leadT1ad

গরমে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ২২: ৪১
এআই জেনারেটেড ছবি

গরমকালে খাবার-দাবার বাছাইয়ে সতর্ক হওয়া দরকার। দাবদাহে আমাদের শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম অনেকটা ধীর হয়ে যায়, ফলে ভারী ও জটিল খাবার হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আবার কিছু খাবার শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা গরমে অস্বস্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এ সময় আমাদের পাতে কী থাকছে, আর কী থাকছে না—তা নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।

মশলাজাতীয় ও তৈলাক্ত খাবার

আমরা অনেকেই মশলাদার খাবার খেতে পছন্দ করি। কিন্তু গরমে ‘ভুনা মাছ বা মাংস’ এড়াতে হবে। কারণ এ ধরণের খাবার হজম হতে সময় নেয়। শরীরে বিপাক প্রক্রিয়া দীর্ঘ হলে গরম বেশি লাগে। এই গরমে পোলাও, বিরিয়ানির মতো খাবারও কমিয়ে খাওয়া উচিৎ।

গরুর মাংস, হাঁসের মাংস ও খাসির মাংসও এড়িয়ে চললে ভালো হয়। কারণ এসব খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে চর্বি থাকে। চর্বিযুক্ত খাবার শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

ডিম ও প্রোটিনের বিকল্প

শরীরে প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর অন্যতম মাধ্যম ডিম। কিন্তু গরমের সময় ডিম খেলে কিছু সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে যাদের শরীরে কোলেস্টেরল বেশি কিংবা যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে। তাঁরা চাইলে প্রচন্ড গরমের সময় ডিম এড়িয়ে চলতে পারেন।

গরমে সুস্থ থাকতে প্রচুর পানি পান করুন। লেবুর শরবত বা ডাবের পানি খেতে পারেন। ঘরে তৈরি পাতলা ঝোলের তরকারি খাওয়া ভালো। শসা, তরমুজ ও বাঙ্গির মতো রসালো ফল খান। এগুলো শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে।

ডিমের পরিবর্তে খাদ্যতালিকায় মাছ রাখুন। প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে মুরগির মাংসও রাখতে পারেন। এগুলো সহজে হজম হয়। শরীরের তাপমাত্রাও ঠিক রাখে।

আইসক্রিম-কোমল পানীয়

অনেকে মনে করেন আইসক্রিম খেলে গরম কমবে। ঠাণ্ডা বোতলজাত কোমল পানীয়ও অনেকে পছন্দ করেন। কৃত্রিম চিনি শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সাময়িক আরাম মিললেও পরে অস্বস্তি হতে পারে। গরমের দিনে এ জাতীয় পানীয় ক্ষতিকর হতে পারে।

ফাস্টফুড-ডুবো তেলে ভাজা খাবার

ফাস্টফুড নিয়ে সমালোচনার শেষ নেই। কিন্তু বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, পিৎজার লোভ সামলানোও কঠিন। তবে এই গরমে ফাস্টফুড এড়িয়ে চললেই ভালো। এসব খাবারে প্রচুর শর্করা ও চর্বি থাকে। চর্বিযুক্ত খাবার হজম করতে অনেক সময় লাগে।

গরুর মাংস, হাঁসের মাংস ও খাসির মাংসও এড়িয়ে চললে ভালো হয়। কারণ এসব খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে চর্বি থাকে। চর্বিযুক্ত খাবার শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

ডুবো তেলে ভাজা খাবার খেতে মুখরোচক হলেও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের খাবার গরমে এড়িয়ে চলুন। এ ছাড়া ভাজা-পোড়া জাতীয় খাবার শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি করতে পারে।

অতিরিক্ত চা-কফি

গরমকালে অতিরিক্ত চা-কফি পান থেকে দূরে থাকুন। চা বা কফির ক্যাফেইন দেহকে পানিশূন্য করতে সাহায্য করে, শরীরের তাপমাত্রা বাড়াতে পারে। গরমে অতিরিক্ত ক্যাফেইন পরিহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

দুগ্ধজাতীয় খাবার

গরমকালে দুধ জাতীয় খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। বিশেষ করে মেয়োনেজ বা বিভিন্ন শেক খাওয়ার সময়। কারণ গরমের সময় এ জাতীয় খাবারে ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে। ব্যাকটেরিয়ার কারণে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়। এর ফলে পেটের নানাবিধ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত চিনি ও লবণ

চিনি ও লবণ শরীরের জন্য এমনিতেই ক্ষতিকর। কিন্তু গরমের সময় ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়ে। এ সময় অতিরিক্ত চিনি-লবণ খেলে অস্বস্তি হতে পারে। তাই গরমে প্যাকেট জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভালো। প্রসেসড ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন করুন। এসব খাবার শরীরের স্বাভাবিক পানির ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।

গরমে কী খাবেন

গরমে সুস্থ থাকতে প্রচুর পানি পান করুন। লেবুর শরবত বা ডাবের পানি খেতে পারেন। ঘরে তৈরি পাতলা ঝোলের তরকারি খাওয়া ভালো। শসা, তরমুজ ও বাঙ্গির মতো রসালো ফল খান। এগুলো শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে।

সুতির হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করুন। রোদ থেকে বাঁচতে বাইরে ছাতা ব্যবহার করুন। পরিচ্ছন্ন ও তাজা খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন আপনাকে গরমেও সুস্থ রাখবে

বিষয়:

গরম
Ad 300x250

সম্পর্কিত