায় অর্জন করেন এমএফএ (মাস্টার অব ফাইন আর্টস) ডিগ্রি। এ পর্যন্ত তার পাঁচটি একক চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি, দেশে-বিদেশে অংশগ্রহণ করেছেন অসংখ্য দলীয় প্রদর্শনীতে। ২০০৭, ২০১১ এবং ২০২৩ সালে জাতীয় চিত্র প্রদর্শনীতে তিনি অর্জন করেন জাতীয় পুরস্কার। এ ছাড়াও কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তার ঝুলিতে রিয়েছে বহুবিধ পুরস্কারের তালিকা।
তৌহিন হাসান



















কেনিয়ার প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক শহর হলো নাকুরু। রাজধানী নাইরোবি থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হলো সাতসকালে। তখন ভোরের প্রথম আলো শহরের কংক্রিটের ভবনগুলোতে সোনালি আভা ছড়িয়ে দিচ্ছিল। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় চোখে পড়ল গ্রামীণ জীবনের চমৎকার সব দৃশ্য। কেউ গরুর চামড়া মাথায় নিয়ে বাজারে যাচ্ছে, কারও হাতে সবজিভর্তি ব
১০ ঘণ্টা আগে
ভারতের আলোকচিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ এবং লেন্সের জাদুকর রঘু রাই আর নেই। গত দুই বছর ধরে তিনি প্রোস্টেট এবং পাকস্থলীর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ক্যানসার তাঁর মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে পর্যন্তও তিনি তাঁর প
১৩ ঘণ্টা আগে
আমাদের রান্নাঘরের অনেক জিনিসই প্লাস্টিকের তৈরি। তাই সহজেই এগুলো খাবারে মিশে যেতে পারে। তবে আমরা চাইলেই খাবারে প্লাস্টিকের উপস্থিতি কমানো সম্ভব। রান্নাঘরে কিছু ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারি।
১৭ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় মেলবোর্ন শহর থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে ‘ফিলিপ আইল্যান্ড’ নামের এক অপূর্ব নৈসর্গিক জায়গায় আমরা এসেছি পেঙ্গুইনের খোঁজে! জি হ্যাঁ, পেঙ্গুইন! পেঙ্গুইন মানেই তো সেই কোট পরা ‘ভদ্রলোক’ পাখি! এর নাম শুনলেই আমাদের চোখে ভাসে, বরফ মহাদেশে হেঁটে যাচ্ছে গুটি গুটি পায়ে।
২ দিন আগে