দর্শকদের কানে এখনও বাজে ২০১০ সালের বিশ্বকাপের সেই তুমুল জনপ্রিয় গান, ‘ওয়াকা ওয়াকা’। বিশ্বকাপের গান মানেই যেন ‘ওয়াকা ওয়াকা’ আর টিভির পর্দায় ভেসে ওঠা কোঁকড়ানো সোনালি চুলের শাকিরা।
ফাবিহা বিনতে হক

আবারও কলম্বিয়ান পপতারকা শাকিরা বিশ্বমঞ্চে ফিরছেন নতুন গান নিয়ে। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রকাশিত ‘দাই দাই’-এর টিজার ইতিমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে। যেন এই টিজারের মাধ্যমে আসন্ন বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার কাউন্টডাউন শুরু হলো।
গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মিনিটের টিজারের ক্যাপশনে শাকিরা লেখেন, ‘‘মারাকানা স্টেডিয়াম থেকে, এই হলো ‘দাই দাই’, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান।’’ গানটিতে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন নাইজেরিয়ান আফ্রোবিটস তারকা বার্না বয়।
যতই নতুন গান, নতুন চমক নিয়ে ফুটবলভক্তদের সামনে হাজির হোন না কেন, শাকিরা কি পারবে ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গানের জনপ্রিয়তাকে ছাড়িয়ে যেতে?
দর্শকদের কানে এখনও বাজে ২০১০ সালের বিশ্বকাপের সেই তুমুল জনপ্রিয় গান, ‘ওয়াকা ওয়াকা’। বিশ্বকাপের গান মানেই যেন ‘ওয়াকা ওয়াকা’ আর টিভির পর্দায় ভেসে ওঠা কোঁকড়ানো সোনালি চুলের শাকিরা। গানের ভাষা আমরা বুঝতাম না। তখন দেশে ইন্টারনেটও এতটা সহজলভ্য হয়নি। ফলে ইউটিউবে ঘেঁটে দেখার সুযোগ ছিল না, লিরিকে কী বলা হচ্ছে।

কিন্তু ভাষার ভিন্নতা ভক্তদের মুগ্ধ হওয়ার বাধা হতে পারেনি। তাই আজও, এতগুলো বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও, মানুষের মুখে মুখে ফেরে সেই সুর। আমাদের ছোটবেলার ‘বিশ্বকাপ স্মৃতির’ বড় অংশ জুড়ে রয়েছে শাকিরার সেই গান।
২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং ‘ওয়াকা ওয়াকা (দিস টাইম ফর আফ্রিকা)’ জনপ্রিয়তা যে কত বেশি, তা বিভিন্ন পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। অডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাইতে গানটি সব মিলিয়ে প্রায় ১০৭ কোটিরও বেশি বার শোনা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গানটির ইংরেজি ভার্সনটিই শোনা হয়েছে প্রায় ৯০ কোটি বার। এ ছাড়াও স্প্যানিশ ভার্সনটি প্রায় ৪ কোটি ৭৭ লাখ বার এবং গানটির ইংরেজি ও স্প্যানিশ মিক্সসহ একটি লাইভ পারফরম্যান্সও কোটিবারের বেশি শুনেছেন শ্রোতারা।
শুধু তাই নয়, মুক্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত ডিজিটাল কপি ও ফিজিক্যাল সিডি মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে এই গানের দেড় কোটিরও বেশি ইউনিট বিক্রি হয়েছে বলে জানা যায়। তবে সবচেয়ে বড় চমকটি রয়েছে এর অফিশিয়াল মিউজিক ভিডিওতে। লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো জনপ্রিয় ফুটবল তারকাদের উপস্থিতিতে তৈরি ভিডিওটি ইউটিউবে ৪১০ কোটিরও (৪.১ বিলিয়ন) বেশি বার দেখা হয়েছে। এই বিশাল ভিউয়ের সুবাদে ‘ওয়াকা ওয়াকা’ ইউটিউবের সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় শীর্ষ ২০ ভিডিওর তালিকায় আজও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।

মুক্তির এক যুগ পর, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময়ও গানটি নতুন করে ‘বিলবোর্ড গ্লোবাল এক্সক্লুসিভ ইউ.এস. চার্টের’ ৪৬ নম্বরে উঠে এসেছিল।
এই বিপুল জনপ্রিয়তার পেছনে বড় কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে, এই গানের সর্বজনীনতা। সাউথ আফ্রিকান ব্যান্ড ‘ফ্রেশলিগ্রাউন্ড’-এর সঙ্গে গাওয়া এই গানে ছিল আফ্রিকান ড্রামের বিট এবং সোকা মিউজিকের প্রভাব। এর রিদমও দারুণ এনার্জেটিক। শুনলেই ভক্তদের শরীর অজান্তেই দুলে ওঠে। সেই সঙ্গে শাকিরার বিশেষ নাচের মুদ্রাটি ছিল বেশ সহজ আর আকর্ষণীয়। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষ, এমনকি শিশুরাও খুব সহজেই ওই নাচের স্টেপ অনুসরণ করতে পারে।
ওয়াকা ওয়াকার জনপ্রিয়তা যত বেড়েছে, ততই পাকাপোক্ত হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে শাকিরার অবস্থান
ফুটবল বিশ্বকাপ এবং শাকিরা
বিশ্বকাপের সঙ্গে শাকিরার সম্পর্কের শুরুটা ২০০৬ সালে। জার্মানি বিশ্বকাপে। সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি গেয়েছিলেন তুমুল জনপ্রিয় গান ‘হিপস ডোন্ট লাই’।
তবে মজার ব্যাপার হলো, গানটি শুরুতে বিশ্বকাপের কথা ভেবে লেখা বা সুর করা হয়নি। এটা ছিল অ্যালবামের গান। কিন্তু গানটি যখন সারা বিশ্বে বেশ জনপ্রিয় হয়ে যায়, তখন ফিফা শাকিরাকে বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে গাওয়ার প্রস্তাব দেয়। শাকিরা তখন গানটির বিশেষ ‘ব্যাম্বু ভার্সন’ তৈরি করেন।

এরপর ২০১০ সালে শাকিরার ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গানটির জনপ্রিয়তা শাকিরাকে সারাবিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলে। এই গানের মিউজিক ভিডিও শুটিংয়ের সময় স্প্যানিশ ফুটবল তারকা জেরার্ড পিকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এই ব্যক্তিগত সংযোগ শাকিরাকে ফুটবল বিশ্বের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে।
২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে শাকিরা অফিশিয়াল শিল্পী ছিলেন না। সেবার অফিশিয়াল থিম সং গেয়েছিলেন পিটবুল ও জেনিফার লোপেজ। কিন্তু শাকিরা যখন কারলিনহোস ব্রাউনের সঙ্গে মিলে ‘লা লা লা’ গানটি রিলিজ করলেন, তখন জনপ্রিয়তার দিক থেকে তা অফিশিয়াল গানকেও ছাপিয়ে গেল। গানের মিউজিক ভিডিওতে লিওনেল মেসি, নেইমার, জেরার্ড পিকে থেকে শুরু করে ফুটবলের রথী-মহারথীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বকাপ ফুটবলে শাকিরার জনপ্রিয়তা যেমন রয়েছে, তেমনি ফিফার কাছেও রয়েছে গ্রহণযোগ্যতা। কারণ শাকিরাকে শুধু একজন ল্যাটিন গায়িকা ভাবলে ভুল হবে। তাঁর রক্তে রয়েছে লেবানিজ ও কলম্বিয়ান মিশ্রণ।
শাকিরার অনেক গানেই ল্যাটিন, এরাবিক, আফ্রিকান এবং ওয়েস্টার্ন মিউজিকের ফিউশন দেখা যায়। ফুটবল বিশ্বকাপ যেহেতু সারা বিশ্বের উৎসব, তাই এমন একজন শিল্পীই প্রয়োজন, যাঁর গান বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষকে এক করত পারে।
এ ছাড়া শাকিরার মঞ্চে উপস্থিতি বা স্টেজ পারফরম্যান্স খুবই এনার্জেটিক। ফুটবলের মতো হাই-ভোল্টেজ খেলার সঙ্গে তাঁর এই উদ্দীপ্ত পারফরম্যান্স দারুণ মিলে যায়। শাকিরা শুধু ভালো গাইতে পারেন তা নয়, তাঁর নাচ আর রিদমিক মুভমেন্ট লাখো দর্শককে চাঙ্গা করে তুলতে পারে।
২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে শাকিরার নতুন কোনো গান না থাকায় ভক্তরা বেশ হতাশ হয়েছিলেন। তবে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য শাকিরা আবারও ফিরে আসছেন। এক যুগ পর আবার সেই চেনা কণ্ঠের ছোঁয়া পেতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব। তবে ভক্তদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন, ‘দাই দাই’ কি পারবে সেই ওয়াকা ওয়াকা-র জনপ্রিয়তাকে স্পর্শ করতে?

আবারও কলম্বিয়ান পপতারকা শাকিরা বিশ্বমঞ্চে ফিরছেন নতুন গান নিয়ে। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রকাশিত ‘দাই দাই’-এর টিজার ইতিমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে। যেন এই টিজারের মাধ্যমে আসন্ন বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার কাউন্টডাউন শুরু হলো।
গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মিনিটের টিজারের ক্যাপশনে শাকিরা লেখেন, ‘‘মারাকানা স্টেডিয়াম থেকে, এই হলো ‘দাই দাই’, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান।’’ গানটিতে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন নাইজেরিয়ান আফ্রোবিটস তারকা বার্না বয়।
যতই নতুন গান, নতুন চমক নিয়ে ফুটবলভক্তদের সামনে হাজির হোন না কেন, শাকিরা কি পারবে ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গানের জনপ্রিয়তাকে ছাড়িয়ে যেতে?
দর্শকদের কানে এখনও বাজে ২০১০ সালের বিশ্বকাপের সেই তুমুল জনপ্রিয় গান, ‘ওয়াকা ওয়াকা’। বিশ্বকাপের গান মানেই যেন ‘ওয়াকা ওয়াকা’ আর টিভির পর্দায় ভেসে ওঠা কোঁকড়ানো সোনালি চুলের শাকিরা। গানের ভাষা আমরা বুঝতাম না। তখন দেশে ইন্টারনেটও এতটা সহজলভ্য হয়নি। ফলে ইউটিউবে ঘেঁটে দেখার সুযোগ ছিল না, লিরিকে কী বলা হচ্ছে।

কিন্তু ভাষার ভিন্নতা ভক্তদের মুগ্ধ হওয়ার বাধা হতে পারেনি। তাই আজও, এতগুলো বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও, মানুষের মুখে মুখে ফেরে সেই সুর। আমাদের ছোটবেলার ‘বিশ্বকাপ স্মৃতির’ বড় অংশ জুড়ে রয়েছে শাকিরার সেই গান।
২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং ‘ওয়াকা ওয়াকা (দিস টাইম ফর আফ্রিকা)’ জনপ্রিয়তা যে কত বেশি, তা বিভিন্ন পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। অডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাইতে গানটি সব মিলিয়ে প্রায় ১০৭ কোটিরও বেশি বার শোনা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গানটির ইংরেজি ভার্সনটিই শোনা হয়েছে প্রায় ৯০ কোটি বার। এ ছাড়াও স্প্যানিশ ভার্সনটি প্রায় ৪ কোটি ৭৭ লাখ বার এবং গানটির ইংরেজি ও স্প্যানিশ মিক্সসহ একটি লাইভ পারফরম্যান্সও কোটিবারের বেশি শুনেছেন শ্রোতারা।
শুধু তাই নয়, মুক্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত ডিজিটাল কপি ও ফিজিক্যাল সিডি মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে এই গানের দেড় কোটিরও বেশি ইউনিট বিক্রি হয়েছে বলে জানা যায়। তবে সবচেয়ে বড় চমকটি রয়েছে এর অফিশিয়াল মিউজিক ভিডিওতে। লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো জনপ্রিয় ফুটবল তারকাদের উপস্থিতিতে তৈরি ভিডিওটি ইউটিউবে ৪১০ কোটিরও (৪.১ বিলিয়ন) বেশি বার দেখা হয়েছে। এই বিশাল ভিউয়ের সুবাদে ‘ওয়াকা ওয়াকা’ ইউটিউবের সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় শীর্ষ ২০ ভিডিওর তালিকায় আজও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।

মুক্তির এক যুগ পর, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময়ও গানটি নতুন করে ‘বিলবোর্ড গ্লোবাল এক্সক্লুসিভ ইউ.এস. চার্টের’ ৪৬ নম্বরে উঠে এসেছিল।
এই বিপুল জনপ্রিয়তার পেছনে বড় কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে, এই গানের সর্বজনীনতা। সাউথ আফ্রিকান ব্যান্ড ‘ফ্রেশলিগ্রাউন্ড’-এর সঙ্গে গাওয়া এই গানে ছিল আফ্রিকান ড্রামের বিট এবং সোকা মিউজিকের প্রভাব। এর রিদমও দারুণ এনার্জেটিক। শুনলেই ভক্তদের শরীর অজান্তেই দুলে ওঠে। সেই সঙ্গে শাকিরার বিশেষ নাচের মুদ্রাটি ছিল বেশ সহজ আর আকর্ষণীয়। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষ, এমনকি শিশুরাও খুব সহজেই ওই নাচের স্টেপ অনুসরণ করতে পারে।
ওয়াকা ওয়াকার জনপ্রিয়তা যত বেড়েছে, ততই পাকাপোক্ত হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে শাকিরার অবস্থান
ফুটবল বিশ্বকাপ এবং শাকিরা
বিশ্বকাপের সঙ্গে শাকিরার সম্পর্কের শুরুটা ২০০৬ সালে। জার্মানি বিশ্বকাপে। সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি গেয়েছিলেন তুমুল জনপ্রিয় গান ‘হিপস ডোন্ট লাই’।
তবে মজার ব্যাপার হলো, গানটি শুরুতে বিশ্বকাপের কথা ভেবে লেখা বা সুর করা হয়নি। এটা ছিল অ্যালবামের গান। কিন্তু গানটি যখন সারা বিশ্বে বেশ জনপ্রিয় হয়ে যায়, তখন ফিফা শাকিরাকে বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে গাওয়ার প্রস্তাব দেয়। শাকিরা তখন গানটির বিশেষ ‘ব্যাম্বু ভার্সন’ তৈরি করেন।

এরপর ২০১০ সালে শাকিরার ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গানটির জনপ্রিয়তা শাকিরাকে সারাবিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলে। এই গানের মিউজিক ভিডিও শুটিংয়ের সময় স্প্যানিশ ফুটবল তারকা জেরার্ড পিকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এই ব্যক্তিগত সংযোগ শাকিরাকে ফুটবল বিশ্বের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে।
২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে শাকিরা অফিশিয়াল শিল্পী ছিলেন না। সেবার অফিশিয়াল থিম সং গেয়েছিলেন পিটবুল ও জেনিফার লোপেজ। কিন্তু শাকিরা যখন কারলিনহোস ব্রাউনের সঙ্গে মিলে ‘লা লা লা’ গানটি রিলিজ করলেন, তখন জনপ্রিয়তার দিক থেকে তা অফিশিয়াল গানকেও ছাপিয়ে গেল। গানের মিউজিক ভিডিওতে লিওনেল মেসি, নেইমার, জেরার্ড পিকে থেকে শুরু করে ফুটবলের রথী-মহারথীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বকাপ ফুটবলে শাকিরার জনপ্রিয়তা যেমন রয়েছে, তেমনি ফিফার কাছেও রয়েছে গ্রহণযোগ্যতা। কারণ শাকিরাকে শুধু একজন ল্যাটিন গায়িকা ভাবলে ভুল হবে। তাঁর রক্তে রয়েছে লেবানিজ ও কলম্বিয়ান মিশ্রণ।
শাকিরার অনেক গানেই ল্যাটিন, এরাবিক, আফ্রিকান এবং ওয়েস্টার্ন মিউজিকের ফিউশন দেখা যায়। ফুটবল বিশ্বকাপ যেহেতু সারা বিশ্বের উৎসব, তাই এমন একজন শিল্পীই প্রয়োজন, যাঁর গান বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষকে এক করত পারে।
এ ছাড়া শাকিরার মঞ্চে উপস্থিতি বা স্টেজ পারফরম্যান্স খুবই এনার্জেটিক। ফুটবলের মতো হাই-ভোল্টেজ খেলার সঙ্গে তাঁর এই উদ্দীপ্ত পারফরম্যান্স দারুণ মিলে যায়। শাকিরা শুধু ভালো গাইতে পারেন তা নয়, তাঁর নাচ আর রিদমিক মুভমেন্ট লাখো দর্শককে চাঙ্গা করে তুলতে পারে।
২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে শাকিরার নতুন কোনো গান না থাকায় ভক্তরা বেশ হতাশ হয়েছিলেন। তবে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য শাকিরা আবারও ফিরে আসছেন। এক যুগ পর আবার সেই চেনা কণ্ঠের ছোঁয়া পেতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব। তবে ভক্তদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন, ‘দাই দাই’ কি পারবে সেই ওয়াকা ওয়াকা-র জনপ্রিয়তাকে স্পর্শ করতে?

আজ এমন একজনের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী, যিনি দুটি দেশের জাতীয় সংগীত লিখেছেন। নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। ২৫ কোটি মানুষের কাছে তিনি প্রাসঙ্গিক। কখনো বা পূজনীয়। অথচ বাংলা ভাষাভাষীদের বাইরে কাউকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা জিজ্ঞেস করে দেখুন। বড়জোর এক মুহূর্তের শূন্য দৃষ্টি ছাড়া আর কিছুই পাবেন না।
৪ ঘণ্টা আগে
জার্মানি কিংবা ইউরোপে যেমন গ্যেটে, বাংলাদেশ বা ভারতীয় জীবনে তেমনি রবীন্দ্রনাথ বার বার প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন; বহু বিষয়ে, বহু কারণে। গ্যেটের প্রাসঙ্গিকতা আধুনিক ইউরোপীয় জীবনের নানা স্তরে বিদ্যমান; সাহিত্যিক, দার্শনিক, সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্র ছাড়াও আধুনিক মানুষের আত্মিক পরিচয়, জীবনাকাঙ্ক্ষা, স্বাধ
১৮ ঘণ্টা আগে
রবীন্দ্রনাথ যখন বাংলা সাহিত্যকে ‘জাতীয় সাহিত্য’ হিসেবে দেখার চেষ্টা করছেন, তখন বাংলা গদ্যসাহিত্যের যাত্রাই-বা কতদিন! তাঁর ভাষায় বলতে গেলে বলতে হয়, প্রায় একশত বছরের বাংলা সাহিত্য তখন ‘নববঙ্গসাহিত্য’! তখনও বিখ্যাত তাত্ত্বিক রেনে ওয়েলেক আর অস্টিন ওয়ারেন তাঁদের জাতীয় সাহিত্য পৃথকীকরণ নিয়ে ধারণাই দেননি।
১ দিন আগে
আজকের প্রজন্মের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কটাও বেশ অদ্ভুত। তিনি একইসঙ্গে জনপ্রিয়, তবে এর গভীরতা কম। খুব তাঁর উপস্থিতি দৃশ্যমান, তবে তাঁকে চেনার মাধ্যমে নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনেন বা শিখেন অথবা নিজ আগ্রহে তাঁর বই পড়েন, এই প্রজন্মে এই সংখ্যা খুবই কম।
১ দিন আগে