মাহজাবিন নাফিসা

একটি বেসরকারি গণমাধ্যমে কাজ করেন ফাবিহা। তাঁর কাছে মুক্তিযুদ্ধের তিনটি চলচ্চিত্র বেছে নিতে বললে, তিনি শ্যামল ছায়া, ওরা ১১ জন এবং আগুনের পরশমণির নাম জানান।
একই প্রশ্ন করা হয় আরেক সংবাদকর্মী অলাত এহসানকে। তিনি বলেন ‘ওরা ১১ জন, হাঙর নদী গ্রেনেড ও মাটির ময়নার নাম মনে পড়ছে।’ আরও কয়েকজনকে একই প্রশ্ন করলে, ঘুরেফিরে মাত্র কয়েকটি চলচিত্রের নামই জানা গেল।
কিন্তু এগুলো তো বেশ আগের তৈরি (আশি ও শূন্য দশকের), হাল আমলের কোনো সিনেমার নাম কেন আলোচনায় নেই? তাহলে কি নতুন করে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র তৈরি হচ্ছে না, নাকি আমরা নতুনগুলো দেখছি না?
প্রায় প্রতিবছরই একাধিক মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র মুক্তি পায়, ঝুলিতে তোলে জাতীয়সহ নামিদামি পুরস্কারও। এরপরও সাধারণ মানুষ বা তরুণ প্রজন্মের কাছে এদের পরিচিতি খুবই কম। কেন? অনেকেই বলেন, নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নিয়ে তেমনটা আগ্রহী নয়। এর পেছনে কেউ কেউ সিনেমার মানকেও দায়ী করছেন।
মুক্তিযুদ্ধের ও এরপরের দশকের যে সিনেমাগুলো তৈরি হয়েছে সেগুলো থেকে আমরা একটু ঘুরে আসি। আগুনের পরশমণি বা শ্যামল ছায়া দেখলে আমরা শুধু যুদ্ধই নয়, মানুষের জীবনে ও সমাজে এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব দেখতে পাই। শুধু গ্রামীণ নয়, এসব চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে শহুরে জীবনও। হাঙর নদী গ্রেনেডে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে এক অসহায় মায়ের সংগ্রাম। আরেক ভিন্নধর্মী সিনেমা মেঘের অনেক রঙ। আবার শ্যামল ছায়ায় আমরা দেখেছি, মাওলানা চরিত্রের ব্যতিক্রমী এক উপস্থাপন। এইসব চলচ্চিত্র যুদ্ধের ভয়াবহতার ধারণা যেমন দেয়, তেমনি গল্প দিয়ে কেড়ে নেয় দর্শকের মন। ভালগার বা নৃশংস দৃশ্য ছাড়াই এসব চলচ্চিত্র আমাদের মনকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়, বুঝিয়ে দেয় পাকিস্তানি বাহিনীর নিষ্ঠুরতা।
কিন্তু চলতি দশক বা গত দশকে তৈরি মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের দিকে যদি নজর দেওয়া যায়, তাহলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উল্লেখযোগ্য সিনেমার নাম প্রায় খুঁজেই পাওয়া না। ওরা ৭ জন, ৫২ থেকে ৭১, ৭১ এর গেরিলা—এই সিনেমাগুলো মুক্তি পেয়েছে যথাক্রমে ২০২৩, ২০১৬ ও ২০১৩ সালে। এছাড়া ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া গেরিলা বা আমার বন্ধু রাশেদ ছাড়া আর কোনো সিনেমার নাম জোর দিয়ে বলা যায় না। সোজা কথায়, পুরোনো চলচ্চিত্রগুলোর কাতারে আসার মতো নাম নেই বললেই চলে। বেশিরভাগ সিনেমাতেই দেখা যায় পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার ও হত্যা দৃশ্য, রাজাকার বাহিনীর আগমন, নারী নির্যাতনের অপ্রয়োজনীয় দৃশ্য—এইগুলোর উপস্থিতিই বেশি। এছাড়াও গল্প ও অভিনয়, কারো অবস্থানই তেমন শক্ত নয়।
এবিষয়ে চলচ্চিত্র সমালোচক বিধান রিবেরু বলেন, ‘গত এক দুই দশকে যেসব চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে, তাতে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার চেয়ে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার চেষ্টাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। শাসক গোষ্ঠীর নেক নজরে থাকতে একই ধরনের ন্যারেটিভ বারবার তুলে ধরা, একটি নির্দিষ্ট ধাঁচে বানানো এবং ঘটনার অতিরঞ্জনের কারণে তরুণরা এসব চলচ্চিত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এছাড়াও, আদিবাসীসহ সব ধরনের মানুষের উপস্থাপন না থাকাও এর একটি কারণ।’
সঠিক ইতিহাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের সৎ সাহস না থাকায় তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে মনে করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিতা বিভাগের শিক্ষক আ-আল মামুন। তিনি বলেন, ‘গত দুই দশকের চলচ্চিত্রগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ন্যারেটিভ নয় বরং প্রোপাগান্ডামূলক চলচ্চিত্রই বেশি তৈরি হয়েছে। একই ধাঁচের উদ্দেশ্যমূলক গল্পই বারবার এসেছে, ফলে নতুনত্ব না থাকায় তা দর্শক টানতে পারেনি। দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে গল্প তুলে ধরতে না পারলে সিনেমাগুলো দর্শক টানতে পারবে না।’
কীভাবে পুরোনো দিনের মতো দর্শকনন্দিত সিনেমা বানানো যায় বা দর্শককে আবারও মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী করা যায়, সে বিষয়ে জানতে চাইলে বিধান রিবেরু বলেন, ‘সত্যিকারের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৎ সাহস নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক বলয় থেকে বের হয়ে সৎ ও আপোষহীনভাবে যুদ্ধের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে হবে। রাজনীতিবিদদেরও নিজেদের দলীয় মত বাদ দিতে হবে, কারণ মুক্তিযুদ্ধ কোনো দলের একার না বরং সাধারণ জনগণের।’

একটি বেসরকারি গণমাধ্যমে কাজ করেন ফাবিহা। তাঁর কাছে মুক্তিযুদ্ধের তিনটি চলচ্চিত্র বেছে নিতে বললে, তিনি শ্যামল ছায়া, ওরা ১১ জন এবং আগুনের পরশমণির নাম জানান।
একই প্রশ্ন করা হয় আরেক সংবাদকর্মী অলাত এহসানকে। তিনি বলেন ‘ওরা ১১ জন, হাঙর নদী গ্রেনেড ও মাটির ময়নার নাম মনে পড়ছে।’ আরও কয়েকজনকে একই প্রশ্ন করলে, ঘুরেফিরে মাত্র কয়েকটি চলচিত্রের নামই জানা গেল।
কিন্তু এগুলো তো বেশ আগের তৈরি (আশি ও শূন্য দশকের), হাল আমলের কোনো সিনেমার নাম কেন আলোচনায় নেই? তাহলে কি নতুন করে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র তৈরি হচ্ছে না, নাকি আমরা নতুনগুলো দেখছি না?
প্রায় প্রতিবছরই একাধিক মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র মুক্তি পায়, ঝুলিতে তোলে জাতীয়সহ নামিদামি পুরস্কারও। এরপরও সাধারণ মানুষ বা তরুণ প্রজন্মের কাছে এদের পরিচিতি খুবই কম। কেন? অনেকেই বলেন, নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নিয়ে তেমনটা আগ্রহী নয়। এর পেছনে কেউ কেউ সিনেমার মানকেও দায়ী করছেন।
মুক্তিযুদ্ধের ও এরপরের দশকের যে সিনেমাগুলো তৈরি হয়েছে সেগুলো থেকে আমরা একটু ঘুরে আসি। আগুনের পরশমণি বা শ্যামল ছায়া দেখলে আমরা শুধু যুদ্ধই নয়, মানুষের জীবনে ও সমাজে এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব দেখতে পাই। শুধু গ্রামীণ নয়, এসব চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে শহুরে জীবনও। হাঙর নদী গ্রেনেডে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে এক অসহায় মায়ের সংগ্রাম। আরেক ভিন্নধর্মী সিনেমা মেঘের অনেক রঙ। আবার শ্যামল ছায়ায় আমরা দেখেছি, মাওলানা চরিত্রের ব্যতিক্রমী এক উপস্থাপন। এইসব চলচ্চিত্র যুদ্ধের ভয়াবহতার ধারণা যেমন দেয়, তেমনি গল্প দিয়ে কেড়ে নেয় দর্শকের মন। ভালগার বা নৃশংস দৃশ্য ছাড়াই এসব চলচ্চিত্র আমাদের মনকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়, বুঝিয়ে দেয় পাকিস্তানি বাহিনীর নিষ্ঠুরতা।
কিন্তু চলতি দশক বা গত দশকে তৈরি মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের দিকে যদি নজর দেওয়া যায়, তাহলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উল্লেখযোগ্য সিনেমার নাম প্রায় খুঁজেই পাওয়া না। ওরা ৭ জন, ৫২ থেকে ৭১, ৭১ এর গেরিলা—এই সিনেমাগুলো মুক্তি পেয়েছে যথাক্রমে ২০২৩, ২০১৬ ও ২০১৩ সালে। এছাড়া ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া গেরিলা বা আমার বন্ধু রাশেদ ছাড়া আর কোনো সিনেমার নাম জোর দিয়ে বলা যায় না। সোজা কথায়, পুরোনো চলচ্চিত্রগুলোর কাতারে আসার মতো নাম নেই বললেই চলে। বেশিরভাগ সিনেমাতেই দেখা যায় পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার ও হত্যা দৃশ্য, রাজাকার বাহিনীর আগমন, নারী নির্যাতনের অপ্রয়োজনীয় দৃশ্য—এইগুলোর উপস্থিতিই বেশি। এছাড়াও গল্প ও অভিনয়, কারো অবস্থানই তেমন শক্ত নয়।
এবিষয়ে চলচ্চিত্র সমালোচক বিধান রিবেরু বলেন, ‘গত এক দুই দশকে যেসব চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে, তাতে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার চেয়ে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার চেষ্টাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। শাসক গোষ্ঠীর নেক নজরে থাকতে একই ধরনের ন্যারেটিভ বারবার তুলে ধরা, একটি নির্দিষ্ট ধাঁচে বানানো এবং ঘটনার অতিরঞ্জনের কারণে তরুণরা এসব চলচ্চিত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এছাড়াও, আদিবাসীসহ সব ধরনের মানুষের উপস্থাপন না থাকাও এর একটি কারণ।’
সঠিক ইতিহাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের সৎ সাহস না থাকায় তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে মনে করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিতা বিভাগের শিক্ষক আ-আল মামুন। তিনি বলেন, ‘গত দুই দশকের চলচ্চিত্রগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ন্যারেটিভ নয় বরং প্রোপাগান্ডামূলক চলচ্চিত্রই বেশি তৈরি হয়েছে। একই ধাঁচের উদ্দেশ্যমূলক গল্পই বারবার এসেছে, ফলে নতুনত্ব না থাকায় তা দর্শক টানতে পারেনি। দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে গল্প তুলে ধরতে না পারলে সিনেমাগুলো দর্শক টানতে পারবে না।’
কীভাবে পুরোনো দিনের মতো দর্শকনন্দিত সিনেমা বানানো যায় বা দর্শককে আবারও মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী করা যায়, সে বিষয়ে জানতে চাইলে বিধান রিবেরু বলেন, ‘সত্যিকারের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৎ সাহস নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক বলয় থেকে বের হয়ে সৎ ও আপোষহীনভাবে যুদ্ধের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে হবে। রাজনীতিবিদদেরও নিজেদের দলীয় মত বাদ দিতে হবে, কারণ মুক্তিযুদ্ধ কোনো দলের একার না বরং সাধারণ জনগণের।’

মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার এলেই পৃথিবীর বহু দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘মা দিবস’ ঘিরে শুরু হয় বিশেষ আয়োজন। রেস্তোরাঁর অফার, অনলাইন ক্যাম্পেইন, ফুলের দোকানে ভিড়, ফেসবুকে দীর্ঘ আবেগঘন পোস্ট— সব মিলিয়ে দিনটি যেন ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত অনুভূতির চেয়ে বেশি একটি সামাজিক ও বাণিজ্যিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ফেসবুকে ঢুকলেই চোখে পড়ছে মাকে নিয়ে পোস্ট। হবে না-ই বা কেন? আজ যে বিশ্ব মা দিবস। এই ফেসবুকেই কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন—‘মা দিবস কি শুধুই ফেসবুককেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে?’
৩ ঘণ্টা আগে
উপায় জানা থাকলে যেকোনো জায়গা থেকেই এই আঠা তোলা সম্ভব। চলুন জেনে নিই বিভিন্ন জিনিস থেকে সুপার গ্লু তোলার কিছু কৌশল।
৫ ঘণ্টা আগে
মায়ের মৃত্যুর সময় জানকী দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। বাবার বাড়িতে জন্ম হলেও মায়ের মৃত্যুর পর তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বসে দুই মাহারি। বাবা ছিলেন চাম্বুগং মাহারির, আর জানকী মায়ের দিক থেকে চিসিম মাহারির কন্যা। তাই প্রশ্ন ওঠে, চিসিম মাহারির এই মেয়ের দায়িত্ব নেবে কে?
৫ ঘণ্টা আগে