জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

রোজায় ওজন কমাতে চাইলে দরকার ‘হেলদি রিসেট’

হেলদি রিসেট বলতে বোঝায় আমাদের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনকে নতুন করে ঢেলে সাজানো। সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে ভারী ও তেলযুক্ত খাবার দিয়ে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার যে মানসিকতা আমাদের আছে, তা থেকে বেরিয়ে আসাই হলো হেলদি রিসেট।

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০: ২৯
রোজায় ওজন কমাতে চাইলে দরকার ‘হেলদি রিসেট’। এআই জেনারেটেড ছবি

আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস রমজান। এ মাসটিকে ঘিরে অনেকেরই থাকে ওজন কমানোর পরিকল্পনা। তাঁরা ভাবেন, সারাদিন না খেয়ে থাকলে মাস শেষে এমনিতেই ওজন অনেকটা কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে হয় তার উল্টোটা। ঈদের চাঁদ ওঠার পর দেখা যায় ওজন কমার বদলে আরও বেড়ে গেছে!

এর বড় কারণ হলো ইফতার ও সেহরিতে আমাদের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। সারাদিন খালি পেটে থাকার পর পেঁয়াজু, বেগুনি, চপ, জিলাপির মতো ভাজাপোড়া খাবারে ভর্তি হয়ে যায় ইফতারের প্লেট। সঙ্গে থাকে মিষ্টি শরবত বা কোমল পানীয়। ফলে আমরা অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করি।

এসব মুখরোচক কিন্তু ক্ষতিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস বাদ দিয়ে সত্যিই এই রোজার মাসে যদি ওজন কমাতে চান, তবে এই রমজানে একটি ‘হেলদি রিসেট’ বা স্বাস্থ্যকর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

হেলদি রিসেট বলতে বোঝায় আমাদের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনকে নতুন করে ঢেলে সাজানো। সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে ভারী ও তেলযুক্ত খাবার দিয়ে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার যে মানসিকতা আমাদের আছে, তা থেকে বেরিয়ে আসাই হলো হেলদি রিসেট।

ইফতারে চাই স্বাস্থ্যকর খাবার

ওজন কমানোর প্রথম শর্ত হলো ইফতারের টেবিল থেকে ডুবো তেলে ভাজা খাবারগুলো বিদায় করা। সারা দিন খালি পেটে থাকার পর এই খাবারগুলো খেলে তা সরাসরি শরীরে ফ্যাট হিসেবে জমা হয় এবং আমাদের মেটাবলিজম বা হজমপ্রক্রিয়া ধীর করে দেয়।

পাশাপাশি, প্রতিদিন অন্তত ৬-৭ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। অপর্যাপ্ত ঘুম শরীরে স্ট্রেস হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যা ওজন কমানোর পথে একটি বড় বাধা।

হেলদি রিসেটের অংশ হিসেবে ইফতার শুরু করুন দুটি খেজুর ও এক গ্লাস স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে। এরপর রাখতে পারেন চিনি ছাড়া তাজা ফলের রস, তরমুজ, শসা, টমেটো, টক দই, চিড়া বা সেদ্ধ ছোলা। এই খাবারগুলো আপনাকে যেমন সতেজ করবে, এর পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করবে।

রাতের খাবারে পরিমিতিবোধ

অনেকেই আবার ইফতারের পর থেকে সেহরির আগ পর্যন্ত কিছু না কিছু চিবোতেই থাকে। তাঁরা ইফতারে যেমন তেলযুক্ত ভারী খাবার খান, রাতের খাবারেও থাকে ভারী খাবার। তবে, ওজন কমাতে চাইলে শুধু ইফতার নয়, রাতের খাবারও হতে হবে স্বাস্থ্যকর।

এক কাপ ভাত বা একটি লাল আটার রুটির সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে সবজি, ডাল ও এক টুকরো মাছ বা মুরগির মাংস থাকতে পারে। মনে রাখবেন, পেট পুরে না খেয়ে পেটের কিছুটা অংশ ফাঁকা রাখা এই হেলদি রিসেটের অন্যতম প্রধান শর্ত।

সেহরিতে শর্করা ও প্রোটিন

সেহরিতে এমন খাবার বেছে নিতে হবে যা দীর্ঘক্ষণ পেটে থাকে এবং সারাদিন শক্তি জোগায়। সাদা ভাত বা পোলাওয়ের বদলে লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি বা ওটস বেছে নিন। সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রোটিন হিসেবে ডিম, দুধ বা মুরগির মাংস রাখুন।

প্রোটিন ও জটিল শর্করা শরীরে দ্রুত মেদ জমতে দেয় না। এর ফলে দিনের বেলা বারবার ক্ষুধা লাগার প্রবণতা অনেকাংশেই কমে। এছাড়া সেহরিতে অতিরিক্ত তেল-মসলা বা গরু-খাসির মাংস এড়িয়ে চলা উচিত।

মিষ্টি পানীয়র বদলে পানি

সারাদিন রোজা রেখে ইফতারে কার্বনেটেড পানীয় বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত খেতে আমরা অনেকেই ভালবাসি। এই পানীয়গুলোতে থাকা কৃত্রিম চিনি ওজন বাড়ার অন্যতম কারণ। এই রোজায় নিজের ওজন কমাতে চাইলে চিনির শরবত পুরোপুরি বাদ দিন।

এর বদলে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করুন। ডাবের পানি, ইসবগুলের ভুসি বা লেবুর শরবত শরীরকে আর্দ্র রাখার পাশাপাশি চর্বি গলাতেও দারুণ কাজ করে।

হালকা হাঁটাচলা ও পর্যাপ্ত ঘুম

একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। ওজন কমানোর জন্য শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি শারীরিক সক্রিয়তাও খুবই জরুরি। তারাবির নামাজের পর অন্তত ২০-৩০ মিনিট হালকা হাঁটার অভ্যাস করুন। এটি খাবার হজমে সাহায্য করবে এবং ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে।

পাশাপাশি, প্রতিদিন অন্তত ৬-৭ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। অপর্যাপ্ত ঘুম শরীরে স্ট্রেস হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যা ওজন কমানোর পথে একটি বড় বাধা।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত