আজ ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস
আজ ২২শে সেপ্টেম্বর। বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস। ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন, সাইকেল কিংবা হেঁটে চলাচলে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দুনিয়া জুড়ে পালিত হয় এই দিবস। চলুন আজ এই দিবসের অজুহাতে একটু কল্পনা করা যাক, পৃথিবীতে ব্যক্তিগত গাড়ি নামক বস্তুটি না থাকলে কেমন হতো আমাদের শহর, আমাদের পৃথিবী?
তাহমীদ চৌধুরী

আজ ২২শে সেপ্টেম্বর। বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস। এই দিনে নিয়ম করে পৃথিবীর কিছু রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। তখন সেই রাস্তা ধরে হেঁটে যাওয়া মানুষেরা হয়তো ভাবেন, প্রতিদিন যদি এমন হতো! চলুন আজ এই দিবসের অজুহাতে একটু কল্পনা করা যাক, পৃথিবীতে ব্যক্তিগত গাড়ি নামক বস্তুটি নেই। তাহলে কেমন হতো আমাদের শহর, আমাদের পৃথিবী?
স্বাধীনতার প্রতীক থেকে পায়ের বেড়ি
১৮৮৬ সালে কার্ল বেঞ্জ যখন তাঁর তিন চাকার ‘বেঞ্জ পেটেন্ট-মোটরওয়াগন’ তৈরি করেন, তখন কেউ ভাবেনি এই বস্তুটি পৃথিবীকে এভাবে শাসন করবে। প্রথমদিকে ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল স্রেফ ধনীদের শখের বাহন। কিন্তু ভাবনার ঘুরিয়ে দেন হেনরি ফোর্ড।

হেনরি ফোর্ড ১৯০৮ সালে তাঁর বিখ্যাত ‘মডেল টি’ গাড়ির জন্য অ্যাসেম্বলি লাইন পদ্ধতি চালু করলে গাড়ির উৎপাদন খরচ অবিশ্বাস্যভাবে কমে যায়। ফোর্ডের স্বপ্ন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারের একটি গাড়ি থাকবে। তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বলা যায়।
ধীরে ধীরে গাড়ি হয়ে উঠল স্বাধীনতা, গতি আর আভিজাত্যের প্রতীক। নিজের ইচ্ছামতো যেখানে খুশি যাওয়ার এই স্বাধীনতা মানুষকে এতটাই মুগ্ধ করল যে, স্বাধীনতার এই প্রতীকটিই ধীরে ধীরে হয়ে উঠল পায়ের বেড়ি। কিন্তু কীভাবে?
যানজট ও দূষণের চালচিত্র
বিংশ শতাব্দীতে শহরগুলো পরিকল্পিত হতে লাগল মানুষের পাশাপাশি গাড়িকে কেন্দ্র করে। প্রশস্ত রাস্তা, ফ্লাইওভার, পার্কিং লট—সবকিছুই তৈরি হলো গাড়ির স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য। একবিংশ শতাব্দীতে এসে দেখা গেল, পৃথিবীজুড়ে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা দেড় বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। প্রশ্ন হলো, এই বিপুল গাড়ি আমাদের কী দিয়েছে?
আমাদের ঢাকা শহরের কথাই ধরা যাক। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব মতে, সারা দেশে নিবন্ধিত ব্যক্তিগত গাড়ি আছে ৪ লাখের বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গাড়িগুলো সড়কের প্রায় ৭৫ শতাংশ জায়গা দখল করে রাখে, অথচ যাত্রী পরিবহন করে মাত্র ১১ শতাংশ। বাকিরা গণপরিবহনে চলেন বাদুড়ঝোলা হয়ে। বুয়েটের এক জরিপে দেখা গেছে ব্যক্তিগত গাড়ির কারণে ২৯ শতাংশ যানজট তৈরি হয়।
এই চিত্রটি বৈশ্বিক। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এর তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর মোট কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের প্রায় ২৪ শতাংশই আসে পরিবহন খাত থেকে, যার অনেকাংশই ব্যক্তিগত গাড়ি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বায়ুদূষণজনিত কারণে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করেন। এর পেছনে গাড়ির ধোঁয়া থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং অন্যান্য ক্ষতিকর কণার বিশাল ভূমিকা রয়েছে। আমরা আসলে স্বাধীনতার নামে আটকে গেছি এক ভয়ংকর দূষণের ফাঁদে।

ব্যক্তিগত গাড়ি না থাকলে কেমন হতো?
এবার আমাদের মূল কল্পনায় ফেরা যাক। ভেবে নেই, পৃথিবীতে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি নেই। সকালগুলো হবে শান্ত। বিকট হর্নের বদলে শোনা যেতে পারে পাখির ডাক বা সাইকেলের বেল। প্রশস্ত ফুটপাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে হয়তো দেখা হয়ে যাবে কোনো চেনা মানুষের সঙ্গে। পথের ধারের চায়ের দোকানে চলবে সকালের আড্ডা।
শহরগুলোর চেহারাও যাবে বদলে। গাড়ির জন্য তৈরি চওড়া রাস্তা বা পার্কিং লটের কোনো প্রয়োজন থাকবে না। সেইসব জায়গায় গড়ে উঠবে পার্ক, খেলার মাঠ, লাইব্রেরি বা সামাজিক কেন্দ্র। শিশুরা বাড়ির সামনের রাস্তাতেই নিরাপদে খেলাধুলা করতে পারবে। প্রতিটি পাড়া হয়ে উঠবে এক একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ইউনিট, যেখানে হাঁটাপথের দূরত্বের মধ্যেই পাওয়া যাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছু। নগর পরিকল্পনার ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ফিফটিন মিনিট সিটি’।
মানুষের স্বাস্থ্যও থাকবে ভালো। প্রতিদিন হাঁটা বা সাইকেল চালানোর কারণে হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের মতো রোগগুলো অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বায়ুদূষণ না থাকায় ফুসফুস থাকবে সতেজ। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণায় দেখা গেছে, যানজটে আটকে থাকার সময় মানুষের মানসিক চাপ মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। গাড়িবিহীন পৃথিবীতে সেই যন্ত্রণা থাকবে না।
তবে চিন্তা নেই, যোগাযোগ ব্যবস্থা থেমে থাকবে না। শহরজুড়ে থাকবে মেট্রোরেল, লাইট রেল, ইলেকট্রিক বাস আর ট্রামের উন্নত নেটওয়ার্ক। জরুরি প্রয়োজনে থাকবে আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স। দূরের যাত্রার জন্য থাকবে দ্রুতগতির ম্যাগলেভ ট্রেন।
আশার কথা হলো, এই পরিবর্তন পৃথিবীর কিছু শহরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম বা ডেনমার্কের কোপেনহেগেনকে বলা হয় সাইকেলের শহর। স্পেনের বার্সেলোনা ‘সুপারব্লক’ মডেল তৈরি করেছে, যেখানে কয়েকটি ব্লককে মিলিয়ে গাড়ি চলাচল প্রায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই শহরগুলো আমাদের সেই কাল্পনিক পৃথিবীরই একরকম মোটামুটি বাস্তব সংস্করণ বলা যেতে পারে।

ব্যক্তিগত গাড়ির ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। এই অল্প সময়েই এটা আমাদের জীবনযাত্রাকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে যে, অনেকেই গাড়ি ছাড়া এক মুহূর্তও ভাবতে পারি না। অথচ এই নির্ভরতাই আমাদের শহরগুলোকে প্রায় বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে।
নগর পরিকল্পনার একটি মৌলিক সূত্র হলো—রাস্তা বাড়ালে গাড়ি বাড়ে, যানজট কমে না। যাকে বলা হয় ‘ইনডিউসড ডিমান্ড’ বা প্ররোচিত চাহিদা। যত বেশি ফ্লাইওভার আর এক্সপ্রেসওয়ে বানানো হয়, তত বেশি মানুষ গাড়ি কিনতে উৎসাহিত হয়, ফলে যানজট ফিরে যায় আগের জায়গাতেই।
বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস আমরা নিজেদের প্রশ্ন করতে পারি, আমরা আসলে কেমন শহর চাই? গাড়ির ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, যানজটে স্থবির কংক্রিটের জঙ্গল? নাকি সবুজে ভরা, হাঁটার উপযোগী আর মানুষের কোলাহলে মুখর এক মানবিক শহর?

আজ ২২শে সেপ্টেম্বর। বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস। এই দিনে নিয়ম করে পৃথিবীর কিছু রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। তখন সেই রাস্তা ধরে হেঁটে যাওয়া মানুষেরা হয়তো ভাবেন, প্রতিদিন যদি এমন হতো! চলুন আজ এই দিবসের অজুহাতে একটু কল্পনা করা যাক, পৃথিবীতে ব্যক্তিগত গাড়ি নামক বস্তুটি নেই। তাহলে কেমন হতো আমাদের শহর, আমাদের পৃথিবী?
স্বাধীনতার প্রতীক থেকে পায়ের বেড়ি
১৮৮৬ সালে কার্ল বেঞ্জ যখন তাঁর তিন চাকার ‘বেঞ্জ পেটেন্ট-মোটরওয়াগন’ তৈরি করেন, তখন কেউ ভাবেনি এই বস্তুটি পৃথিবীকে এভাবে শাসন করবে। প্রথমদিকে ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল স্রেফ ধনীদের শখের বাহন। কিন্তু ভাবনার ঘুরিয়ে দেন হেনরি ফোর্ড।

হেনরি ফোর্ড ১৯০৮ সালে তাঁর বিখ্যাত ‘মডেল টি’ গাড়ির জন্য অ্যাসেম্বলি লাইন পদ্ধতি চালু করলে গাড়ির উৎপাদন খরচ অবিশ্বাস্যভাবে কমে যায়। ফোর্ডের স্বপ্ন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারের একটি গাড়ি থাকবে। তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বলা যায়।
ধীরে ধীরে গাড়ি হয়ে উঠল স্বাধীনতা, গতি আর আভিজাত্যের প্রতীক। নিজের ইচ্ছামতো যেখানে খুশি যাওয়ার এই স্বাধীনতা মানুষকে এতটাই মুগ্ধ করল যে, স্বাধীনতার এই প্রতীকটিই ধীরে ধীরে হয়ে উঠল পায়ের বেড়ি। কিন্তু কীভাবে?
যানজট ও দূষণের চালচিত্র
বিংশ শতাব্দীতে শহরগুলো পরিকল্পিত হতে লাগল মানুষের পাশাপাশি গাড়িকে কেন্দ্র করে। প্রশস্ত রাস্তা, ফ্লাইওভার, পার্কিং লট—সবকিছুই তৈরি হলো গাড়ির স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য। একবিংশ শতাব্দীতে এসে দেখা গেল, পৃথিবীজুড়ে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা দেড় বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। প্রশ্ন হলো, এই বিপুল গাড়ি আমাদের কী দিয়েছে?
আমাদের ঢাকা শহরের কথাই ধরা যাক। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব মতে, সারা দেশে নিবন্ধিত ব্যক্তিগত গাড়ি আছে ৪ লাখের বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গাড়িগুলো সড়কের প্রায় ৭৫ শতাংশ জায়গা দখল করে রাখে, অথচ যাত্রী পরিবহন করে মাত্র ১১ শতাংশ। বাকিরা গণপরিবহনে চলেন বাদুড়ঝোলা হয়ে। বুয়েটের এক জরিপে দেখা গেছে ব্যক্তিগত গাড়ির কারণে ২৯ শতাংশ যানজট তৈরি হয়।
এই চিত্রটি বৈশ্বিক। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এর তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর মোট কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের প্রায় ২৪ শতাংশই আসে পরিবহন খাত থেকে, যার অনেকাংশই ব্যক্তিগত গাড়ি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বায়ুদূষণজনিত কারণে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করেন। এর পেছনে গাড়ির ধোঁয়া থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং অন্যান্য ক্ষতিকর কণার বিশাল ভূমিকা রয়েছে। আমরা আসলে স্বাধীনতার নামে আটকে গেছি এক ভয়ংকর দূষণের ফাঁদে।

ব্যক্তিগত গাড়ি না থাকলে কেমন হতো?
এবার আমাদের মূল কল্পনায় ফেরা যাক। ভেবে নেই, পৃথিবীতে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি নেই। সকালগুলো হবে শান্ত। বিকট হর্নের বদলে শোনা যেতে পারে পাখির ডাক বা সাইকেলের বেল। প্রশস্ত ফুটপাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে হয়তো দেখা হয়ে যাবে কোনো চেনা মানুষের সঙ্গে। পথের ধারের চায়ের দোকানে চলবে সকালের আড্ডা।
শহরগুলোর চেহারাও যাবে বদলে। গাড়ির জন্য তৈরি চওড়া রাস্তা বা পার্কিং লটের কোনো প্রয়োজন থাকবে না। সেইসব জায়গায় গড়ে উঠবে পার্ক, খেলার মাঠ, লাইব্রেরি বা সামাজিক কেন্দ্র। শিশুরা বাড়ির সামনের রাস্তাতেই নিরাপদে খেলাধুলা করতে পারবে। প্রতিটি পাড়া হয়ে উঠবে এক একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ইউনিট, যেখানে হাঁটাপথের দূরত্বের মধ্যেই পাওয়া যাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছু। নগর পরিকল্পনার ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ফিফটিন মিনিট সিটি’।
মানুষের স্বাস্থ্যও থাকবে ভালো। প্রতিদিন হাঁটা বা সাইকেল চালানোর কারণে হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের মতো রোগগুলো অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বায়ুদূষণ না থাকায় ফুসফুস থাকবে সতেজ। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণায় দেখা গেছে, যানজটে আটকে থাকার সময় মানুষের মানসিক চাপ মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। গাড়িবিহীন পৃথিবীতে সেই যন্ত্রণা থাকবে না।
তবে চিন্তা নেই, যোগাযোগ ব্যবস্থা থেমে থাকবে না। শহরজুড়ে থাকবে মেট্রোরেল, লাইট রেল, ইলেকট্রিক বাস আর ট্রামের উন্নত নেটওয়ার্ক। জরুরি প্রয়োজনে থাকবে আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স। দূরের যাত্রার জন্য থাকবে দ্রুতগতির ম্যাগলেভ ট্রেন।
আশার কথা হলো, এই পরিবর্তন পৃথিবীর কিছু শহরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম বা ডেনমার্কের কোপেনহেগেনকে বলা হয় সাইকেলের শহর। স্পেনের বার্সেলোনা ‘সুপারব্লক’ মডেল তৈরি করেছে, যেখানে কয়েকটি ব্লককে মিলিয়ে গাড়ি চলাচল প্রায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই শহরগুলো আমাদের সেই কাল্পনিক পৃথিবীরই একরকম মোটামুটি বাস্তব সংস্করণ বলা যেতে পারে।

ব্যক্তিগত গাড়ির ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। এই অল্প সময়েই এটা আমাদের জীবনযাত্রাকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে যে, অনেকেই গাড়ি ছাড়া এক মুহূর্তও ভাবতে পারি না। অথচ এই নির্ভরতাই আমাদের শহরগুলোকে প্রায় বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে।
নগর পরিকল্পনার একটি মৌলিক সূত্র হলো—রাস্তা বাড়ালে গাড়ি বাড়ে, যানজট কমে না। যাকে বলা হয় ‘ইনডিউসড ডিমান্ড’ বা প্ররোচিত চাহিদা। যত বেশি ফ্লাইওভার আর এক্সপ্রেসওয়ে বানানো হয়, তত বেশি মানুষ গাড়ি কিনতে উৎসাহিত হয়, ফলে যানজট ফিরে যায় আগের জায়গাতেই।
বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস আমরা নিজেদের প্রশ্ন করতে পারি, আমরা আসলে কেমন শহর চাই? গাড়ির ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, যানজটে স্থবির কংক্রিটের জঙ্গল? নাকি সবুজে ভরা, হাঁটার উপযোগী আর মানুষের কোলাহলে মুখর এক মানবিক শহর?
.png)

ইন্টারনেটের হাজারো নেতিবাচকতার ভিড়ে প্রাণীদের ‘কিউট’ ভিডিও ছিল এক চিলতে স্বস্তি। কিন্তু এআই-এর যুগে সেই নির্ভেজাল বিশ্বাসে এখন ফাটল ধরেছে। কোনো ভিডিও দেখে হাসার বদলে আমাদের মনে আগে প্রশ্ন জাগছে, এটি কি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি? অবিশ্বাসের এই ডিজিটাল চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের ছোট ছোট আনন্দ
২০ ঘণ্টা আগে
সমকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জনপ্রিয়তা ও মননশীলতার মেলবন্ধনের দুর্লভ উদাহরণ তিনি। সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তিনি একজন কর্মবীর। আজ তিনি সাতাশি বছর পূর্ণ করলেন।
২১ ঘণ্টা আগে
এইতো কিছুদিন আগে কথা। অফিস থেকে বেরিয়ে বিশেষ একটি কাজে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠেছিলাম। বিকেলের ব্যস্ত ঢাকার চিরচেনা যানজটে রিকশাটি একসময় থেমে গেল। চারপাশে শুধু হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর অসংখ্য গাড়ির সারি। ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে ভেসে এলো এক পরিচিত সুর ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা’…!
২৫ জুলাই ২০২৬
প্রাক-আধুনিক যুগের আদর্শবাদী তারুণ্য থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের টেক-স্যাভি ‘জেন জি’ প্রজন্ম—প্রতিটি যুগের তারুণ্যের রক্তস্রোত প্রমাণ করেছে যে বন্দুকের নল বা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন দিয়ে মানুষের মুক্তির স্পৃহাকে চিরতরে বন্দি করা যায় না। আর এই প্রতিটি রক্তঝরা লড়াইয়ে নারীর সক্রিয়, সমান্তরাল, আপসহীন ও বীরত্বপূ
২৫ জুলাই ২০২৬