গরমে আরাম পেতে যেসব শরবত খেতে পারেন

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ২১
স্ট্রিম গ্রাফিক

প্রকৃতিতে রোদের তেজ বাড়ছে। এই গরমে শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা ও সতেজ রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রচন্ড তাপের কারণে অনেকেরই অতিরিক্ত ঘাম হয়। ঘামের কারণে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ বের হয়ে যায়।

এই পানিশূন্যতা পূরণ করতে আমরা অনেকেই ঠান্ডা কোমল পানীয় খেয়ে থাকি। কিন্তু এসব কোমল পানীয় সাময়িক স্বস্তি দিলেও স্বাস্থ্যের জন্য মোটেই ভালো নয়। দেহের পানিশূন্যতা পূরণ করতে সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে তাজা ফলের শরবত।

লেবুর শরবত

গরমের সবচেয়ে সহজলভ্য ও জনপ্রিয় পানীয় ঠান্ডা লেবুর শরবত। এতে সামান্য লবণ ও পুদিনা পাতা মিশিয়ে নিলে এর পুষ্টিগুণ আরও বেড়ে যায়। লেবুর শরবত মুহূর্তেই শরীরের ক্লান্তি দূর করে সতেজ ভাব ফিরিয়ে আনে।

লেবুতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং গরমে সর্দি-কাশি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া লেবুর শরবত হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দেয়।

তরমুজের শরবত

গরমে তরমুজের শরবত আপনাকে ভেতর থেকে ঠান্ডা করতে সাহায্য করে। তরমুজে থাকা প্রায় ৯২ শতাংশ পানি শরীরের পানিশূন্যতা রোধে দারুণ কার্যকরী। এই শরবত শরীরকে দীর্ঘক্ষণ আর্দ্র রাখতে এবং ভেতরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

তরমুজে থাকা ‘লাইকোপেন’’ নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি তরমুজে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকায় ওজন নিয়েও দুশ্চিন্তা করতে হয় না।

বেলের শরবত

বেলের শরবত পেটের সমস্যা দূর করে পেট ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। বেলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। এই উপাদান হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

গরমের কারণে পেটে অস্বস্তি, গ্যাস বা আলসারের মতো সমস্যা কমাতে বেলের শরবত খুব উপকারী। তাছাড়া বেলের শাঁস শরীরে দ্রুত এনার্জি সরবরাহ করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে।

কাঁচা আমের শরবত

কাঁচা আমের শরবত গরমের অত্যন্ত সুপরিচিত পানীয়। এটা শরীরকে ভেতর থেকে শীতল করতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে যে সোডিয়াম ক্লোরাইড ও আয়রন বেরিয়ে যায়, কাঁচা আম তা পূরণে সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন সি, পেকটিন এবং বিভিন্ন মিনারেলস দুর্বলতা দূর করে।

ডাবের পানি

ডাবের পানিকে বলা হয় প্রকৃতির সবচেয়ে বিশুদ্ধ পানীয়। গরমের দিনে এক গ্লাস ডাবের পানি শরীরে জাদুর মতো কাজ করে। এতে থাকা পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া খনিজের ঘাটতি দ্রুত পূরণ করে।

এতে শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় থাকে। গরমে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে এবং ব্রণের সমস্যা কমাতেও ডাবের পানি খুব কার্যকর।

শসা ও পুদিনার ডিটক্স পানীয়

শসা ও পুদিনা পাতা--দুটোতেই রয়েছে শরীরকে ঠান্ডা করার প্রাকৃতিক গুণ। এই পানীয় শরীরে জমে থাকা দূষিত পদার্থ বা টক্সিন বের করে দিয়ে শরীরকে সতেজ রাখে। রোদে পোড়া ত্বকের জ্বালাপোড়া এবং শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমাতে পুদিনা ও শসার মিশ্রণ বেশ ভালো কাজ করে।

তবে শরবত তৈরির সময় অতিরিক্ত চিনির ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো। চিনির বদলে মধু, গুড় ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া, ডায়াবেটিস রোগীদের যেকোনো মিষ্টি শরবত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সম্পর্কিত