স্ট্রিম ডেস্ক

আজ থেকে প্রায় ৪ লাখ বছর আগের পৃথিবী কেমন ছিল? আমাদের আদি পূর্বপুরুষেরা তখন কীভাবে টিকে থাকত? এই রহস্যময় প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে উত্তর ইসরায়েলের ফুরেইদিস নামের এক শান্ত শহরের প্রান্তে। সেখানে পাহাড় কেটে নতুন সড়ক তৈরির তোড়জোড় চলছিল। কাজ শুরুর ঠিক আগে প্রত্নতাত্ত্বিকরা ভাবলেন, এই এলাকায় মাটির নিচে কোনো প্রাচীন ইতিহাস লুকিয়ে আছে কি না তা একবার পরীক্ষা করে দেখা দরকার।
সেখানে সন্ধান মিলল প্রায় ৪ লাখ বছর পুরোনো গুহার, যেখানে এককালে বাস করত নিয়ান্ডারথাল-পূর্ব যুগের আদিম মানুষেরা। প্রাগৈতিহাসিক এই যুগের খুব কম নিদর্শনই গবেষণার জন্য সহজে পাওয়া যায়। তাই ফুরেইদিসের এই গুহাটি এখন বিজ্ঞানীদের গবেষণার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।
এই গুহাটি সম্পর্কে প্রথম জানা যায় ১৯৭০-এর দশকে। তখন গবেষকেরা ভেবেছিলেন, গুহাটি হয়তো বড়জোর ২ লাখ বছরের পুরোনো। কিন্তু সম্প্রতি ইসরায়েল অ্যান্টিকুইটিস অথরিটির গবেষক কোবি ভার্দি এবং হাইফা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রন শিমেলমিৎস নতুন করে এই গুহায় অনুসন্ধান চালান। সেখানে পাওয়া পাথরের হাতিয়ার বিশ্লেষণ করে তাঁরা জানতে পারেন, গুহাটি আসলে পূর্ববর্তী ধারণার চেয়েও দ্বিগুণ প্রাচীন, অর্থাৎ প্রায় ৪ লাখ বছরের পুরোনো!
গবেষকেরা সেখানে আদিম মানুষের তৈরি পাথরের কুঠার, ধারালো ব্লেড ও স্ক্র্যাপারসহ (পাথরের চাঁছনি) নানা ধরনের হাতিয়ার পেয়েছেন। এসব হাতিয়ারের বৈশিষ্ট্য দেখে বোঝা যায়, এগুলো ছিল ‘আচিউলো-ইয়াব্রুডিয়ান’ সংস্কৃতির অংশ। সহজ কথায়, এই হাতিয়ারগুলো তৈরি করেছিল নিয়ান্ডারথাল বা আধুনিক মানুষের চেয়েও প্রাচীন এক আদিম মানবগোষ্ঠী। গবেষক কোবি ভার্দি বলেন, ‘গুহাটি যে এত বেশি পুরোনো হতে পারে, তা আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল।’
মাটির নিচের এই গুহায় আদিম মানুষেরা কীভাবে দিন কাটাত? গবেষকেরা গুহার ভেতরে হরিণ এবং গেজেল-এর (এক ধরনের ছোট হরিণ) হাড়ের টুকরো পেয়েছেন। এ থেকে বোঝা যায়, তারা দল বেঁধে বন্য প্রাণী শিকার করত এবং সেই শিকার গুহার ভেতরে এনে সবাই মিলে ভাগাভাগি করে খেত।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সেখানে নিয়মিত আগুন ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অধ্যাপক রন শিমেলমিৎস জানান, গুহার বাসিন্দারা নিয়মিত আগুন জ্বালাত, যা ইঙ্গিত করে তাদের জীবন গোছানো ও সামাজিক ছিল। তারা সমাজবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে বাস করত এবং তাদের যাপনচিত্র ছিল সমৃদ্ধ। তবে একটি বড় রহস্য এখনো রয়ে গেছে—এই গুহায় বা সেই সময়ের অন্য কোনো গুহায় এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো মানব বা হোমিনিন অংশ পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই গুহাটি আসলে একটি ‘টাইম ক্যাপসুল’। ইসরায়েল ও তার আশেপাশের অঞ্চলে ওই যুগের অল্প কয়েকটি প্রত্নস্থল বা ‘সাইট’ আবিষ্কৃত হয়েছে, যার বেশিরভাগই এখন আর গবেষণার জন্য সহজে প্রবেশযোগ্য নয়।

গুহাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে সেখানকার সড়ক নির্মাণের মূল পরিকল্পনাই বদলে ফেলা হয়। গুহাটির কোনো ক্ষতি না করে সেটিকে সুরক্ষিত রাখতে তার ওপর দিয়ে ফ্লাইওভার তৈরি করা হয়েছে। এর নিচে গুহাটি এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ অবস্থায় আছে, যেখানে গবেষকেরা আগামী বহু বছর ধরে অনুসন্ধান চালাতে পারবেন। গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতের খননে হয়তো প্রাচীন হোমিনিনদের কোনো অবশেষ পাওয়া যেতে পারে।
এই গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন গবেষকেরাও এই আবিষ্কার নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন প্রত্নতত্ত্ববিদ আরমান্দো ফালকুচি বলেন, ‘মানব ইতিহাসের ৪ লাখ থেকে ২ লাখ বছর আগের সময়টা নিয়ে সাধারণত খুব কম আলোচনা বা গবেষণা হয়। এই আবিষ্কার সেই অজানা অধ্যায়কে আমাদের সামনে নতুনভাবে উন্মোচিত করল।’
ফালকুচি আরও জানান, গুহার ভেতরে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আগুনের ব্যবহার খুঁজে পাওয়াটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। কারণ, আগুনকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার দক্ষতার মাধ্যমেই আদিম মানুষের বুদ্ধি ও আচরণে এক বিশাল পরিবর্তন এসেছিল, যা ছিল মানব বিবর্তনের ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক।
স্কটল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ক্যাট্রিওনা পিকার্ড বলেন, ‘এই গুহাটি থেকে আদিম মানুষের তৈরি জিনিসপত্র এবং তাদের জীবনধারা সম্পর্কে এক বিরল ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। প্রাচীন হোমিনিনদের জীবনযাপন এবং এই অঞ্চলের প্রাচীন প্রস্তর যুগের ইতিহাস নিয়ে আমাদের প্রচলিত ধারণা সম্পূর্ণ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এই আবিষ্কার।’
তথ্যসূত্র: সিএনএন

আজ থেকে প্রায় ৪ লাখ বছর আগের পৃথিবী কেমন ছিল? আমাদের আদি পূর্বপুরুষেরা তখন কীভাবে টিকে থাকত? এই রহস্যময় প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে উত্তর ইসরায়েলের ফুরেইদিস নামের এক শান্ত শহরের প্রান্তে। সেখানে পাহাড় কেটে নতুন সড়ক তৈরির তোড়জোড় চলছিল। কাজ শুরুর ঠিক আগে প্রত্নতাত্ত্বিকরা ভাবলেন, এই এলাকায় মাটির নিচে কোনো প্রাচীন ইতিহাস লুকিয়ে আছে কি না তা একবার পরীক্ষা করে দেখা দরকার।
সেখানে সন্ধান মিলল প্রায় ৪ লাখ বছর পুরোনো গুহার, যেখানে এককালে বাস করত নিয়ান্ডারথাল-পূর্ব যুগের আদিম মানুষেরা। প্রাগৈতিহাসিক এই যুগের খুব কম নিদর্শনই গবেষণার জন্য সহজে পাওয়া যায়। তাই ফুরেইদিসের এই গুহাটি এখন বিজ্ঞানীদের গবেষণার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।
এই গুহাটি সম্পর্কে প্রথম জানা যায় ১৯৭০-এর দশকে। তখন গবেষকেরা ভেবেছিলেন, গুহাটি হয়তো বড়জোর ২ লাখ বছরের পুরোনো। কিন্তু সম্প্রতি ইসরায়েল অ্যান্টিকুইটিস অথরিটির গবেষক কোবি ভার্দি এবং হাইফা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রন শিমেলমিৎস নতুন করে এই গুহায় অনুসন্ধান চালান। সেখানে পাওয়া পাথরের হাতিয়ার বিশ্লেষণ করে তাঁরা জানতে পারেন, গুহাটি আসলে পূর্ববর্তী ধারণার চেয়েও দ্বিগুণ প্রাচীন, অর্থাৎ প্রায় ৪ লাখ বছরের পুরোনো!
গবেষকেরা সেখানে আদিম মানুষের তৈরি পাথরের কুঠার, ধারালো ব্লেড ও স্ক্র্যাপারসহ (পাথরের চাঁছনি) নানা ধরনের হাতিয়ার পেয়েছেন। এসব হাতিয়ারের বৈশিষ্ট্য দেখে বোঝা যায়, এগুলো ছিল ‘আচিউলো-ইয়াব্রুডিয়ান’ সংস্কৃতির অংশ। সহজ কথায়, এই হাতিয়ারগুলো তৈরি করেছিল নিয়ান্ডারথাল বা আধুনিক মানুষের চেয়েও প্রাচীন এক আদিম মানবগোষ্ঠী। গবেষক কোবি ভার্দি বলেন, ‘গুহাটি যে এত বেশি পুরোনো হতে পারে, তা আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল।’
মাটির নিচের এই গুহায় আদিম মানুষেরা কীভাবে দিন কাটাত? গবেষকেরা গুহার ভেতরে হরিণ এবং গেজেল-এর (এক ধরনের ছোট হরিণ) হাড়ের টুকরো পেয়েছেন। এ থেকে বোঝা যায়, তারা দল বেঁধে বন্য প্রাণী শিকার করত এবং সেই শিকার গুহার ভেতরে এনে সবাই মিলে ভাগাভাগি করে খেত।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সেখানে নিয়মিত আগুন ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অধ্যাপক রন শিমেলমিৎস জানান, গুহার বাসিন্দারা নিয়মিত আগুন জ্বালাত, যা ইঙ্গিত করে তাদের জীবন গোছানো ও সামাজিক ছিল। তারা সমাজবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে বাস করত এবং তাদের যাপনচিত্র ছিল সমৃদ্ধ। তবে একটি বড় রহস্য এখনো রয়ে গেছে—এই গুহায় বা সেই সময়ের অন্য কোনো গুহায় এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো মানব বা হোমিনিন অংশ পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই গুহাটি আসলে একটি ‘টাইম ক্যাপসুল’। ইসরায়েল ও তার আশেপাশের অঞ্চলে ওই যুগের অল্প কয়েকটি প্রত্নস্থল বা ‘সাইট’ আবিষ্কৃত হয়েছে, যার বেশিরভাগই এখন আর গবেষণার জন্য সহজে প্রবেশযোগ্য নয়।

গুহাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে সেখানকার সড়ক নির্মাণের মূল পরিকল্পনাই বদলে ফেলা হয়। গুহাটির কোনো ক্ষতি না করে সেটিকে সুরক্ষিত রাখতে তার ওপর দিয়ে ফ্লাইওভার তৈরি করা হয়েছে। এর নিচে গুহাটি এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ অবস্থায় আছে, যেখানে গবেষকেরা আগামী বহু বছর ধরে অনুসন্ধান চালাতে পারবেন। গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতের খননে হয়তো প্রাচীন হোমিনিনদের কোনো অবশেষ পাওয়া যেতে পারে।
এই গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন গবেষকেরাও এই আবিষ্কার নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন প্রত্নতত্ত্ববিদ আরমান্দো ফালকুচি বলেন, ‘মানব ইতিহাসের ৪ লাখ থেকে ২ লাখ বছর আগের সময়টা নিয়ে সাধারণত খুব কম আলোচনা বা গবেষণা হয়। এই আবিষ্কার সেই অজানা অধ্যায়কে আমাদের সামনে নতুনভাবে উন্মোচিত করল।’
ফালকুচি আরও জানান, গুহার ভেতরে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আগুনের ব্যবহার খুঁজে পাওয়াটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। কারণ, আগুনকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার দক্ষতার মাধ্যমেই আদিম মানুষের বুদ্ধি ও আচরণে এক বিশাল পরিবর্তন এসেছিল, যা ছিল মানব বিবর্তনের ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক।
স্কটল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ক্যাট্রিওনা পিকার্ড বলেন, ‘এই গুহাটি থেকে আদিম মানুষের তৈরি জিনিসপত্র এবং তাদের জীবনধারা সম্পর্কে এক বিরল ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। প্রাচীন হোমিনিনদের জীবনযাপন এবং এই অঞ্চলের প্রাচীন প্রস্তর যুগের ইতিহাস নিয়ে আমাদের প্রচলিত ধারণা সম্পূর্ণ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এই আবিষ্কার।’
তথ্যসূত্র: সিএনএন
.png)

আহমদ ছফাকে শুধু একজন কথাসাহিত্যিক হিসেবে পড়লে তাঁর গুরুত্বের বড় একটি অংশ অধরা থেকে যায়। আবার তাঁকে কেবল রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবে দেখলেও তাঁর চিন্তার পূর্ণতা ধরা পড়ে না। সাহিত্য, রাষ্ট্র, সমাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়—এসবকে তিনি কখনো বিচ্ছিন্নভাবে দেখেননি।
৩১ মিনিট আগে
আহমদ ছফার ৮৪তম জন্মদিন আজ। তাঁকে স্মরণ করতে গিয়ে বারবার ফিরে যাই আমার স্কুলজীবনের সেই দিনগুলোতে, যখন বই পড়ার আগ্রহটা কেবল গভীর হচ্ছে, নতুন নতুন লেখক আবিষ্কারের আনন্দে দিন কাটে।
১ ঘণ্টা আগে
আহমদ ছফার নাম প্রথম শুনেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে, ক্লাসে স্যারের মুখে। কিছুদিন পর ফেসবুকেও তাঁকে খুঁজে পাই। আজ ফেসবুকে ‘আহমদ ছফা’ লিখে খুঁজলেই চোখে পড়ে তাঁর উদ্ধৃতি, পুরোনো সাক্ষাৎকার বা বক্তৃতার অংশ, বইয়ের ছবি, অথবা তাঁকে নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক।
১ ঘণ্টা আগে
সাঁওতালদের বঞ্চনার গল্পটা বেশ পুরনো। ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহ উপমহাদেশের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক বৃহৎ গণঅভ্যুত্থান হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয়।
৪ ঘণ্টা আগে