‘গণভোটের রায় উপেক্ষা অভ্যুত্থানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

‘গণভোট: বৈধতার ভিত্তি জনগণ না সংবিধান?’ শীর্ষক সভায় কথা বলছেন হাসনাত কাইয়ূম। ছবি: সংগৃহীত

গণভোটের রায় উপেক্ষা করা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা। শনিবার (৯ মে) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এই মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম বলেন, একাত্তরের পর এবারের অভ্যুত্থানে জনগণ সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে। কিন্তু মাত্র ৫ শতাংশ লুটেরার স্বার্থে এই আত্মত্যাগ ব্যর্থ হতে চলেছে।

বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি গণভোটের কিছু প্রশ্নে আপত্তি তুলেছে। কিন্তু সেই আপত্তি কি জনগণের স্বার্থে নাকি দলীয় ইগোর কারণে, তা স্পষ্ট করতে হবে।’

সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য সংঘাত নয়, বরং সমন্বয়ে। জাতীয় সমঝোতা তৈরির দায়িত্ব সরকারের।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, সংবিধান সংশোধনে আদালতের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আদালত সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে গিয়ে মৌলিক পরিবর্তন বাতিল করে দিতে পারে। এই জটিলতা দূর করতে ‘গণপরিষদ’ গঠন করা জরুরি।

আমেরিকার সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির সমালোচনা করে সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ভারতের সঙ্গে হওয়া চুক্তির চেয়েও এবারের মার্কিন চুক্তি বেশি পরাধীন।’ এছাড়া দুই-তৃতীয়াংশ ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা দলগুলোর করুণ পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ঐতিহাসিক ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।

সভায় গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরায়জী বলেন, ‘জনগণই রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার মালিক। রাষ্ট্র যখন গণভোটের রায়কে আদালতের দোহাই দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে, তখন সে নিজের জন্ম-উৎসকে অস্বীকার করে। এই পালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা রাষ্ট্রকে “লেজিটিমেসি ক্রাইসিসে” ফেলছে।’

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন, রাষ্ট্রচিন্তক মঞ্জুর কাদির, ডা. কামরুল হাসান চৌধুরী, মাহবুবুল আলম চৌধুরী, মোসলেহ উদ্দিন বিজয়, আদিলুর রহমানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সম্পর্কিত