আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধ–৯
ভূ-পর্যটক তারেক অণুর ধারাবাহিক ভ্রমণ-কাহিনি ‘আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধ’-এর দশম পর্ব প্রকাশিত হলো আজ। প্রতি বুধবার চোখ রাখুন বাংলা স্ট্রিমের ফিচার পাতায়।
তারেক অণু

জীবনে বাংলাদেশের বাইরে যে দেশটাতে যাবার চেষ্টা করেছিলাম সেটার নাম আমেরিকা। হাইস্কুলে পড়ার সময়েই বখে গিয়েছিলাম মহাকাশের নেশায়। ছায়াপথ, নক্ষত্র, নীহারিকা, গ্রহাণু, পালসার, কোয়াসার, ব্ল্যাক হোল সবসময় ঝনঝন করত মগজের কোষে কোষে। আর মহাকাশ মানেই তো নাসা, আর নাসা মানেই আমেরিকা!
এইচএসসি পাশ করার পর কোমর বেঁধে টোফেল পরীক্ষা দিলাম। আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ নেব্রাস্কা-লিংকন-এ মহাকাশ বিজ্ঞানে পড়ার সুযোগও পেয়ে গেলাম, সঙ্গে ছোট বৃত্তি। কিন্তু আই-২০ নিয়ে যখন মহাখুশিতে ভিসার ইন্টারভিউ দিতে গেলাম, তখন এক কঠিন বাস্তব প্রশ্নের মুখে পড়লাম।
‘তুমি বাংলাদেশের ছেলে হয়ে মহাকাশ নিয়ে পড়ে কী করবে? তোমার দেশে এই বিষয়ে কাজ করার সুযোগ কোথায়? চাকরির জায়গা কোথায়?’
এর উত্তরে ‘আমি নাসাতে গবেষণার স্বপ্ন দেখি’ বা ‘ভবিষ্যতে মহাকাশচারী হতে চাই’—এসব কথা বললে ‘ভবি’ ভুলবে না। কারণ তখন ভিসা পাওয়ার শর্তই ছিল এটা প্রমাণ করা, পড়ালেখা শেষে আমি দেশে ফিরে আসব। তার ওপর বাবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হয়ত পর্যাপ্ত টাকাও ছিল না। ফলে আমার ভিসার আবেদন দুইবার বাতিল হলো।

মহাকাশ তখন অনেক দূরের স্বপ্ন। কিন্তু সেই সময়েই আমেরিকা নিয়ে, বিশেষ করে সেখানের প্রকৃতি নিয়ে মোটা মোটা ৯টা বই জোগাড় করেছিলাম। কোন রাজ্যে কী দেখার আছে, বিশেষ করে ন্যাশনাল পার্ক, উল্কা পড়ার স্থান, রকেট ছাড়ার জায়গা, ডাইনোসরদের ফসিল কোথায় কোথায় আছে—এসব ছিল ঠোঁটের আগায়। কিন্ত এত প্রগাঢ় ভালোবাসা আর টুকটাক জ্ঞান নিয়েও ভিসা না মেলায় শেষে উত্তরের দেশ ফিনল্যান্ডে চলে গেলাম। সেখানে পড়ালেখা ফ্রি ছিল। এখন মনে হয়, ভাগ্যিস গিয়েছিলাম!
এরপর চাইলেই আমেরিকা যেতে পারতাম। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে যাওয়া হয়নি। আমেরিকার ওপর দিয়ে আমি কিউবা বা মেক্সিকো গিয়েছি, কিন্তু এই দেশে নামা হয়নি। হয়ত অল্প কদিনের জন্য বা শুধু কয়েকটা শহর দেখতে আমি সেখানে যেতে চাইনি। সেই সঙ্গে ভ্রমণসঙ্গীদের ব্যাপারটাও মুখ্য। বিশাল আমেরিকা কয়েক মাস ধরে ঘুরে বেড়াতে হলে তেমন ভ্রমণপিপাসু, প্রকৃতিপ্রিয় আবার নির্ভরযোগ্য মানুষ পাওয়া সোজা নয়।

অবশেষে যখন প্লেন নিউইয়র্ক ছুঁলো, ভেবেছিলাম মনে অন্যরকম কোনো উত্তেজনা কাজ করবে। হয়ত একটু উল্লাস নিয়েই ইমিগ্রেশন অফিসারকে বলবো যে, ‘কৈশোরের সময় তোমার দেশ আমাকে ভিসা দেয় নি। আজ ঠিকই এসেছি নিজের মর্জি মতো, মুড়ি খাও!’ কিন্তু এক নির্লিপ্ততা কাজ করেছে ভেতরে, এই নিয়ে কোনো সুখ-দুখের অনুভূতি আসেনি! হয়ত জীবনের এত ঊষর প্রান্তরে অসংখ্য ক্ষত-বিক্ষত হবার অভিজ্ঞতা এক ধরনের নির্মোহ নির্বাণপ্রাপ্তি এনে দিয়েছে। হয়ত, জানি না এখনো!
যাই হোক, ট্র্যাফিক জ্যাম এড়ানোর জন্য সকাল-দুপুরের মাঝামাঝি সময়ে রওনা দিলাম ওয়াশিংটন ডিসি থেকে। গন্তব্য নিশ্চিত না। খসড়া একটা পরিকল্পনা আছে বটে! কিন্তু একেবারে পিন-পয়েন্ট ধরনের কিছু নেই। শহরের ভেতর দিয়ে চলার সময়ে ডিসিকে আরেকবার ভালো লেগে গেল।
আমার ভ্রমণসঙ্গী রেজোয়ান জানালো, এখানে হিসেব দেওয়া আছে যে বাগানের ঘাস সর্বোচ্চ কত লম্বা হতে পারবে, তার পরপরই কাটতেই হবে। নিজে না পারলে লোক ভাড়া করে হলেও। এই জন্যই প্রতিটা বাড়ির লনে নিখুঁত সবুজ জীবন্ত কার্পেট যেন বিছিয়ে আছে। তবে মেরিল্যান্ড দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানকার বিশাল মাঠ আর বাড়ির লন দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ হলাম। মনে হচ্ছিল যেন বিশাল কোনো গলফ খেলার মাঠ।

পথে কাম্বারল্যান্ড নামের এক পুরোনো শহরে আমরা ‘চিক-ফিল-এ’ নামের এক ফাস্টফুডের দোকানে থামলাম। এখানকার মুরগির মাংস কেএফসির চেয়েও অনেক বেশি সুস্বাদু। আর এখানকার আলু ভাজা বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তো আরও চমৎকার। প্রসঙ্গত বলে রাখি, বেলজিয়ামে গিয়ে কিন্তু ফ্রেঞ্চ ফ্রাই চাইলে ওরা না-ও বুঝতে পারে, ওখানে বলতে হয় শুধু ‘ফ্রাইস’। বেলজিয়ানরা দাবি করে তারাই এটি আবিষ্কার করেছে, কিন্তু ফরাসিরা ক্রেডিট নিয়ে এর নাম করে দিয়েছে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই।
তবে সবচেয়ে ভালো লাগলো দোকানের এক কর্মচারী এসে নিজে থেকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘খাবার ঠিক আছে কি-না?’, ‘আমরা এই এলাকায় নতুন কিনা?’ আমাদের ভ্রমণের কথা শুনে বেশ খুশি হলেন। ফাস্টফুডের দোকানে কোনো টিপস বা বাড়তি টাকার আশা ছাড়াই তাঁর এই ব্যবহার মন ছুঁয়ে গেল।
এরপর আমাদের গন্তব্য ছিল বিশ্বখ্যাত স্থাপত্য ‘ফলিংওয়াটার’। অপূর্ব এক বাড়ি জলপ্রপাতের উপরে নির্মাণ করা হয়েছে। অসাধারণ মুনশিয়ানায় জলপ্রপাতটি এখনো সগৌরবে বহমান। স্থাপত্যকলার সঙ্গে জড়িতদের কাছে এই বাড়িটি একক স্বপ্ন-গন্তব্য। নিজেও জেনেছি এই ভবন নিয়ে প্রথমবার স্থপতি বন্ধু তানজিলার লেখা পড়ে। হাইওয়ে থেকে সামান্য দূরে এক পাহাড়ি নদী আর গাছ ঢাকা সরু পথ বেয়ে যেতেই দেখা গেল প্রধান ফটক। টিকিটের দাম ৩৩ ডলার, আর কেউ বাইরে থেকে দেখতে চাইলে ১০ ডলার। কিন্তু এটি দর্শনার্থীদের জন্য খোলা বিকেল ৪টা পর্যন্ত, আর তখন বিকেল সাড়ে ৫টা!

অনুরোধ করলাম যেন আমাদের দূর থেকে সেই প্রপাতবাড়ি দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু বিধি বাম! ততক্ষণে টিকিট দেবার সমস্ত উপায় বন্ধ। এখানে এসেও না দেখার সামান্য আফসোস নিয়েই রওনা দিলাম পরের গন্তব্য।
যাত্রাপথে পরের রাজ্য ছিল 'ওহাইও'। জায়গাটা বেশ সমতল। সেখানে রাজধানী কলম্বাস থেকে আমাদের সাথে যোগ দিলেন দলের চতুর্থ মাস্কেটিয়ার রাজন ভাই। তিনি ৬ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। ঘোরার খুব ইচ্ছে থাকলেও সময়ের অভাবে হয়ে ওঠে না। এবার ব্যাটে-বলে মিলে যাওয়ায় যোগ দিলেন এক মাসের জন্য। সঙ্গে আবার নিয়ে এসেছেন সেবা প্রকাশনীর কয়েকটা বই! একেবারে সোনায় সোহাগা।
সেদিন রাতে আমাদের রাতের গন্তব্য ছিল ওহাইও’র সিনসিনাটি শহর। সেখানে থাকেন প্রায় ৭-৮ বছর ধরে পরিচিত বন্ধু মাহমুদ ভাই। অতি প্রতিভাবান মানুষটি সুইজারল্যান্ডে পিএইচডি করেছিলেন হিমবাহ নিয়ে। এখনো পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়েই কাজ করে চলেছেন। এত বছরের পরিচয় কিন্তু সামনাসামনি দেখা হলো এই প্রথম। যদিও তাঁর আন্তরিক ব্যবহারে তা বোঝার কোনো উপায় ছিলো না।
আর ব্লগে একসঙ্গে লেখালেখির সুবাদে আমাদের রুচি-অরুচির দারুণ মিল তো ছিলই। সিনসিনাটি শহরের কেন্দ্রেই তাঁর প্রাসাদোপম অ্যাপার্টমেন্ট। সেখান থেকে ৫ মিনিট হাঁটলেই ওহাইও নদী। আর নদীর অপর পাড়েই আরেক ষ্টেট ‘কেন্টাকি’। দুই রাজ্যের মাঝে এক সুদৃশ্য সেতু। সেখানে যেতে যেতেই মধ্যরাত হয়ে গেল। সেতুর মাঝখানে দাঁড়াতেই জলে পুলিশের জলযানের আবির্ভাব। মাহমুদ ভাই জানালেন মাঝে মাঝেই এই সেতু থেকে লাফ দিয়ে কেউ কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করে। হয়ত এই জন্যই পুলিশের নজরদারি বেশি হয়ত!
পরের গল্প আবার হবে আগামী বুধবার।

জীবনে বাংলাদেশের বাইরে যে দেশটাতে যাবার চেষ্টা করেছিলাম সেটার নাম আমেরিকা। হাইস্কুলে পড়ার সময়েই বখে গিয়েছিলাম মহাকাশের নেশায়। ছায়াপথ, নক্ষত্র, নীহারিকা, গ্রহাণু, পালসার, কোয়াসার, ব্ল্যাক হোল সবসময় ঝনঝন করত মগজের কোষে কোষে। আর মহাকাশ মানেই তো নাসা, আর নাসা মানেই আমেরিকা!
এইচএসসি পাশ করার পর কোমর বেঁধে টোফেল পরীক্ষা দিলাম। আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ নেব্রাস্কা-লিংকন-এ মহাকাশ বিজ্ঞানে পড়ার সুযোগও পেয়ে গেলাম, সঙ্গে ছোট বৃত্তি। কিন্তু আই-২০ নিয়ে যখন মহাখুশিতে ভিসার ইন্টারভিউ দিতে গেলাম, তখন এক কঠিন বাস্তব প্রশ্নের মুখে পড়লাম।
‘তুমি বাংলাদেশের ছেলে হয়ে মহাকাশ নিয়ে পড়ে কী করবে? তোমার দেশে এই বিষয়ে কাজ করার সুযোগ কোথায়? চাকরির জায়গা কোথায়?’
এর উত্তরে ‘আমি নাসাতে গবেষণার স্বপ্ন দেখি’ বা ‘ভবিষ্যতে মহাকাশচারী হতে চাই’—এসব কথা বললে ‘ভবি’ ভুলবে না। কারণ তখন ভিসা পাওয়ার শর্তই ছিল এটা প্রমাণ করা, পড়ালেখা শেষে আমি দেশে ফিরে আসব। তার ওপর বাবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হয়ত পর্যাপ্ত টাকাও ছিল না। ফলে আমার ভিসার আবেদন দুইবার বাতিল হলো।

মহাকাশ তখন অনেক দূরের স্বপ্ন। কিন্তু সেই সময়েই আমেরিকা নিয়ে, বিশেষ করে সেখানের প্রকৃতি নিয়ে মোটা মোটা ৯টা বই জোগাড় করেছিলাম। কোন রাজ্যে কী দেখার আছে, বিশেষ করে ন্যাশনাল পার্ক, উল্কা পড়ার স্থান, রকেট ছাড়ার জায়গা, ডাইনোসরদের ফসিল কোথায় কোথায় আছে—এসব ছিল ঠোঁটের আগায়। কিন্ত এত প্রগাঢ় ভালোবাসা আর টুকটাক জ্ঞান নিয়েও ভিসা না মেলায় শেষে উত্তরের দেশ ফিনল্যান্ডে চলে গেলাম। সেখানে পড়ালেখা ফ্রি ছিল। এখন মনে হয়, ভাগ্যিস গিয়েছিলাম!
এরপর চাইলেই আমেরিকা যেতে পারতাম। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে যাওয়া হয়নি। আমেরিকার ওপর দিয়ে আমি কিউবা বা মেক্সিকো গিয়েছি, কিন্তু এই দেশে নামা হয়নি। হয়ত অল্প কদিনের জন্য বা শুধু কয়েকটা শহর দেখতে আমি সেখানে যেতে চাইনি। সেই সঙ্গে ভ্রমণসঙ্গীদের ব্যাপারটাও মুখ্য। বিশাল আমেরিকা কয়েক মাস ধরে ঘুরে বেড়াতে হলে তেমন ভ্রমণপিপাসু, প্রকৃতিপ্রিয় আবার নির্ভরযোগ্য মানুষ পাওয়া সোজা নয়।

অবশেষে যখন প্লেন নিউইয়র্ক ছুঁলো, ভেবেছিলাম মনে অন্যরকম কোনো উত্তেজনা কাজ করবে। হয়ত একটু উল্লাস নিয়েই ইমিগ্রেশন অফিসারকে বলবো যে, ‘কৈশোরের সময় তোমার দেশ আমাকে ভিসা দেয় নি। আজ ঠিকই এসেছি নিজের মর্জি মতো, মুড়ি খাও!’ কিন্তু এক নির্লিপ্ততা কাজ করেছে ভেতরে, এই নিয়ে কোনো সুখ-দুখের অনুভূতি আসেনি! হয়ত জীবনের এত ঊষর প্রান্তরে অসংখ্য ক্ষত-বিক্ষত হবার অভিজ্ঞতা এক ধরনের নির্মোহ নির্বাণপ্রাপ্তি এনে দিয়েছে। হয়ত, জানি না এখনো!
যাই হোক, ট্র্যাফিক জ্যাম এড়ানোর জন্য সকাল-দুপুরের মাঝামাঝি সময়ে রওনা দিলাম ওয়াশিংটন ডিসি থেকে। গন্তব্য নিশ্চিত না। খসড়া একটা পরিকল্পনা আছে বটে! কিন্তু একেবারে পিন-পয়েন্ট ধরনের কিছু নেই। শহরের ভেতর দিয়ে চলার সময়ে ডিসিকে আরেকবার ভালো লেগে গেল।
আমার ভ্রমণসঙ্গী রেজোয়ান জানালো, এখানে হিসেব দেওয়া আছে যে বাগানের ঘাস সর্বোচ্চ কত লম্বা হতে পারবে, তার পরপরই কাটতেই হবে। নিজে না পারলে লোক ভাড়া করে হলেও। এই জন্যই প্রতিটা বাড়ির লনে নিখুঁত সবুজ জীবন্ত কার্পেট যেন বিছিয়ে আছে। তবে মেরিল্যান্ড দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানকার বিশাল মাঠ আর বাড়ির লন দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ হলাম। মনে হচ্ছিল যেন বিশাল কোনো গলফ খেলার মাঠ।

পথে কাম্বারল্যান্ড নামের এক পুরোনো শহরে আমরা ‘চিক-ফিল-এ’ নামের এক ফাস্টফুডের দোকানে থামলাম। এখানকার মুরগির মাংস কেএফসির চেয়েও অনেক বেশি সুস্বাদু। আর এখানকার আলু ভাজা বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তো আরও চমৎকার। প্রসঙ্গত বলে রাখি, বেলজিয়ামে গিয়ে কিন্তু ফ্রেঞ্চ ফ্রাই চাইলে ওরা না-ও বুঝতে পারে, ওখানে বলতে হয় শুধু ‘ফ্রাইস’। বেলজিয়ানরা দাবি করে তারাই এটি আবিষ্কার করেছে, কিন্তু ফরাসিরা ক্রেডিট নিয়ে এর নাম করে দিয়েছে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই।
তবে সবচেয়ে ভালো লাগলো দোকানের এক কর্মচারী এসে নিজে থেকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘খাবার ঠিক আছে কি-না?’, ‘আমরা এই এলাকায় নতুন কিনা?’ আমাদের ভ্রমণের কথা শুনে বেশ খুশি হলেন। ফাস্টফুডের দোকানে কোনো টিপস বা বাড়তি টাকার আশা ছাড়াই তাঁর এই ব্যবহার মন ছুঁয়ে গেল।
এরপর আমাদের গন্তব্য ছিল বিশ্বখ্যাত স্থাপত্য ‘ফলিংওয়াটার’। অপূর্ব এক বাড়ি জলপ্রপাতের উপরে নির্মাণ করা হয়েছে। অসাধারণ মুনশিয়ানায় জলপ্রপাতটি এখনো সগৌরবে বহমান। স্থাপত্যকলার সঙ্গে জড়িতদের কাছে এই বাড়িটি একক স্বপ্ন-গন্তব্য। নিজেও জেনেছি এই ভবন নিয়ে প্রথমবার স্থপতি বন্ধু তানজিলার লেখা পড়ে। হাইওয়ে থেকে সামান্য দূরে এক পাহাড়ি নদী আর গাছ ঢাকা সরু পথ বেয়ে যেতেই দেখা গেল প্রধান ফটক। টিকিটের দাম ৩৩ ডলার, আর কেউ বাইরে থেকে দেখতে চাইলে ১০ ডলার। কিন্তু এটি দর্শনার্থীদের জন্য খোলা বিকেল ৪টা পর্যন্ত, আর তখন বিকেল সাড়ে ৫টা!

অনুরোধ করলাম যেন আমাদের দূর থেকে সেই প্রপাতবাড়ি দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু বিধি বাম! ততক্ষণে টিকিট দেবার সমস্ত উপায় বন্ধ। এখানে এসেও না দেখার সামান্য আফসোস নিয়েই রওনা দিলাম পরের গন্তব্য।
যাত্রাপথে পরের রাজ্য ছিল 'ওহাইও'। জায়গাটা বেশ সমতল। সেখানে রাজধানী কলম্বাস থেকে আমাদের সাথে যোগ দিলেন দলের চতুর্থ মাস্কেটিয়ার রাজন ভাই। তিনি ৬ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। ঘোরার খুব ইচ্ছে থাকলেও সময়ের অভাবে হয়ে ওঠে না। এবার ব্যাটে-বলে মিলে যাওয়ায় যোগ দিলেন এক মাসের জন্য। সঙ্গে আবার নিয়ে এসেছেন সেবা প্রকাশনীর কয়েকটা বই! একেবারে সোনায় সোহাগা।
সেদিন রাতে আমাদের রাতের গন্তব্য ছিল ওহাইও’র সিনসিনাটি শহর। সেখানে থাকেন প্রায় ৭-৮ বছর ধরে পরিচিত বন্ধু মাহমুদ ভাই। অতি প্রতিভাবান মানুষটি সুইজারল্যান্ডে পিএইচডি করেছিলেন হিমবাহ নিয়ে। এখনো পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়েই কাজ করে চলেছেন। এত বছরের পরিচয় কিন্তু সামনাসামনি দেখা হলো এই প্রথম। যদিও তাঁর আন্তরিক ব্যবহারে তা বোঝার কোনো উপায় ছিলো না।
আর ব্লগে একসঙ্গে লেখালেখির সুবাদে আমাদের রুচি-অরুচির দারুণ মিল তো ছিলই। সিনসিনাটি শহরের কেন্দ্রেই তাঁর প্রাসাদোপম অ্যাপার্টমেন্ট। সেখান থেকে ৫ মিনিট হাঁটলেই ওহাইও নদী। আর নদীর অপর পাড়েই আরেক ষ্টেট ‘কেন্টাকি’। দুই রাজ্যের মাঝে এক সুদৃশ্য সেতু। সেখানে যেতে যেতেই মধ্যরাত হয়ে গেল। সেতুর মাঝখানে দাঁড়াতেই জলে পুলিশের জলযানের আবির্ভাব। মাহমুদ ভাই জানালেন মাঝে মাঝেই এই সেতু থেকে লাফ দিয়ে কেউ কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করে। হয়ত এই জন্যই পুলিশের নজরদারি বেশি হয়ত!
পরের গল্প আবার হবে আগামী বুধবার।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন অনেকেই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। কিন্তু সবাই কি সফল হতে পারছে? এর উত্তর কেবল ভালো এডিটিং, আকর্ষণীয় রঙ বা ঝকঝকে গ্রাফিক্সে লুকিয়ে নেই। এর পেছনে কাজ করে মানুষের মন, আবেগ, অভ্যাস, কৌতূহল এবং সামাজিক আচরণ। সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে কন্টেন্ট তৈরি করা আসলে শুধু প্রযুক্তির কাজ নয়, মানুষের মন বোঝ
৩৫ মিনিট আগে
অনেকের ক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা এতটাই বেড়ে যায় যে তা চিকিৎসার প্রয়োজনও তৈরি করে। তবে একটু সচেতন হলে এই গরমেও শরীরকে সতেজ, কর্মক্ষম ও সুস্থ রাখা সম্ভব।
৬ ঘণ্টা আগে
ভোরের নরম আলোয় রমনার বটমূল যখন এসরাজের সুরে জেগে ওঠার সঙ্গেই জেগে ওঠে বাংলাদেশ। বৈশাখ মানেই কি কেবল রমনার বটমূল, পান্তা-ইলিশ আর লাল-পেড়ে শাড়ি? নাকি এর গভীরে প্রোথিত আছে কর আদায়ের ইতিহাস, রাজকীয় ফরমান আর প্রতিরোধের এক জীবন্ত আখ্যান?
১ দিন আগে
পয়লা বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম ধুমধাম করে পালন করা উৎসব। এটি শুধু একটি দিন নয়, একটি সমষ্টিগত আচার। শহর আর গ্রামে এই দিনটিতে মানুষ নিজেরাই বিভিন্ন উপায়ে উদযাপন করত। দোকানের হালখাতা, পাড়ার মাঠে মেলা, নাগরদোলা, গ্রামীণ খেলাধুলা—সব মিলিয়ে বৈশাখ উদযাপন আড়ম্ববরপূর্ণ হলেও এর চেহারা ছিল বেশ সাদামাটা।
১ দিন আগে