স্ট্রিম ডেস্ক

রমজান মাস এলেই বাংলাদেশের চেনা দৃশ্যপট যেন বদলে যায়। ঘরে ঘরে শুরু হয় ইফতার তৈরির বিশাল আয়োজন। রাস্তার মোড়ে মোড়ে নানা পদের মুখরোচক খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। এই আয়োজনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় পেঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা, আলুর চপ, মুড়ি ইত্যাদি। স্বাস্থ্যকর হোক বা না হোক, সারাদিন রোজা রাখার পর এই ভাজাপোড়া খাবার ছাড়া বাঙালির ইফতার যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
তবে আপনার মনে কি কখনো প্রশ্ন এসেছে, বাংলাদেশে কি সবসময়ই এমন ভাজাপোড়া খাবার খেয়ে ইফতার করার চল ছিল? নাকি এটি অপেক্ষাকৃত নতুন দিনের চল? বিবিসিতে প্রকাশিত একটি লেখার সূত্র ধরে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এই লেখায়।
অতীতে বাংলাদেশের মুসলিমদের ইফতারের প্লেটে কোন কোন খাবার থাকত তা নিয়ে ইতিহাসবিদরা বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন বিবিসি বাংলায়। তাঁদের মতে, ইফতারে এসব মুখরোচক খাবার খাওয়ার রীতি খুব বেশি পুরোনো নয়। বাংলাদেশের ভূখন্ডে বিভিন্ন সময়ে নানা জাতিগোষ্ঠী এসে শাসন করেছে। তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির প্রভাব পড়েছে আমাদের খাবারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, পারস্য এবং আফগান সংস্কৃতির বড় ধরনের ছাপ রয়েছে বাঙালির বর্তমান ইফতারের থালায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. নুসরাত ফাতেমা বিবিসি বাংলাকে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের ইফতারে যেসব খাবার দেখা যায় তার একটি বড় অংশ এসেছে পার্সিয়ান বা মুঘলদের খাদ্যাভ্যাস থেকে। একসময় মুঘলরা ভারতবর্ষ শাসন করত। তারা যখন ঢাকা শাসন করেছে, তখন তাদের খাদ্যাভ্যাসগুলো ঢাকার স্থানীয় লোকজন গ্রহণ করে। এরপর আস্তে আস্তে সেই খাদ্যাভ্যাস সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
ড. নুসরাত ফাতেমা আরও বলেন, সাধারণ সময়ে মানুষ হয়তো ভাত, মাছ বা মাংস খায়। কিন্তু ইফতারের প্রসঙ্গ এলেই দেখা যায়, সেখানে নানা জাতিগোষ্ঠীর খাবার এসে মিশে গেছে।
যেমন ইফতারের প্রধান ও সবচেয়ে পরিচিত অনুষঙ্গ হলো খেজুর। বাংলাদেশের মানুষ ইফতারিতে সুন্নত হিসেবে খেজুর খেয়ে ইফতার শুরু করে থাকেন। মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকেই এই রীতিটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।
আমাদের অতি পরিচিত আরেকটি খাবার হল ছোলা। মূলত আফগানদের একটি প্রিয় খাবার এই ছোলা। ইতিহাসবিদদের ধারনা, তাদের কাছ থেকেই এই অঞ্চলে ছোলা খাওয়ার চল শুরু হয়। তবে ভারত বা বাংলাদেশে এসে ছোলা রান্নায় পরিবর্তন এসেছে। এখানে প্রচুর পেঁয়াজ ও মশলা দিয়ে ছোলার স্বাদ গন্ধে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আর ছোলার সঙ্গে মুড়ি মেখে খাওয়ার রীতিটি একেবারেই এই অঞ্চলের মানুষের নিজস্ব উদ্ভাবন।

বাংলাদেশের ইফতারের প্লেটে সবচেয়ে সমাদর পাওয়া খাবারগুলোর মধ্যে পেঁয়াজু, বেগুনি ও চপ অন্যতম। বিবিসিকে ড. নুসরাত ফাতেমা জানান, এই তেলে ভাজা খাবারগুলো মূলত উত্তর ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে। এই অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের সময় আরবি ও পার্সিয়ান প্রভাব ছিল। তাদের খাবারগুলো ভারতে আসার পর বেশকিছু পরিবর্তন আনা হয়। মূলত উত্তর ভারত থেকেই ইফতারের সময় নানা রকমের ভাজাপোড়া খাওয়ার চল যোগ হয়েছে। আর এভাবেই ইফতারে মুখরোচক খাবার হিসেবে পেঁয়াজু, বেগুনি ও নানা ধরনের চপ খাওয়ার রীতি যুক্ত হয়।
ইফতারের প্লেটকে আরও মানসম্মত করতে কাবাব, হালিম ও বিরিয়ানির মতো খাবারও যুক্ত করেন কেউ কেউ। তবে এই খাবারগুলো বাংলাদেশের ইফতারে নিয়মিত খাওয়া হয় না। বাসায় মেহমান এলে বা সপ্তাহে এক, দু’দিন খাবারের প্লেটে রাজকীয় ভাব আনতে বিরিয়ানী, হালিম ও কাবাব রাখেন অনেকে। এই খাবারগুলো মুঘলদের পাত থেকে সরাসরি বাঙালির পাতে এসে পড়েছে।
কারণ মুঘলদের খাবারে পারস্যের প্রভাব ছিল অনেক বেশি। মুঘলরা ইফতারে কাবাব ও বিরিয়ানির মতো রাজকীয় খাবার খেত। তাদের দেখে এই অঞ্চলের বনেদি পরিবারগুলোও এসব খেতে শুরু করে। এখনো ইরান, সৌদি আরব বা আরব আমিরাতের মতো দেশে ইফতারে কাবাব সহযোগে বিরিয়ানি খাওয়ার চল রয়েছে।
ইফতারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইটেম হলো শরবত। সারাদিন রোজা রাখার পর পানির পিপাসা মেটাতে আমরা শরবত খাই। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতে মিষ্টি ও সুগন্ধি শরবত খাওয়ার চল রয়েছে বলে ইতিহাসবিদরা মনে করেন।
ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন বিবিসিকে জানান, বাঙালি সংস্কৃতিতে কয়েক শ বছর আগেও ইফতারে এমন ভাজাপোড়া খাওয়ার কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না।
তিনি বলেন, কোনো একসময় মুঘলদের কাছ থেকে ঢাকার মানুষ বিরিয়ানি, কাবাব ও ভাজাপোড়া খাওয়া শেখে। ধারণা করা যায়, উনিশ শতকের দিক থেকে এই অঞ্চলের মানুষ এসব খাবার খেতে শুরু করেছে। কারণ অতীতের ইতিহাসে এসব খাবারের কথা কোথাও উল্লেখ পাওয়া যায় না। বরং সেই সময় মানুষ ইফতারে সাধারণ ভাত খেত বলেই বিভিন্ন তথ্যে পাওয়া যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শেখ মোঃ ইউসুফ বিবিসিকে বলেন, ছোলা, পেঁয়াজু বা কাবাব আমরা সারা বছরই হালকা নাশতা হিসেবে খাই। কিন্তু সারাদিন অভুক্ত থাকার পর সন্ধ্যায় মুখরোচক কিছু খেতে ভালো লাগে। সেই ভালোলাগা থেকেই রমজানে এগুলো ইফতারের অংশ হয়ে গেছে। এর সঙ্গে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের কোনো সম্পর্ক নেই।
তবে এখনো বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ইফতারের রীতিতে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। অনেক অঞ্চলে এখনো পেঁয়াজু বা বেগুনির বদলে কেবল খেজুর ও শরবত খেয়ে রোজা ভাঙার চল রয়েছে। এরপর তারা সরাসরি ভাত বা খিচুড়ি খেয়ে থাকেন।
ইসলাম ধর্মমতে ইফতারে সুন্নত বলতে খুরমা, খেজুর বা মিষ্টি কোনো খাবারকে বোঝায়। বাকি খাবার সম্পর্কে ধর্মে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায় না। ফলে মানুষ তাঁর নিজের রুচি ও স্থানীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী ইফতারের খাবার বেছে নেয়। যুগের পর যুগ ধরে এভাবেই বিভিন্ন সংস্কৃতির মিশ্রণে গড়ে উঠেছে আমাদের ইফতারের থালা।

রমজান মাস এলেই বাংলাদেশের চেনা দৃশ্যপট যেন বদলে যায়। ঘরে ঘরে শুরু হয় ইফতার তৈরির বিশাল আয়োজন। রাস্তার মোড়ে মোড়ে নানা পদের মুখরোচক খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। এই আয়োজনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় পেঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা, আলুর চপ, মুড়ি ইত্যাদি। স্বাস্থ্যকর হোক বা না হোক, সারাদিন রোজা রাখার পর এই ভাজাপোড়া খাবার ছাড়া বাঙালির ইফতার যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
তবে আপনার মনে কি কখনো প্রশ্ন এসেছে, বাংলাদেশে কি সবসময়ই এমন ভাজাপোড়া খাবার খেয়ে ইফতার করার চল ছিল? নাকি এটি অপেক্ষাকৃত নতুন দিনের চল? বিবিসিতে প্রকাশিত একটি লেখার সূত্র ধরে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এই লেখায়।
অতীতে বাংলাদেশের মুসলিমদের ইফতারের প্লেটে কোন কোন খাবার থাকত তা নিয়ে ইতিহাসবিদরা বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন বিবিসি বাংলায়। তাঁদের মতে, ইফতারে এসব মুখরোচক খাবার খাওয়ার রীতি খুব বেশি পুরোনো নয়। বাংলাদেশের ভূখন্ডে বিভিন্ন সময়ে নানা জাতিগোষ্ঠী এসে শাসন করেছে। তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির প্রভাব পড়েছে আমাদের খাবারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, পারস্য এবং আফগান সংস্কৃতির বড় ধরনের ছাপ রয়েছে বাঙালির বর্তমান ইফতারের থালায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. নুসরাত ফাতেমা বিবিসি বাংলাকে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের ইফতারে যেসব খাবার দেখা যায় তার একটি বড় অংশ এসেছে পার্সিয়ান বা মুঘলদের খাদ্যাভ্যাস থেকে। একসময় মুঘলরা ভারতবর্ষ শাসন করত। তারা যখন ঢাকা শাসন করেছে, তখন তাদের খাদ্যাভ্যাসগুলো ঢাকার স্থানীয় লোকজন গ্রহণ করে। এরপর আস্তে আস্তে সেই খাদ্যাভ্যাস সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
ড. নুসরাত ফাতেমা আরও বলেন, সাধারণ সময়ে মানুষ হয়তো ভাত, মাছ বা মাংস খায়। কিন্তু ইফতারের প্রসঙ্গ এলেই দেখা যায়, সেখানে নানা জাতিগোষ্ঠীর খাবার এসে মিশে গেছে।
যেমন ইফতারের প্রধান ও সবচেয়ে পরিচিত অনুষঙ্গ হলো খেজুর। বাংলাদেশের মানুষ ইফতারিতে সুন্নত হিসেবে খেজুর খেয়ে ইফতার শুরু করে থাকেন। মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকেই এই রীতিটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।
আমাদের অতি পরিচিত আরেকটি খাবার হল ছোলা। মূলত আফগানদের একটি প্রিয় খাবার এই ছোলা। ইতিহাসবিদদের ধারনা, তাদের কাছ থেকেই এই অঞ্চলে ছোলা খাওয়ার চল শুরু হয়। তবে ভারত বা বাংলাদেশে এসে ছোলা রান্নায় পরিবর্তন এসেছে। এখানে প্রচুর পেঁয়াজ ও মশলা দিয়ে ছোলার স্বাদ গন্ধে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আর ছোলার সঙ্গে মুড়ি মেখে খাওয়ার রীতিটি একেবারেই এই অঞ্চলের মানুষের নিজস্ব উদ্ভাবন।

বাংলাদেশের ইফতারের প্লেটে সবচেয়ে সমাদর পাওয়া খাবারগুলোর মধ্যে পেঁয়াজু, বেগুনি ও চপ অন্যতম। বিবিসিকে ড. নুসরাত ফাতেমা জানান, এই তেলে ভাজা খাবারগুলো মূলত উত্তর ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে। এই অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের সময় আরবি ও পার্সিয়ান প্রভাব ছিল। তাদের খাবারগুলো ভারতে আসার পর বেশকিছু পরিবর্তন আনা হয়। মূলত উত্তর ভারত থেকেই ইফতারের সময় নানা রকমের ভাজাপোড়া খাওয়ার চল যোগ হয়েছে। আর এভাবেই ইফতারে মুখরোচক খাবার হিসেবে পেঁয়াজু, বেগুনি ও নানা ধরনের চপ খাওয়ার রীতি যুক্ত হয়।
ইফতারের প্লেটকে আরও মানসম্মত করতে কাবাব, হালিম ও বিরিয়ানির মতো খাবারও যুক্ত করেন কেউ কেউ। তবে এই খাবারগুলো বাংলাদেশের ইফতারে নিয়মিত খাওয়া হয় না। বাসায় মেহমান এলে বা সপ্তাহে এক, দু’দিন খাবারের প্লেটে রাজকীয় ভাব আনতে বিরিয়ানী, হালিম ও কাবাব রাখেন অনেকে। এই খাবারগুলো মুঘলদের পাত থেকে সরাসরি বাঙালির পাতে এসে পড়েছে।
কারণ মুঘলদের খাবারে পারস্যের প্রভাব ছিল অনেক বেশি। মুঘলরা ইফতারে কাবাব ও বিরিয়ানির মতো রাজকীয় খাবার খেত। তাদের দেখে এই অঞ্চলের বনেদি পরিবারগুলোও এসব খেতে শুরু করে। এখনো ইরান, সৌদি আরব বা আরব আমিরাতের মতো দেশে ইফতারে কাবাব সহযোগে বিরিয়ানি খাওয়ার চল রয়েছে।
ইফতারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইটেম হলো শরবত। সারাদিন রোজা রাখার পর পানির পিপাসা মেটাতে আমরা শরবত খাই। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতে মিষ্টি ও সুগন্ধি শরবত খাওয়ার চল রয়েছে বলে ইতিহাসবিদরা মনে করেন।
ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন বিবিসিকে জানান, বাঙালি সংস্কৃতিতে কয়েক শ বছর আগেও ইফতারে এমন ভাজাপোড়া খাওয়ার কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না।
তিনি বলেন, কোনো একসময় মুঘলদের কাছ থেকে ঢাকার মানুষ বিরিয়ানি, কাবাব ও ভাজাপোড়া খাওয়া শেখে। ধারণা করা যায়, উনিশ শতকের দিক থেকে এই অঞ্চলের মানুষ এসব খাবার খেতে শুরু করেছে। কারণ অতীতের ইতিহাসে এসব খাবারের কথা কোথাও উল্লেখ পাওয়া যায় না। বরং সেই সময় মানুষ ইফতারে সাধারণ ভাত খেত বলেই বিভিন্ন তথ্যে পাওয়া যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শেখ মোঃ ইউসুফ বিবিসিকে বলেন, ছোলা, পেঁয়াজু বা কাবাব আমরা সারা বছরই হালকা নাশতা হিসেবে খাই। কিন্তু সারাদিন অভুক্ত থাকার পর সন্ধ্যায় মুখরোচক কিছু খেতে ভালো লাগে। সেই ভালোলাগা থেকেই রমজানে এগুলো ইফতারের অংশ হয়ে গেছে। এর সঙ্গে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের কোনো সম্পর্ক নেই।
তবে এখনো বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ইফতারের রীতিতে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। অনেক অঞ্চলে এখনো পেঁয়াজু বা বেগুনির বদলে কেবল খেজুর ও শরবত খেয়ে রোজা ভাঙার চল রয়েছে। এরপর তারা সরাসরি ভাত বা খিচুড়ি খেয়ে থাকেন।
ইসলাম ধর্মমতে ইফতারে সুন্নত বলতে খুরমা, খেজুর বা মিষ্টি কোনো খাবারকে বোঝায়। বাকি খাবার সম্পর্কে ধর্মে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায় না। ফলে মানুষ তাঁর নিজের রুচি ও স্থানীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী ইফতারের খাবার বেছে নেয়। যুগের পর যুগ ধরে এভাবেই বিভিন্ন সংস্কৃতির মিশ্রণে গড়ে উঠেছে আমাদের ইফতারের থালা।
.png)

ইন্টারনেটের হাজারো নেতিবাচকতার ভিড়ে প্রাণীদের ‘কিউট’ ভিডিও ছিল এক চিলতে স্বস্তি। কিন্তু এআই-এর যুগে সেই নির্ভেজাল বিশ্বাসে এখন ফাটল ধরেছে। কোনো ভিডিও দেখে হাসার বদলে আমাদের মনে আগে প্রশ্ন জাগছে, এটি কি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি? অবিশ্বাসের এই ডিজিটাল চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের ছোট ছোট আনন্দ
১৮ ঘণ্টা আগে
সমকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জনপ্রিয়তা ও মননশীলতার মেলবন্ধনের দুর্লভ উদাহরণ তিনি। সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তিনি একজন কর্মবীর। আজ তিনি সাতাশি বছর পূর্ণ করলেন।
১৯ ঘণ্টা আগে
এইতো কিছুদিন আগে কথা। অফিস থেকে বেরিয়ে বিশেষ একটি কাজে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠেছিলাম। বিকেলের ব্যস্ত ঢাকার চিরচেনা যানজটে রিকশাটি একসময় থেমে গেল। চারপাশে শুধু হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর অসংখ্য গাড়ির সারি। ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে ভেসে এলো এক পরিচিত সুর ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা’…!
২১ ঘণ্টা আগে
প্রাক-আধুনিক যুগের আদর্শবাদী তারুণ্য থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের টেক-স্যাভি ‘জেন জি’ প্রজন্ম—প্রতিটি যুগের তারুণ্যের রক্তস্রোত প্রমাণ করেছে যে বন্দুকের নল বা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন দিয়ে মানুষের মুক্তির স্পৃহাকে চিরতরে বন্দি করা যায় না। আর এই প্রতিটি রক্তঝরা লড়াইয়ে নারীর সক্রিয়, সমান্তরাল, আপসহীন ও বীরত্বপূ
২১ ঘণ্টা আগে