আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব পর্যটন দিবস। মনস্তত্ত্বের দৃষ্টিতে ভ্রমণকে বলা যায় ‘মনের চিকিৎসা’ কিংবা এক ধরনের থেরাপি।
ফাতেমা মাহফুজ

আচ্ছা, মানুষ কেন বেড়াতে চায়? বেড়ালে কী হয়? এরকম প্রশ্ন আছে অনেকের মনে। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘আমি চঞ্চল হে, সুদূরের পিয়াসী’। বেড়াতে না গেলে কি সুদূরকে পাওয়া যায়? রবীন্দ্রনাথ ঘুরে বেড়িয়েছেন পৃথিবীর বহু প্রান্তে। বেড়ানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন চিঠি, ভ্রমণকাহিনি। শুধু কবি নয়, মনস্তত্ত্ববিদেরাও ভেবেছেন ভ্রমণের মনস্তত্ত্ব নিয়ে। আর তাই প্রশ্ন জাগে, বেড়ানোর সাতকাহন নিয়ে কী বলছে সাইকোলজি?
সাদামাটাভাবে বললে বলা যায়, ‘ক্লান্ত জীবনে ভ্রমণ শুধু অবসর নয়, বরং মানসিক থেরাপি।’ ভ্রমণ আসলে কেবল প্রকৃতি দেখা বা নতুন জায়গায় ছবি তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর ভেতরে আছে মানসিক স্বস্তি, আত্ম-আবিষ্কার, নতুন অভিজ্ঞতা এবং জীবনকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ।
নতুনত্বের প্রতি মানুষের সহজাত আকর্ষণ—যাকে বলা হয় ‘নভেলটি সিকিং’— আমাদের ভ্রমণে তাড়িত করে।
মানুষ স্বভাবতই নতুনত্ব খোঁজে। প্রতিদিনের একই রুটিন, অফিস, পড়াশোনা বা ঘরের কাজ মানুষকে ক্লান্ত করে তোলে। রুটিন থেকে পালিয়ে নতুন দৃশ্য, নতুন অভিজ্ঞতা আমাদের মনকে সক্রিয় করে। রুটিন ভাঙার ইচ্ছা, নিজের সীমা পরীক্ষা করার কৌতূহল ও অচেনার মধ্যে পরিচিত খোঁজার তাগিদ মানুষকে নতুন গন্তব্যে নিয়ে যায়।
ভ্রমণ শুধু মন ভালো করে না, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বাড়ায় এমনকি সৃজনশীলতাও বাড়ায়। অপরিচিত পরিবেশ, নতুন ভাষা, নতুন সংস্কৃতি আমাদের চিন্তার সীমা লঙ্ঘন করতে বাধ্য করে। বেড়ালে একঘেয়েমি ভেঙে গিয়ে মন ফুরফুরে হয়, দেহে ডোপামিন হরমোন নিঃসৃত হয় যা সুখানুভূতি জাগায়। ভ্রমণ শেষে অনেকেই বলেন, “জীবনটা যেন নতুন করে শুরু হলো।” এটাই আসলে বেড়ালে মনের পুনর্জাগরণ হয়।
মনোবিজ্ঞানী টমাস গিলোভিচের গবেষণায় দেখা যায়— ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বস্তুগত জিনিস কেনার চেয়ে অনেক বেশি সুখ দেয়। কারণ, বস্তু সময়ের সঙ্গে নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু ভ্রমণের স্মৃতি জীবনের সঙ্গে থেকে যায় এবং ক্রমেই আরও মূল্যবান হয়ে ওঠে। আবার জার্নাল অফ পজিটিভ সাইকোলজি-এর তথ্য অনুযায়ী, যারা নিয়মিত ভ্রমণ করেন তারা মানসিকভাবে আরও ইতিবাচক ও স্থিতিশীল থাকেন।

মনোবিজ্ঞানে ভ্রমণের প্রভাবকে বলা হয় ‘কগনিটিভ ফ্লেক্সিবিলিটি’—অর্থাৎ চিন্তার নমনীয়তা। নতুন সংস্কৃতি, নতুন অভিজ্ঞতা আমাদের মানসিক সীমানা ভাঙতে সাহায্য করে। আর তাই আমরা আরও উদার, সহনশীল এবং সৃজনশীল হয়ে উঠি।
ব্যস্ত এ জীবনে সবার কাছেই অনেক কাঙ্খিত একটি বিষয় হচ্ছে একটু অবসর পাওয়া। কিন্তু অবসর যেন সোনার হরিণ। অবসর মানেই আরাম করা, কিন্তু সব সময় ঘরের ভেতর বসে থাকা সত্যিকার বিশ্রাম দেয় না।
অবসরে ভ্রমণ করা মানসিক চাপ কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায়। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণ করলে সম্পর্ক মজবুত হয়, আর একা ভ্রমণ করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। অবসরে দূরে কোথাও যাওয়া মনকে যেমন সতেজ করে, তেমনি কাজে ফিরে আসার শক্তিও জোগায়।
মনস্তত্ত্বের দৃষ্টিতে ভ্রমণকে বলা যায় ‘মনের চিকিৎসা’ কিংবা এক ধরনের থেরাপি। অনেক গবেষক একে ‘ট্রাভেল থেরাপি’ নামেও উল্লেখ করেছেন। বিষণ্ণতা, উদ্বেগ বা একঘেয়েমি কমাতে বেড়ানো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া প্রাকৃতিক পরিবেশে ভ্রমণকে বলা হয় ইকোথেরাপি। ভ্রমণ স্ট্রেস কমায়,আত্মপরিচয় গড়ে তোলে, সৃজনশীলতা বাড়ায়। নিয়মিত ভ্রমণ মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
ভ্রমণে বাড়ে জীবনীশক্তি। ভ্রমণ বিলাসিতা নয়, বরং মানসিক সুস্থতা ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য অপরিহার্য। সব সময় প্রফুল্ল রাখতে এবং জীবনের সব জটিলতা ভুলতে সময় পেলেই ভ্রমণ করা খুবই জরুরি। তাই সব সমস্যা থেকে দূরে পালিয়ে যান কিছুদিনের জন্য।
মস্তিষ্ককে আরামে রাখুন। মস্তিষ্ক আপনাকে কয়েকগুণ বেশি কাজ করার ক্ষমতা দেবে। বিশ্ব পর্যটন দিবসে, শুধু ছবি তোলার উদ্দেশ্যে নয় — মনের জন্য, মেধার জন্য, আর জীবনের অনুভূতির জন্য ‘একটি যাত্রা’ শুরু করুন।

আচ্ছা, মানুষ কেন বেড়াতে চায়? বেড়ালে কী হয়? এরকম প্রশ্ন আছে অনেকের মনে। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘আমি চঞ্চল হে, সুদূরের পিয়াসী’। বেড়াতে না গেলে কি সুদূরকে পাওয়া যায়? রবীন্দ্রনাথ ঘুরে বেড়িয়েছেন পৃথিবীর বহু প্রান্তে। বেড়ানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন চিঠি, ভ্রমণকাহিনি। শুধু কবি নয়, মনস্তত্ত্ববিদেরাও ভেবেছেন ভ্রমণের মনস্তত্ত্ব নিয়ে। আর তাই প্রশ্ন জাগে, বেড়ানোর সাতকাহন নিয়ে কী বলছে সাইকোলজি?
সাদামাটাভাবে বললে বলা যায়, ‘ক্লান্ত জীবনে ভ্রমণ শুধু অবসর নয়, বরং মানসিক থেরাপি।’ ভ্রমণ আসলে কেবল প্রকৃতি দেখা বা নতুন জায়গায় ছবি তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর ভেতরে আছে মানসিক স্বস্তি, আত্ম-আবিষ্কার, নতুন অভিজ্ঞতা এবং জীবনকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ।
নতুনত্বের প্রতি মানুষের সহজাত আকর্ষণ—যাকে বলা হয় ‘নভেলটি সিকিং’— আমাদের ভ্রমণে তাড়িত করে।
মানুষ স্বভাবতই নতুনত্ব খোঁজে। প্রতিদিনের একই রুটিন, অফিস, পড়াশোনা বা ঘরের কাজ মানুষকে ক্লান্ত করে তোলে। রুটিন থেকে পালিয়ে নতুন দৃশ্য, নতুন অভিজ্ঞতা আমাদের মনকে সক্রিয় করে। রুটিন ভাঙার ইচ্ছা, নিজের সীমা পরীক্ষা করার কৌতূহল ও অচেনার মধ্যে পরিচিত খোঁজার তাগিদ মানুষকে নতুন গন্তব্যে নিয়ে যায়।
ভ্রমণ শুধু মন ভালো করে না, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বাড়ায় এমনকি সৃজনশীলতাও বাড়ায়। অপরিচিত পরিবেশ, নতুন ভাষা, নতুন সংস্কৃতি আমাদের চিন্তার সীমা লঙ্ঘন করতে বাধ্য করে। বেড়ালে একঘেয়েমি ভেঙে গিয়ে মন ফুরফুরে হয়, দেহে ডোপামিন হরমোন নিঃসৃত হয় যা সুখানুভূতি জাগায়। ভ্রমণ শেষে অনেকেই বলেন, “জীবনটা যেন নতুন করে শুরু হলো।” এটাই আসলে বেড়ালে মনের পুনর্জাগরণ হয়।
মনোবিজ্ঞানী টমাস গিলোভিচের গবেষণায় দেখা যায়— ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বস্তুগত জিনিস কেনার চেয়ে অনেক বেশি সুখ দেয়। কারণ, বস্তু সময়ের সঙ্গে নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু ভ্রমণের স্মৃতি জীবনের সঙ্গে থেকে যায় এবং ক্রমেই আরও মূল্যবান হয়ে ওঠে। আবার জার্নাল অফ পজিটিভ সাইকোলজি-এর তথ্য অনুযায়ী, যারা নিয়মিত ভ্রমণ করেন তারা মানসিকভাবে আরও ইতিবাচক ও স্থিতিশীল থাকেন।

মনোবিজ্ঞানে ভ্রমণের প্রভাবকে বলা হয় ‘কগনিটিভ ফ্লেক্সিবিলিটি’—অর্থাৎ চিন্তার নমনীয়তা। নতুন সংস্কৃতি, নতুন অভিজ্ঞতা আমাদের মানসিক সীমানা ভাঙতে সাহায্য করে। আর তাই আমরা আরও উদার, সহনশীল এবং সৃজনশীল হয়ে উঠি।
ব্যস্ত এ জীবনে সবার কাছেই অনেক কাঙ্খিত একটি বিষয় হচ্ছে একটু অবসর পাওয়া। কিন্তু অবসর যেন সোনার হরিণ। অবসর মানেই আরাম করা, কিন্তু সব সময় ঘরের ভেতর বসে থাকা সত্যিকার বিশ্রাম দেয় না।
অবসরে ভ্রমণ করা মানসিক চাপ কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায়। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণ করলে সম্পর্ক মজবুত হয়, আর একা ভ্রমণ করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। অবসরে দূরে কোথাও যাওয়া মনকে যেমন সতেজ করে, তেমনি কাজে ফিরে আসার শক্তিও জোগায়।
মনস্তত্ত্বের দৃষ্টিতে ভ্রমণকে বলা যায় ‘মনের চিকিৎসা’ কিংবা এক ধরনের থেরাপি। অনেক গবেষক একে ‘ট্রাভেল থেরাপি’ নামেও উল্লেখ করেছেন। বিষণ্ণতা, উদ্বেগ বা একঘেয়েমি কমাতে বেড়ানো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া প্রাকৃতিক পরিবেশে ভ্রমণকে বলা হয় ইকোথেরাপি। ভ্রমণ স্ট্রেস কমায়,আত্মপরিচয় গড়ে তোলে, সৃজনশীলতা বাড়ায়। নিয়মিত ভ্রমণ মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
ভ্রমণে বাড়ে জীবনীশক্তি। ভ্রমণ বিলাসিতা নয়, বরং মানসিক সুস্থতা ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য অপরিহার্য। সব সময় প্রফুল্ল রাখতে এবং জীবনের সব জটিলতা ভুলতে সময় পেলেই ভ্রমণ করা খুবই জরুরি। তাই সব সমস্যা থেকে দূরে পালিয়ে যান কিছুদিনের জন্য।
মস্তিষ্ককে আরামে রাখুন। মস্তিষ্ক আপনাকে কয়েকগুণ বেশি কাজ করার ক্ষমতা দেবে। বিশ্ব পর্যটন দিবসে, শুধু ছবি তোলার উদ্দেশ্যে নয় — মনের জন্য, মেধার জন্য, আর জীবনের অনুভূতির জন্য ‘একটি যাত্রা’ শুরু করুন।

কেনিয়ার প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক শহর হলো নাকুরু। রাজধানী নাইরোবি থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হলো সাতসকালে। তখন ভোরের প্রথম আলো শহরের কংক্রিটের ভবনগুলোতে সোনালি আভা ছড়িয়ে দিচ্ছিল। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় চোখে পড়ল গ্রামীণ জীবনের চমৎকার সব দৃশ্য। কেউ গরুর চামড়া মাথায় নিয়ে বাজারে যাচ্ছে, কারও হাতে সবজিভর্তি ব
৮ ঘণ্টা আগে
ভারতের আলোকচিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ এবং লেন্সের জাদুকর রঘু রাই আর নেই। গত দুই বছর ধরে তিনি প্রোস্টেট এবং পাকস্থলীর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ক্যানসার তাঁর মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে পর্যন্তও তিনি তাঁর প
১১ ঘণ্টা আগে
আমাদের রান্নাঘরের অনেক জিনিসই প্লাস্টিকের তৈরি। তাই সহজেই এগুলো খাবারে মিশে যেতে পারে। তবে আমরা চাইলেই খাবারে প্লাস্টিকের উপস্থিতি কমানো সম্ভব। রান্নাঘরে কিছু ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারি।
১৪ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় মেলবোর্ন শহর থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে ‘ফিলিপ আইল্যান্ড’ নামের এক অপূর্ব নৈসর্গিক জায়গায় আমরা এসেছি পেঙ্গুইনের খোঁজে! জি হ্যাঁ, পেঙ্গুইন! পেঙ্গুইন মানেই তো সেই কোট পরা ‘ভদ্রলোক’ পাখি! এর নাম শুনলেই আমাদের চোখে ভাসে, বরফ মহাদেশে হেঁটে যাচ্ছে গুটি গুটি পায়ে।
১ দিন আগে