আজ সাওতাঁল বিদ্রোহের ১৭০ বছর। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন আমলে বাংলার প্রথম সশস্ত্র গণ–জাগরণ ঘটিয়েছিলেন ভারতবর্ষের সাওতাঁল সম্প্রদায়ের মানুষেরা। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পাটাতনে দাঁড়িয়ে সেই বিদ্রোহের আদ্যোপান্ত তুলে ধরেছেন শতাব্দীকা ঊর্মি
স্ট্রিম ডেস্ক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির মাত্র এক মাস বাকি। আজ থেকে ১৬৯ বছর আগে, ১৮৫৫ সালের জুনের শেষ দিন এই উপমহাদেশে ঘটে গিয়েছিল আরেক অভ্যুত্থান। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম সংগঠিত গণসংগ্রাম সাওতাঁল বিদ্রোহ। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভারতবর্ষের জনপদের প্রথম সেই অভ্যুত্থানের প্রেরণা রাজনীতি থেকে শুরু করে ছড়িয়ে পড়েছিল এই অঞ্চলের শিল্প, সাহিত্য ও সিনেমায়।
সাঁওতাল বিদ্রোহের সেই রেশ ধরে নন্দিত বাঙালি চলচ্চিত্র নির্মাতা মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ সিনেমার সংলাপে উঠে এসেছিল এক বিভীষিকাময় বাস্তবতা। ‘জানোয়ার আর মহাজন তো একই, দুটোই জীবন বরবাদ করার জন্য লেগে আছে’।
এক সময় মূলধারার ইতিহাস বক্তারা সাঁওতালদের যেভাবে ‘আদিম’ ও ‘বনের’ লোক হিসেবে লোকচক্ষুর আড়াল করতে চাইতো, সাঁওতাল বিদ্রোহ ছিল সেই ইতিহাসের বিপরীতে এক মোক্ষম জবাব। অত্যাচারী মহাজন ও কোম্পানির বিরুদ্ধে বিদ্রোহই সাঁওতালদের নিয়ে এসেছিল ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে।
১৮৫৫ সালের ৩০ জুন ভারতের ভগনাডিহি গ্রামে ১০ হাজার সাওতাঁল কৃষকের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন দুই বিদ্রোহী সহোদর—সিধু ও কানু। তাঁদের দাবি ছিল মহাজনদের কাছ থেকে ভূমি আর মানুষের মুক্তি। সমাবেশের পর ব্রিটিশ সরকারের উচ্চপদস্থদের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়। কিন্তু দারিদ্র্য সাঁওতালদের সহজ-সরল চিঠির বাক্যে মন গলে না কর্তাদের। চিঠির উত্তর না পেয়ে নিজেদের শেষ রাস্তা বেছে নিতে বাধ্য হন সাঁওতালরা। শুরু হয় সাঁওতাল বিদ্রোহ।
সময়টা ১৭৯০ সাল। মুর্শিদাবাদ ও ভাগলপুর অঞ্চলের বিরানভূমিতে প্রাণের জোয়ার এনেছিল সাওতাঁলরা। ফসলে ফসলে ভরে উঠেছিল সাওতাঁল জনপদ। তবে ফসল ঘরে তোলার আগেই তাতে নজর লাগে বনের পশু ও ক্ষমতাধর মহাজনদের।
গরুর গাড়ি বোঝাই করা ফসল নিয়ে যেত মহাজনের লোকেরা। বিনিময়ে কৃষকেরা পেতো খুবই সামান্য মজুরি। একদিকে দাম কম, অন্যদিকে ফসল মাপার বাটখারা নিয়েও করা হতো কারচুপি। পরিমাণের চেয়ে কম দেখানো হতো ওজন।
কৃষকেরা যে এসব ছলচাতুরী টের পেতো না, তা নয়। কিন্তু তাঁরা ছিল নিরুপায়। ফসল ফলানোর আগে মহাজনদের থেকে নেয়া ঋণের চাপে তাঁদের কাছে সর্বস্ব বেচতে একপ্রকার বাধ্যই হতো কৃষকেরা। তবে পেটে কিংবা পিঠে, কোনোকিছুই চিরকাল সয় না। ফলে মহাজনদের জোচ্চুরির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ছিল অনিবার্য।
এই অনিবার্য বিদ্রোহ দমন করতে ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো জারি করা হয়েছিল সামরিক আইন। ব্রিটিশদের আধুনিক বন্দুকের গুলি ও কামানের গোলার সামনে সাঁওতালদের তীর-ধনুকে বিজয়ী হওয়ার সুযোগ ছিল না। ফলে তা হয়েও ওঠেনি। ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন থেকে প্রায় আট মাস ধরে চলে লড়াই। ব্রিটিশেরা এগিয়ে যায় যুদ্ধের ময়দানে। কিন্তু লড়াইয়ের কোনো মীমাংসা না করেই ব্রিটিশেরা বেছে নেয় নিরস্ত্র সাঁওতালদের হত্যার পথ। সাঁওতাল সমাজে হুঁল হিসেবে পরিচিত ও লড়াইয়ে প্রাণ দিতে হয়েছিল জনপদটির ২৫ হাজার মানুষকে।
ব্রিটিশদের বিরদ্ধে ওই লড়াইয়ের ফলাফলের চেয়ে ‘লড়াই’ করার হিম্মতই পরে হয়ে উঠেছিল ভারতবর্ষে শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের অনুপ্রেরণা।
‘উলগুলানের শেষ নাই’
মহাশ্বেতা দেবীর ‘অরণ্যের অধিকার’ বইয়ে ভূমি ফিরে পেতে বিরসা মুন্ডা বলেছিলেন ‘উলগুলানের শেষ নাই’ (লড়াইয়ের শেষ নাই)। অরণ্যকে ফিরে পেতে, জুলুমের বিরুদ্ধে নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন সিধু, কানু, বিরসারা।
এই জনপদে উলগুলান বা হুলের শেষ হয়নি। দেড় শ বছর পরেও টিকে আছে বৈষম্য। সেই বৈষম্যের বিরুদ্ধে গত জুলাইতে বাংলার মাটিতে হয়েছে আরেক বিদ্রোহ, আরেক অভ্যুত্থান। ঝরে গেছে শত শত তরুণ প্রাণ। পতন হয়েছে শাসক শেখ হাসিনার। তবে নির্মম পরিহাস এই যে, সিধু-কানুর যে বিদ্রোহ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে এই অঞ্চলের সব অভ্যুত্থানকে, দিনাজপুর থেকে সেই বিদ্রোহের দুই বরপুত্র সিধু-কানুর ভাস্কর্যই ভেঙে ফেলা হয়েছিল বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর। তবে সিধু-কানুর হুল বা হিম্মত যেহেতু ভাস্কর্য বা কোনো কারুকার্যে বন্দী থাকার ব্যাপার নয়। তাই বলাই যায়-ভাস্কর্য থাকুক বা না থাকুক, সিধু-কানুর শিক্ষা যুগ যুগ ধরে বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে যাবে সকল বৈষম্যের বিরদ্ধে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির মাত্র এক মাস বাকি। আজ থেকে ১৬৯ বছর আগে, ১৮৫৫ সালের জুনের শেষ দিন এই উপমহাদেশে ঘটে গিয়েছিল আরেক অভ্যুত্থান। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম সংগঠিত গণসংগ্রাম সাওতাঁল বিদ্রোহ। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভারতবর্ষের জনপদের প্রথম সেই অভ্যুত্থানের প্রেরণা রাজনীতি থেকে শুরু করে ছড়িয়ে পড়েছিল এই অঞ্চলের শিল্প, সাহিত্য ও সিনেমায়।
সাঁওতাল বিদ্রোহের সেই রেশ ধরে নন্দিত বাঙালি চলচ্চিত্র নির্মাতা মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ সিনেমার সংলাপে উঠে এসেছিল এক বিভীষিকাময় বাস্তবতা। ‘জানোয়ার আর মহাজন তো একই, দুটোই জীবন বরবাদ করার জন্য লেগে আছে’।
এক সময় মূলধারার ইতিহাস বক্তারা সাঁওতালদের যেভাবে ‘আদিম’ ও ‘বনের’ লোক হিসেবে লোকচক্ষুর আড়াল করতে চাইতো, সাঁওতাল বিদ্রোহ ছিল সেই ইতিহাসের বিপরীতে এক মোক্ষম জবাব। অত্যাচারী মহাজন ও কোম্পানির বিরুদ্ধে বিদ্রোহই সাঁওতালদের নিয়ে এসেছিল ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে।
১৮৫৫ সালের ৩০ জুন ভারতের ভগনাডিহি গ্রামে ১০ হাজার সাওতাঁল কৃষকের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন দুই বিদ্রোহী সহোদর—সিধু ও কানু। তাঁদের দাবি ছিল মহাজনদের কাছ থেকে ভূমি আর মানুষের মুক্তি। সমাবেশের পর ব্রিটিশ সরকারের উচ্চপদস্থদের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়। কিন্তু দারিদ্র্য সাঁওতালদের সহজ-সরল চিঠির বাক্যে মন গলে না কর্তাদের। চিঠির উত্তর না পেয়ে নিজেদের শেষ রাস্তা বেছে নিতে বাধ্য হন সাঁওতালরা। শুরু হয় সাঁওতাল বিদ্রোহ।
সময়টা ১৭৯০ সাল। মুর্শিদাবাদ ও ভাগলপুর অঞ্চলের বিরানভূমিতে প্রাণের জোয়ার এনেছিল সাওতাঁলরা। ফসলে ফসলে ভরে উঠেছিল সাওতাঁল জনপদ। তবে ফসল ঘরে তোলার আগেই তাতে নজর লাগে বনের পশু ও ক্ষমতাধর মহাজনদের।
গরুর গাড়ি বোঝাই করা ফসল নিয়ে যেত মহাজনের লোকেরা। বিনিময়ে কৃষকেরা পেতো খুবই সামান্য মজুরি। একদিকে দাম কম, অন্যদিকে ফসল মাপার বাটখারা নিয়েও করা হতো কারচুপি। পরিমাণের চেয়ে কম দেখানো হতো ওজন।
কৃষকেরা যে এসব ছলচাতুরী টের পেতো না, তা নয়। কিন্তু তাঁরা ছিল নিরুপায়। ফসল ফলানোর আগে মহাজনদের থেকে নেয়া ঋণের চাপে তাঁদের কাছে সর্বস্ব বেচতে একপ্রকার বাধ্যই হতো কৃষকেরা। তবে পেটে কিংবা পিঠে, কোনোকিছুই চিরকাল সয় না। ফলে মহাজনদের জোচ্চুরির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ছিল অনিবার্য।
এই অনিবার্য বিদ্রোহ দমন করতে ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো জারি করা হয়েছিল সামরিক আইন। ব্রিটিশদের আধুনিক বন্দুকের গুলি ও কামানের গোলার সামনে সাঁওতালদের তীর-ধনুকে বিজয়ী হওয়ার সুযোগ ছিল না। ফলে তা হয়েও ওঠেনি। ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন থেকে প্রায় আট মাস ধরে চলে লড়াই। ব্রিটিশেরা এগিয়ে যায় যুদ্ধের ময়দানে। কিন্তু লড়াইয়ের কোনো মীমাংসা না করেই ব্রিটিশেরা বেছে নেয় নিরস্ত্র সাঁওতালদের হত্যার পথ। সাঁওতাল সমাজে হুঁল হিসেবে পরিচিত ও লড়াইয়ে প্রাণ দিতে হয়েছিল জনপদটির ২৫ হাজার মানুষকে।
ব্রিটিশদের বিরদ্ধে ওই লড়াইয়ের ফলাফলের চেয়ে ‘লড়াই’ করার হিম্মতই পরে হয়ে উঠেছিল ভারতবর্ষে শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের অনুপ্রেরণা।
‘উলগুলানের শেষ নাই’
মহাশ্বেতা দেবীর ‘অরণ্যের অধিকার’ বইয়ে ভূমি ফিরে পেতে বিরসা মুন্ডা বলেছিলেন ‘উলগুলানের শেষ নাই’ (লড়াইয়ের শেষ নাই)। অরণ্যকে ফিরে পেতে, জুলুমের বিরুদ্ধে নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন সিধু, কানু, বিরসারা।
এই জনপদে উলগুলান বা হুলের শেষ হয়নি। দেড় শ বছর পরেও টিকে আছে বৈষম্য। সেই বৈষম্যের বিরুদ্ধে গত জুলাইতে বাংলার মাটিতে হয়েছে আরেক বিদ্রোহ, আরেক অভ্যুত্থান। ঝরে গেছে শত শত তরুণ প্রাণ। পতন হয়েছে শাসক শেখ হাসিনার। তবে নির্মম পরিহাস এই যে, সিধু-কানুর যে বিদ্রোহ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে এই অঞ্চলের সব অভ্যুত্থানকে, দিনাজপুর থেকে সেই বিদ্রোহের দুই বরপুত্র সিধু-কানুর ভাস্কর্যই ভেঙে ফেলা হয়েছিল বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর। তবে সিধু-কানুর হুল বা হিম্মত যেহেতু ভাস্কর্য বা কোনো কারুকার্যে বন্দী থাকার ব্যাপার নয়। তাই বলাই যায়-ভাস্কর্য থাকুক বা না থাকুক, সিধু-কানুর শিক্ষা যুগ যুগ ধরে বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে যাবে সকল বৈষম্যের বিরদ্ধে।

সৌন্দর্য বোঝার ক্ষেত্রে তাই দুটো দিক কাজ করে। একদিকে আছে বস্তুনিষ্ঠ দিক, অর্থাৎ কোনো জিনিসের গঠন, ভারসাম্য বা বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে আছে ব্যক্তিনিষ্ঠ দিক, মানে ব্যক্তির অনুভূতি, রুচি আর অভিজ্ঞতা। এই দুই দিক একসঙ্গে জড়িত বলেই সৌন্দর্যের নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া এত কঠিন।
৯ ঘণ্টা আগে
আমরা শুধু আমাদের মস্তিষ্কের বাসিন্দা নই। আমরা এর স্থপতিও হতে পারি। নিজেদের ইচ্ছা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা নিজেদের নতুন করে গড়ার ক্ষমতা রাখি। প্রকৃতি আমাদের হাতে পরিবর্তনের চাবি তুলে দিয়েছে। সেই চাবি দিয়ে আমরা কোন দরজা খুলব তা একান্তই আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়।
১০ ঘণ্টা আগে
প্রযুক্তির ইতিহাসে ১৯২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। বর্তমান যুগে আমরা যে টেলিভিশনকে দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ধরে নিয়েছি, তার যাত্রা শুরু হয়েছিল এই দিনটিতেই। স্কটিশ প্রকৌশলী জন লগি বেয়ার্ড সেদিন প্রথমবারের মতো ‘রিয়েল টেলিভিশন’ বা প্রকৃত টেলিভিশন জনসমক্ষে প্রদর্শন কর
১৩ ঘণ্টা আগে
দোহারের ইকরাশি গ্রামের শান্তি রানী পাল। বয়স ৯২ বছর। বয়সের ভারে অনেকটাই নুয়ে পড়েছেন। চোখের আলো কমে গেছে, গলার স্বরও ভেঙে গেছে; তবু সংসারের চাকাকে সচল রাখতে আদি পেশা হিসেবে কুমারের কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
১ দিন আগে