আজ আন্তর্জাতিক সুশি দিবস
তামান্না আনজুম

ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউর তথ্যমতে, বর্তমান বিশ্বে মাথাপিছু হিসাবে বাঙালি পৃথিবীর এক নম্বর ভাতখেকো জাতি। এখন ভাবুন তো, প্রতিদিনের সেই পরিচিত ভাত-মাছের স্বাদ যদি একদম নতুন কোনো রূপে আপনার পাতে আসে? নিশ্চয়ই মন্দ লাগবে না! বোধহয় এই কারণেই জাপানি খাবার ‘সুশি’ খুব অল্প সময়েই আমাদের অনেকের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে সুশি খাওয়াটা অনেকটা ট্রেন্ড বা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। জাপানি ভাষায় সু অর্থ ভিনেগার আর মেশি অর্থ ধান; এই দুটি শব্দ মিলে হয়েছে ‘সুশি’।
সুশির প্রধান উপাদান হলো বিশেষভাবে তৈরি ভাত আর কাঁচা মাছ। এই ভাতে ‘রাইস ভিনেগার’, চিনি ও লবণ মেশানো হয়। ফলে তাতে হালকা টক-মিষ্টি স্বাদ আসে এবং এটি কিছুটা আঠালো হয়ে ওঠে।
সুশিতে সাধারণত তাজা বা হিমায়িত মাছের পাতলা স্লাইস ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে স্যামন ও টুনা সবচেয়ে জনপ্রিয়। অনেক সময় এর ওপর স্যামন মাছের ডিমও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে শুধু মাছ নয়, সুশিতে চিংড়ি, কাঁকড়া, অক্টোপাস, ‘সুরিমি’ (এক ধরণের মক ক্র্যাব স্টিক), টোফু, অ্যাভোকাডো, শসা ও গাজরের মতো উপাদানও ব্যবহার করা হয়। কোথাও কোথাও ডিমের অমলেটও দেওয়া হয়।

অনেক ধরনের সুশি পাতলা সামুদ্রিক শেওলার শিটে মুড়ে পরিবেশন করা হয়, যা খেতে হালকা মচমচে লাগে। এর সঙ্গে পরিবেশন করা হয় সয়া সস ও ওয়াসাবি। ওয়াসাবির ঝাল বা ঝাঁজ এর স্বাদকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। চপস্টিক দিয়ে সুশি তুলে সয়া সসে হালকা ডুবিয়ে খাওয়ার অভিজ্ঞতাই সুশিপ্রেমীদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়।
বাংলাদেশে সুশির মতো বিদেশি খাবারের জনপ্রিয়তা রাতারাতি তৈরি হয়নি। নব্বইয়ের দশক বা তারও আগে থেকে আমাদের দেশে ‘চাইনিজ’ খাবারের দাপট ছিল। তখন রেস্তোরাঁয় যাওয়ার মানেই ছিল ফ্রাইড রাইস, চিলি চিকেন আর চাওমিন খাওয়া। এই থাই কিংবা চাইনিজ খাবারগুলোকে একত্রে ‘প্যান-এশিয়ান’ খাবার বলা হয়। অর্থাৎ, বাঙালি আগে থেকেই এই প্যান-এশিয়ান স্বাদে বেশ অভ্যস্ত ছিল, আর তাই সুশির নতুন স্বাদ গ্রহণ করা তাদের জন্য খুব একটা কঠিন হয়নি।
২০০০ সালের পর ঢাকায় প্রথম অথেন্টিক জাপানি রেস্তোরাঁগুলো চালু হতে শুরু করে। শুরুর দিকে কেবল উচ্চবিত্ত বা বিদেশি নাগরিকরাই এসব খাবারের ক্রেতা ছিলেন। অনেকেই মনে করতেন, সুশি মানেই যেহেতু কাঁচা মাছ, তাই বাঙালির মুখে হয়তো তা একেবারেই রুচবে না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ধারণা বদলে যায়। বাঙালির স্বাদের কথা মাথায় রেখে সুশিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়। যেমন ‘স্মোকড স্যামন’ কিংবা ভাজা চিংড়ি (টেম্পুরা) ব্যবহার করে সুশিও তৈরি করা হচ্ছে।
বিশেষ করে ২০২০ সালের পর থেকে সুশির জনপ্রিয়তা এক লাফে অনেকটা বেড়ে যায়। করোনা মহামারির সেই বন্দি সময়ে মানুষ যখন ঘরের চার দেয়ালে আটকা পড়েছিল, তখন তাদের প্রধান বিনোদনের সঙ্গী হয় সোশ্যাল মিডিয়া ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। নেটফ্লিক্স, হইচই কিংবা ইউটিউবে মানুষ তখন কোরিয়ান ড্রামা আর জাপানি অ্যানিমে দেখা শুরু করে। এসব সিরিজ বা মুভিতে চরিত্রদের সুশি, রামেন কিংবা ডাম্পলিং খেতে দেখে দর্শকদের মনেও সেই স্বাদ পাওয়ার প্রবল ইচ্ছে জেগে ওঠে।

পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ফুড ভ্লগাররা নিয়মিত বিভিন্ন খাবারের রিভিউ দিতে শুরু করেন। করোনাকালে অনেকে ঘরে বসেই ইন্টারনেটে দেখে সুশি বানানোর পরীক্ষাও করেছেন। করোনাকালে এই সামাজিক মাধ্যমের প্রচারই সুশিকে অভিজাত রেস্তোরাঁর টেবিল থেকে অনেক মধ্যবিত্তের ডাইনিং টেবিলে নিয়ে আসে।
এখন ঢাকা শহরে জাপানি কুইজিনের রেস্টুরেন্টের অভাব নেই। গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি থেকে শুরু করে উত্তরা—সব এলাকাতেই চোখে পড়বে অসংখ্য জাপানি রেস্টুরেন্ট। সুশির জনপ্রিয়তা নিয়ে কথা হয় জাপানি রেস্টুরেন্ট ‘কয়ো’র এক শেফের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সব বয়সী মানুষই এই রেস্টুরেন্টে আসেন। তবে তরুণ-তরুণীর মধ্যে সুশি খাওয়ার চল সবচেয়ে বেশি। অনেকে কাচা মাছ দিয়ে বানানো সুশিও খান, আবার অনেকে ভাজা মাছ বা রান্না করা মাছ।’
শুধু নামিদামি রেস্তোরাঁ নয়, এখন বিভিন্ন স্ট্রিট ফুড কার্টেও সুশি বিক্রি হচ্ছে। বেইলি রোডের এমনই এক স্ট্রিট ফুড কার্টের বিক্রেতা জানান, ‘যারা সুশি খেতে পছন্দ করে, তারা রেস্টুরেন্ট হোক বা কার্ট, সবখানেই সুশি খায়। তবে আমাদের সুশির দাম রেস্টুরেন্টের চেয়ে অনেক কম বলে যেকোনো মানুষই এখানে জাপানি খাবারের স্বাদ নিতে পারেন।’

ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউর তথ্যমতে, বর্তমান বিশ্বে মাথাপিছু হিসাবে বাঙালি পৃথিবীর এক নম্বর ভাতখেকো জাতি। এখন ভাবুন তো, প্রতিদিনের সেই পরিচিত ভাত-মাছের স্বাদ যদি একদম নতুন কোনো রূপে আপনার পাতে আসে? নিশ্চয়ই মন্দ লাগবে না! বোধহয় এই কারণেই জাপানি খাবার ‘সুশি’ খুব অল্প সময়েই আমাদের অনেকের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে সুশি খাওয়াটা অনেকটা ট্রেন্ড বা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। জাপানি ভাষায় সু অর্থ ভিনেগার আর মেশি অর্থ ধান; এই দুটি শব্দ মিলে হয়েছে ‘সুশি’।
সুশির প্রধান উপাদান হলো বিশেষভাবে তৈরি ভাত আর কাঁচা মাছ। এই ভাতে ‘রাইস ভিনেগার’, চিনি ও লবণ মেশানো হয়। ফলে তাতে হালকা টক-মিষ্টি স্বাদ আসে এবং এটি কিছুটা আঠালো হয়ে ওঠে।
সুশিতে সাধারণত তাজা বা হিমায়িত মাছের পাতলা স্লাইস ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে স্যামন ও টুনা সবচেয়ে জনপ্রিয়। অনেক সময় এর ওপর স্যামন মাছের ডিমও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে শুধু মাছ নয়, সুশিতে চিংড়ি, কাঁকড়া, অক্টোপাস, ‘সুরিমি’ (এক ধরণের মক ক্র্যাব স্টিক), টোফু, অ্যাভোকাডো, শসা ও গাজরের মতো উপাদানও ব্যবহার করা হয়। কোথাও কোথাও ডিমের অমলেটও দেওয়া হয়।

অনেক ধরনের সুশি পাতলা সামুদ্রিক শেওলার শিটে মুড়ে পরিবেশন করা হয়, যা খেতে হালকা মচমচে লাগে। এর সঙ্গে পরিবেশন করা হয় সয়া সস ও ওয়াসাবি। ওয়াসাবির ঝাল বা ঝাঁজ এর স্বাদকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। চপস্টিক দিয়ে সুশি তুলে সয়া সসে হালকা ডুবিয়ে খাওয়ার অভিজ্ঞতাই সুশিপ্রেমীদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়।
বাংলাদেশে সুশির মতো বিদেশি খাবারের জনপ্রিয়তা রাতারাতি তৈরি হয়নি। নব্বইয়ের দশক বা তারও আগে থেকে আমাদের দেশে ‘চাইনিজ’ খাবারের দাপট ছিল। তখন রেস্তোরাঁয় যাওয়ার মানেই ছিল ফ্রাইড রাইস, চিলি চিকেন আর চাওমিন খাওয়া। এই থাই কিংবা চাইনিজ খাবারগুলোকে একত্রে ‘প্যান-এশিয়ান’ খাবার বলা হয়। অর্থাৎ, বাঙালি আগে থেকেই এই প্যান-এশিয়ান স্বাদে বেশ অভ্যস্ত ছিল, আর তাই সুশির নতুন স্বাদ গ্রহণ করা তাদের জন্য খুব একটা কঠিন হয়নি।
২০০০ সালের পর ঢাকায় প্রথম অথেন্টিক জাপানি রেস্তোরাঁগুলো চালু হতে শুরু করে। শুরুর দিকে কেবল উচ্চবিত্ত বা বিদেশি নাগরিকরাই এসব খাবারের ক্রেতা ছিলেন। অনেকেই মনে করতেন, সুশি মানেই যেহেতু কাঁচা মাছ, তাই বাঙালির মুখে হয়তো তা একেবারেই রুচবে না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ধারণা বদলে যায়। বাঙালির স্বাদের কথা মাথায় রেখে সুশিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়। যেমন ‘স্মোকড স্যামন’ কিংবা ভাজা চিংড়ি (টেম্পুরা) ব্যবহার করে সুশিও তৈরি করা হচ্ছে।
বিশেষ করে ২০২০ সালের পর থেকে সুশির জনপ্রিয়তা এক লাফে অনেকটা বেড়ে যায়। করোনা মহামারির সেই বন্দি সময়ে মানুষ যখন ঘরের চার দেয়ালে আটকা পড়েছিল, তখন তাদের প্রধান বিনোদনের সঙ্গী হয় সোশ্যাল মিডিয়া ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। নেটফ্লিক্স, হইচই কিংবা ইউটিউবে মানুষ তখন কোরিয়ান ড্রামা আর জাপানি অ্যানিমে দেখা শুরু করে। এসব সিরিজ বা মুভিতে চরিত্রদের সুশি, রামেন কিংবা ডাম্পলিং খেতে দেখে দর্শকদের মনেও সেই স্বাদ পাওয়ার প্রবল ইচ্ছে জেগে ওঠে।

পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ফুড ভ্লগাররা নিয়মিত বিভিন্ন খাবারের রিভিউ দিতে শুরু করেন। করোনাকালে অনেকে ঘরে বসেই ইন্টারনেটে দেখে সুশি বানানোর পরীক্ষাও করেছেন। করোনাকালে এই সামাজিক মাধ্যমের প্রচারই সুশিকে অভিজাত রেস্তোরাঁর টেবিল থেকে অনেক মধ্যবিত্তের ডাইনিং টেবিলে নিয়ে আসে।
এখন ঢাকা শহরে জাপানি কুইজিনের রেস্টুরেন্টের অভাব নেই। গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি থেকে শুরু করে উত্তরা—সব এলাকাতেই চোখে পড়বে অসংখ্য জাপানি রেস্টুরেন্ট। সুশির জনপ্রিয়তা নিয়ে কথা হয় জাপানি রেস্টুরেন্ট ‘কয়ো’র এক শেফের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সব বয়সী মানুষই এই রেস্টুরেন্টে আসেন। তবে তরুণ-তরুণীর মধ্যে সুশি খাওয়ার চল সবচেয়ে বেশি। অনেকে কাচা মাছ দিয়ে বানানো সুশিও খান, আবার অনেকে ভাজা মাছ বা রান্না করা মাছ।’
শুধু নামিদামি রেস্তোরাঁ নয়, এখন বিভিন্ন স্ট্রিট ফুড কার্টেও সুশি বিক্রি হচ্ছে। বেইলি রোডের এমনই এক স্ট্রিট ফুড কার্টের বিক্রেতা জানান, ‘যারা সুশি খেতে পছন্দ করে, তারা রেস্টুরেন্ট হোক বা কার্ট, সবখানেই সুশি খায়। তবে আমাদের সুশির দাম রেস্টুরেন্টের চেয়ে অনেক কম বলে যেকোনো মানুষই এখানে জাপানি খাবারের স্বাদ নিতে পারেন।’

আজ ১৮ জুন আন্তর্জাতিক প্যানিক দিবস। এটি জাতিসংঘ স্বীকৃত কোনো দিবস নয়। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর অনানুষ্ঠানিক উদ্যোগ। প্যানিক অ্যাটাক, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ সম্পর্কে মানুষকে জানানোই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য।
২ ঘণ্টা আগে
টিকটিক! টিকটিক! জয় হোক শক্তিশালী প্রাণের, সাহসী মানুষের! যারা তাদের জীবন উৎসর্গ করে সত্য, ন্যায়বিচার আর সৌন্দর্যের জন্য!
৭ ঘণ্টা আগে
আজ বিশ্ব কুমির দিবস। এই দিনে আপনাদের শোনাব বিশ্বের অন্যতম বিরল এক প্রজাতির কুমিরের কথা। সময়োচিত পদক্ষেপে এটি বিলুপ্তির দ্বার থেকে ফিরে এসেছে।
১ দিন আগে
বিশ্বের বিস্তীর্ণ ভূমি আজ নানা ধরনের পরিবেশগত অবক্ষয়ের শিকার, যার একটি অংশ মরুকরণের ঝুঁকিতে রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, খরা, ভূমি অবক্ষয় ও মরুকরণের ফলে প্রতিবছর বিশ্বের বিপুল পরিমাণ উর্বর জমি উৎপাদনক্ষমতা হারাচ্ছে।
২ দিন আগে