স্ট্রিম ডেস্ক

ইরানের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও বিতর্কিত চিন্তাবিদদের একজন ড. আলী শারিআতি। তিনি ছিলেন একজন সমাজবিজ্ঞানী। ছিলেন এমন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, যিনি ধর্মকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন। ফ্রান্সের সরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রিধারী এই মানুষটি পাশ্চাত্য দর্শন এবং প্রাচ্যের ইসলামি ঐতিহ্যের সমন্বয় ঘটাতে চেয়েছেন। তাঁর সেই বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘কারবালা’।
শারিআতি মনে করতেন, প্রচলিত ধারার অনেক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কারবালার মহান আত্মত্যাগের ঘটনাটিকে কেবল মানুষের আবেগ নিংড়ে নেওয়ার এক উপায়ে পরিণত করেছে, যাতে মানুষ রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে না পারে। তাঁর জীবন ও দর্শনের আলোকে কারবালার শিক্ষাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।
শারিআতি ১৯৩৩ সালে ইরানের সাবজেওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। রাজনৈতিক সক্রিয়তার কারণে তিনি একাধিকবার কারাবন্দি হয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ছিল স্পষ্ট—সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদের শোষণ এবং অভ্যন্তরীণ স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে। সমাজবিজ্ঞানে তিনি প্রথাগত ‘শিয়া ইসলাম’-কে ভেঙে একে ‘আলাভি’ ও ‘সাফভি’—এই দুই ভাগে বিভক্ত করেন। তাঁর চিন্তাধারাই ১৯৭৯ সালের ইরান বিপ্লবের আগে তরুণ প্রজন্মের মনে পরিবর্তন আনতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল। ইমাম খোমেনি ও শারিআতির চিন্তার সংমিশ্রণ ছিল সেই বিপ্লবের ইসলামিক প্রেক্ষাপটের বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি।
সমাজচিন্তক আলী শারিআতি কারবালাকে দেখার এক ভিন্ন ও বিপ্লবী দৃষ্টিভঙ্গি উপহার দিয়েছেন। তাঁর মতে, কারবালা কেবল কাঁদবার জায়গা নয়। এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার এক শক্তিশালী হাতিয়ার।
মৃত্যু কোনো নিছক দুর্ঘটনা নয়। মৃত্যু হয়ে উঠতে পারে প্রতিবাদ। শারিআতির মতে, ইমাম হোসেন (রা.) কোনো করুণ মৃত্যুর জন্য কারবালায় যাননি। তিনি জানতেন, সামরিকভাবে ইয়াজিদের বাহিনীকে হারানো সম্ভব নয়। তাই নিজের রক্ত দিয়ে তিনি এমন এক ইতিহাস তৈরি করেছেন, যা পরবর্তী প্রজন্মের চোখের পর্দা খুলে দেয়। এটি আত্মহনন ছিল না। ছিল জালিম শাসকের মুখোশ খুলে দেওয়ার এক সক্রিয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
আমরা সাধারণত মনে করি, শহীদ হওয়া মানেই জীবনের করুণ সমাপ্তি। কিন্তু শারিআতি বলেন, ইসলামি পরিভাষায় ‘শাহাদাত’ বা শহীদি মৃত্যু হলো একটি ‘সাক্ষী’ বা ‘নিদর্শন’। যুদ্ধের ময়দানে যখন অস্ত্র ফুরিয়ে যায়, তখন রক্তই হয়ে ওঠে প্রতিরোধের শেষ হাতিয়ার। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শহীদ অমর হয়ে যান। পরবর্তী প্রজন্মের সামনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর একটি স্পষ্ট বার্তা রেখে যান।
শারিআতি একটি বিখ্যাত উক্তি ব্যবহার করতেন—‘যারা মারা গেছেন, তারা হোসেনী দায়িত্ব পালন করেছেন। যারা বেঁচে আছেন, তাদের জয়নবী দায়িত্ব পালন করতে হবে। নতুবা তারা ইয়াজিদের দোসর।’ ইমাম হোসেন (রা.) নিজের জীবনের বিনিময়ে বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। আর তাঁর বোন হযরত জয়নব (রা.) বেঁচে থেকে সেই বিপ্লবের সত্য কথাগুলো জালিম শাসকের দরবারে পৌঁছে দিয়েছিলেন। কারবালার ঘটনার পর সত্যকে প্রচার করা বা অন্যায়ের প্রতিবাদ করা প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব। একেই শারিআতি ‘জয়নবী দায়িত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শারিআতি দুটি ধারার কথা বলেছেন। এক হলো সাফভি শিয়া মতবাদ। তিনি মনে করতেন, একসময়ের রাষ্ট্রপোষিত ধারার ধর্ম পালন কারবালাকে কেবল আবেগ আর কান্নাকাটির জায়গায় আটকে ফেলেছে। এতে মানুষ মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। সমাজের সমসাময়িক অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে ভয় পায়। আরেক হলো আলাভি শিয়া মতবাদ। এটি ইমাম আলী ও হোসেনের (রা.) আসল আদর্শ। শারিআতির মতে, এই আদর্শ শিখিয়েছে কীভাবে চোখের জল না ফেলে আদর্শিক চেতনা দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়।
কারবালা কেবল ৬৮০ খ্রিস্টাব্দের কোনো ঘটনা নয়। শারিআতি ইমাম জাফর সাদিকের একটি বাণী উল্লেখ করতেন, ‘প্রতিটি স্থানই কারবালা, প্রতিটি দিনই আশুরা।’ অর্থাৎ, আমাদের চারপাশে যখনই কোনো জালিম শাসক ক্ষমতার দাপট দেখায় আর সাধারণ মানুষ শোষিত হয়, তখনই সেই পরিস্থিতি কারবালার রূপ নেয়। ইমাম হোসেনের আদর্শ আমাদের শেখায়—হয় তুমি জালিমের পক্ষে থাকো, নয়তো মাজলুমের পক্ষে লড়াই করো। মাঝপথে থাকার কোনো সুযোগ নেই।
আলী শারিআতির কাছে কারবালা মানে কেবল অতীত স্মরণ নয়। কারবালা বর্তমানের অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার এক প্রেরণা। শারিআতির এই দর্শন বলে, ইমাম হোসেনের সেই আত্মত্যাগ যেন আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে আরও সাহসী এবং সত্যবাদী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।

ইরানের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও বিতর্কিত চিন্তাবিদদের একজন ড. আলী শারিআতি। তিনি ছিলেন একজন সমাজবিজ্ঞানী। ছিলেন এমন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, যিনি ধর্মকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন। ফ্রান্সের সরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রিধারী এই মানুষটি পাশ্চাত্য দর্শন এবং প্রাচ্যের ইসলামি ঐতিহ্যের সমন্বয় ঘটাতে চেয়েছেন। তাঁর সেই বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘কারবালা’।
শারিআতি মনে করতেন, প্রচলিত ধারার অনেক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কারবালার মহান আত্মত্যাগের ঘটনাটিকে কেবল মানুষের আবেগ নিংড়ে নেওয়ার এক উপায়ে পরিণত করেছে, যাতে মানুষ রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে না পারে। তাঁর জীবন ও দর্শনের আলোকে কারবালার শিক্ষাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।
শারিআতি ১৯৩৩ সালে ইরানের সাবজেওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। রাজনৈতিক সক্রিয়তার কারণে তিনি একাধিকবার কারাবন্দি হয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ছিল স্পষ্ট—সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদের শোষণ এবং অভ্যন্তরীণ স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে। সমাজবিজ্ঞানে তিনি প্রথাগত ‘শিয়া ইসলাম’-কে ভেঙে একে ‘আলাভি’ ও ‘সাফভি’—এই দুই ভাগে বিভক্ত করেন। তাঁর চিন্তাধারাই ১৯৭৯ সালের ইরান বিপ্লবের আগে তরুণ প্রজন্মের মনে পরিবর্তন আনতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল। ইমাম খোমেনি ও শারিআতির চিন্তার সংমিশ্রণ ছিল সেই বিপ্লবের ইসলামিক প্রেক্ষাপটের বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি।
সমাজচিন্তক আলী শারিআতি কারবালাকে দেখার এক ভিন্ন ও বিপ্লবী দৃষ্টিভঙ্গি উপহার দিয়েছেন। তাঁর মতে, কারবালা কেবল কাঁদবার জায়গা নয়। এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার এক শক্তিশালী হাতিয়ার।
মৃত্যু কোনো নিছক দুর্ঘটনা নয়। মৃত্যু হয়ে উঠতে পারে প্রতিবাদ। শারিআতির মতে, ইমাম হোসেন (রা.) কোনো করুণ মৃত্যুর জন্য কারবালায় যাননি। তিনি জানতেন, সামরিকভাবে ইয়াজিদের বাহিনীকে হারানো সম্ভব নয়। তাই নিজের রক্ত দিয়ে তিনি এমন এক ইতিহাস তৈরি করেছেন, যা পরবর্তী প্রজন্মের চোখের পর্দা খুলে দেয়। এটি আত্মহনন ছিল না। ছিল জালিম শাসকের মুখোশ খুলে দেওয়ার এক সক্রিয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
আমরা সাধারণত মনে করি, শহীদ হওয়া মানেই জীবনের করুণ সমাপ্তি। কিন্তু শারিআতি বলেন, ইসলামি পরিভাষায় ‘শাহাদাত’ বা শহীদি মৃত্যু হলো একটি ‘সাক্ষী’ বা ‘নিদর্শন’। যুদ্ধের ময়দানে যখন অস্ত্র ফুরিয়ে যায়, তখন রক্তই হয়ে ওঠে প্রতিরোধের শেষ হাতিয়ার। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শহীদ অমর হয়ে যান। পরবর্তী প্রজন্মের সামনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর একটি স্পষ্ট বার্তা রেখে যান।
শারিআতি একটি বিখ্যাত উক্তি ব্যবহার করতেন—‘যারা মারা গেছেন, তারা হোসেনী দায়িত্ব পালন করেছেন। যারা বেঁচে আছেন, তাদের জয়নবী দায়িত্ব পালন করতে হবে। নতুবা তারা ইয়াজিদের দোসর।’ ইমাম হোসেন (রা.) নিজের জীবনের বিনিময়ে বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। আর তাঁর বোন হযরত জয়নব (রা.) বেঁচে থেকে সেই বিপ্লবের সত্য কথাগুলো জালিম শাসকের দরবারে পৌঁছে দিয়েছিলেন। কারবালার ঘটনার পর সত্যকে প্রচার করা বা অন্যায়ের প্রতিবাদ করা প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব। একেই শারিআতি ‘জয়নবী দায়িত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শারিআতি দুটি ধারার কথা বলেছেন। এক হলো সাফভি শিয়া মতবাদ। তিনি মনে করতেন, একসময়ের রাষ্ট্রপোষিত ধারার ধর্ম পালন কারবালাকে কেবল আবেগ আর কান্নাকাটির জায়গায় আটকে ফেলেছে। এতে মানুষ মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। সমাজের সমসাময়িক অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে ভয় পায়। আরেক হলো আলাভি শিয়া মতবাদ। এটি ইমাম আলী ও হোসেনের (রা.) আসল আদর্শ। শারিআতির মতে, এই আদর্শ শিখিয়েছে কীভাবে চোখের জল না ফেলে আদর্শিক চেতনা দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়।
কারবালা কেবল ৬৮০ খ্রিস্টাব্দের কোনো ঘটনা নয়। শারিআতি ইমাম জাফর সাদিকের একটি বাণী উল্লেখ করতেন, ‘প্রতিটি স্থানই কারবালা, প্রতিটি দিনই আশুরা।’ অর্থাৎ, আমাদের চারপাশে যখনই কোনো জালিম শাসক ক্ষমতার দাপট দেখায় আর সাধারণ মানুষ শোষিত হয়, তখনই সেই পরিস্থিতি কারবালার রূপ নেয়। ইমাম হোসেনের আদর্শ আমাদের শেখায়—হয় তুমি জালিমের পক্ষে থাকো, নয়তো মাজলুমের পক্ষে লড়াই করো। মাঝপথে থাকার কোনো সুযোগ নেই।
আলী শারিআতির কাছে কারবালা মানে কেবল অতীত স্মরণ নয়। কারবালা বর্তমানের অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার এক প্রেরণা। শারিআতির এই দর্শন বলে, ইমাম হোসেনের সেই আত্মত্যাগ যেন আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে আরও সাহসী এবং সত্যবাদী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।
.png)

১৯৯৫ সালে অ্যামাজন প্রথম যে পণ্যটি বিক্রি করেছিল, সেটি ছিল ডগলাস হফস্ট্যাডারের লেখা বই ‘ফ্লুইড কনসেপ্টস অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ’। তিন দশক পর সেই অনলাইন বইয়ের দোকানটির বাজারমূল্য ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মাত্র তিন মাসেই প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করেছে ২০০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য
৫ ঘণ্টা আগে
হুমায়ুন আজাদের বহুল আলোচিত এই উক্তিগুলো পাওয়া যায় ‘হুমায়ুন আজাদের প্রবচনগুচ্ছ’ বইয়ে। কিন্তু বইটি কেবল এমন কিছু আপাত-নিরীহ অথচ গভীর সত্য উচ্চারণে ভরা—এমনটা ভাবলে ভুল হবে। বইয়ের পাঁচ নম্বর প্রবচনেই পাঠক থমকে যেতে পারেন। সেখানে লেখা, ‘শামসুর রাহমানকে একটি অভিনেত্রীর সাথে টিভিতে দেখা গেছে।
৯ ঘণ্টা আগে
হোমারের লেখা মহাকাব্য ‘ওডিসি’র প্রধান চরিত্র ওডিসিউস বাড়ি ফেরার পর তার বিশ্বস্ত কুকুর আর্গোস তাকে চিনতে পারে। তাদের পুনর্মিলনের এই আবেগঘন দৃশ্যটি বর্ণনা করতে হোমার ব্যবহার করেছেন মাত্র প্রায় ৪০টি লাইন। অথচ এটি পুরো মহাকাব্যের অন্যতম আবেগঘন ঘটনা। মহাকাব্যের এই দৃশ্যটি পর্দায় নতুন করে তুলে ধরেছেন
১১ আগস্ট ২০২৬
পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত বন্য প্রাণীগুলোর একটি সিংহ। ছোটবেলা থেকেই গল্প, সিনেমা আর ছবিতে আমরা তাকে দেখে এসেছি বনের রাজা হিসেবে। তার গর্জন, কেশর আর রাজকীয় উপস্থিতি যেন আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে। ‘বনের রাজা’কে বিশ্ব সিংহ দিবসের পরের দিন একটু অন্যভাবে চেনা যাক।
১১ আগস্ট ২০২৬