কানের শর্ট ফিল্ম কর্নারে বাংলাদেশের ‘নুড়ি’

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ১৯: ৫৪
কানের শর্ট ফিল্ম কর্নারে বাংলাদেশের ‘নুড়ি’। সংগৃহীত ছবি

নির্মাতা মিথুন জামানের রচনা ও পরিচালনায় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নুড়ি’ ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের ‘শর্ট ফিল্ম কর্নার–সিনেমা দ্য দোমাঁ’ বিভাগের মার্কেট ক্যাটালগে স্থান করে নিয়েছে। ফ্রান্সের কানে গত ১৭ মে থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবের বিশেষ এই অংশটি চলবে ২০ মে পর্যন্ত। সেখানে বিশ্বের বাছাইকৃত সব উদীয়মান নির্মাতাদের কাজের সঙ্গে প্রদর্শিত হচ্ছে বাংলাদেশের এই চলচ্চিত্রটি।

চলচ্চিত্রটির প্রযোজক হাসিব জুবেরি শিহান এবং নির্মাতা মিথুন জামান কান চলচ্চিত্র উৎসবের শর্ট ফিল্ম কর্নারে অংশগ্রহণের জন্য বর্তমানে কানে অবস্থান করছেন। এটি মূলত তরুণ ও উদীয়মান নির্মাতাদের জন্য একটি বৈশ্বিক পেশাদার বাজার হিসেবে কাজ করে।

প্রযোজক হাসিব জুবেরী শিহান জানিয়েছেন, ‘এসএফসি রঁদেভু-ইন্ডাস্ট্রি একটি পেশাদার প্ল্যাটফর্ম। এখানে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী পরিবেশক, উৎসব প্রতিনিধি এবং বিক্রয় প্রতিনিধিদের সংযোগ তৈরি হয়।’

হাসিব জুবেরী শিহান আরও জানান, ‘উৎসব চলাকালে ‘নুড়ি’ এসএফসি’র মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি ভিউয়িংয়ের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রযোজক ও পরিবেশকের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তরুণ নির্মাতাদের জন্য এটি বৈশ্বিক চলচ্চিত্র বাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দারুণ একটি সুযোগ। আমরা এই আয়োজনের অংশ হতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত।’

১৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পটভূমি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারকে। কাহিনি আবর্তিত হয়েছে ১১ বছর বয়সী এক স্থানীয় কিশোরীকে ঘিরে। জীবনসংগ্রাম আর অনিশ্চয়তার মাঝে এক সদ্যজাত ঘোড়ার বাচ্চার সঙ্গে তার আত্মিক বন্ধন গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের মধ্য দিয়েই কিশোরীটি খুঁজে পায় নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস ও আশা। চলচ্চিত্রের মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন কক্সবাজারেরই এক স্থানীয় কিশোরী, যার সাবলীল অভিনয় গল্পটিকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

চলচ্চিত্রটির নির্মাণ দর্শন সম্পর্কে পরিচালক মিথুন জামান জানান, একটি কিশোরীর অন্তর্জগৎকে কেন্দ্র করে এই গল্পটি আবর্তিত হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বর্তমান সময়ের বৈশ্বিক বাস্তবতা। মানুষের বিচ্ছিন্নতা এবং অস্থিরতার এই সময়ে কীভাবে ছোট ছোট মানবিক আচরণ এবং সূক্ষ্ম সম্পর্কগুলো আমাদের টিকে থাকার প্রেরণা যোগায়, সেটিই ছিল চলচ্চিত্রের মূল উপজীব্য। তিনি মনে করেন, ‘নুড়ি’আমাদের স্মরণ করিয়ে দেবে যে সহনশীলতা অনেক সময় সবচেয়ে ভঙ্গুর সম্পর্কের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে এবং যেকোনো প্রতিকূলতায় আশাই আমাদের শেষ সম্বল।

‘নুড়ি’ চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে ঢাকাভিত্তিক সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান ‘টিম প্ল্যাটফর্ম লিমিটেড’। এর আগে তাদের অ্যানিমেটেড স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সং অব হোয়েলস’ (তিমি’র গান) এনিমেলা’য় দক্ষিণ এশিয়ার সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার এবং ডিজিকন৬ এশিয়া বাংলাদেশে গোল্ড অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে।

‘নুড়ি’র প্রযোজক হাসিব জুবেরী শিহান ও বাশার জর্জিস। সহ-প্রযোজক হিমেশ কর। চিত্রগ্রহণ করেছেন মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান। সাউন্ড ডিজাইন করেছেন শৈব তালুকদার ও জাওয়াদ পারভেজ। সংগীত পরিচালনা করেছেন আমজাদ হোসেন। সম্পাদনা করেছেন সামীর আহমেদ ও হাসিব জুবেরী শিহান।

বিষয়:

কান
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত