তামান্না আনজুম

অনলাইন কেনাকাটায় মানুষ এখন বেশ পারদর্শী। তবে এই কেনাকাটা আর জামা-জুতা বা কসমেটিকস কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মানুষ এখন কোরবানির পশু কিনতেও অনলাইনে সেবা নিচ্ছেন। গত কয়েক বছর ধরেই যানজট, প্রতিকূল আবহাওয়া বা দামাদামির ঝক্কিঝামেলা এড়াতে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে কোরবানির পশু কিনছেন।
এদিকে এবারে অনলাইনে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গরু কেনাবেচার পাশাপাশি হোম ডেলিভারী, কসাইয়ের সুবিধাসহ আরও বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে।
বর্তমান সময়ে বিভিন্ন অনলাইন পশুর বাজার ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে নানা রকম সুবিধা দিচ্ছে। আগে যেখানে শুধু ছবি দেখে পশু কিনতে হতো, এখন খামারিরা ক্রেতাদের জন্য লাইভ ভিডিওর ব্যবস্থা রাখছেন। ভিডিও কলের মাধ্যমে ক্রেতারা পশুর লাইভ ওজন, দাঁত ও শিং পরীক্ষা করে নিতে পারছেন।
বড় খামারগুলো ক্রেতাদের সশরীরে খামার পরিদর্শনের সুযোগও দিচ্ছে। এ বছর দেশি গরুর লাইভ ওয়েট প্রতি কেজির দাম অনলাইনে ৫২০ থেকে ৬১০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে শাহীওয়াল বা ফ্রিজিয়ান গরুর লাইভ ওয়েট প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকায়। যদিও গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ঢাকায় হোম ডেলিভারি। অনলাইন থেকে পশু কিনলে খামার কর্তৃপক্ষ নিজস্ব পরিবহনে করে নির্দিষ্ট সময়ে ক্রেতার বাসায় পৌঁছে দেয়।
সাভারের বিরুলিয়ার আকরান বাজারের কাছে অবস্থিত আমিন মোহাম্মদ অ্যাগ্রো ফার্মে গিয়ে এর বাস্তব প্রমাণ মেলে। এবারের ঈদের জন্য তারা যতগুলো গরু তুলেছিল, সবই ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। ফার্মের ব্যবস্থাপক মারুফুর রহমান মুন্না জানান, এবার কোরবানির জন্য ২৩০টি গরু লালন-পালন করেছিলেন। ইতিমধ্যেই সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো প্রতিদিন নতুন নতুন কাস্টমার আসছেন।
তিনি আরও জানান, তাঁরা ২০২৪ সালে প্রথম অনলাইনে গরু বিক্রি শুরু করেন। এ বছর খামারগুলোতে গরুর জোগান কিছুটা কম, তাই দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে। হাট-বাজারেও এবার পশু কম উঠতে পারে। তাই ঈদের ঠিক আগে দাম আরও চড়া হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
অনলাইন থেকে পশু কেনার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিলেন প্রবাসীরা। প্রবাসীদের কোরবানির পশু কেনার সুযোগ দিতে ২০১৬ সাল থেকে অনলাইনে পশু বিক্রি করছে সেতারা ফার্ম। এখন প্রবাসীদের পাশাপাশি দেশের অনেক পেশাজীবীও অনলাইনে গরু বা ছাগল কিনছেন।
ফেসবুক পেজের মাধ্যমে এখন পূর্ণাঙ্গ কোরবানি প্যাকেজও চালু করেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ঈদের সময় দক্ষ কসাই খুঁজে পাওয়া বেশ ঝামেলার ব্যাপার। এই ঝামেলা দূর করতে প্রতিবছরের মতো এবারও নির্দিষ্ট দিনের জন্য কসাই বুকিং সেবা চালু করেছে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। এ ছাড়াও পশু কেনার পরে হাটে বা খামার থেকে পরিবহনের জন্য মিনি ট্রাক বা পিকআপের সেবাও দিচ্ছে বিভিন্ন ডিজিটাল অ্যাপ।
গোটা পশু কেনার বদলে কেউ যদি শুধু ভাগে বা শেয়ারে কোরবানি দিতে চান, সে ব্যবস্থাও অনলাইনে চালু করেছে অনেক প্রতিষ্ঠান।
অনলাইন পশুর হাটের এই জনপ্রিয়তার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। ঢাকার ব্যস্ত জীবনে হাটে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরে গরু পছন্দ করার মতো সময় বা শক্তি অনেকেরই থাকে না। বিশেষ করে চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য এটি বেশ কঠিন। অনলাইনে ঘরে বসে বা অফিসের কাজের ফাঁকেই কয়েক মিনিটে হাজারো পশুর মধ্য থেকে নিজের বাজেটের পশুটি বেছে নেওয়া যায়।
প্রবাসীদের জন্য অনলাইনে কোরবানির পশু পছন্দ করা আগের চেয়ে সহজ হয়ে গেছে। তাঁরা চাইলেই প্রবাসে বসে দেশের খামারগুলোর ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ থেকে পশু কিনে পেমেন্ট করে দিচ্ছেন।
এ ছাড়া ঢাকা শহরের বহুতল ভবন বা ফ্ল্যাট বাড়িতে কোরবানির পশু এনে ২-৩ দিন রাখা বেশ ঝামেলা। পশু রাখার জায়গা, তার খাবার দেওয়া বা মলমূত্র পরিষ্কার করা নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে অনেক সময় অস্বস্তি তৈরি হয়। অনলাইন থেকে কিনলে ঈদের দিন সকালে সরাসরি পশু বাসায় আনা যায়। চাইলে খামারেই কোরবানি দিয়ে শুধু মাংসটা বুঝে নেওয়া যায়।
বাবার হাত ধরে হাটে যাওয়া, গরুর দড়ি টেনে বাড়ি ফেরা কিংবা পাড়ার ছেলেদের সাথে গরুর দাম নিয়ে গল্প করার যে আনন্দ, তা হয়তো এই আধুনিক অনলাইন সেবায় পাওয়া যায় না। কিন্তু যুগের প্রয়োজনে, নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা থেকে মুক্তি পেতে অনলাইন হাটই এখন অনেক ক্রেতার কাছে বেশ নিরাপদ ও সুবিধাজনক মাধ্যম।

অনলাইন কেনাকাটায় মানুষ এখন বেশ পারদর্শী। তবে এই কেনাকাটা আর জামা-জুতা বা কসমেটিকস কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মানুষ এখন কোরবানির পশু কিনতেও অনলাইনে সেবা নিচ্ছেন। গত কয়েক বছর ধরেই যানজট, প্রতিকূল আবহাওয়া বা দামাদামির ঝক্কিঝামেলা এড়াতে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে কোরবানির পশু কিনছেন।
এদিকে এবারে অনলাইনে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গরু কেনাবেচার পাশাপাশি হোম ডেলিভারী, কসাইয়ের সুবিধাসহ আরও বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে।
বর্তমান সময়ে বিভিন্ন অনলাইন পশুর বাজার ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে নানা রকম সুবিধা দিচ্ছে। আগে যেখানে শুধু ছবি দেখে পশু কিনতে হতো, এখন খামারিরা ক্রেতাদের জন্য লাইভ ভিডিওর ব্যবস্থা রাখছেন। ভিডিও কলের মাধ্যমে ক্রেতারা পশুর লাইভ ওজন, দাঁত ও শিং পরীক্ষা করে নিতে পারছেন।
বড় খামারগুলো ক্রেতাদের সশরীরে খামার পরিদর্শনের সুযোগও দিচ্ছে। এ বছর দেশি গরুর লাইভ ওয়েট প্রতি কেজির দাম অনলাইনে ৫২০ থেকে ৬১০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে শাহীওয়াল বা ফ্রিজিয়ান গরুর লাইভ ওয়েট প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকায়। যদিও গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ঢাকায় হোম ডেলিভারি। অনলাইন থেকে পশু কিনলে খামার কর্তৃপক্ষ নিজস্ব পরিবহনে করে নির্দিষ্ট সময়ে ক্রেতার বাসায় পৌঁছে দেয়।
সাভারের বিরুলিয়ার আকরান বাজারের কাছে অবস্থিত আমিন মোহাম্মদ অ্যাগ্রো ফার্মে গিয়ে এর বাস্তব প্রমাণ মেলে। এবারের ঈদের জন্য তারা যতগুলো গরু তুলেছিল, সবই ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। ফার্মের ব্যবস্থাপক মারুফুর রহমান মুন্না জানান, এবার কোরবানির জন্য ২৩০টি গরু লালন-পালন করেছিলেন। ইতিমধ্যেই সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো প্রতিদিন নতুন নতুন কাস্টমার আসছেন।
তিনি আরও জানান, তাঁরা ২০২৪ সালে প্রথম অনলাইনে গরু বিক্রি শুরু করেন। এ বছর খামারগুলোতে গরুর জোগান কিছুটা কম, তাই দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে। হাট-বাজারেও এবার পশু কম উঠতে পারে। তাই ঈদের ঠিক আগে দাম আরও চড়া হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
অনলাইন থেকে পশু কেনার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিলেন প্রবাসীরা। প্রবাসীদের কোরবানির পশু কেনার সুযোগ দিতে ২০১৬ সাল থেকে অনলাইনে পশু বিক্রি করছে সেতারা ফার্ম। এখন প্রবাসীদের পাশাপাশি দেশের অনেক পেশাজীবীও অনলাইনে গরু বা ছাগল কিনছেন।
ফেসবুক পেজের মাধ্যমে এখন পূর্ণাঙ্গ কোরবানি প্যাকেজও চালু করেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ঈদের সময় দক্ষ কসাই খুঁজে পাওয়া বেশ ঝামেলার ব্যাপার। এই ঝামেলা দূর করতে প্রতিবছরের মতো এবারও নির্দিষ্ট দিনের জন্য কসাই বুকিং সেবা চালু করেছে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। এ ছাড়াও পশু কেনার পরে হাটে বা খামার থেকে পরিবহনের জন্য মিনি ট্রাক বা পিকআপের সেবাও দিচ্ছে বিভিন্ন ডিজিটাল অ্যাপ।
গোটা পশু কেনার বদলে কেউ যদি শুধু ভাগে বা শেয়ারে কোরবানি দিতে চান, সে ব্যবস্থাও অনলাইনে চালু করেছে অনেক প্রতিষ্ঠান।
অনলাইন পশুর হাটের এই জনপ্রিয়তার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। ঢাকার ব্যস্ত জীবনে হাটে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরে গরু পছন্দ করার মতো সময় বা শক্তি অনেকেরই থাকে না। বিশেষ করে চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য এটি বেশ কঠিন। অনলাইনে ঘরে বসে বা অফিসের কাজের ফাঁকেই কয়েক মিনিটে হাজারো পশুর মধ্য থেকে নিজের বাজেটের পশুটি বেছে নেওয়া যায়।
প্রবাসীদের জন্য অনলাইনে কোরবানির পশু পছন্দ করা আগের চেয়ে সহজ হয়ে গেছে। তাঁরা চাইলেই প্রবাসে বসে দেশের খামারগুলোর ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ থেকে পশু কিনে পেমেন্ট করে দিচ্ছেন।
এ ছাড়া ঢাকা শহরের বহুতল ভবন বা ফ্ল্যাট বাড়িতে কোরবানির পশু এনে ২-৩ দিন রাখা বেশ ঝামেলা। পশু রাখার জায়গা, তার খাবার দেওয়া বা মলমূত্র পরিষ্কার করা নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে অনেক সময় অস্বস্তি তৈরি হয়। অনলাইন থেকে কিনলে ঈদের দিন সকালে সরাসরি পশু বাসায় আনা যায়। চাইলে খামারেই কোরবানি দিয়ে শুধু মাংসটা বুঝে নেওয়া যায়।
বাবার হাত ধরে হাটে যাওয়া, গরুর দড়ি টেনে বাড়ি ফেরা কিংবা পাড়ার ছেলেদের সাথে গরুর দাম নিয়ে গল্প করার যে আনন্দ, তা হয়তো এই আধুনিক অনলাইন সেবায় পাওয়া যায় না। কিন্তু যুগের প্রয়োজনে, নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা থেকে মুক্তি পেতে অনলাইন হাটই এখন অনেক ক্রেতার কাছে বেশ নিরাপদ ও সুবিধাজনক মাধ্যম।

বিখ্যাত ব্যক্তিদের ব্যক্তিজীবন ইতিহাসের চেয়ে কম কিছু নয়। তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা নিয়ে এত কিংবদন্তির জন্ম হয় যে নির্দিষ্ট সময় পর আর পার্থক্য করা যায় না—কোন ঘটনাটি আসলেই সত্য, আর কোনটি মিথ। বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) সাম্য, প্রেম ও দ্রোহের কবি।
১ ঘণ্টা আগে
আজ বব ডিলানের জন্মদিন। ১৯৪১ সালের ২৪ মে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই নগরবাউল ছয় দশক ধরে গানে গানে বলেছেন চলতি সময় ও সমাজের কথা। আজ ফিরে তাকানো যাক ১৯৬৫ সালের ২৫ জুলাইয়ের সেই সন্ধ্যায়। যেদিন সবাইকে অবাক করে দিয়ে ‘নিউপোর্ট ফোক ফেস্টিভ্যাল'-এ ইলেকট্রিক গিটার হাতে দেখা মিলেছিল ‘অচেনা’ এক ডিলানের। কী ঘটেছ
৪ ঘণ্টা আগে
কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে বহু গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু উপন্যাস? হ্যাঁ, তাও লেখা হয়েছে। নজরুলের বিদ্রোহ, প্রেম, সাম্য, মানবতা ও বেদনা যেন উপন্যাসের আধারেই মুদ্রণযোগ্য। কেননা তাঁর জীবন সংগ্রাম, আবেগ, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিতে সমৃদ্ধ। এ লেখায় নজরুলের জীবনীভিত্তিক পাঁ
৮ ঘণ্টা আগে
কাজী নজরুল ইসলামকে বোঝার জন্য তাঁর সাহিত্যকে শুধু পাঠ্যবইয়ের অলংকার হিসেবে পড়লে চলে না। তাঁকে বুঝতে হলে শুনতে হয় বাংলার শ্রমজীবী মানুষের দীর্ঘশ্বাস, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তরুণদের অস্থিরতা, ধর্মীয় বিভাজনে ক্লান্ত মানুষের আর্তি, অবহেলিত নারীর আর্তনাদ। নজরুল সেইসব কণ্ঠকে ভাষা দিয়েছিলেন। তাঁর কলমে বিদ
৮ ঘণ্টা আগে